26/08/2026
একটি নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেয় না—শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করে এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তারা নিরাপদে শিখতে পারে, নিজের কথা বলতে পারে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারে। সেই লক্ষ্যেই সরকারি সঙ্গীত কলেজে অনুষ্ঠিত হলো “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে তোলা” বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক আয়োজন।
সরকারি সঙ্গীত কলেজের মাদক ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এবং মাম্বল বাংলাদেশ-এর কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মসূচির শুরুতেই অনুষ্ঠিত হয় একটি ছোট্ট সচেতনতা র্যালি। কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ, অধ্যাপক নাদিয়া সোমা সামাদ ম্যাডাম এর নেতৃত্বে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা র্যালিতে অংশ নেন। এবং একটি সম্মিলিত বার্তা প্রদান করেন — "নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।"
সচেতনতার পাশাপাশি সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবীর প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করা হয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। একটি গাছ যেমন ভবিষ্যতের জন্য ছায়া তৈরি করে, তেমনি আজকের সচেতনতাও তৈরি করে আগামী দিনের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ।
এরপর সভাকক্ষে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের আহ্বায়কের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় আলোচনা পর্বের। বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সম্মানিত সহকারী পরিচালক, ডঃ মোঃ আবু সাঈদ মিয়া, মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব, এর সামাজিক ও ব্যক্তিগত পরিণতি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা প্রদান করেন।
আলোচনার মাঝেই শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। সংগীতের সুরের মধ্য দিয়ে যেন আবারও মনে করিয়ে দেওয়া হলো—তরুণদের শক্তি ও সৃজনশীলতা যদি ইতিবাচক পথে বিকশিত হয়, তাহলে তারাই পারে সমাজকে বদলে দিতে।
পরবর্তী পর্বে মাম্বল বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধিরা যৌন হয়রানি কী, এর বিভিন্ন ধরন কীভাবে চেনা যায়, কীভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং হয়রানির শিকার হলে কোথায় ও কীভাবে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিক্ষার্থীদের সামনে সহজ ও প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরেন। বিভিন্ন ইন্টারএ্যাকটিভ গেমস ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এমন কিছু সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, যেগুলো নিয়ে অনেক সময় আমরা কথা বলতে সংকোচ বোধ করি।
বিশেষ গুরুত্ব পায় Generative AI-এর নতুন বাস্তবতা। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তৈরি হওয়া নতুন ধরনের অনলাইন ঝুঁকি, হয়রানি ও অপব্যবহারের সম্ভাবনা এবং সেগুলো থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখার উপায় নিয়েও শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা। কারণ আজকের নিরাপত্তা শুধু শ্রেণিকক্ষ বা ক্যাম্পাসের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়—ডিজিটাল জগতেও আমাদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
কর্মশালার টেকনিক্যাল সেশন এর পরে মাননীয় উপাধ্যক্ষ, অধ্যাপক আনিকা রাইসা চৌধুরী সবার উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন এবং শিক্ষার্থীদের কর্মশালার আলোকে নানা বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয় সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে এই কর্শালার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
একটি সচেতন শিক্ষার্থী শুধু নিজেকে নিরাপদ রাখে না; সে তার বন্ধু, সহপাঠী এবং পুরো সমাজকে আরও নিরাপদ করে তুলতে পারে।
তাই আসুন—
মাদকের বিরুদ্ধে না বলি।
যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কথা বলি।
নীরবতার সংস্কৃতি ভেঙে সচেতনতার সংস্কৃতি গড়ে তুলি।
এবং আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে করে তুলি আরও নিরাপদ, মানবিক ও সহনশীল।
🌱 নিরাপদ ক্যাম্পাস শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়—এটি আমাদের সবার সম্মিলিত অঙ্গীকার।
#নিরাপদক্যাম্পাস #মাদকবিরোধীসচেতনতা #যৌনহয়রানিপ্রতিরোধ #সরকারিসঙ্গীতকলেজ