14/02/2023
গল্পটি পড়ার অনুরোধ রইলো, পড়ে দেখো ভালো লাগবে ইনশাআল্লাহ 🥰
ঢাকা শহর, কারো স্বপ্ন পূরণের শহর বা কারো স্বপ্ন ভাঙ্গার শহর, কাউকে এই শহর দিয়েছে ইচ্ছেদের পূর্ণতা, বা কারো থেকে তাদের ইচ্ছে গুলোকে কেড়ে নিয়ে দিয়েছে শূন্যতা..যদিও দোষ শহরে নাহ, দোষ এই শহরে মানুষ গুলোর,,
আজকে যে গলির কথা বলছি তা ঢাকা শহরের একটি ব্যাস্ত গলির, ভদ্রসমাজের লোকেরা বলে যৌন্যপল্লি বা পতিতালয়... আজকের গল্পটিকে ঘীরে আছে এই পতিতালয়ের এক পতিতা পরি ও এই শহরতলীর কিছু সরল ও কিছু মানুষ রুপি পিচাশ কে নিয়ে ...
গল্পটি শুরু হয় ঢাকা শহর থেকে কয় এক হাজার কিলোমিটার দূরে একটি ছোট শহরের একটি ছোট গ্রাম থেকে, গ্রামটির নাম মায়াতলী এই মায়া তলীতে জন্ম পরির, একরাশ মায়া নিয়ে যেদিন পরি এই পৃথিবীতে আসে, তাকে জন্মদিয়েই তার মা মারা যায়, আর পরিকে তুলে দেয়া হয় তার দাদির কোলে, মায়া কারা মুখ ও অপরুপ সৌন্দর্য দেখে পরির দাদি নাম রাখে পরি.. পরির বাবার অনেক টাকা পয়সা থাকলেও, একটা বাজে অবভ্যাস ও ছিলো তা হলো জুয়া খেলা,, পরির মা মারা যাওয়ার পর এই জুয়ার নেশা আরো বাড়তে থাকে, জুয়া খেলতে খেলতে একদিন সব কিছু জুয়ার দানে হেড়ে যায়, আর এই চিন্তায় পরিরির বাবাও পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, এর কিছু বছর পর ওর দাদিও মারা যায়, আর পরি হয়ে যায় একেবারে একা, তখন পরিকে ওর ছোট চাচা নিয়ে যায় তাদের বাড়িতে, পরির চাচা পরিকে অনেক স্নেহ করতো, তবে তার চাচি বেশ একটা সুবিধার ছিলো নাহ, পরিকে তেমন সয্য করতে পারতো নাহ, সয্য না করাটাই স্বাভাবিক, একজন নারী তার সন্তানকে ছাড়া অন্য কারো সন্তানকে কখনোই পুরোপুরি আপন ভাবতে পারে নাহ.. তো পরি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে আর তার সৌন্দর্য বাড়তে থাকে, ওই গ্রামের প্রায় সব ছেলেরা ওর জন্য পাগল ছিলো, তাদের মধ্যে সব থেকে বেশি পাগলামি করতো হামিদ, গ্রামের বখাটেদের সর্দার, হামিদ সবসময় পরির পিছন পিছন ঘুরতো, আর অন্য কেউ পরির দিকে তাকালেই তার খবর করে ছাড়তো, একবার একটি ছেলে পরির স্কুল থেকে ফেরার পথে রাস্তা আটকিয়ে পরিকে একটি চিঠি দেয় আর বলে চিঠিটা পড়ে ওকে উত্তর দিতে, আর এই কথা জানতে পারে হামিদ, হামিদ সোজা ওই ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ৫০০ চিঠি লিখায়, আর সেই চিঠি তে শুধু লেখা থাকে পরি শুধু হামিদের, আর শেষে ছেলেটির হাতও ভেঙ্গে দেয়, এই নিয়ে বিচারও বসে.. তাতে হামিদ থেমে থাকে নাহ, হামিদ পরির পিছন পিছন ঘুরলেও কখনো পরিকে মনের কথা বলার সাহস হয়ে উঠেনি, তবে পরি জানতো যে হামিদ ওকে ভালোবাসে, কিন্তু পরি হামিদকে একটুও পছন্দ করতো নাহ, কারন হামিদ বখাটে ছিলো, সারাদিন ঘুরতো, একে মারতো ওকে ধরে মারতো, কাজ বাজ কিছুই করতো নাহ, তাই পরি হামিদকে পছন্দ করতো নাহ..
কিন্তু হামিদ ঠিকই প্রতিদিন পরির স্কুল যাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে থাকতো, স্কুল ছুটির সময় স্কুলের গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো, পরি বেড় হলে, পরিরি পিছু পিছু বাড়িতে পর্যন্ত এগিয়ে দিতো, যাতে পরিকে কেউ প্রেমের প্রস্তাব দিতে নাহ পারে..পরি এসবে খুব বিরক্ত হতো...
কিছু দিন পর মায়াতলী স্কুলের হেডমাস্টার ও এলাকার মোরোল শামীম হোসেনের বাসায় শহর থেকে একজন লোক এলো শামীম সাহেবের সাথে দেখা করতে, কিন্তু শামীম সাহেব ওই সময় স্কুলে ছিলো বলে লোকটি স্কুলে গেলেন তার সাথে দেখা করতে, শামীম সাহেব লোকটির পরিচয় জানতে চাইলে লোকটি বললো তার নাম জাভেদ রহমান, সে পেশায় একজন ডাক্তার,, তখন শামিম সাহেব তাকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি এই গ্রামে কেন? আর আমার সাথে দেখা করার কারন?, জাভেদ বললো আসলে আমি শুনেছি এই গ্রামে কোন ডাক্তার নেই, আর এখান থেকে শহর অনেক দুরে হওয়াতে আর যাতায়াত ব্যাবস্থা তেমন না থাকায় চিকিৎসার অবস্থা খুব খারাপ, তাই আমি চাই এই গ্রামে থেকে এই গ্রামের মানুষের সেবা করতে... শামীম সাহেব বললেন এতো খুব ভালো প্রস্তাব, তো বলেন আমি আপনার জন্য কী করতে পারি? জাভেদ বললো বেশি কিছু করতে হবে নাহ, একটু থাকার জায়গা আর একটা চেম্বারের ব্যাবস্থা করে দিলেই চলবে.. শামীম সাহেব বললেন কোন চিন্তা নেই সব হয়ে যাবে, আপনি আমার বাড়ি গিয়ে রেস্ট নিন আমি দুপুরে আপনার সাথে কথা বলবো, এই বলে তিনি তার পিয়নকে পাঠিয়ে দিলেন জাভেদের সাথে, জাভেদ স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ ক্লাস রুমে চোখ যেতেই দেখে অপরুপ সুন্দরী একটি মেয়েকে, কাজল দেয়া চোখ, মায়াবী মুখ দেখে জাভেদ পুরাই হতভম্ব, এত সুন্দর মানুষ কী করে হয়..
জাভেদ মায়াতলীতে থাকা শুরু করে, গ্রামের মানুষদের চিকিৎসা করতে থাকে, জাভেদের উপর গ্রামের মানুষের ভালোবাসা বাড়তে থাকে, কারন সে বিনা টাকায় সবার চিকিৎসা করতো..
একদিন হঠাৎ পরির চাচা অজ্ঞান হয়ে যায়, তখম পরির চাচাতো ভাই গিয়ে ডাক্তার কে ডেকে নিয়ে আসে,, জাভেদ এসে চেকাপ করে বলে চিন্তার কোন কারন নেই কিছু ঔষধ লিখে দিচ্ছি খেলেই সুস্থ হয়ে যাবে, আর রেস্ট নিতে হবে, আমি আবার কাল এসে দেখে যাবো, জাভেদ উঠে ঘর থেকে বের হতেই দেখে পরিকে, পরিকে দেখে জাভেদের মনে পরে সেদিন স্কুলের ওই মেয়েটির কথা, মনে মনে বলে, আরে এই মেয়েটিকেই তো সেদিন স্কুলে দেখেছিলাম...
পরের দিন আবার জাভেদ পরিদের বাসায় যায় পরির চাচাকে দেখতে, তখন পরির চাচা পরিকে ডাক দিয়ে বলে ডাক্তার সাহেব কে চা নাস্তা দিতে, তখনি জাভেদ পরির নাম জানতে পারে..
পরি নাস্তা দিতে গেলে জাভেদের সাথে একটু চোখাচোখি হয়, তাতে পরিও জাভেদ কে দেখে...
পরিদের স্কুল যাওয়ার পথেই জাভেদের চেম্বার ছিলো, পরি স্কুল যাওয়ার সময় একদিন জাভেদ পরিকে এই পথ দিয়ে যেতে দেখে, এর পর প্রাই জাভেদ ওই সময় চেম্বারের বাইরে দাড়িয়ে থাকতো পরিকে দেখবে বলে, পরিও মাঝে মধ্যে আর চোখে তাকিয়ে দেখতো জাভেদ কে..
এরি মধ্যে মায়াতলীর স্কুল মাঠে বৈশাখী মেলা বসে, পরি ওর চাচার সাথে মেলায় যায়, সেখানে দেখা হয় জাভেদের সাথে, জাভেদ পরির চাচার সাথে কথা বলতে থাকে, তখনি একজন এসে পরির চাচাকে খবর দেয় তাদের খামারে একটা সমস্যা হয়েছে তাকে এখনি যেতে হবে, কিন্তু পরিকে রেখে ওনি কিভাবে যাবে, তখন জাভেদ পরির চাচাকে বলে, আপনি জান পরি আমার সাথে থাক, আর আমি তো আপনাদের বাড়ি চিনি, মেলায় ঘোরা হয়েগেলে পরিকে বাসায় দিয়ে আসবো, পরির চাচা পরিকে জিজ্ঞেস করলো তার কোন সমস্যা আছে কিনা? পরি বললো কোন সমস্যা নেই.. এর পর পরির চাচা পরিকে জাভেদের কাছে রেখে তার খামারে দিকে হাটা দিলো, আর জাভেদ ও পরি একসাথে মেলাতে ঘুরতে লাগলো, আর কথা বলতে লাগলো, ঘুরতে ঘুরতে জাভেদ পরিকে একটি চুরির দোকানে নিয়ে গেলো, সেখান থেকে নীল চুরি কিনে পরিকে দিলো, পরি নিতে চাচ্ছিলো নাহ, তবে জাভেদ জোর করাতে পরি চুরি গুলো নিলো, ওরা দুজন অনেক্ক্ষণ ঘোরা ঘুরি করে বাসায় ফেরার সময় কথায় কথায় জাভেদ তার পরিবার ও তার সম্পর্কে সব বললো যে ওর বাবা মা ছোট বেলায় এক দূর্ঘটনায় মারা যায়, এর পর ও ওর দাদা দাদির কাছে থেকে বড় হয়, আর কয় এক বছর আগে দাদি মারা যায় এর এক বছর পর ওর দাদাও মারা যায়, এখন ওর এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই, পরিও ওর সব কথা জাভেদ কে খুলে বলে, তারও চাচা ছাড়া আর কেউ নেই.. এসব বলতে বলতে ওরা বাড়ির সামনে পৌছে যায়, জাভেদ তখন পরিকে বলে কাল বিকালে নদীর পারে আসতে, কিছু জরুরি কথা বলবে...
পরি বুঝতে পারে জাভেদ হয়তো তাকে পছন্দ করতে শুরু করেছে, হয়তো কাল সে তাকে ভালোবাসার কথা বলবে, এসব ভাবতে ভাবতে পরি ঘুমিয়ে যায়, বিকেল বেলা সুন্দর করে সেজেগুজে জাভেদের দেয়া চুড়ি গুলো হাতে দিয়ে নদীর পারে যায়, গিয়ে দেখে জাভেদ আগে থেকেই দাঁড়িয়ে আছে, জাভেদ পরিকে দেখে আজ আরো বেশি মুগ্ধ হয়ে যায়, তার দেয়া চুড়ি গুলো পরির হাতে দেখে অনেক খুশি হয়, জাভেদ পরিকে বলে তোমার হাতটা একটু ধরি, পরি ওর হাত বাড়িয়ে দেয়, পরি অনেক লজ্জা পায়, কারণ এই প্রথম কোন ছেলে ওর হাত ধরেছে, জাভেদ বললো -
জাভেদ - অনেক দিন থেকে একটা কথা বলতে চাই, কিন্তু কথাটা তুমি কিভাবে নিবে
পরি - আপনি নির্দিধায় বলে ফেলুন
জাভেদ যেইনা কথা টা বলতে যাবে, হঠাৎ সেখানে হামিদ এসে হাজির হয়, হামিদ জাভেদ কে পরির হাত ধরা দেখে রেগে গিয়ে জাভেদ কে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে আবার তুলে মারতে শুরু করে, পরি এসব দেখে খুব রেগে যায়, আর হামিদের গালে জোরে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়, হামিদ পরিকে বলে তুই আমায় থাপ্পড় মারলি কেন, পরি বলে তুই ডাক্তার সাহেবকে মারলি কেন, ওই ছেলেকে মারছি তো কী হইছে, ওর জন্য এত দরদ কেন তোর, আর ও কে তোর হাত ধরার, আমি তোকে ভালোবাসি পরি, পরি বলে আমি তোকে ভালোবাসি নাহ, তুই ভাবলি কিভাবে তোর মতো বখাটেকে আমি ভালোবাসবো, আর বললি নাহ ওনার প্রতি এতো দরদ কেন, দরদ কারন আমি ওনাকে ভালোবাসি, এই কথা শুনে হামিদ চুপ হয়ে গেলো, আর জাভেদও পুরাই অবাক, পরি আবারো বল্লো আর কখনো যেনো তোকে আমার চোখের সামনে না দেখি, এই বলে পরি, জাভেদের হাত ধরে বাড়ির দিকে হাটা দিলো, আর হামিদ চুপ করে ওদের দুজনের দিকে তাকিয়ে রইলো,
পরের দিন জাভেদ পরির দেখা করে, পরিকে জিজ্ঞেস করে সে কি ওইদিনের কথা গুলো সব সত্যি বলেছিলো, পরি জানায় সে সত্যি জাভেদ কে পছন্দ করে, জাভেদ এটা শুনে খুব খুশি হয়ে যায়, আর বলে পরির চাচাকে বলে সে পরিকে বিয়ে করে ফেলবে, পরিও রাজি হয়,
জাভেদ পরির চাচাকে সব বলে, পরির চাচা রাজি হয়ে যায়, কারন জাভেদ অনেক ভালো ছেলে, আর তার যেহেতু মা বাবা নেই, আর পরিরও মা বাবা নেই, তাই সে বুঝবে পরির কষ্ট, আর পরিকে অনেক সুখেই রাখবে, তাই তিনিও রাজি হয়ে যায়, বিয়ের তারিখ ও ঠিক করে ফেলে...
বিয়ের দিন পরিদের বাসায় যখন উৎসবের আমেজ, তখন হামিদ অন্ধকার একটা ঘরে বসে ভাবছে সে এখন কী করবে, যাকে ছোট বেলা থেকে এত ভালোবাসতো, তাকে কী না হারাতে চলেছে সে, এটা কী করে হয়, নাহ সে এটা হতে দিবে নাহ, সে ভাবে পরিকে ওর বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসবে আর ওই ডাক্তারকেও আর পরির সামনে ডাক্তার কে মেরে ফেলবে আর পরিকে জোর করে হলেও বিয়ে করবে সে, একবার বিয়ে হয়ে গেলে পরি ঠিকি সব মেনে নিবে, যেই ভাবা সেই কাজ, হামিদ তার বন্ধুদের পাঠিয়ে ডাক্তার কে উঠিয়ে নিয়ে আসে, আর পরিদের বাসায় গিয়ে পরিকে অজ্ঞান করে সবার চোখের আড়ালে নিয়ে আসে, ইতিমধ্যে সবাই পরি ও জাভেদ কে না পেয়ে খোঁজা খুজি শুরু করে দিয়েছে..
একটা অন্ধকার রুমে জাভেদ কে একটি চেয়ারে হাতপা সহো মুখও বেঁধে রাখা হয়েছে, জাভেদের মুখবাঁধা জন্য কথা বলতে পারছে না, শুধু গোঙানির মতো শব্দ বের হচ্ছে, পাশের চেয়ারে পরি অজ্ঞান অবস্থায় বসে আছে, আর তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে হামিদ, হামিদ পরির মায়াবী মুখটা দেখছে আর ভাবছে, কি করে একটা মানুষ এত সুন্দর হয় হ্যা? আর আমার পরিটার চোখ দুটি এত সুন্দর কেন? ওর বন্ধ চোখ দেখেই মায়া লাগে, না জানি এই চোখ দিয়ে আমার দিকে তাকালে যে আমার কি হয়ে যেতো, পরি আমার দিকে কখনো ভালো করে তাকায় নাই, ও আমাকে ভিষণ ভয় পায়, পাগলী একটা, আমায় এত ভয় পাওয়ার কী আছে, ও কী জানে নাহ ওকে আমি আমার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি, ওর জন্য সব করতে পারি আমি..
হামিদের ভাবনার অবসান ঘটিয়ে হঠাৎ পরি চোখ মেলে তাকায়, আর সামনে হামিদ কে দেখে চমকে উঠে... To be continue.....
গল্পটি ভালো লাগলে একটি ❤️ রিয়েক্ট দিয়েন
২য় পার্ট লাগলে কমেন্ট করে জানান 🙂
ধন্যবাদ 🌹