08/07/2026
সমাজের বিশ্রী রূপ জানতে হলে পুরো পোস্টটি পড়বেন।
মেয়েটার বিয়ে হয়েছিলো। বছরখানি আগে ডির্ভোস হয়েছে। স্বামী স্ত্রী সেপারেট থাকেন।
কিন্তু ৪ মাস ধরে পিরিয়ড হয় না। পরে আল্ট্রাসনো তে দেখা গেলো প্রেগন্যান্ট। কিন্তু উনি তো স্বামীর সাথে থাকে না। তাইলে কিভাবে প্রেগন্যান্ট হলো সেটা তো বুঝতেছেন ই।
রোগীর হাতে দেখলাম ছুরি দিয়ে কাটা দাগ। সাথে যে মেয়ে আসছে সেও মডেল। বুঝলাম যে টালিপাড়ায় আনাগোনা আছে তাদের। হয়তো কোনো পরিচালক/প্রডিউসারের সুখের বলি হয়েছে।
কিন্তু বাচ্চা এবোরশন/নষ্ট করতে চাই। কারণ এটা তো লিগ্যাল বাচ্চা না। সাধারণত এখন ডাক্তার রা এবোরশন সহজে করাইতে চাই না। লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ভয় থাকে।
এজন্য লুকায়ে গেছে একটা অলিগলির ক্লিনিকে। গিয়ে এবোরশন করাইছে। কিন্তু এবোরশন ঠিকমতো হয় নাই। কোনো ডাক্তার করছে বলে মনে হচ্ছে না। হতে পারে কোনো আয়া বা এসিস্ট্যান্ট বেশি টাকা খেয়ে করেছে এই কাজ।
বাচ্চার দেহপার্ট ভিতরে রয়ে গেছে। ঐখান থেকে ইনফেকশন হইছে। সেখান থেকে সেপটিক শক। রোগী খারাপ অবস্থায় আমাদের কাছে আসছে। অক্সিজেন লেভেল কমে যাচ্ছিল,প্রেশার কমে যাচ্ছিল। এজন্য তড়িঘড়ি করে ওয়ার্ড থেকে ICU তে পাঠানো হইছে।
রাতে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হওয়ার লাইফ সাপোর্টে দেওয়া হইছে। রোগী জীবন মৃত্যুর চান্স ৫০-৫০.
তারপর রোগীর লোকজনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আমাদের ম্যাডাম রা MVA পদ্ধতিতে জরায়ুর ভিতরের অংশ ক্লিয়ার করতে চাই। কিন্তু মেয়ের বাবা মা লোকলজ্জায় সামনে আসতেছে না। মেয়ের সাথে বাবা মায়ের সম্পর্ক ভালো না বলেই মনে হলো। পরে মায়ের কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে MVA করে দিলো আমাদের ম্যাডাম রা। এখনো রোগী লাইফ সাপোর্টে আছে।এখন বাঁচা মরা সৃষ্টিকর্তার হাতে।
এখন কথা হইলো, মেয়েটা পরকীয়ার বলি হইলো। কিন্তু যে পুরুষ টাও দায়ী,তার কোনো খোজ মিললো না।সে ধরা ছোয়ার বাইরে রয়ে গেলো।সে আবারো কাউকে নিয়ে হয়তো আমোদফূর্তি করতেছে। কেউ হয়তো জানবে ও না কে সেই দুশ্চরিত্র পুরুষ। জরায়ু থাকায় মেয়েটা পড়েছে বিপদে। পড়েছে মৃত্যু ঝুকি তে। যেহেতু ২ জন ই সমান অপরাধী,২ জনের ই শাস্তি পাওয়া উচিত।
আমাদের সমাজে এই পরকীয়া জিনিসটা অনেক বেশি পরিমাণে বাড়ছে ইদানিং।টালিপাড়ায় তো আরো বেশি। যে মেয়ে পরিচালক দের মন জয় করতে পারবে, সে বেশি সুবিধা পাবে ।
এজন্য বোন দের বলবো এই ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে নিজের জীবন নষ্ট করার দরকার নাই।এগুলা করার মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ পাই না। মাথায় রাইখেন,সাময়িক উত্তেজনা দীর্ঘ অনুশোচনার কারণ।
ডাঃ মেহেদী হাসান