09/08/2026
গুগল মারফত জানতে পারলাম, বাংলাদেশ থেকে মক্কার দূরত্ব প্রায় ৬,৩৭৬ কিলোমিটার। যদি কেউ প্রতিদিন গড়ে ২০ কিলোমিটার করে হাঁটেন, তাহলে একমুখী পৌঁছাতে প্রায় ৩১৯ দিন লাগতে পারে। আসা-যাওয়া, হজের আনুষ্ঠানিকতা ও বিশ্রাম মিলিয়ে মোট সময় প্রায় ৬৭০ দিন ধরা যায়।
যদি প্রতিদিন গড়ে ৫০০ টাকা ব্যয় হয়, তাহলে শুধু যাত্রাপথেই খরচ হবে প্রায় ৩ লাখ টাকা+। আবার এই ৬৭০ দিন যদি নিজ দেশে কাজ করা যেত, তাহলে ন্যূনতম আরও ৩ লাখ টাকা+ আয় করা সম্ভব হতে পারত। অর্থাৎ সুযোগ-ব্যয় (opportunity cost) হিসাব করলে মোট অর্থনৈতিক ব্যয় প্রায় ৬ লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। বাস্তবে ভিসা, সীমান্ত পারাপার, চিকিৎসা, আবাসন, খাদ্য ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে এই অঙ্ক আরও বাড়বে।
এ কারণেই ইসলাম হজকে সবার ওপর বাধ্যতামূলক করেনি।
মহান আল্লাহ বলেন—
"আর মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, আল্লাহর জন্য ওই ঘরের হজ করা তাদের ওপর অবশ্যকর্তব্য।"
সূরা আলে ইমরান, ৩:৯৭»
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন—
"আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।"
সূরা আল-বাকারা, ২:২৮৬»
রাসূল ﷺ বলেছেন—
"আমি তোমাদের যে বিষয়ে আদেশ করি, তা তোমরা যথাসাধ্য পালন কর।"
সহিহ আল-বুখারি (৭২৮৮), সহিহ মুসলিম (১৩৩৭)»
ফিকহের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো, হজ ফরজ হওয়ার জন্য 'ইস্তিতাআহ' (সামর্থ্য) অপরিহার্য। এই সামর্থ্যের মধ্যে সাধারণভাবে শারীরিক সক্ষমতা, যাতায়াতের নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় অর্থ এবং পরিবারের ন্যায্য ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।
তাই হজ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হলেও, ইসলাম কাউকে নিজের বা পরিবারের ওপর অসহনীয় কষ্ট, ঋণ কিংবা অক্ষমতার বোঝা চাপিয়ে হজে যেতে বাধ্য করেনি।
ইসলাম আবেগের ধর্ম নয়, ভারসাম্যের ধর্ম; কষ্টের নয়, সামর্থ্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব নির্ধারণের ধর্ম।