12/08/2020
বাইরে থেকে ইন্টারনেট ব্যবসাকে যতটা সহজ ভাবেন, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবসা করা এতোটা সহজ নয়।
সস্তা রাউটারের কারনে নেট স্লো, একই যায়গায় অনেক রাউটারের সেম ফ্রিকোয়েন্সিতে ডাটা ট্রান্সমিট করার কারনে নেট স্লো, এক রাউটারে অনেক গ্রাহক কানেক্ট থেকে ফুল ট্রাফিক ইউজ করার কারনে নেট স্লো... সব দোষ আইএসপির।
সরকারী নির্দেশে সাইট ব্লক, গ্রাহক বলে সাইট খোলে না কেন? সব দোষ আইএসপির।
উন্নয়ন কাজে রাস্তা খোড়াখুড়ির কারনে মেইন লিংক ডাউন... নেট নাই... আইএসপির দোষ।
ডেসকো তার কাটে, সন্ত্রাসীরা তার কাটে, চোরে তার কাটে... সব দোষ আইএসপির।
এলাকার পাতি নেতারা ফ্রি কানেকশন চায়, ছেলেপেলেরা কার্ড দিয়ে ডোনেশন চায়, মস্তানেরা চা-পানির খরচ চায়. আইএসপি ব্যবসা করলে.. এগুলা মেইনটেইন করতে হবে।
বছরে ২ বার ঈদ আসে, আর আইএসপি ব্যবসায়ীদের কপাল পুড়ে।
ব্যবসা যেমনই হোক, এমপ্লয়িরা অপেক্ষায় থাকে বেতন-বোনাসের। ছুটির সময় আবার কেউ ডিউটি করতে চায় না... তাই ঈদের ছুটিতে সবাই আনন্দ করলেও ব্যবসা সামলাতে হয় আইএসপি মালিকদের।
ঈদের আগে মেথর, হিজরা, নাইট গার্ড, ডে গার্ড, বুয়া, দারোয়ান, এলাকার ছেলেপেলে সহ সবাইকে খুশি করা একজন আইএসপি ব্যবসায়ীর জন্য বাধ্যতামূলক।
গ্রাহকরা সময়মতো বিল দেয় না, ১০ দিন বিনা বিলে লাইন চালানোর পরে ব্লক করলে অন্য যায়গা থেকে লাইন নেয়, অন্য আইএসপি নিজ আইএসপির গ্রাহকদের মেসেজ পাঠায়, অনেকে মার্কেট নষ্ট করে সস্তায় অফার দিয়ে গ্রাহক নিতে চায়, অমুক-তমুক গুন্ডা লাইন ছিনিয়ে নিতে চায়, অমুক ভাই ব্যবসা করবে বলে তার এলাকায় ঢুকতে দেয় না. এগুলো আইএসপি ব্যবসায়ীদের
জন্য নিত্যদিনের ক্যাচাল।
কোথায় ঘুরতে গেলাম কিংবা কোথাও যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বের হলাম... শুনলাম লিংক ডাউন কিংবা পাওয়ার ডাউন... সব ফেলে দৌড় অফিসের দিকে..!!
অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে কাজ করার পর বাসায় ফিরলাম, জামা-কাপড় পরিবর্তন করে ফ্রেশ হয়ে ভাত খেতে বসামাত্র, খবর পেলাম সার্ভিস ডাউন... খাবার ফেলে অফিসের দিকে দৌড় !!
এইরকম শত স্ট্রেস, আপস্ট্রিম আর ডাউনস্ট্রিম নিয়েই আইএসপি ব্যবসায়ীদের সারাটা দিন কাটে। আমার এমন অনেকবার হয়েছে যে, খাওয়া রেখে, দাওয়াত রেখে, থিয়েটারে অর্ধেক মুভি দেখা বাকি রেখে, ঘুরতে যাওয়া ক্যান্সেল করে ইন্টারনেট সার্ভিস আপ রাখার জন্য কাজ করতে হয়েছে।
ঘুমে চোঁখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সার্ভারের কাজ অসম্পূর্ণ... তাই ঘুমানো যাবে না.. এটা এমন একটা কষ্টের অবস্থা যা কোনভাবেই এভয়েড করা যায় না। অনেক সময় সার্ভার রুমে টায়ার্ড হয়ে শক্ত ফ্লোরে ঘুমিয়ে গিয়েছি। ঘুম থেকে উঠে আবার কাজ করেছি।
এতোকিছুর পরেও এই ব্যবসাকে ছাড়তে পারি না। কারন এটা পেশার থেকে বেশি নেশার মতো হয়ে গিয়েছে। সার্ভিস সাপোর্ট দেয়া এবং কোয়ালিটি মেইনটেইন করাকে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করাতে অনেক সময় চাইলেও কাজ ছেড়ে বের পারি না। মাঝে মধ্যে ভাবি ব্যবসার ট্র্যাক চেঞ্জ করবো... কিন্তু সেটা ভাবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়..!! স্বপ্ন দেখি, কোন একদিন এইসব ঝামেলা উতরে গিয়ে আরামসে ব্যবসা করবো !!