14/06/2026
ওকে আপনারা অনেকেই চিনেন। নাম মাহদী হাসান। হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব। ওর উপর যে ইনজাস্টিসটা হচ্ছে, সেটা নিয়ে কথা বলা দরকার।
ভিসা ভারতে গেলে লীগের লোকজন ওকে মেরে ফেলতে চায়। দেশে ছাত্রদল ওর উপর পরপর দুইদিন এট্যাক করল। মিডিয়া ওকে পুলিশের হ'*ত্যা'*কা'*রী হিসেবে পোট্রে করতে চায়।
এমন একটা অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যেন ওকে মারলে কারো কিছু যায় না আসে।
প্রথমে পুলিশ মারার কাহিনিটা বলি। বানিয়াচং-এ যে পুলিশটাকে পিটিয়ে দুইদিন টাঙিয়ে রাখা হয়েছিলো থানার সামনে, ওই পুলুশ এর আগে ওই উপজেলাতেই সাত জনকে গুলি করে মেরেছে।
মানুষ তার উপর প্রচন্ড ক্ষ্যাপা ছিল। যার কারণে সুযোগ পেয়ে মানুষ থানায় আগুন দিয়েছে, এসআই সন্তোষকে মেরে ফেলেছে। ওই ঘটনার সাথে একজন মাহদীর কোন সম্পর্ক নাই।
কিন্তু মিডিয়া ওর স্লিপ অব টাং কে কোট করে শিরোনাম করেই যাচ্ছে। তারা জানে না এমন নয়, কিন্তু তারা এগুলো সামনে আনতে চায় না। অথচ জুলাইয়ের ওসব ঘটনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, সরকার সবাইকে আইনের দায়মুক্তি দিয়েছে।
ভারতে গিয়ে সমস্যা হয়েছিল কেন? সে অনেক আগে থেকে ভালো বক্তা। তার আইডিতে গেলেই পাবেন। নূরের দল করত। ওর থেকে ভালো বক্তা, ওই বয়সে, খুব কমই পাবেন। ইংরেজি, বাংলা দুটোতেই।
অনেক আগে থেকে এই স্কিল কাজে লাগিয়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। জুলাইয়ের বহু আগে থেকে। ইউরোপের সব দেশের এম্বাসি তো ঢাকায় নেই। দিল্লিতেও যেতে হয় বহু দেশের জন্য। সেটার ইন্টারভিউ ফেইস করতেই ও ভারতে গেছিল। আর সেখানেই গোদী মিডিয়া ওকে টার্গেট করে। সাথে লীগ তো আছেই।
আচ্ছা আমি আপনারে বলি। আপনি বাংলাদেশী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার বিপক্ষে মাঠে ছিলেন, এতটুকু ভারতে গিয়ে বলে দেখেন তো। ভারতীয় পুলিশ আপনাকে ধরে কিনা জুলাই কেবল আওয়ামী লীগের পরাজয় না, ভারতেরও পরাজয়।
মিডিয়ার সাথে মাহদীর সমস্যা কী? বিবিসি বাংলা তার নামে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়ায়। এরপর সে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের সহায়তা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করে। যেইটা বহু বড় নেতার করার কথা, সেটা করে মাহদী।
এতটুকু ছেলের এত বড় সাহস! এজন্য মিডিয়া একেবারে তার বিরুদ্ধে চলে যায়। বিসিবি-ট্রান্সকম-বিডিনিউজসহ মুজিববাদী যে সাংবাদিক বোঝাপড়া আছে, সেই কোরাম তার পিছে তখন থেকে উঠেপড়ে লাগে।
বিএনপির সমস্যা কই? হবিগঞ্জের এমপি ও সংসদের হুইপ জিকে গউছের বাইরে গিয়ে হবিগঞ্জে কেউ মাথা তুলে দাঁড়াক, এটা বিএনপি এখন হতে দিবে না। মাহদীর মধ্যে সম্ভাবনা আছে। একারণে তার প্রতি বিএনপিরও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অথচ সে তাদের জোটসঙ্গী গণঅধিকারের রাজনীতির সাথে যুক্ত!
আমি আওয়ামী আমলে ওর একটা বক্তব্য শুনেছিলাম। খুবই বোল্ড। এখনকার অনেক বড়-বড় ছাত্রনেতা যখন ভয়ে ক্যাম্পাসে যেত না কিংবা গুপ্ত রাজনীতি করত, তখন মাহদী হাসিনার নাম ধরে প্রতি লাইনে এট্যাক করে বক্তব্য দিত।
ওর উপর সর্বদলীয় এই আক্রোশ আর মিডিয়ার নিন্মপর্যায়ের নোংরামি, বিষয়টাকে বিষিয়ে তুলছে। ও আর দশজন জুলাইয়ের সৈনিকের সমান। জুলাইয়ে অবদান কমবেশি না। তাকল আলাদা করে ফ্রেমিং করে ভীলেন বানানোর এই প্রজেক্টের বিপক্ষে কথা বলেন।
©