10/12/2025
ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর স্বামী।
তালাক হয়ে যাওয়ার পর স্বামী কোর্ট থেকে বেরিয়ে অটোতে বসলো, আর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী সেই একই অটোতেএসে বসে পড়লো। উদাস স্বামী দশ বছর একসঙ্গে থাকা স্ত্রী রৌনকের দিকে এক কাটার দৃষ্টিতে তাকালো।
রৌনক নিজে এসে হাসি দিয়ে বলল —
"বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত শেষ পথটা তোমার সাথেই যেতে চাই।"
স্বামী বলল — "ঠিক আছে!"
রাস্তায় যেতে যেতে স্বামী বলল —
"অ্যালিমনি (ভরণপোষণ) এর টাকা দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দিয়ে দেবো।
বাড়িটাও বেঁচে দেবো। তোমার জন্যই তো বানিয়েছিলাম। তুমি যদি না থাকো, তবে সেই বাড়ি দিয়ে কি করব আমি?"
রৌনক তাড়াহুড়ো করে বলল —
"বাড়ি বেছোনা না।
আমাকে টাকা দেয়া লাগবে না।
প্রাইভেট চাকরি করছি, আমার আর বাবুর খরচ হয়ে যাবে।
হঠাৎ অটোটাও ব্রেক করলো রৌনকের মুখ সামনে থাকা রেলিংয়ে ধাক্কা লাগার উপক্রম,
তখনই স্বামী হঠাৎ তার হাত ধরে তাকে বাঁচিয়ে দিলো।
স্বামীর চোখের দিকে তাকিয়ে রৌনক অস্পষ্ট কণ্ঠে বলল —
"আমরা আলাদা হয়ে গেছি, তবে তোমার যত্ন নেয়ার অভ্যাসটা তো যায়নি!"
সে কিছু বলল না।
কিন্তু রৌনক কেঁদে ফেলল।
কাঁদতে কাঁদতে বলল —
"একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"
স্বামী চোখ তুলে বলল —
"কি?"
রৌনক ধীরে ধীরে বলল —
"দুই বছর হয়ে গেল আমরা আলাদা থাকছি…
আমার কথা তোমার কখনো মনে পড়ত?"
স্বামী বলল —
"এখন বললেই বা কি লাভ?
এখন তো সব শেষ হয়ে গেছে না?
ডিভোর্স হয়ে গেছে।"
রৌনক বলল —
"এই দুই বছরে একবারও সেই ঘুমটা আর পাইনি…
যে ঘুম তোমার হাতকে বালিশ বানিয়ে হতো…"
কথা শেষ করে সে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।
এসময় বাসস্ট্যান্ড চলে এসেছে।
দু’জন অটো থেকে নেমে দাঁড়াতেই স্বামী তার হাত ধরে ফেলল।
অনেকদিন পর স্বামীর স্পর্শ কাঁপজিটে অনুভব করে
রৌনক আবেগে ভেসে গেল।
স্বামী বলল —
"চলো, নিজের বাড়িতে চলে যাই।"
এটা শুনেই রৌনক বলল —
"তালাকের কাগজগুলো তাহলে?"
স্বামী শান্ত গলায় বলল —
"ছিঁড়ে ফেলব।"
এটা শুনেই রৌনক হাউমাউ করে কেঁদে স্বামীর গলায় মাথা রাখল…
পিছনে আরেকটা অটোটে আসা স্বামী-স্ত্রী আত্মীয়-স্বজনরা সবকিছু দেখে চুপচাপ কোনো কথা না বলে বাসে উঠে চলে গেল…
(নিজের সম্পর্ককে কখনোই অন্যের হাতে ছেড়ে দিও না,
নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নাও, নিজেদের মধ্যে কথা বলো,
ভুল হলে তা স্বীকার করো!)