26/12/2025
অনেক বাবা-মা আছেন, যারা নিজের সন্তানের থেকে অন্যদের সন্তানকে বেশী প্রায়োরিটি দিয়ে থাকেন। তাদের কাছে নিজের সন্তান হচ্ছে ধূলিকণা, আর অপরের সন্তান যেন আকাশের তারকা। নিজের সন্তানের বেলায় হাজারো হিসাব-নিকাশ, আর অপরের সন্তানের জন্য সবকিছু উজাড় করে দেওয়ার মনোভাব।
আজ এমন-ই এক মা'কে দেখলাম, যিনি নিজের মেয়েদেরকে একদমই সহ্য করতে পারেন না। মেয়েরা বাপেরবাড়িতে এসে দুইদিনের বেশী থেকে গেলে, সে-ই মা ওঠে-পড়ে লাগেন তাদেরকে তাড়াতে। অহেতুক ঝগড়া বাঁধানোর পাশাপাশি সরাসরি মেয়েদেরকে চলে যেতে বলেন। এমন না যে, মেয়েরা বাপেরবাড়িতে এসে পায়ের উপর পা তোলে খায়। তারা সবটুকু কাজ নিজেরাই করে, আবার খরচা-পাতিও নিয়ে আসে।
এ ছাড়াও সবার নিকটে নিজের মেয়েদের অহেতুক বদনাম করে ভালো সাজেন, সিম্প্যাথি চান। তার নিকটে আত্মীয়দের মেয়েরা অনেক ভালো। কোনদিক দিয়ে ভালো? এটা আবার স্পষ্ট করে বলতে পারেন না।
অনেক পুরুষও এমন আছেন, যারা চাচা-মামা হিসেবে খুবই ভালো। ভাই/বোনের সন্তানদের জন্য অজস্র খরচ করেন। কিন্তু, পিতা হিসেবে তাদের দায়িত্ববোধ থাকে না। নিজের সন্তানের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার বেলায় টালবাহানা করেন, আবার কিনলেও হাজারবার খোঁটা দিয়ে থাকেন।
নিজের সন্তানের সাথে এমন আচরণ করা এবং পরের সন্তানের প্রতি বাড়তি ভালোবাসা দেখানো, এটা কেবল দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেয়। আপনি আত্মীয় হিসেবে যতই পরোপকারী হতে চান না কেন, পিতা-মাতা হিসেবে কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে বিবেচিত হবেন।
সন্তান আপনার, সন্তানের দায়িত্বও আপনার। সবার আগে সে-ই আপনার ভালোবাসা, যত্ন এবং সহানুভূতির অধিকারী।
দিনশেষে, অপরের সন্তান কখনোই আপনার সন্তানের মতো শ্রদ্ধাশীল এবং নমনীয় হতে পারবে না, এবং আপনার সন্তানও অন্য কারো মধ্যে বাবা-মাকে খুঁজে পাবে না। সন্তান আপনারই অঙ্গ, আপনার হৃদয়ের অংশ, তার সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা এবং ভালোবাসা কখনোই ভিন্ন কেউ পূর্ণ করতে পারবে না।
সন্তানের সাথে অপরিচিত বা ফেলনার মতো আচরণ বন্ধ করুন। তাদের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি এবং স্নেহ দেখান। আত্মীয়দের সন্তানের সাথে তুলনা করবেন না।
একদিন আপনার সন্তানও স্বাবলম্বী হবে, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে, নিজের মতো করে জীবন কাটাবে। তখন যেন আপনার ধরা-ছোয়ার বাহিরে চলে না যায়। তাকে যত্ন দিয়ে, সঠিক পথে গাইড করে বড় করুন। যাতে আপনি তার থেকে দূরে চলে গেলেও, তার হৃদয়ে সবসময় জীবন্ত হয়ে থাকেন।
(Cp)