02/01/2023
লিখেছেন ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ
ডলারে খরচের হিসেবে ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় সমসাময়িক নির্মিত ভারতের মেট্রোর সাড়ে চার গুণ। ভারতের মেট্রো আন্ডারগ্রাউন্ড এবং ওভারহেড মিক্সড।আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোর নির্মাণ খরচ ওভারহেড মেট্রোর চেয়ে বেশি। তাই শুধু ওভারহেড মেট্রো হিসেবে কিমি প্রতি খরচে বাংলাদেশের প্রকৃত ব্যয় ভারতের পাঁচ গুণের কাছাকাছি।
৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ লক্ষ্মৌ মেট্রো নির্মাণ শুরু করা হয়েছে ২০১৪ সালে। এর প্রায় ১০ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড। আর ৩৪ স্টেশনের ১০টি মাটির নিচে। ২০১৭ সালে উদ্বোধন-কৃত মেট্রোটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২০৫ কোটি ডলার। এতে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় পড়ছে ৫ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। আহমেদাবাদ মেট্রোর নির্মাণ শুরু হয়েছে ২০১৫ সালে। ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রোর ৬ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড। এতে ব্যয় হচ্ছে ১৮২ কোটি ডলার। ফলে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় ৫ কোটি ছয় লাখ ডলার। এছাড়া নাগপুরে ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১৪০ কোটি ডলার। এতে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় পড়বে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। ( সূত্র- কস্ট অব কনস্ট্রাকটিং মেট্রোরেল ইন ইন্ডিয়া ভার্সেস ঢাকা মেট্রো, ডিএমটিসিএল প্রতিবেদন)
বিপরীতে উত্তরা-মতিঝিল রুটে ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। ১ কিমি দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, ৩৮০ কোটি ডলার। যেহেতু এখনও ১০ কিমি টেস্ট ড্রাইভ ও উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত নয় তাই ব্যয় আরও বাড়তে পারে, এর মধ্যে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে বলে তারও একটা প্রভাব থাকতে পারে। অর্থাৎ কিমি প্রতি ঢাকা মেট্রোর ন্যূনতম খরচ হচ্ছে ১৭ কোটি ডলার, যা ভারতের অন্তত সাড়ে চার গুণ। মেট্রোরেল মূলত সরকারি সড়কের উপর দিয়েই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, ফলে ভূমি অধিগ্রহণের অস্বাভাবিক খরচ এবং বেসরকারি অবকাঠামোর সত্য-মিথ্যা ক্ষতিপূরণের দুর্নীতিকে অবশ্যই প্রশ্ন করতে হবে।
উপকরণ, মানবসম্পদ এবং প্রযুক্তির সবকিছুই আমদানি নির্ভর বলে বাংলাদেশের যেকোনো হাইটেক নির্মাণ খরুচে। কিন্তু তাই বলে একই সাথে কিংবা পরে কাজ শুরু হওয়া ভারতীয় প্রকল্পের প্রায় ৫ গুণ খরচ অবশ্যই যৌক্তিক নয়। ভারতের মেট্রো প্রযুক্তিও কিন্তু বিদেশি, যেমন কানাডিয়ান বোর্মার্ডীয়ার, রাশিয়ার রোটেম, চাইনিজ ও জাপানি মেট্রো আছে সেখানে, কিছু ক্ষেত্রে কোচগুলোর স্থানীয় সংযোজন করা হয় সাভলি ও চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রেটেড কোচ ফ্যাক্টরিতে। ভারতের ফ্যাক্টরিতে সংযোজিত হচ্ছে বলে ভারতের মেট্রোর খরচ কিছুটা কম হবে, তাই বলে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মেট্রোর ৫ গুণের অস্বাভাবিক খরচের যুক্তি দাঁড়ায় না। খরচ বেশি হচ্ছে বলেই মেট্রোর ভাড়াও বেশি থেকে যাচ্ছে, এটা ভাবাও অযৌক্তিক নয়।
মেট্রোর মত প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ক্ষেপণ অবশ্যই গুরুতর বিষয়। মাত্র এক বছর আগেও যে ডলার ৮৬ টাকা ছিল তা এখন ১০৭ টাকা। সুতরাং সময় ক্ষেপণ থামিয়ে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্পকে দৃশ্যমান করা হোক। ২২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অর্ধেক উদ্বোধন হয়েছে, কিন্তু খরচ এখনই গিয়ে ঠেকেছে ৩৩ হাজার কোটিতে। ২০ কিমি একটা ওভারহেড মেট্রোরেল পদ্মা সেতুর চেয়েও কেন বেশি খরুচে এই উত্তর খুঁজতে হবে জরুরি ভিত্তিতে।
https://www.facebook.com/ftaiyeb?mibextid=ZbWKwL