02/09/2024
পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে/ই-পাসপোর্ট করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ
ই-পাসপোর্ট করতে গেলে সবার আগে যে জিনিস সবচেয়ে গুরত্বপুর্ন সেটা হল নতুন ই-পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজ লাগে সেটা জানা ও সেগুলো সংগ্রহ করা। বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া আগের এমআরপি পাসপোর্ট এর চেয়ে কিছুটা সহজ। এখন আর আগের মত ই পাসপোর্ট করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করতে হয় না। এতে সত্যায়িত করার ঝামেলা কমে গেছে। চলুন দেখে নেই পাসপোর্ট বানাতে কি কি লাগে।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ (নিম্নোক্ত বয়স অনুযায়ী)
১৮ বছরের নিচে হলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ
১৮-২০ বছর হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ
২০ বছরের বেশি হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) আবশ্যক
এখন পাসপোর্ট করতে এই একটা ডকুমেন্টই আসল ও আবশ্যক। তবে আপনার পেশা, বৈবাহিক অবস্থা ও পাসপোর্ট অফিস ভেদে বেশ কিছু অতিরিক্ত কাগজ লাগতে পারে। সেগুলো নিম্নরূপঃ
পেশাগত প্রমাণ (যেমন ছাত্র হলে স্টুডেন্ট আইডি, জব হোল্ডার হলে জব আইডী, ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স, কৃষক হলে জমির খতিয়ান এসব)
ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার, উকিল ও অন্যান্য পেশার লোকদের ক্ষেত্রে পেশাগত সনদ
সরকারী চাকুরীজীবীদের জন্য NOC বা Government Order-সরকারি আদেশ (GO/জিও)
নাগরিক সনদপত্র
পাসপোর্টে স্বামী বা স্ত্রীর নাম নতুন যুক্ত করলে কাবিননামা (কম বয়সীদের ক্ষেত্রে আবশ্যিক)
আগে কোন পাসপোর্ট থেকে থাকলে সেগুলোর মুল কপি ও ডাটা পেইজের ফটোকপি
১৮ বছরের নিচের আবেদনকারীদের জন্য তাদের পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
১৫ বছরের নিচের আবেদনকারীদের পিতা-মাতার পাসপোর্ট সাইজ ছবি অথবা বৈধ অভিভাবকের পাসপোর্ট সাইজ ছবি দিতে হবে
৬ বছরের নিচের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও 3R সাইজের (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড) ম্যাট পেপারে ল্যাব প্রিন্ট রঙ্গিন ছবি দিতে হবে
এছাড়া ঢাকার পাসপোর্ট অফিসগুলোতে বর্তমান ঠিকানা প্রমাণের জন্য ইউটিলিটি বিল, ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্র এসব লাগতে পারে।
এখন হয়ত আপনি কনফিউশনে পড়ে গেছেন। কিন্তু আস্তে আস্তে চিন্তা করে দেখুন আপনার পেশা ও যে অফিসে আবেদন করবেন সেটা অনুযায়ী আপনার ডকুমেন্টস রেডী করুন। কোন কনফিউশান থাকলে আপনার পাসপোর্ট আবেদন করেছেন এমন কাউকে জিজ্ঞেস করুন অথবা এখানে কমেন্ট করুন। এখন আমি আমার দুইটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি।
আমি গত সেপ্টেম্বর মাসে ফরিদপুর পাসপোর্ট অফিসে আমার ভাবীর ও মায়ের ই-পাসপোর্ট আবেদন করেছি। সেখানে আমার ভাবীর পেশা দিয়েছিলাম স্টুডেন্ট। আর সে সদ্য HSC পাস হওয়ায় ও এখনো কোন কলেজে ভর্তি না হওয়া তার স্টুডেন্ট আইডি কার্ড ছিল না। অফিস থেকে আইডি চাইলে এটা বললাম ও তার HSC এর মার্কশিট ও টেস্টিমোনিয়াল দেখালে হয়ে যায়। এর সাথে তার লেগেছিল NID ও নাগরিক সনদ। আর কিছু না। আর আমার মায়ের আবেদনে শুধু তার NID ও নাগরিক সনদ লেগেছিল। আর কিছু লাগে নাই। পেশা ছিল Housewife.
তবে অফিসে না লাগলেও পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাবা, মা, স্বামী স্ত্রীর NID, ইউটিলিটি বিল, নাগরিক সনদ, পেশার প্রমাণ, স্থায়ী ঠিকানা প্রমাণের জন্য জমির/ফ্ল্যাটের দলিল এসব লাগতে পারে।