27/10/2025
#হ্যালদি_লাইফ_স্টাইলের_বায়বীয়_বাসনা
আমার এই লেখাটা ভোক্তা ও খামারি উভয়ের জন্য।
যারা এনিম্যাল নিউট্রিশন নিয়ে মিনিমাম একটু জ্ঞান রাখেন তারা হয়তো জানবেন মুরগি হচ্ছে মনোগাস্টিক প্রাণী এবং গরু ছাগল ভেড়া হচ্ছে রুমিন্যান্ট প্রাণী। তাই ২ টার ডাইজেস্টিভ সিস্টেমও ভিন্ন।
ব্রয়লার ফিড এ যেসব মেডিসিন দেওয়া হয় ওইগুলো হচ্ছে মনোগাস্টিক প্রাণীর উপযোগী। সেই মনোগাস্টিক প্রাণীর খাদ্য যদি গরুকে খাওয়ানো হয় তাহলে সেইটা রুমিন্যান্ট প্রাণীর দেহে রেসিডিউজ হিসেবে থেকে দুধ এবং মাংসের মাধ্যমে মানব দেহে যায়।
স্টেরয়েড বা গ্রোথ হরমোন নিয়ে আলোচনা নাই করলাম। এইগুলো যে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর এইটা সবাই জানে।আমি জাস্ট ২ টা অ্যামিনো অ্যাসিড নিয়ে আলোচনা করি। বাজারে যেসব লাইসিন ও মেথেইনিন পাওয়া যায়। সবগুলোই মুরগির ফিড বানানোর জন্য বাহির থেকে আমদানি করে। কিন্তু উত্তরাঞ্চলে দেখবেন স্টেরয়েড, গ্রোথ হরমোন এর পাশাপাশি এইসব ব্রয়লার ফিডের খাদ্য ওপেন বিজ্ঞাপন দিয়ে গরুর জন্য বিক্রি করা হচ্ছে। এখন বলতে পারেন লাইসিন ও মেথেইনিন তো অ্যামিনো অ্যাসিড এগুলোর কি ক্ষতি?
এই প্রশ্নের জবাব আসলে এক কথায় দেওয়া সম্ভব না। এইটার জবাব দিতে হলে গরুর ডাইজেস্টিভ সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। আমি একটু সংক্ষিপ্তভাবে এখানে আলোচনা করি।
গরু হচ্ছে ৪ কম্পার্টমেন্ট বিশিষ্ট পাকস্থলীর প্রাণী যেমন রুমেন, রেটিকুলাম, ওমাসুম এবং অবোমাসুম। আমি যেহেতু অ্যামিনো অ্যাসিড নিয়ে আলোচনা করছি তাই কিছুটা ধারণা দিবো গরুর কোথায় গিয়ে অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
গরুকে যখন প্রোটিন খাওয়ানো হয় তার একটা অংশ (রুমেন ডিগ্রেডেবল প্রোটিন) রুমেন ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে মাইক্রোবায়াল প্রোটিন এ রূপান্তরিত হয়ে সোজা চলে যায় অবোমাসুম এ। প্রোটিন এর আরেকটা অংশ (বাইপাস প্রোটিন) সোজা রুমেনকে বাইপাস করে চলে যায় স্মল ইন্টেনস্টাইন এ । এই ২ টা কম্পার্টমেন্ট এ বেসিক্যালি গরুর জন্য অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
মিথিওনিন এর ইম্পেরিকাল ফর্মুলা হচ্ছে (C5H11NO2S) মানে কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও সালফারের সমন্বয়ে র মিথিওনিন তৈরি। ল্যাব এ এইটাকে ট্রিটমেন্ট করে বিভিন্ন প্রাণীর ডাইজেস্টিভ সিস্টেম অনুযায়ী অ্যামিনো অ্যাসিড বানানো হয়। DL-Metheonin হচ্ছে বার্ডস জাতীয় প্রাণীর জন্য রেডিলি অ্যাভেলেবেল অ্যামিনো অ্যাসিড ও সালফার।
এইটা যখন গরুর রুমেন এ যায় রুমেন ব্যাকটেরিয়া এইগুলোকে চিনতে পারে না। কারণ অ্যামিনো অ্যাসিড তো রুমেন ব্যাকটেরিয়া চিনে না। তারা চিনে প্রোটিন এ থাকা নাইট্রোজেন ও আমোনিয়া যার সাহায্যে তারা ঘাস বা খড়ে থাকা সেলুলোজ, হেমিসেলুলুস, দানাদারে থাকা স্টার্চ, সুগার, পেকটিন ইত্যাদি কে ভেঙ্গে VFA (Volatile fatty acid) তৈরি করে । এই ভোলাটাইল ফ্যাটি অ্যাসিড এর সাহায্যে তারা নাইট্রোজেন ও আমোনিয়া ভেঙ্গে নিজেদেরকে ব্যাকটেরিয়াল প্রোটিন এ সমৃদ্ধ করে সোজা অবোমাসুম এর দিকে হাঁটা ধরে। এই ব্যাকটেরিয়া গুলো নিজেদেরকে আত্মবলিদানের মাধ্যমে হোস্ট প্রাণীকে প্রোটিন তথা অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে।
এখন তাহলে বলতে পারেন যদি রেজাল্ট না পায় কেন পাবলিক এইটার পিছনে দৌড়াচ্ছে? ভাই আপনি একটু মাথা খাটান। সারা দুনিয়ার ঘাস/দানাদার/সাইলেজ খাওয়াইয়া আপনি দেখেন তো ৪৫ দিনে কোনো গরুকে এরকম ফাটাইতে পারেন কিনা? তাহলে তাদের মেডিসিন দিলে এইরকম অল্প দিনে ফেটে যাচ্ছে কেন? কারণ একটাই গরুর ডাইজেস্টিভ সিস্টেম এর সাথে যায় না এমন মেডিসিন যখন গরুকে দিবেন এইটাকে বলে ব্যাড সাবস্টেন্সেস। এই ব্যাড সাবস্টেন্সেস যখন গরুর শরীরে ঢুকে বিশেষ করে স্টেরয়েড তখন গরুর ভিতরে প্রচন্ড হিট জেনারেট হয়। তখন গরুর প্রচুর খুদা বাড়ে ও খাবার খেতে চায়। ধীরে ধীরে তাদের লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা কমতে থাকে। তখন গরুর ইউরিন সার্কুলেশন ড্যামেজ হয়ে পুরো শরীরে পানি ছড়িয়ে পড়ে। যতদিন এই খাবার খাওয়াবেন ততোদিন এই গরু বাঁচবে। আপনি অফ করে দিবেন দেখবেন এইটাকে আর বাঁচানোই কষ্ট হয়ে যাবে। এইজন্য দেখবেন বাজার থেকে কোরবানির ফেরত গরু যদি কিনে নিয়ে আসেন ওইটাকে রিকভার করা যাচ্ছে না কারণ ওই গরুটাকেও এইসব মেডিসিন দিয়ে মোটতাজা করা হয়েছে।
একমাত্র বাংলাদেশ বলে এইভাবে পারতেছে। অন্য কোনও দেশ হলে এতোদিন এই ব্যবসায়ীদের হো***য় বাশ হান্ডাই দিতো। এই গরুগুলো সারা বাংলাদেশের কসাই খানায় ছড়িয়ে যাচ্ছে এইটা যে মানব স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা যারা এই বিষয়ে একটু পড়াশোনা করে তারা বুঝে। তাই আপনি যদি হালালভাবে উপার্জন করতে চান তাহলে এখনই এইসব অসদুপায় এর মাধ্যমে ফ্যাটানিং করা বন্ধ করুন। সত্যটা জানুন। একটু মাথা খাটান।
© Kashful Sayeed