30/01/2025
কিভাবে বজ্রপাতের ভোল্টেজ পরিমাপ করা হয়?
আমরা জানি, বজ্রপাতের ভোল্টেজ ৩০ লক্ষ ভোল্ট। কিন্তু এই ভোল্টেজ পরিমাপ করা হলো কিভাবে? নিশ্চয়ই ভোল্টমিটার দিয়ে নয়?
চলুন জেনে আসি সেই রহস্য।
বজ্রপাতের ভোল্টেজ পরিমাপ করা একটি জটিল প্রক্রিয়া, কারণ এটি অত্যন্ত দ্রুত এবং বিপজ্জনক। বিজ্ঞানীরা এবং প্রকৌশলীরা বিশেষ ধরনের যন্ত্র এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বজ্রপাতের ভোল্টেজ পরিমাপ করেন। এর মধ্যে প্রধান পদ্ধতিগুলি হলো:
# # # ১. **ইলেকট্রিক ফিল্ড সেন্সর**
বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের তীব্রতা পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তন থেকে ভোল্টেজ নির্ণয় করা সম্ভব। ইলেকট্রিক ফিল্ড সেন্সর বজ্রপাতের আগে এবং পরে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের পরিবর্তন রেকর্ড করে।
# # # ২. **লাইটনিং ডিটেকশন সিস্টেম**
বজ্রপাতের সময় সৃষ্ট রেডিও তরঙ্গ এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস (EMP) শনাক্ত করে ভোল্টেজের মাত্রা অনুমান করা হয়।
# # # ৩. **রকেট-ট্রিগারড লাইটনিং পদ্ধতি**
এটি পরীক্ষাগারে বা সুনির্দিষ্ট স্থানে বজ্রপাত ঘটানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। একটি রকেটের সাথে তার যুক্ত করে মেঘে পাঠানো হয়। বজ্রপাত ঘটলে তারের মাধ্যমে সৃষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপ করা হয়। এই পদ্ধতিতে সঠিক ভোল্টেজ এবং কারেন্ট নির্ণয় করা যায়।
# # # ৪. **মডেলিং এবং সিমুলেশন**
বজ্রপাতের সময়কার বিভিন্ন উপাত্ত ব্যবহার করে কম্পিউটার মডেলিংয়ের মাধ্যমে ভোল্টেজ নির্ণয় করা হয়।
# # # ৫. **স্টেপ ভোল্টেজ পদ্ধতি**
বজ্রপাতের ফলে মাটিতে সৃষ্ট বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য পরিমাপ করা হয়। এই পার্থক্যের মাধ্যমে বজ্রপাতের ভোল্টেজের একটি ধারণা পাওয়া যায়।
# # # কেন এটি এত বেশি?
বজ্রপাতের সময় মেঘ এবং মাটির মধ্যে বিশাল বৈদ্যুতিক বিভব তৈরি হয়। এই বিভব কয়েক মিলিয়ন ভোল্টে পৌঁছাতে পারে। এটি নির্ভর করে মেঘের আকার, উচ্চতা, এবং তাপমাত্রার উপর।
এইসব পদ্ধতির সমন্বয়ে বিজ্ঞানীরা বজ্রপাতের ভোল্টেজের পরিমাণ নির্ণয় করেন।