05/06/2026
অসুখ সারছে না। ওষুধ খাচ্ছেন। ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন। তবু শরীর ভালো হচ্ছে না।
মনে হচ্ছে, আর কী করার আছে?
একটু থামুন।
ওষুধ দেয় মানুষ। কিন্তু শিফা দেন একমাত্র আল্লাহ।
কুরআনে এমন কিছু আয়াত আছে যেগুলোতে সরাসরি শিফা শব্দ এসেছে। আল্লাহ নিজেই বলেছেন এগুলো রোগের ওষুধ। শরীরের রোগ, মনের রোগ, রুহের রোগ, সব।
আজকে সেই সাতটি আয়াত শেয়ার করছি।
প্রথম আয়াত। সূরা আশ-শুআরা।
ইবরাহীম আ. তাঁর জীবনের কথা বলছিলেন। খাওয়া, পান করা, পথ দেখানো, মৃত্যু, সব আল্লাহর পক্ষ থেকে। তারপর একটা কথা বললেন।
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
ওয়া ইযা মারিদতু ফাহুয়া ইয়াশফিন।
অর্থ, যখন আমি অসুস্থ হই, তিনিই আমাকে সুস্থ করেন। সূরা আশ-শুআরা, আয়াত ৮০।
ইবরাহীম আ. বলেননি ডাক্তার সুস্থ করেন। বলেননি ওষুধ সুস্থ করে। বললেন, তিনিই সুস্থ করেন।
অসুস্থ হলে এই আয়াত পড়ুন। নিজের গায়ে হাত রেখে পড়ুন। প্রিয়জনের জন্য পড়ুন।
দ্বিতীয় আয়াত। সূরা ইউনুস।
কুরআন শুধু পড়ার কিতাব নয়। কুরআন ওষুধ।
يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُم مَّوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِّمَا فِي الصُّدُورِ
ইয়া আইয়ুহান্নাসু কাদ জাআতকুম মাউইযাতুম মির রব্বিকুম ওয়া শিফাউল লিমা ফিস সুদুর।
অর্থ, হে মানুষ, তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং অন্তরের রোগের শিফা। সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৭।
শুধু শরীরের রোগ নয়। মনের কষ্ট, অন্তরের অস্থিরতা, ভেতরের অন্ধকার, কুরআন সেই রোগেরও ওষুধ।
বিষণ্নতা লাগছে? কুরআন পড়ুন। অস্থির লাগছে? কুরআন পড়ুন। ভেতর থেকে ভাঙা লাগছে? কুরআন পড়ুন।
তৃতীয় আয়াত। সূরা আল-ইসরা।
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
ওয়া নুনাযযিলু মিনাল কুরআনি মা হুয়া শিফাউন ওয়া রহমাতুন লিলমুমিনিন।
অর্থ, আমি কুরআনে যা নাযিল করি তা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত। সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৮২।
লিলমুমিনিন, মুমিনদের জন্য। শর্ত আছে। বিশ্বাস নিয়ে পড়তে হবে। কুরআনকে ওষুধ মনে করে পড়তে হবে।
অসুস্থ অবস্থায় সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়ুন। হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে বুলান।
চতুর্থ আয়াত। সূরা আন-নাহল।
আল্লাহ একটি ছোট প্রাণীর মধ্যে শিফা রেখেছেন। মৌমাছি।
يَخْرُجُ مِن بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِّلنَّاسِ
ইয়াখরুজু মিম বুতুনিহা শারাবুম মুখতালিফুন আলওয়ানুহু ফিহি শিফাউল লিন্নাস।
অর্থ, তাদের পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় বের হয়, যাতে মানুষের জন্য শিফা আছে। সূরা আন-নাহল, আয়াত ৬৯।
রাসূলুল্লাহ ﷺ মধুকে শিফার মাধ্যম বলেছেন। বুখারি, হাদিস নং ৫৬৮৪।
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু খান। খাওয়ার আগে এই আয়াত পড়ুন।
পঞ্চম আয়াত। সূরা আল-আনআম।
অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যাই। এটা ঠিক আছে। কিন্তু মনে মনে ভাবি ডাক্তার ভালো করবেন। এটা ভুল।
وَإِن يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ
ওয়া ইইঁ ইয়ামসাসকাল্লাহু বিদুররিন ফালা কাশিফা লাহু ইল্লা হু।
অর্থ, যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্ট দেন, তবে তিনি ছাড়া কেউ তা দূর করতে পারে না। সূরা আল-আনআম, আয়াত ১৭।
লা কাশিফা লাহু ইল্লা হু। তিনি ছাড়া কেউ নয়।
ডাক্তারের কাছে যান। ওষুধ খান। আল্লাহর কাছেও চান। এই দুটো একসাথে করলেই আমল পূরণ হয়।
ষষ্ঠ আয়াত। সূরা ফুসসিলাত।
قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ
কুল হুওয়া লিল্লাযিনা আমানু হুদান ওয়া শিফা।
অর্থ, বলুন, এটা মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও শিফা। সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৪৪।
বিশ্বাস না থাকলে কুরআনের শিফা পাওয়া যায় না। প্রতিদিন কুরআন পড়ুন। অর্থ বুঝুন। বিশ্বাস করুন, এটা আমার ওষুধ।
সপ্তম আয়াত। সূরা আল-ফাতিহা।
কুরআনের প্রথম সূরা। প্রতিদিন নামাজে পড়ি। কিন্তু এই সূরা রোগের ওষুধ।
একবার সাহাবীরা এক গোত্রের কাছে গেলেন। সেই গোত্রের নেতাকে বিছু কেটেছে। একজন সাহাবী সূরা ফাতিহা পড়ে তার গায়ে ফুঁ দিলেন। নেতা সুস্থ হয়ে উঠলেন। বুখারি, হাদিস নং ২২৭৬।
সূরা আল-ফাতিহা পড়ুন। হাতে ফুঁ দিন। শরীরের অসুস্থ জায়গায় বুলান। তিনবার করুন।
সবচেয়ে ছোট সূরা। সবচেয়ে বড় শিফা।
একটা কথা দিয়ে শেষ করি।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহ এমন কোনো রোগ পাঠাননি যার শিফা নেই। বুখারি, হাদিস নং ৫৬৭৮।
প্রতিটি রোগের শিফা আছে। হয়তো ডাক্তারের মাধ্যমে। হয়তো দোয়ার মাধ্যমে। হয়তো এমন পথে যা আপনি ভাবেননি।
কিন্তু আল্লাহর হুকুম হলে শিফা আসবেই।
পোস্টটা সেভ করুন। নিজে অসুস্থ হলে, প্রিয়জন অসুস্থ হলে খুলে পড়বেন।
Islamic Business Zone Voice of Ansari যেখানে অন্যায় সেখানে প্রতিবাদ