04/05/2026
2026 West Bengal Election results & discussion:
4th May'2026.
পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল আসলে মানুষের রায়, মানুষের বিচার। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে মানুষ আবারও স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে—ক্ষমতার অপব্যবহার করলে সেই ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের পরিবর্তন করতে মানুষ এক মুহূর্তও পিছপা হয় না, এবং সেটাই হয়েছে।
এটি শুধুমাত্র ক্ষমতা রক্ষার লড়াই ছিল না; এটি ছিল নিজেদের স্বতন্ত্রতা রক্ষার লড়াই, মানুষের নিজের অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই। আইনব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পরিকাঠামো, শিল্প—সমস্ত কিছুর যৌথ সমীকরণের ভিত্তিতে মানুষ ঠিক করেছে, নতুন সরকারকেই বিশ্বাস করা উচিত।
তবে নতুন সরকারের সামনে এখন অনেক বড় দায়বদ্ধতা রয়েছে। তারা বিজয়ের উল্লাসে যদি ভেসে যায়, মানুষ কিন্তু আবারও পরিবর্তনের ডাক নিশ্চিত করবে। কারণ মানুষের অধিকারই শেষ কথা, আর সেই অধিকারবোধ কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।
“সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।”
বিজেপির জন্য আমার পক্ষ থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ থাকবে—সম্মানের সঙ্গে বলছি, নিশ্চয়ই বহু অভিজ্ঞ ও সামর্থ্যবান মানুষ সেখানে রয়েছেন, কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি চাই আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের একটি বিশেষ মূল্যায়ন হোক।
প্রথমে একটি সমীক্ষা হোক, এবং সেই সমীক্ষায় পাঁচটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হোক—
১. শাসনব্যবস্থা
২. শিক্ষা
৩. সামাজিক সুরক্ষা
৪. কর্মসংস্থান ও চাকরির নিরাপত্তা
৫. কীভাবে আমরা আমাদের রাজ্য তথা দেশকে বহিরাগত অনিয়ন্ত্রিত প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারি
এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সরকার গঠনমূলক আলোচনা করুক। তারা গত ১৫–২০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করুক এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য কী কৌশল হওয়া উচিত, তা নির্ধারণ করুক—যাতে আমার মতো একজন সাধারণ মানুষও খুব সহজে বুঝতে পারে উন্নয়নের প্রভাব এবং তা নিজের জীবনে উপলব্ধি করতে পারে।
সরকার একটি সুস্পষ্ট সমীক্ষা তৈরি করুক এবং সর্বধর্ম নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়াক। কেন্দ্র সরকার এবং রাজ্য সরকার—উভয়েই রাজ্যের উন্নতি ও দেশের অগ্রগতির জন্য একসঙ্গে কাজ করুক।
আবার ফিরে আসুক আমাদের গর্ব, আমাদের পশ্চিমবঙ্গের হারিয়ে যাওয়া গৌরব। সেই গৌরবময় দিন আবার ফিরে আসুক—এটাই আমার একান্ত কামনা।
নোট: ভোট দেওয়া একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। নির্বাচনে সবসময়ই জয় এবং পরাজয় থাকবে। অনুগ্রহ করে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, বেআইনি কার্যকলাপ বা গণতান্ত্রিক নীতি ও আইন লঙ্ঘনের মতো কোনো কাজে জড়াবেন না।