07/08/2026
অনেকেই জানতে চেয়েছেন—এ বছর জাহিদ এগ্রো ফার্মের পেজে কোনো পোস্ট নেই কেন? খামার কি বন্ধ হয়ে গেছে?
গত বছরের এই দিনে (৭ আগস্ট) আমার আব্বা আল্লাহর মেহমান হয়ে যাওয়ার পর মানসিকভাবে খুব কঠিন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—খামার আর করবো না। এই ছোট্ট সিদ্ধান্তটি নিতে আমার ভেতরে অনেক বড় লড়াই হয়েছে।
কিন্তু,
একটা প্রবাদ আছে, "ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।" দুই-তিন মাস পর আবারও নিজেকে এই সেক্টরের টান থেকে দূরে রাখতে পারিনি। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আবার ফিরে এসেছি।
সত্যি বলতে, শুধু গরুর গন্ধটা অনুভব করার জন্য হলেও বর্তমানে অন্য একটি খামারের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত আছি।
আমার বিশ্বাস, ব্যবসাকে মহান আল্লাহ তাআলা হালাল করেছেন। তাই সবসময় সততা ও আমানতদারির সঙ্গে ব্যবসা করার চেষ্টা করেছি। মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় নিইনি। কোনো বিক্রেতা বিপদে পড়ে অর্ধেক দামে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হলে তার সুযোগ নেওয়া, কিংবা কোনো ক্রেতার অজ্ঞতার সুযোগে অযৌক্তিক বেশি দামে বিক্রি করা—এসব থেকে সবসময় নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছি।
আরেকটি বিষয় সবসময় মেনে চলেছি—খামার-সম্পর্কিত কারও সঙ্গে মতবিরোধ বা সম্পর্কের অবনতি হলেও কখনো অন্য কারও কাছে তার নামে নেতিবাচক কথা বলিনি। সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে, কিন্তু চরিত্র যেন নষ্ট না হয়।
অনেকের কাছে গরুর গন্ধ দুর্গন্ধ মনে হতে পারে। কিন্তু যারা এই সেক্টরের গভীরে কাজ করি, তাদের কাছে এটি শুধু গন্ধ নয়; এটি সম্ভাবনার গন্ধ, একটি ব্যবসার গন্ধ।
বাংলাদেশে এই সেক্টরের ভবিষ্যৎ কী—সেটা মহান আল্লাহই ভালো জানেন। তবে আমি এখনও এই সেক্টর নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখি।
আমার বিশ্বাস, এই ব্যবসায় সফল হতে শুধু মার্কেট নলেজ বা কাস্টমার সাইকোলজি জানলেই হয় না; প্রাণীগুলোর আচরণ, স্বভাব, স্বাস্থ্য এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও গভীর জ্ঞান থাকা জরুরি।
বর্তমানে জাহিদ এগ্রো ফার্মের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে শেখা, অভিজ্ঞতা অর্জন এবং এই সেক্টরের সঙ্গে আমার পথচলা এখনো থেমে যায়নি।