11/06/2025
মেয়েরা বলছে তাদের জন্য কোনো বিজনেস প্ল্যান আছে কি?
একটা সময় ছিল, মানুষ বড়লোক হওয়ার আগে জমি কিনত। এখন মানুষ একটা ফেসবুক পেইজ খোলে, ডোমেইন দখল করে। একটা সময় ছিল, কোম্পানি মানে বিশাল বিল্ডিং, স্যুটেড-বুটেড লোকজন, চা ওয়ালার ঘণ্টাধ্বনি। এখন কোম্পানি মানে তুমি, তোমার ফোন, আর এক কাপ চা।
তোমার মনে অনেক দিন ধরেই কিছু একটা করতে ইচ্ছা করে... কিন্তু কী করবো, কোথা থেকে শুরু করবো?
আমি আজকে একটা গল্প না, একটা রোডম্যাপ বলি।
ধরো, তোমার নাম ছোয়া। তুমি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কিংবা মফস্বলের কোনো শহরের ঘরে বসে আছো এটা সাবজেক্ট না। সাবজেক্ট তোমার সামনে একটা ল্যাপটপ, পাশে স্মার্টফোন। তুমি কথা বলতে পারো, আর হালকা ইংরেজি বোঝো।
তোমার মনে হঠাৎ প্রশ্ন এল,
"যদি আমি অন্য কোম্পানির কাস্টমার কলগুলো ধরে দিই? কেউ টাকা দেবে?"
অবশ্যই দেবে।
এখনকার পৃথিবীকে বলে আউটসোর্সড ওয়ার্ল্ড। লোকজন চায় কাজ হোক, কে করছে, কোথা থেকে করছে, সেটা দেখার টাইম কারো নেই।
তুমি যদি একটু কষ্ট করে ইংরেজিতে কথা বলে সমস্যার সমাধান দিতে পারো তাহলেই তুমি খেলায় ঢুকে গেছো। তুমি ইন্টারন্যাশনাল প্লেয়ার হবার জন্য রেডি।
চলো একটি ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি বানাই ঘরে বসে শুধু স্ট্র্যাটেজি দিয়ে। একটা ফেসবুক পেইজ, ইনস্টা পেইজ ও ইউটিউব খুলো। ফ্রিতে।
এরপর Canva খুলে একটা পোস্ট বানাও।
“ঘরে বসে কাস্টমার সার্ভিস দিচ্ছি।
আপনার কোম্পানির কল আমরা ধরবো, ভালোবাসা দিয়ে।”
মেকআপের জন্য জমিয়ে রাখা টাকাগুলো দিয়ে বুস্ট দাও। বুস্টের টার্গেট তুমি মিস না করলে দুই দিনেই ইনবক্স ভরে যাবে।
কেউ বলবে, “আমার অনলাইন শপের কাস্টমার কল ধরবে?”
কেউ বলবে, “স্যামসাং ফোনের অফার বোঝাতে পারবে?”
কেউ বললো, “ইনভেসিকিউরিটির ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিস বুঝিয়ে বলবে কাস্টমারকে?”
ছোয়া শুধু বললো,
"পারি। আমি সুন্দর করে বলি তো!"
সবকিছুই ছোয়ার ঘর থেক। ছোয়া কোনো অফিস ভাড়া নিলো না।
সে কোনো চাকরি ছাড়লো না। সে শুধু নিজের ঘরকে বানিয়ে ফেললো হেডকোয়ার্টার।
চাপাইনবাবগঞ্জের এক মেয়েকে সে বললো "তুমি কথা বলতে পারো? তাহলে তোমাকে শেখাবো, কীভাবে কথা বলতে হয় পেশাদারভাবে। ঘরে বসে Zoom মিটিং করলো। ট্রেনিং দিলো স্ক্রিপ্ট কীভাবে পড়তে হয়, কাস্টমার কীভাবে সামলাতে হয়।
ছোয়ার টিম এখন দেশজোড়া। ময়মনসিংহের একজন ইনভেন্টরি সিস্টেম বুঝিয়ে বলে। খুলনার একজন স্যামসাংয়ের নতুন মডেল ব্যাখ্যা করে। চট্টগ্রামের একজন ইনভেসিকিউরিটির ইনভেস্টর কেয়ার হ্যান্ডেল করে। ক্লায়েন্টের প্রয়োজন মত তার কোম্পানি ঘরে বসে ট্রেনিং দিয়ে প্রস্তুত করে নতুন এমপ্লয়ি। তারা সবাই ছোয়ার অধীনে, ছোয়ার কোম্পানিতে কাজ করে। কেউ কোথাও যায়নি।
সবাই ঘরে বসে।
এটাই ছোয়ার বিজনেস মডেল।
আয়?
একেকটা কোম্পানি মাসে দেয় ৩০–৫০ হাজার টাকা। ৫টা কোম্পানি মানে মাসে ২–৩ লক্ষ টাকা। ৫ টা কেনো? ৫০০ কোম্পানর কল সেন্টার ছোয়ার কোম্পানি হ্যান্ডেল করে। ছোয়া শুধু নিজে আয় করছে না, অন্যদের আয় করাচ্ছে।
Step-by-step গাইড চাও? কমেন্ট করো। দুচার পাচশ উদ্যোক্তা কমেন্ট না করলে অন্য বিষয়ে লিখব। এটি আর আগাবো না।
তুমি জানোই তো, হুট করে হারিয়ে যেতে আমার খুব ভালো লাগে।