15/05/2025
(২)
আল্লাহ বলেন, হে নবী! ওদের বলো, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে পাপের জন্য ক্ষমা চাও, ভুলের জন্য অনুশোচনা/তওবা করে তাঁর কাছে ফিরে আসো। তিনি ইহকালে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের সুখী জীবন উপভোগ করতে দিবেন। আর পরকালীন জীবনে অনুগ্রহ পাওয়ার যোগ্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবদান অনুসারে অনুগ্রহে ভূষিত করবেন।” সূরা:হুদ;২-৩।
তওবাকারীর জন্য ফেরেশতাদের প্রার্থনা-“আরশ বহনকারী এবং এর নিকটবর্তী ফেরেশতারা সবসময়ই তাদের প্রতিপালক আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, তারা তাঁকে বিশ্বাস করে এবং সকল বিশ্বাসীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার রহমত ও জ্ঞান সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রয়েছে। অতএব, যারা তওবা করে ও তোমার পথ অনুসরণ করে, তুমি তাদের ক্ষমা করো। জাহান্নামের আগুণ থেকে তুমি তাদের রক্ষা করো।
হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক বিশ্বাসীদের স্থায়ী জান্নাতে দাখিল করো। তাদের পিতা-মাতা,পতি-পত্নিও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল হবে তাদেরকেও তাদের সাথে জান্নাতে দাখিল করো। তুমি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তাদের অন্যায় করা থেকে বিরত রাখো। যাদের তুমি অন্যায় থেকে রক্ষা করবে তাদেরকেই তো সেদিন তুমি অনুগ্রহ করবে। আর এটাই মহাসাফল্য।” সূরা:মুমিন;৭-৯।
আল্লাহর নবী (ﷺ) বলেছেন, বনী ইসরাঈলের মাঝে এমন এক ব্যক্তি ছিলো যে, নিরানব্বইটি মানুষ হত্যা করেছিলো। অতঃপর বের হয়ে একজন পাদরীকে জিজ্ঞেস করল, আমার তওবা কবুল হবার আশা আছে কি?
পাদরী বললো, না। তখন সে পাদরীকেও হত্যা করলো।
অতঃপর পুনরায় সে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগলো। তখন এক ব্যক্তি তাকে বললো, তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সে রওয়ানা হলো এবং পথিমধ্যে তার মৃত্যু এসে গেলো। সে তার বক্ষদেশ দ্বারা সে স্থানটির দিকে ঘুরে গেলো। মৃত্যুর পর রহমত ও আযাবের ফেরেশতামন্ডলী তার রূহকে নিয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত হলেন।
আল্লাহ্ সামনের ভূমিকে আদেশ করলেন, তুমি মৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী হয়ে যাও। এবং পশ্চাতে ফেলে স্থানকে (যেখানে হত্যাকান্ড ঘটেছিলো) আদেশ দিলেন, তুমি দূরে সরে যাও। অতঃপর ফেরেশতাদের উভয় দলকে নির্দেশ দিলেন- তোমারা এখান থেকে উভয় দিকের দূরত্ব পরিমাপ করো। পরিমাপ করা হল, দেখা গেলো যে, মৃত লোকটি সামনের দিকে এক বিঘত বেশি এগিয়ে আছে। কাজেই তাকে ক্ষমা করা হলো। বোখারী:৩৪৭০।
سبحان ! الله الحمدلله !! الله اكبر !!!
শয়তান মানুষকে যেভাবে তওবা ইসতেগফার দূরে সরিয়ে রাখে-
🍃 তোমার অনেক গুনাহ হয়ে গেছে, এখন আর ভালো হওয়ার চেষ্টা করে লাভ নেই, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন না। এভাবে শয়তান ভ্রান্ত পথিকদের আল্লাহর ক্ষমা এবং রহমত সম্পর্কে নিরাশ করে ধ্বংসের শেষ সীমানায় নিয়ে যায়। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া অনেক বড় গুনাহ। আল্লাহর গুনাহ মাফকারী গফুর (গুনাহ মাফকারী) গাফফার (ক্রমাগত/পুনঃপুনঃ) আফুউন (পাপ মোচনকারী)। নামত অস্বীকার করার মাধ্যমে ভয়াবহ গুনাহের দিকে বান্দা ধাবিত হয় ।
🍃 তুমি আর এমন বড় কি পাপ করেছো, আল্লাহ দয়ালু এই সব এমনিতেই ক্ষমা করে দিবেন, ক্ষমা চাইতে হবে না। দুনিয়ার জীবন উপভোগ করে নাও, একবারে শেষে ক্ষমা চেয়ে নিলেই হবে। এভাবে শয়তান কুটকৌশল করে বান্দাকে ভুলের সমুদ্রে ডুবিয়ে দিতে চায় শেষে ক্ষমা চাওয়ার, তওবা করার কথা সামনে এনে।
এভাবে পাপী বান্দা ভুলে যায় সেই মহাসত্যকে -
মৃত্যু এসে যে কোন সময় হানা দিতে পারে, যে কোন সময় বেজে উঠতে পারে জীবনের শেষ ঘন্টা। তওবা করে আল্লাহর ক্ষমা নিয়ে পরিশুদ্ধ হওয়ার মহাসুযোগ অবহেলা করে গুনাহগার হিসেবে নিজেকে ভয়াবহ শাস্তির যোগ্য করে আল্লাহর কাছে ফিরে যায়। আফসোস!
জীবনের অগুণিত পাপের ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচার শেষ এবং উত্তম চেষ্টাটুকু করতে এক মুহূর্ত দেরী নয়, এই মুহূর্তেই তওবা করতে হবে, কারণ মৃত্যুর ফেরেশতা কাউকে এক মুহূর্ত সময়ও বাড়িয়ে দিবে না বা তওবা করার জন্য অপেক্ষা করবে না।
ওযু শেষ করে কালিমা শাহাদাত একবার পড়া -
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ.
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সা. তাঁর বান্দা ও রাসূল।
রসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন “যে ব্যক্তি পূর্ণভাবে ওযু করবে এবং কালিমা শাহাদাত পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে। সে যেটা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে”। মুসলিম, মিশকাত;২৮৯, তিরমিযী;৫৫, নাসাঈ;১৪৮,ইবনে মাযাহ;৪৭০, আবু দাউদ;১৬৯, আহমদ;১৬৯১২)।
তারপর এই কালেমা পাঠ করা-
اَللَّهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ
আল্লা-হুম্মাজ আ’লনী মিনাত তাওয়্যাবীনা ওয়াজ আ’লনী মিনাল মুতা-ত্বাহহিরীন।
হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করো। তিরমিযী ১/৭৯।
ওযু শেষ করে তৃতীয় এই কালেমাটি পড়া সুন্নত-
ফযিলত: রসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি অযু করার পর নীচের কালেমাটি পড়বে ফেরেশতারা এই কালেমাগুলি একটি কাগজে লিখে উহার উপর মোহর লাগিয়ে দেয় যা কেয়ামত পর্যন্ত আর খোলা হয় না। অর্থাৎ উহার সওয়াব আখেরাতের জন্য জমা করিয়া রাখা হয় হইবে। (মোস্তাদরাকে হাকেম)।
سُبْحانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتوبُ إِلَيْكَ
হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আপনি ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি। নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, পৃ. ১৭৩।
উল্লেখ্য, এই দোয়াকে “বৈঠক খতমের দোয়া” বলা হয়। কারণ, এই দোয়া যেকোন নামায, কুরআন তেলাওয়াত, যিকির, দ্বীনি মজলিস শেষে উঠার সময় পড়া সুন্নত।
এই দোয়াটা পড়লে সেই বৈঠকে কোন ভুল করলে বা ভুল কিছু বলে ফেললে তার কাফফারা হয়ে যাবে। সুতরাং, বৈঠক শেষে এই দোয়াটা পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উত্তম।
হাফিয ইবনুল কাইয়িম (রহ:) বলেন, ‘আমি শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ (রহ:কে বললাম, কিছু আলেম জিজ্ঞাসা করেছেন—বান্দার জন্য ইস্তিগফার অধিক উপকারী নাকি তাসবিহ পাঠ? জবাবে তিনি বলেন, ‘‘যদি কাপড় নির্মল ও স্বচ্ছ হয়, তাহলে সেটার জন্য আতর, সুগন্ধি বা গোলাপের পানি অধিক উপকারী; আর যদি কাপড় ময়লাযুক্ত হয়, তাহলে সেটার জন্য সাবান ও গরম পানি অধিক উপকারী। অতএব, তাসবিহ হলো নেক লোকদের জন্য সুগন্ধিস্বরূপ আর ইস্তিগফার হলো পাপীদের জন্য সাবানস্বরূপ।’’ ইবনুল কায়্যিম, আল ওয়াবিলুস সাইয়িব।
চলুন, তওবাহ করি -
رَبَّنَا تَقَبَّلۡ مِنَّا ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ
وَتُبۡ عَلَیۡنَا ۚ اِنَّکَ اَنۡتَ التَّوَّابُ الرَّحِیۡمُ
হে পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ। আমাদের ক্ষমা করো/তওবা কবুল করো। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী। দয়ালু। আমিন।সূরাঃবাকারা;১২৭,১২৮।
ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻰُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮﻡُ ﻭَﺃَﺗُﻮﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছে তাওবাহ্ করি। আমিন।
🌳রাতে ঘুমাবার আগে ওযু করে নিয়ে বিছানায় শুয়ে যে ব্যক্তি উপরের কালেমা পড়বে আল্লাহপাক সেই ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন যদি সে জিহাদের ময়দান থেকেও পালিয়ে আসে। আবু দাউদ।