18/08/2026
যতবারই সুরা আদ-দুহা পড়ি, `শীঘ্রই তোমার রব তোমাকে এত দেবেন যে তুমি খুশি হবে যাবে` এই আয়াতে এসে আমার লোভী চোখজোড়া চকচক করে ওঠে। প্রতিবারই মনে মনে ভাবি, রব আমাকে শীঘ্রই অনেক দেবেন। শীঘ্রই।
গত পরশু রাতে হঠাৎ খেয়াল হলো, যে `শীঘ্রই` ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষায় প্রতিবার আমার চোখ চকচক করে, সেই ভবিষ্যৎকে তো বর্তমান করেই আল্লাহ্ আমার সঙ্গে রেখেছেন। সুস্থতা দিয়েছেন, সম্পদ দিয়েছেন, সম্মান দিয়েছেন। তিনবেলা খাবার, মাথার ওপর ছাদ, মানুষের হৃদয়ে আমার জন্য ভালোবাসা, কী দেন নাই! দেখার জন্য চোখ, বলার জন্য কণ্ঠস্বর, নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন। আমি আমার রবের কোন কোন নিয়ামতের কথা অস্বীকার করতে পারি? আমার `খুশি হওয়ার জন্য` আসলে আর কীসের অপেক্ষা করছি? কীসে খুশি হয় মানুষ? খুশি হতে কী লাগে?
খুশি হতে লাগে একটা কৃতজ্ঞ হৃদয়। যা এতদিন আমি মনে করতাম যে আমার আছে। কিন্তু পরশু রাতে খেয়াল করে দেখলাম, আমিও সেই অকৃতজ্ঞ বান্দাদের একজন, যে অনেককিছু পেয়েও খুশি না হয়ে বরং অপেক্ষা করে থাকে আরও অনেককিছু পাওয়ার, সেই অনেককিছুটা যে কী, তা-ও সে জানে না। ওই যে, কবরের মাটির আগে কোনোকিছুই যে মানুষের পেট ভরাতে পারবে না!
আল্লাহ্ কুরআনে মানুষকে অনেকবার `চরম অকৃতজ্ঞ` হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ আমি নিজেই। এত বিষয়ে এত `জ্ঞানগর্ভ` লেখা লিখেও নিজের এত বড় ভুলটা এতদিন চোখে পড়ে নাই!
#সংগৃহিত