An-Nahar Online services

An-Nahar Online services Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from An-Nahar Online services, Business service, চট্টগ্রাম, Chittagong.

16/10/2025
💥 একটি জায়গা বিক্রি হবে 💥👉জমির ধরণ (কৃষি/বাণিজ্যিক/আবাসিক): তিনোটায় করা যাবে;- ১/প্লট প্লট করে আবাসিক করা যাবে২/বাগান বা...
09/10/2025

💥 একটি জায়গা বিক্রি হবে 💥

👉জমির ধরণ (কৃষি/
বাণিজ্যিক/আবাসিক):
তিনোটায় করা যাবে;-
১/প্লট প্লট করে আবাসিক করা যাবে
২/বাগান বা কৃষি ধান-ক্ষেত,ফসল-ফলাদিও করা যাবে
৩/খামার প্রজেক্টও করা যাবে

👉জেলা:
চট্টগ্রাম, ফটিকছড়ি

👉এলাকা (গ্রাম):
১৩ নং লেলাং ইউনিয়ন, (শহনগর-গোপালঘাটা-ফেনুয়া)

👉জমির আয়তন (কাঠা/বিঘা/ একর/শতক/ডেসিমল):
১৬.৬৬ কানি/ ৩৩৩.২৫ গন্ডা/ ৬৬৬.৫ শতক

👉ঠিকানা (রাস্তা, বাড়ির নাম্বার, পোস্ট কোড কিংবা সবগুলো লিখুন):
কর্ণফুলী টি গার্ডেন রোড়স্থ,আইয়ুব আন-নাহার জামে মসজিদ সংলগ্ন,শাহনগর,সন্যাসীরহাট বাজারের পূর্বের দিকে কর্ণফুলী চাঁ বাগানে যাওয়ার পথে জায়গাটি সম্পূর্ণ রাস্তার সাথে অবস্থিত

👉বিবরণ (বিক্রেতার বক্তব্য বিস্তারিত):
১২ ফুট পিস রোড়ের সাথে আমরা ছয় ভাইয়ের নামে হেবা কৃত সুদর্শন ও কারেন্ট,পানি ও যাতায়াত সুযোগ-সুবিধা এবং খাজনা,নামজারি, ক্লিয়ার ডকুমেন্ট সহ আর্জেন্ট বিশেষ প্রয়োজনে জায়গাটা সম্মিলিতভাবে সকলের সম্মতিক্রমে বিক্রি করবো

👉মূল্য (আলোচনা সাপেক্ষ/একদাম):
৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা দাম
আলাপ-আলোচনার সুযোগ রয়েছে

👉জমির ছবি (কমপক্ষে তিন কপি):
🏜️🏞️🏕️

👉যোগাযোগের নাম্বার:
01646512210,01614107061

26/09/2025
16/09/2025

ঈদে মীলাদুন্নবী বিদায়াত সম্পর্কে
মুফতি আবদুল মালেক সাহেবের বক্তব্যের
পক্ষে রাসূলের হাদীস ।
এবং তেরো ইমামের বক্তব্য।

মুহাদ্দিসুল আসর, ইমাম, আবদুল মালেক বলেছেন :মিলাদুন নবীকে, ঈদ বলা জুলুম। কারণ তার দাবির পক্ষে আছে, স্বয়ং রাসূল,, কোরআন,, হাদীস, ইজমা,,কিয়াস। কিছু অনলাইন মুফতি দেখলাম চিল্লাইয়া ভূমি করতেছে,এদের চিল্লানী পর্যন্তই সীমাবদ্ধ :

আসুন ব্যাখ্যা করি,

প্রশ্ন: শাব্দিক অর্থে কি ঈদ বলা যায়? উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে জবাব: যদি তাই হয়, তবে শাব্দিক অর্থে মুসলমানকেও কাফের বলতে হবে।কারণ কোরআনে এসেছে—
اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَظَلُوۡمٌ كَفَّارٌ (মানুষ কাফফার/অকৃতজ্ঞ)।
(নিয়ামতের মুকাবেলায় কুপরুনের ব্যবহার প্রসিদ্ধ।)

প্রশ্ন: তাহলে কি মুসলমানকে কাফের বলা বৈধ?
জবাব: না! কখনোই নয়।
তাহলে বুঝলেন—শাব্দিক অর্থে শরীয়তের বিধান হয় না।

প্রশ্ন: শরীয়তে “শাব্দিক অর্থের বিধান” বলে কিছু আছে?জবাব: নেই।তাহলে মিলাদুন নবীকে শাব্দিক ঈদ বানানোর কিয়াস কোথায় থেকে এলো?

প্রশ্ন: যারা মিলাদ উদ্ভাবন করেছে, তারা কি একে ঈদ বলেছে? বা শাব্দিক ঈদ বলেছে?জবাব: একটিও প্রমাণ দেখাতে পারবেন না।

প্রশ্ন: আপনাদের মসলকের ইমাম, সাইয়েদ আহমদ শহীদ রহ. কোথায় একে ঈদ বলেছেন?কোথায় বলেছেন মিলাদ উদযাপন করতে হবে র‍্যালি-মিছিলের মাধ্যমে?বা তিনি করেছেন এমন প্রমাণ আছে?
জবাব: কোথাও বলেননি।কোন প্রমাণ নেই, তিনিও এমন কোন আমল করেন নি।

প্রশ্ন: তাহলে যারা পরে এসে এটাকে ঈদ বানিয়েছে—এরা কারা?

জবাব: এরা অনেক পরের মানুষ। অথচ তাদের আগেই বড় বড় ইমাম আশঙ্কায় বলেছেন—মানুষ একত্রিত হলে এটাকে ঈদ বানিয়ে ফেলবে, তাই এমন সমাবেশ বিদআত।

এখন বলুন, আপনারা কার মুখে ভর করে “শাব্দিক ঈদ” আমদানি করলেন?
শরীয়ত থেকে?নাকি নিজেদের মনগড়া খেয়াল থেকে?

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
لا تتخذوا شهرا عيدا ولا يوما عيدا
তোমরা কোন মাস বা দিনকে ঈদ হিসাবে গ্রহণ করো না।”রাসূল অন্য হাদীসে উৎযাপন যোগ্য দুটি ঈদের কথা বলেছেন,, মুসলমানের ঈদ মাত্র দুইটি—ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা,আর সাপ্তাহিক ধরলে জুমা এটিকেও রাসূল ঈদ বলেছেন, কিন্তু উৎযাপন হয়না,কারণ তিনি নিজেই কখনো এটিকে উৎযাপন করেননি।

এর বাইরে যা কিছু বানানো হবে : তা হবেে, বিদআত, উদ্ভাবন, ভ্রষ্টতা।আপনারা বলেন: “আমাদের পক্ষে ইমাম আছে।”আমরা বলি:আমাদের পক্ষে সব ইমাম আছেন!আর তাদের উপরে আছেন—সমস্ত নবীর নবী, আমাদের প্রিয় রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!সুতরাং পরিষ্কার কথা হলো—আপনাদের পাশে আছে
কিছু মানুষ,আমাদের পাশে আছে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সমগ্র উম্মাহর ইমামগণ!

১.।শরীয়তে নির্ধারিত ঈদের বাহিরে কোন ঈদ নেই,ইমামরা এই বিষয়ে যথেষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের অন্যতম হলেন,ইমাম আবূ বকর আন্দালূসী আল মালেকি, (মৃত্যু, ৫২০ হিজরি) তিনি বিখ্যাত সাহাবি মুহাম্মদ ইবনে মাসলামার একটি বক্তব্য নকল করে লিখেছেন,
قال محمد بن مسلمة: " ولا يؤتى شيء من المساجد يعتقد فيه الفضل بعد الثلاثة مساجد؛ إلا مسجد قباء ".قال: " ويكره أن يعمد له يوما بعينه يؤتى فيه؛ خوفا من البدعة، وأن يطول الناس الزمان، فيجعل ذلك عيدا يعتمد، أو فريضة تؤخذ، ولا بأس أن يؤتى في كل حين؛ ما لم تجئ فيه بدعة ".

মুহাম্মদ ইবনু মাসলামা বলেছেন:“তিনটি মসজিদ (মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদে আকসা) ছাড়া অন্য কোনো মসজিদে বিশেষ ফজিলত বিশ্বাস করে যাওয়া উচিত নয়; তবে কুবা মসজিদ এর ব্যতিক্রম।”তিনি আরও বলেন: “কুবা মসজিদে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন ঠিক করা মাকরূহ; কারণ এতে বিদআতের আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলে হয়তো মানুষ সেটিকে ঈদের মতো নির্দিষ্ট উৎসব কিংবা ফরজের মতো বাধ্যতামূলক কাজ ভেবে নিতে পারে।তবে এমনটা নয় যে, মাঝে মাঝে সেখানে যাওয়া যাবে না—বরং মাঝে মাঝে যাওয়া কোনো সমস্যা নয়, যতক্ষণ না এর সাথে কোনো বিদআত যুক্ত হয়।”

(আল হাওয়াদিস ওয়াল বিদ'উ,আবূ বকর আত তুরতূসী,পৃ,১০৮)

২.।এমনিভাবে মুহাম্মদ ইবনে মাসলামার উক্তি নকল করেছেন, মিলাদুন নবী আবিস্কারের সময়ের আরেকজন বিখ্যাত ইমাম, আবুল কাসেম শিহাবুদ্দীন আল মাকদেসী দামেশকি (মৃ,৬৫৫ হি.) তিনি, “আল বা'য়িস আলা ইনকারিল বিদ'য়ে ওয়াল হাওয়াদিস”এ লিখেছেন,

قَالَ وَسُئِلَ سُفْيَان الثَّوْريّ رَحمَه الله تَعَالَى عَمَّن يقْرَأ قل هُوَ الله أحد لَا يقْرَأ غَيرهَا يكررها فكرهه وَقَالَ إِنَّمَا أنزل الْقُرْآن ليقْرَأ وَلَا يخص شَيْء دون شَيْء وَإِنَّمَا انتم متبعون وَلم يبلغنَا عَنْهُم مثل هَذَا قَالَ مُحَمَّد بن مسلمة وَلَا يُؤْتى شَيْء من الْمَسَاجِد يعتتقد فِيهِ الْفضل بعد الْمَسَاجِد الثَّلَاثَة إِلَّا مَسْجِد قبَاء قَالَ وَكره أَن يعد لَهُ يَوْمًا بِعَيْنِه فَيُؤتى فِيهِ خوفًا من الْبِدْعَة وَأَن يطول بِالنَّاسِ زمَان فَيجْعَل ذَلِك عيدا يعْتَمد أَو فريضه تُؤْخَذ وَلَا بَأْس أَن يُؤْتى كل حِين مَا لم تَجِيء فِيهِ بِدعَة

সুফিয়ান সাওরী -কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এমন ব্যক্তির ব্যাপারে, যে শুধু "قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ" (সূরা ইখলাস) পড়তে থাকে এবং অন্য কিছু পড়ে না, কেবল এটিই বারবার পড়ে। তিনি এ কাজকে অপছন্দ করেছেন এবং বলেছেন:“কুরআন তো অবতীর্ণ হয়েছে পড়ার জন্য, যাতে সম্পূর্ণ পড়া হয়; একটিকে বিশেষ করে আলাদা করার জন্য নয়। তোমরা অনুসরণকারী, নিজেদের নতুন কিছু উদ্ভাবনকারী নও। আমাদের কাছে এ রকম কোনো কাজ সাহাবাদের থেকে পৌঁছায়নি।”মুহাম্মদ ইবনে মুসলিমাহ বলেছেন:“তিন মসজিদ (মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদে আকসা) ছাড়া অন্য কোনো মসজিদে বিশেষ ফজিলত বিশ্বাস করা উচিত নয়, কেবল কুবা মসজিদ ছাড়া।”তিনি আরও বলেছেন:
“কোনো নির্দিষ্ট দিন ধার্য করে ওই দিনে সেখানে যাওয়াকে তিনি অপছন্দ করেছেন,এ আশঙ্কা থেকে যে এটি যেন বিদআত না হয়ে যায়।দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলে হয়তো মানুষ সেটিকে ঈদের মতো নির্দিষ্ট উৎসব কিংবা ফরজের মতো বাধ্যতামূলক কাজ ভেবে নিতে পারে, তবে এমনটা নয় যে, মাঝে মাঝে সেখানে যাওয়া যাবে না—বরং মাঝে মাঝে যাওয়া কোনো সমস্যা নয়, যতক্ষণ না এর সাথে কোনো বিদ'আত যুক্ত হয়।”

(আল বা'য়িস আলা ইনকারিল বিদ'য়ে ওয়াল হাওয়াদিস,আবূ শা'মা আল মাকদেসী,পৃ,৫৩)

#আশ্চর্য! ইমামগণ স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন—এক স্থানে নির্দিষ্টভাবে সমবেত হওয়া বিদআতের দরজা খুলে দিতে পারে, কেননা এর মাধ্যমে মানুষের মনে নতুন এক “ঈদ”-এর ধারণা জন্ম নেবার আশঙ্কা থাকে। তাই তাঁরা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, বারবার নির্দিষ্ট জায়গায় সমাবেশ করা বিদআত। অথচ দুঃখজনকভাবে, আমাদের কিছু বন্ধুরা এটিকেই যেন নতুন ঈদে রূপ দিলো! তাদের সেই চিন্তা আজ বাস্তবতার রূপ নিয়েছে—নাউযুবিল্লাহ!

৩.। বিখ্যাত ইমাম আল্লামা ইব্রাহিম ইবনে মূসা আশ শাতেবী ঈদে মিলাদুন নবীর সমালোচনা করে (মৃ.৭৯০ হিজরি) লিখেছেন,
وأَما غير العالم بها، وهو الواضع لها: فإِنه لا يمكن أَن يَعْتَقِدَهَا بِدَعَةً، بَلْ هِيَ عِنْدَهُ مِمَّا يلحق بالمشروعات، كَقَوْلِ مِنْ جَعْلِ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ يُصَامُ لأَنه يَوْمُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَجَعْلَ الثَّانِي عَشَرَ مِنْ رَبِيعٍ الأَول مُلْحَقًا بأَيام الأَعياد لأَنه عَلَيْهِ السَّلَامُ وُلِدَ فِيهِ، وَكَمَنَ عَدَّ السَّمَاعَ وَالْغَنَاءَ مِمَّا يُتقرَّب بِهِ إِلى اللَّهِ بِنَاءً عَلَى أَنه يَجْلِبُ الأَحوال السُّنِّيَّةَ

কোনটি বিদয়াত কোনটি বিদয়াত না,যে ব্যক্তি এটি জানে না।যদি সে-ই বিদ'আতের আবিস্কারক হয়,তবে তার কাছে এটি বিদআত বলে মনে হবেনা না। বরং সে মনে করে, এটি শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত একটি ইবাদত।
উদাহরণস্বরূপ—কেউ যদি সোমবারে রোজা রাখে এই কারণে যে, সেদিন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছেন।অথবা ১২ই রবিউল আউয়ালকে ঈদের দিনগুলোর সাথে যুক্ত করে এই ভেবে যে, সেদিন রাসূল জন্মেছেন।অথবা কেউ গান-বাজনাকে আল্লাহর নৈকট্যের উপায় মনে করে, কারণ সে ভাবে এটি আধ্যাত্মিক আবেগ সৃষ্টি করে।

(আল ইতিসাম,ইব্রাহিম ইবনে মূসা শাতেবী,২/৩৯৯)

#বিখ্যাত এই ইমাম মিলাদুন নবীকে ঈদে মিলাদুন নবী বলাকে বিদ'আহ লিখেছেন।

৪.।শরীয়তে নির্ধারিত ঈদ ছাড়া অন্যকোনো দিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা যায়েজ নয় বলেছেন ইমাম ইবনে রজব আল হাম্বলি, (মৃত্যু,৭৯৫ হিজরি),
হাদিসে, নবী (সাঃ) বলেছেন: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تتخذوا شهرا عيدا ولا يوما عيدا"
"তোমরা কোন মাস বা দিনকে ঈদ হিসাবে গ্রহণ করো না।" এর মাধ্যমে বুঝানো হচ্ছে যে, মুসলিমদের জন্য ঈদ শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট দিনের জন্যই শারিয়ত সম্মত, যেমন ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, এবং শুক্রবার। এই দিনগুলির বাইরে অন্য কোন দিন বা মাসকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা বা উৎসবের দিন হিসেবে পালন করা শারিয়ত অনুমোদিত নয় এবং তা বিদআত হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইমাম ইবনে রজব আল হাম্বলী লিখেছেন,
وأصل هذا: أنه لا يشرع أن يتخذ المسلمون عيدا إلا ما جاءت الشريعة باتخاذه عيدا وهو يوم الفطر ويوم الأضحى وأيام التشريق وهي أعياد العام ويوم الجمعة وهو عيد الأسبوع وما عدا ذلك فاتخاذه عيدا وموسما بدعة لا أصل له في الشريعة.!
এটির মূল কথা হল, মুসলিমদের জন্য ঈদ হিসাবে কোন দিন গ্রহণ করা বৈধ নয়, যদি না তা ইসলামী শরিয়ত দ্বারা নির্ধারিত হয়। শরিয়ত অনুযায়ী ঈদ শুধুমাত্র দুটি বিশেষ দিন—ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা—এবং তশরিকের তিনটি দিন –বাৎসরিক ঈদ। এছাড়া, শুক্রবারকে সপ্তাহের ঈদ হিসেবে গণ্য করা হয়। এর বাইরে অন্য কোন দিন বা সময়কে ঈদ বা উৎসব হিসেবে গ্রহণ করা শারিয়তসম্মত নয় এবং তা একটি বিদআত, যার কোন ভিত্তি ইসলামে নেই।

(লাতায়িফুল মাআ'রিফ, ইবনে রজব আল হাম্বলী, পৃ,১১৮)

#ইবনে রজব হাম্বলি, রাসূলের জবানে উচ্চারিত হওয়া ছাড়া অন্য কোন দিন ঈদ হিসেবে গ্রহণ করাকে বিদয়াত বলেছেন। আফসোসের বিষয় হলো :মিলাদুন নবীকে না রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদ বলেছেন, না কোন সাহাবি না কোন তাবেই! ইসলাম আগমনের হাজার বছর পর আবিস্কার হওয়া ঈদের ওপর কি কখনো রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তুষ্ট হতে পারেন!? রাসূল থেকে বর্ণিত বাৎসরিক ঈদ তিনটি তার মধ্যে দুটি উৎযাপন হয় :এবং রাসূল উৎযাপন করার নির্দেশও দিয়েছেন,। একটি উৎযাপন হয় না, কারণ রাসূল নির্দেশও দেননি এবং নিজেও উৎযাপন করেননি। এবং ইমামগনও সেই ঈদকে শরয়ী ঈদের তালিকায় রাখেননি, তাই তার কোন বিধানও বর্ণনা করেননি, রাসূল ঈদ বলেছেন তাই সেগুলো কে ঈদ বলা হয়, নয়লে আদত এগুলো কোন ঈদ নয়।

সুতারাং প্রমান হলে :মুসলমানদের উৎযাপনযোগ্য ঈদ শরয়ী লুগাবী ঈদ হলো :দুটিই।

উদযাপন যোগ্য নয়, শরয়ী বা লুগাভীও নয় এবং এটি শরয়ী কোন বিধানও নয়, এমন ঈদ দুটি, একটি, বাৎসরিক আরেকটি :সাপ্তাহিক।

৫.।শরীয়ত নির্ধারিত ছাড়া অন্যকোনো দিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহন জায়েজ নয়,শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া লিখেছেন, —
ومن المنكرات في هذا الباب: سائر الأعياد والمواسم المبتدعة، فإنها من المنكرات المكروهات سواء بلغت الكراهة التحريم أو لم تبلغه. وذلك أن أعياد أهل الكتاب والأعاجم نهي عنها لسببين:
أحدهما: أن فيها مشابهة الكفار. والثاني: أنها من البدع.
فما أحدث من المواسم والأعياد فهو منكر، وإن لم يكن فيه مشابهة لأهل الكتاب، لوجهين:
أحدهما: أن ذلك داخل في مسمى البدع المحدثات فيدخل فيما رواه مسلم في صحيحه عن جابر قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا خطب احمرت عيناه، وعلا صوته، واشتد غضبه حتى كأنه منذر جيش، يقول: صبحكم ومساكم، ويقول: بعثت أنا والساعة كهاتين، ويقرن بين أصبعين السبابة والوسطى، ويقول: أما بعد، فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد، وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة»

এই প্রসঙ্গে নিন্দনীয় কাজের অন্তর্ভুক্ত হলো—সব ধরনের নতুনভাবে উদ্ভাবিত ঈদ ও মৌসুমি উদযাপন। এগুলো এমন কাজ যা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়, তা হারাম পর্যায়ে পৌঁছাক বা না পৌঁছাক।
কারণ, আহলে কিতাব ও অন্যান্য জাতির ঈদ পালনের প্রতি নিষেধাজ্ঞা এসেছে দুই কারণে—প্রথমত: এতে অবিশ্বাসীদের অনুকরণ রয়েছে।দ্বিতীয়ত: এগুলো মূলত বিদআত বা নতুন উদ্ভাবন।তাহলে বোঝা গেল, এমন সব ঈদ বা মৌসুম যা পরে উদ্ভাবিত হয়েছে, তা সবই নিন্দনীয়—এমনকি যদি তাতে আহলে কিতাব বা অন্য জাতির অনুকরণ না-ও থাকে তারপরও নিন্দনীয়। এর দুটি কারণ আছে—প্রথমত: এগুলো বিদআত বা নতুন উদ্ভাবিত ধর্মীয় প্রথার অন্তর্ভুক্ত।যার কারণে এগুলো সেই হাদিসের আওতায় পড়ে যা সহিহ মুসলিমে বর্ণিত। জাবির (রা.) বলেন—“রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন, তখন তাঁর চোখ লাল হয়ে যেত, কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে উঠত, আর রাগ প্রবল হয়ে উঠত, যেন তিনি কোনো সেনাদলকে সতর্ক করছেন—এবং বলতেন: ‘সতর্ক হও! সকাল-সন্ধ্যা তোমাদের উপর বিপদ আসছে।’ এরপর বলতেন: ‘আমাকে ও কিয়ামতকে এ দুই আঙুলের মতো কাছে পাঠানো হয়েছে’—এবং তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল একসাথে মিলিয়ে দেখাতেন।তারপর বলতেন: ‘أما بعد—এরপর, সবচেয়ে উত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব, সবচেয়ে উত্তম দিকনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকনির্দেশ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো নতুন উদ্ভাবনসমূহ। আর প্রত্যেক বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা।

(ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকিম,ইবনে তাইমিয়া,২/৮২)

#ইমাম ইবনে তাইমিয়ার পক্ষ থেকে বুঝা যাচ্ছে, যেভাবে আমদানি করা হোক, তৃতীয় ঈদ বিদ'আহ।

৬.।শরীয়তে নির্ধারিত ঈদ ছাড়া অন্য ঈদ আমদানি বিদয়া'হ ইমাম আবূ আব্দুল্লাহ বদরুদ্দীন আল বা'লী, (মৃ.৭৭৮ হি.), কিছু লোক যখন শাওয়ালের রোজা রেখে ঈদ পালন করতে ছেয়েছে, তখন তাদের মনগড়া ঈদের সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন,

الْيَوْم الثَّامِن من شَوَّال لَيْسَ لأحد أَن يَتَّخِذهُ عيدا وَلَا هُوَ عبد الْأَبْرَار بل هُوَ عيد الْفجار وَلَا يحل أَن يحدث فِيهِ الْمُسلم شَيْئا من شَعَائِر الأعياد فَإِن الْمُسلمين متفقون على أَنه لَيْسَ بعيد وَكره بَعضهم صَوْم السِّت من شَوَّال عقب الْعِيد مُبَاشرَة لِئَلَّا يكون فطر يَوْم الثَّامِن كَأَنَّهُ الْعِيد فينشأ عَن ذَلِك أَن بعده عوام النَّاس عيدا آخر

অষ্টম শাওয়ালের দিন কাউকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করার অধিকার নেই। এটি নেককার বান্দাদের ঈদ নয়; বরং এটি হলো পাপীদের ঈদ। মুসলমানের জন্য এদিনে ঈদের কোনো রকম আলামত বা আচরণ সৃষ্টি করা বৈধ নয়। কেননা মুসলমানদের মাঝে এ ব্যাপারে সর্বসম্মতি রয়েছে যে, অষ্টম শাওয়াল কোনো ঈদ নয়।

তাছাড়া কিছু আলেম সরাসরি ঈদের পরদিন থেকে সাওয়ালের ছয় রোজা শুরু করা কে অপছন্দ করেছেন, —এ কারণে যে, যেন অষ্টম শাওয়ালের দিনে ইফতার করা যেনো আরেকটি ঈদের মতো না হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ভুল ধারণা জন্মাতে পারে যে, ঈদের পরে আরেকটি ঈদ আছে।

তিনি লিখেছেন,
إِنَّمَا عيد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ثَلَاثَة أعياد

নিশ্চয়ই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের – ঈদ ছিল মাত্র তিনটি: ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং জুমার দিন।

(মুখতাসারুল ফাতাওয়া আল মিসরিয়্যাহ,বদরুদ্দীন আল বা'লী পৃ.২৯০)

#প্রখ্যাত এই ইমামের মন্তব্য থেকে বুঝা যাচ্ছে শরীয়ত নির্ধারিত ঈদের অতিরিক্ত ঈদের ধারণা জন্মায় এমন কোন কাজও করা যাবেনা,করলে সেটি বিদ'আত হিসেবে পরিগনিত হবে। তৃতীয় ঈদ রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত, আবার তিনিই সেই তৃতীয় উৎযাপন করেন নি কখনো, তাই সাধারণ ভাবে দুই ঈদ বলা হয়,আশ্চর্য হলো : তৃতীয় ঈদ হিসেবে না এখানে, ঈদে মিলাদুন নবীকে গগনা করা হয়েছে, না ঈদে গাদীর ঘুম কে। বরং কোন ইমামই ঈদে মিলাদুন নবী বা ঈদে গাদীর ঘুম কে তৃতীয় ঈদ হিসেবে পরিগনিত করেন নি।

৭.।শরীয়ত নির্ধারিত ছাড়া অন্যকোনো দিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহন করেছে সর্বপ্রথম শীয়ারা, আল্লামা তকিউদ্দীন তার বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্হে দুই ঈদ ছাড়া নতুন ঈদ, শীয়ারা পালন করতো বরাতে লিখেছেন,

وكان للخلفاء الفاطميين في طول السنة: أعياد ومواسم، وهي: موسم رأس السنة، وموسم أوّل العام، ويوم عاشوراء، ومولد النبيّ صلّى الله عليه وسلّم، ومولد عليّ بن أبي طالب رضي الله عنه، ومولد الحسن، ومولد الحسين عليهما السلام، ومولد فاطمة الزهراء عليها السلام، ومولد الخليفة الحاضر، وليلة أوّل رجب، وليلة نصفه، وليلة أوّل شعبان، وليلة نصفه، ، وموسم عيد الفطر، وموسم عيد النحر، وعيد الغدير،

ফাতিমী শীয়া খলিফাদের ঈদ ও মৌসুমসমূহ, ফাতিমী খলিফাদের জন্য সারা বছর ধরে কিছু বিশেষ ঈদ ও মৌসুম ছিল। সেগুলো হলো:নববর্ষের মৌসুম,বছরের প্রথম দিনের মৌসুম,আশুরার দিন,নবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাওলিদ,আলী ইবনে আবী তালিব (রা.) এর মাওলিদ,হাসান (রা.) এর মাওলিদ,হুসাইন (রা.) এর মাওলিদ,ফাতেমা যাহরার (রা.) মাওলিদ,তখনকার জীবিত খলিফার জন্মদিন,রজব মাসের প্রথম রাত,রজবের মধ্যরাত,শা‘বান মাসের প্রথম রাত,শা‘বান মাসের মধ্যরাত,ঈদুল-ফিতরের মৌসুম, ঈদুল-আযহার মৌসুম,ঈদুল-গাদীর,

{আল মাওয়ায়েজ ওয়াল এতেবার,তকিউদ্দীন, ২/৪৩৬}

৮.।কাতিউল বিদ'আহ, ইমাম ইবনে দাকিকুল ঈদের ভাষ্যমতে শরীয়তের নির্ধারিত দুটি ঈদের মুকাবিলায়, সর্বপ্রথম তৃতীয় ঈদ আমদানি করে শীয়া মালাউনরা, তিনি বিখ্যাত কিতাব "ইহকামুল আহকামে" লিখেছেন,
الثَّالِثُ: قَدْ مَنَعْنَا إحْدَاثَ مَا هُوَ شِعَارٌ فِي الدِّينِ. وَمِثَالُهُ: مَا أَحْدَثَتْهُ الرَّوَافِضُ مِنْ عِيدٍ ثَالِثٍ، سَمَّوْهُ عِيدَ الْغَدِيرِ.
তৃতীয়ত: আমরা এমন নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে নিষিদ্ধ করেছি যা ধর্মের শিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, এর একটি উদাহরণ হলো: রাফেজীরা যে একটি তৃতীয় ঈদ উদ্ভাবন করেছে, যার নাম দিয়েছে ঈদুল গাদীর।

(ইহকামুল আহকাম শরহু উমদাতিল আহকাম,ইবনু দাদিকিল ঈদ,২/২০০)

#শরীয়তের শিয়ার হওয়ার সম্ভাবনা থাকার কারণে ইমাম ইবনে দাকিকুল ঈদ,তৃতীয় ঈদ গ্রহন করতে নিষিদ্ধ করেছেন।

৯.।মিলাদুন নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলা হয় সকল ঈদের সেরা ঈদ,মুসনিদুল হিন্দ আবদুল আজীজ দেহলভীর ভাষ্যমত সকল ঈদের সেরা ঈদের দাবিটা প্রথম তুলেছিল, শীয়ারা— এবং এই তৃতীয় নম্বর ঈদ শরীয়ত বিরোধী, শাহ ওলিউল্লাহ মোহাদ্দেস দেহলবী রহঃ এর পুত্র শাহ আব্দুল আজিজ দেহলবী রহঃ দৃষ্টিতে দুই ঈদ ছাড়া নতুন তিনি তার তুহফায়ে ইশনা আশারিয়্যাতে লিখেছেন,

أول أحكامهم إحداثهم عيد غدير غم في اليوم الثامن عشر من شهر ذي الحجة وتفضيله علي عيد الفطر والأضحى وتسميته بالعيد الأكبر، كل ذلك صريح المخالفة الشرعية.

শীয়াদের প্রথম বিধান হলো—তাদের তৈরি করা ‘ঈদে গাদীর খুম’ (যা তারা যিলহজ মাসের আঠারো তারিখে উদযাপন করে), এবং তারা এটিকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে, বরং এটিকে ‘সবচেয়ে বড় ঈদ ’ বলে অভিহিত করে। এগুলো সবই স্পষ্ট শরীয়তের বিরোধিতা।

—(তোহফায়ে ইছনা আশারিয়্যাহ শাহ আবদুল আজিজ দেহলভী, পৃ.২০৯)

#শাহ আব্দুল আজিজের ভাষ্য থেকে প্রমান হচ্ছে, তৃতীয় ঈদ শরীয়তে বৈধ নয়,এবং এই তৃতীয় ঈদ শীয়ারা আমদানি করেছে, অতয়েব ঈদে মিলাদুন নবী নামের তৃতীয় ঈদ শীয়াদের আপডেট ভার্সন।

১০.।মিলাদুন নবীর উকিল, ইমাম ইবনে হাজার হাইতামী,কিয়াম বিদয়াহ বলার পর আবার লিখতেছেন,বিশেষ কোন দিনে ঈদের মতো আমেজ করা চলবেনা,
وَلَا يشْتَغل ذَلِك الْيَوْم إلابنلاء وَنَحْوه من عظائم الطَّاعَات كَالصَّوْمِ وإياه ثمَّ إِيَّاه أَن يشْغلهُ ببدع الرافضة من النّدب والحزن والنياحة والحزن إِذْ لَيْسَ ذَلِك من أَخْلَاق الْمُؤمنِينَ وَإِلَّا لَكَانَ يَوْم وَفَاته صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أولى بذلك وَأَحْرَى أَو ببدع الناصبة المتعصبين على أهل الْبَيْت أَو الْجُهَّال المقابلين الْفَاسِد بالفاسد والبدعة بالبدعة وَالشَّر بِالشَّرِّ من إِظْهَار غَايَة الْفَرح وَالسُّرُور واتخاذه عيدا وَإِظْهَار الزِّينَة فِيهِ كالخضاب والاكتحال وَلبس جَدِيد الثِّيَاب وتوسيع النَّفَقَات وطبخ الْأَطْعِمَة والحبوب الْخَارِجَة عَن الْعَادَات واعتقادهم أَن ذَلِك من السّنة والمعتاد وَالسّنة ترك ذَلِك كُله فَإِنَّهُ لم يرد فِي ذَلِك شَيْء يعْتَمد عَلَيْهِ وَلَا أثر صَحِيح يرجع إِلَيْهِ

আশুরার দিন মানুষের উচিত হবে শুধু নেক আমল ও মহৎ ইবাদাতে ব্যস্ত থাকা, যেমন— রোজা রাখা ইত্যাদি। আর অবশ্যই এ ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক থাকতে হবে যে, সেদিন যেন রাফেযীদের উদ্ভাবিত বিদআতে লিপ্ত না হয়, যেমন— ক্রন্দন, শোক প্রকাশ, বুক চাপড়ানো, বিলাপ করা ইত্যাদি। কেননা এসব কোনো মুমিনের চরিত্র নয়। অন্যথায় এমন করা গেলে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের দিনটি শোক প্রকাশের জন্য বেশি উপযুক্ত ও অধিক অগ্রগণ্য হতো।

তদ্রূপ, নাসিবীদের কিংবা কিছু জাহেল লোকের বিদআত থেকেও বাঁচতে হবে— যারা ফাসাদকে ফাসাদ দ্বারা মোকাবিলা করে, বিদআতের জবাবে বিদআত করে, খারাপের জবাবে খারাপ করে— #অর্থাৎ এ দিনে অতিরিক্ত আনন্দ-উৎসব প্রকাশ করে, #ঈদের মতো পালন করে, সাজসজ্জা করে, খুশি প্রকাশ করে, চুল-দাড়ি রাঙায়, কাজল ব্যবহার করে, #নতুন পোশাক পরে, #বাড়তি খরচ করে, #বিশেষ খাবার রান্না করে— যা সাধারণ রুটিনের বাইরে— এবং এ বিশ্বাস করে যে এগুলোই সুন্নত ও প্রচলিত আমল।

অথচ প্রকৃত সুন্নত হলো এসব কিছুর সম্পূর্ণ বর্জন করা। কারণ এ ব্যাপারে কোনো সহীহ দলিল বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
[ আস-সাওয়ায়িকুল-মুহরিকাহ ‘আলা আহলির রাফ্দ ওয়াদ-দালাল ওয়াজ-জিন্দিকাহ,ইবনু হাজার হাইতামী,২/৫৩৪]

ইবনে হাজার হাইতামীর উপরোক্ত বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট :

১।ঈদের মতো আনন্দ উৎসব শুধু ঈদেই সীমাবদ্ধ।
২।বিশেষ খাবার তৈরি শুধু ঈদের বৈশিষ্ট্য, অন্যকোনো দিনে দ্বীন মনে করে এমনটি করা বিদ'আহ।
৩।প্রকৃত সুন্নাত হলো এগুলো বর্জন করা, কারণ এগুলোর ওপর সহীহ কোন দলিল নেই।

শরীয়তে নির্ধারিত ঈদ ছাড়া অন্যকোনো দিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা বিদয়াত।

১১.।শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভীর অন্যতম ছাত্র বাইহাকিউল ওয়াক্ত, ইমাম সানাউল্লাহ পানিপথী, তার ঐতিহাসিক তাফসিরে "মাজহারিতে" লিখেছেন,

لا يجوز ما يفعله الجهال بقبور الأولياء والشهداء من السجود والطواف حولها
واتخاذ السرج والمساجد عليها، ومن الاجتماع بعد الحول كالأعياد ويسمونه عرساً،

জাহেল লোকেরা যে কাজগুলো করে থাকে তা বৈধ নয়। যেমন—ওলীদের ও শহীদদের কবরের সামনে সেজদা করা, কবরের চারপাশে তাওয়াফ করা, কবরের উপর প্রদীপ জ্বালানো বা মসজিদ নির্মাণ করা, এবং মৃত্যুর বার্ষিকীতে লোকসমাগম করে সেটাকে ঈদের মতো অনুষ্ঠান বানিয়ে “উরস” নামকরণ করা—এসব কাজ জায়েজ নয়।
(তাফসীরে মাজহারী,ইমাম সানাউল্লাহ পানিপথী, ২/৬৮)
#অতয়েব রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুবার্ষিকীকে যারা ঈদ হিসেবে গ্রহণ করেছে মুহাদ্দিস দেহলভীর ছাত্র পানিপথির দৃষ্টিতে এরা জাহেল মুর্খ।

১২.।হানাফি ভাষ্যকার, ইমাম মোল্লা আলী কারী লিখেছেন, মুসলমানদের ঈদ বৎসরে দুইবার আসে,,তিনবার নয়,
لا تجعل قبري عيدا
এই হাদীসের ব্যাখ্যায়, মোল্লা আলী কারী লিখেছেন,
مُحْتَمَلٌ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ الْحَثَّ عَلَى كَثْرَةِ زِيَارَتِهِ، وَلَا يُجْعَلُ كَالْعِيدِ الَّذِي لَا يَأْتِي فِي الْعَامِ إِلَّا مَرَّتَيْنِ.
সম্ভাবনা আছে যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কবর জিয়ারত বেশি বেশি করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া, আর একে যেন ঈদের মতো না বানানো হয়, যা বছরে মাত্র দুইবার আসে।”

(মিরকাতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ,মোল্লা আলী আল-ক্বারী,২/৭৪৪।)

১৩.।এমনিভাবে বড়পীর শায়েখ আব্দুল কাদের জিলানী লিখেছেন, মুসলমানদের ঈদ দুটি,তিনটি নয়,

وقيل: إن للملائكة ليلتي عيد في السماء، كما أن للمسلمين يومي عيد في الأرض، فعيد الملائكة ليلة البراءة وليلة القدر، وعيد المؤمنين يوم الفطر ويوم الأضحى، وعيد الملائكة بالليل لأنهم لا ينامون، وعيد المؤمنين بالنهار لأنهم ينامون.
যেমন মুসলমানদের পৃথিবীতে দুইটি ঈদের দিন আছে, তেমনি ফেরেশতাদের জন্য আকাশে দুইটি ঈদের রাত আছে। ফেরেশতাদের ঈদ হলো শবে বরাত এবং লাইলাতুল কদর, আর মুমিনদের ঈদ হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। ফেরেশতাদের ঈদ রাতের বেলায় হয়, কারণ তারা ঘুমায় না। আর মুমিনদের ঈদ দিনের বেলায় হয়, কারণ তারা ঘুমায়।

[عبد القادر الجيلاني ,الغنية لطالبي طريق الحق ,1/348]

#শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভীর সকল কিতাব ঘাটাঘাটির পর কোথাও পাওয়া যায়না তিনি মিলাদুন নবীকে ঈদে মিলাদুন নবী লিখেছেন,

# তার পিতা শাহ আব্দুর রহীমের কোন বক্তব্য এবং বইতে পাওয়া যায় না, তিনি মিলাদুন নবীকে ঈদে মিলাদুন নবী বলেছেন।

#শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভীর সন্তান শাহ রফিউদ্দিনের কোন বইতে পাওয়া যায় না যে, তিনি মিলাদুন নবীকে ঈদে মিলাদুন বলেছেন।

#সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ বেরেলভীর কোন এবং মাকতুবাতে কোথাও পাওয়া যায় না যে, তিনি মিলাদুন নবীকে ঈদে মিলাদুন নবী বলেছেন।

#শাহ ইসমাইল শ

বিদআত: পরিচিতি ও মূলনীতি▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬দীন-ধর্ম থেকে কোন কিছু বিয়োজন ও কমানোকে বলা হয়, ইলহাদ। আর সংযোজন ও বাড়ানোকে বলা হয়, ...
12/09/2025

বিদআত: পরিচিতি ও মূলনীতি
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

দীন-ধর্ম থেকে কোন কিছু বিয়োজন ও কমানোকে বলা হয়, ইলহাদ। আর সংযোজন ও বাড়ানোকে বলা হয়, বিদআত। এটা আকীদা ও আমল উভয় ক্ষেত্রে হতে পারে। যদিও আমরা ‘বিদআত’ শব্দ থেকে আমলের ক্ষেত্রটাকে বুঝে থাকি।

বিদআত পরিচিতির জন্য চারটি মূলনীতি:

প্রথম মূলনীতি:
--------------------
এটি কয়েকটা পয়েন্ট আকারে বুঝতে হবে।

১। সুন্নাহ-শরীয়াহর বিরোধিতা ও বিদআত থেকে বাঁচতে হলে কুরআন-সুন্নাহ উভয়টাকে গ্রহণ করতে হবে এবং কুরআন-সুন্নাহর স্বীকৃত ব্যাখ্যা বিশেষত কুরআনের তাফসীর উক্ত শাস্ত্রের আলোকে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ، لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ رَسُولِه.
তোমাদের মাঝে দু’টি বস্তু রেখে যাচ্ছি। যতক্ষণ পর্যন্ত এ বস্তুদ্বয়কে আঁকড়ে ধরবে, পথভ্রষ্ট হবে না। কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রাসূলুল্লাহ। (মুআত্তা মালেক, মুসতাদরাকে হাকিম, সহীহ হাদীস।)

আর কুরআনের মনগড়া তাফসীর প্রসঙ্গে সহীহ হাদীসে এসেছে,
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ قَالَ فِي الْقرْآنِ بِرَأْيِهِ فَلْيَتبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ. رواه الترمذی ٢٩٥٠، وقال: حديث حسن. قلت: إن إسناده هذا ضعيف. ولکن رواه ابن حبان فی الثقات له ١٣٩١٣ بسند صحيح.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি মনগড়া তাফসীর করবে, তার স্থান জাহান্নাম ছাড়া বৈ কি। (তিরমিযী হাদীস: ২৯৫০)

মূলনীতির এ পয়েন্ট গ্রহণ করলে আহলুস সুন্নাহ বিরোধী প্রায় ব্যক্তি ও ফেরকার ভ্রান্তি ধরতে পারবেন। আরো দেখুন, কাশ্মীরী রহ.-এর ‘ইকফারুল মুলহিদীন’।

২। সহীহ হাদীস এবং আমলযোগ্য হাদীস থেকে গৃহীত হলে তা বিদআত হবে না।
মূলনীতির এ পয়েন্ট বলে দেয় যে, বেরেলভী বা বিদআতীরা বিভিন্ন আকীদা-আমল সহীহ হাদীস থেকে গ্রহণ না করার কারণে শরীয়তে বৃদ্ধি করে বিদআতে লিপ্ত হয়। যেমন নবীকে সৃষ্টি না করলে কিছুই সৃষ্টি করা হত না, বা নবী নূরের তৈরি এবং ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ বললে আঙ্গুলে চূমা খাওয়া ইত্যাদি।
আর আহলে হাদীসরা আমলযোগ্য হাদীস থেকে গ্রহণ না করার কারণে সহীহ হাদীসের নামে ফেতনা সৃষ্টি করে। যেমন বুকের উপর হাত বাধাঁর হাদীস।

৩। চার খলীফার সুন্নাহতে পাওয়া গেলে তা বিদআত হওয়া তো দূরের কথা, বরং মান্য করা ওয়াজিব। ইরবায ইবনে সারিয়া রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافا كثيرا. فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة.
আমার পর তোমাদের যারা বেঁচে থাকবে তারা বহু ইখতিলাফ-মতানৈক্য দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাহ ও আমার হেদায়েতের পথের পথিক খলীফাগণের সুন্নাহকে সর্বশক্তি দিয়ে ধারণ করবে। আর সকল নবউদ্ভাবিত বিষয় থেকে দূরে থাকবে। কারণ সকল নবউদ্ভাবিত বিষয় বিদআত। আর সকল বিদআত গুমরাহী। (মুসনাদে আহমদ: ১৭১৪৫, ২৮/৩৭৫, সহীহ হাদীস।)

মূলনীতির এ পয়েন্টের আলোকে বিদআত বলা যাবে না হযরত আবু বকর রা.-এর জম’য়ে কুরআন, হযরত ওমর রা.-এর চালু কৃত জামাআত সহ বিশ রাকাআত তারাবীহ এবং হযরত ওসমান রা.এর জারীকৃত জুমআর দ্বিতীয় আযান, যা আহলে হাদীসরা মানে না।

৪। সাহাবায়ে কেরামের আমলে পাওয়া গেলে তা বিদআত হবে না, বরং তা অনুসরণ করা আল্লাহর সন্তুষ্ট লাভ ও জান্নাতী হওয়ার আলামত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ.
অর্থ: অগ্রগামী মুহাজির ও আনসার সাহাবাগণ এবং যে সমস্ত মুসলমান নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। (সূরা তাওবা, আয়াত নং-১০০)

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতী আর জাহান্নামী লোকের পরিচয় তুলে ধরে বলেন-
وَإِنَّ بَنِى إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً، قَالُوا: وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي. (أخرجه الترمذي وقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مُفَسَّرٌ.
বনী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিলো। আর আমার উম্মত তেহাত্তর দলে বিভক্ত হবে। কিন্তু সব দলই জাহান্নামী। শুধু একদল হবে জান্নাতী। সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহর রাসূল! সেই এক দলে কারা থাকবেন? বললেন, যারা আমার এবং আমার সাহাবাদের মত ও পথের পথিক হবে। (জামে তিরমিযী ২/৯২, হাদীস: ২৮৩২, তাবরানী আওসাত ৪৮৮৬, হাদীসটি গ্রহণযোগ্য।)

মূলনীতির এ পয়েন্টের কারণে বিদআতের অন্তভূর্ক্ত হয় না, আমলের বিভিন্ন পদ্ধতি, যা চার মাযহাবে রয়েছে।যথা রফয়ে ইয়াদাঈন করা বা না করা ও আমীন জোরে বা আস্তে বলা ইত্যাদি, যা আহলে হাদীসরা স্বীকার করে না।

এভাবে অস্পষ্ট বিধানের ব্যাখ্যা সাহাবায়ে কেরাম থেকে গ্রহণ করা বিদআত নয়। যেমন একমুষ্টি পরিমাণ লম্বা দাড়ি রাখা ওয়াজিব হওয়া। (সবিস্তারে জানতে দেখুন, বান্দার দাড়ি ও তার পরিমাণ বইটি।)


৫। অনেকের মতে, তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈদের যুগের অধিকাংশ আহলে হক থেকে যদি কোন কাজ বা আমলের সমর্থন পাওয়া যায় কিংবা জানা সত্বেও কারো থেকে নিষেধ পাওয়া না যায়, তবে তা বিদআত হিসেবে গণ্য হবে না।
এই দুই যুগের সমর্থন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কারণ হল, রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনÑ
خَيْرُ الْقُرُونِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে উত্তম হল, আমার যুগের লোক। অতঃপর তাবেঈদের যুগ। এরপর তাবে-তাবেঈদের যুগ। (বুখারী, মুসলিম, আরো দেখুন, রাহে সুন্নাত, সারফারায খান সফদর পৃ. ৭৯ ও আকায়েদে ইসলাম, আব্দুল হক পৃ. ১৩৩-১৩৪)

তিন থেকে নিয়ে পাঁচ পযর্ন্ত মূলনীতির পয়েন্টগুলোর আলোকে বেরেলভীদের বিভিন্ন কাজ ও রসম বিদআতের অন্তভূর্ক্ত হয়। কেননা এগুলোর কার্যকারণ, যৌক্তিকতা ও উদ্বুদ্ধকারী বিষয় থাকা সত্বেও চার খলীফার সুন্নাহ বা সাহাবায়ে কেরামের আমল কিংবা তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈদের যুগের লোকদের থেকে সমর্থন পাওয়া যায় না।

৬। কোন বিষয়ের উপর উলামায়ে উম্মতের ইজমা’ হলে তা বিদআত হবে না, বরং তা অনুসরণ করা ওয়াজিব।

৭। শর্ত সাপেক্ষ উসূলের আলোকে ইজতিহাদ ও কিয়াসকৃত মাসআলাকে বিদআত না বলা চাই। যদিও সাহাবায়ে কেরাম থেকে নিয়ে চার মাযহাবে কিছু মাসআলায় জায়েয-নাজায়েযের মতভেদ হয়েছে।

বেরেলভী বা বিদআতীরা শর্ত সাপেক্ষ উসূলের আলোকে ইজতিহাদ-কিয়াস না করার কারণে কিংবা ইজতিহাদ ও বিদআতের মাঝে পার্থক্য করতে না পারায় আমলের নামে বিদআতে লিপ্ত হয়। সামনে এর ব্যাখ্যা লক্ষ্য করুন।


দ্বিতীয় মূলনীতি:
----------------------
ইবাদতের নিয়তে নতুন যেই আমল বা পদ্ধতি করছি /করতে চাচ্ছি, এটার কার্যকারণ, যৌক্তিকতা ও উদ্বুদ্ধকারী নবী ও সাহাবী যুগে ছিল কিনা? এখানে দুই অবস্থা।

এক. সেই যুগে ছিল না বরং পরবর্তী যুগে সৃষ্ট বা আবিষ্কৃত হয়েছে। যেমন প্লেনে নামাজ পড়া, রোজা অবস্থায় ইনজেকশন দেওয়া, ব্যাংক ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন নতুন পদ্ধতি ইত্যাদি। এগুলোর ক্ষেত্রে বিদআতের প্রয়োগ হবে না, বরং ইজতিহাদ ও কিয়াসের মাধ্যমে বৈধ-অবৈধ, হালাল-হারাম নির্ধারিত হবে।

দুই. নবী ও সাহাবী যুগে এর কার্যকারণ, যৌক্তিকতা ও উদ্বুদ্ধকারী ছিল। কিন্তু এরপরও তারা সেই কাজ বা আমল করেন নি। যেমন জুমআর দ্বিতীয় আযানের উপর ইজতিহাদ-কিয়াস করে ঈদের নামাযের জন্য আযান দেওয়া। এখানে আযানের কারণ হচ্ছে ঈদের নামায। তো ঈদের নামায তথা কারণ সে যুগে ছিল, কিন্তু আযান ছিল না।

এটার হুকুম বুঝার জন্য এর প্রকার বুঝতে হবে। এটা দুই ভাগে বিভক্ত:

১. যেই আমলটি করতে চাচ্ছি- এর কার্যকারণ, যৌক্তিকতা ও উদ্বুদ্ধকারী যে বিষয়টি সে যুগে ছিল, তা পালনের পদ্ধতি নির্ধারিত। যেমন আযানের আগে সালাত ও সালাম বলার আমলটি করতে চাচ্ছি। এখন এই সালাত ও সালামের কার্যকারণ ও যৌক্তিকথা হচ্ছে আযান। তো সে যুগে আযানের নির্ধারিত পদ্ধতি রয়েছে। যেটাতে আযানের আগে সালাত ও সালাম বলার আমল নাই। সুতরাং আযান সে যুগে ছিল কিন্তু সালাত ও সালামের আমলটি ছিল না।

এই প্রকারের হুকুম হচ্ছে, উক্ত নির্ধারিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে আদায় করা বিদআত। কাজেই সে যুগে যে সকল ইবাদত পালনের নির্ধারিত পদ্ধতি রয়েছে, এর থেকে বাড়ানো বিদআত।

২. যেই আমলটি করতে চাচ্ছি- এর কার্যকারণ ও উদ্বুদ্ধকারী যে বিষয়টি সে যুগে ছিল, তা পালনের পদ্ধতি নির্ধারিত নয়। যেমন জিকির করা, দরুদ শরীফ পড়া, দাওয়াত-তাবলীগের কাজ করা, ওয়াজ করা, দীনী ইলম শিক্ষা করা ইত্যাদি। এগুলোর জন্য সে যুগে সুনির্ধারিত কোন পদ্ধতি ছিল না। সুতরাং এগুলো বৈধ যে কোন পদ্ধতিতে পালন ও আমল করা যাবে।

কিন্তু এগুলো পালনের জন্য ইজতিহাদ-কিয়াসের মাধ্যমে হোক বা স্বপ্নযোগে হোক কিংবা কাশফ-ইলহামের মাধ্যমে হোক, একটা নির্ধারিত সময় কিংবা নির্ধারিত পদ্ধতিকেই আবশ্যকীয় মনে করা বা একটা নির্ধারিত পদ্ধতিতে করলেই শুধু সাওয়াব পাওয়া যাবে মনে করা বিদআত হিসেবে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য, কিছু সাহাবী ও পরবর্তী ইমাম বলেছেন, জিকির, দরুদ পাঠ, দোয়া, সালাম, মুসাফাহা মুআনাকা ইত্যাদির জন্য নির্ধারিত সময়/দিন বা পদ্ধতি আবশ্যকীয় করে নেওয়া বিদআত। এভাবে নামাজের পর কিংবা ঈদের নামাজের পর সালাম মুসাফাহা আবশ্যকীয় করে নেওয়া বিদআত বলেছেন।

এ বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়, যে আমল বা বিষয় পালন করতে সাধারণত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয় না বা লম্বা সময় দিয়ে তা অর্জন করতে হয় না, এগুলোর ক্ষেত্রে কোন সময়/দিন বা পদ্ধতি নির্ধারিত করা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হবে।

কারো মনে প্রশ্ন আসতে পারে, তাবলীগ ওয়ালারা যে একটা নির্ধারিত পদ্ধতিকে আবশ্যকীয় মনে করে। এভাবে কওমি মাদ্রাসা ওয়ালারা দ্বীনি ইলম শিক্ষার জন্য একটা পদ্ধতিকে আবশ্যকীয় মনে করে। তাহলে এগুলো কি বিদআত হবে না?

উত্তর:
একটা হচ্ছে, মূল দাওয়াত-তাবলীগের জন্য পদ্ধতি নির্ধারিত করা। অর্থাৎ এটা ছাড়া আর কোন পদ্ধতিতে করা যাবে না বা করলে দাওয়াত-তাবলীগের কাজ করার যে সওয়াব রয়েছে, তা পাওয়া যাবে না। এটা মনে করলে অবশ্যই বিদআত।
আরেকটা হচ্ছে, আমার সাথে বা আমার দলে দাওয়াত-তাবলীগের কাজ করতে হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে করতে হবে এবং তাবলীগের কাজ করার যে সওয়াব রয়েছে, তা এ পদ্ধতিতে করলেও পাওয়া যাবে- এটা বিদআত নয়। কারণ এটা নির্ধারণকারীর দৃষ্টিতে এ যুগের জন্য অধিক ফলপ্রসূ হওয়া ও ব্যবস্থাপনার কারণে করা হয়। যেমন তাবলীগ জামাআতে করা হয়ে থাকে।

অনুরূপ দীনী ইলম শিক্ষা করার বিষয়টি। অর্থাৎ কওমি মাদ্রাসা ও এর নিসাবকে দীনী ইলম শিক্ষা করার একমাত্র পদ্ধতি মনে করা এবং ভিন্ন পদ্ধতিতে তা করা যাবে না কিংবা করলে দীনী ইলম শিক্ষা করার যে সাওয়াব রয়েছে, তা হবে না- এমন মনে করলে বিদআত হবে।
তবে অধিক ফলপ্রসূ ও ব্যবস্থাপনাগত কারণে যদি এটাকে আবশ্যকীয় মনে করে থাকে এবং ইলম শিক্ষার সওয়াব এ পদ্ধতিতে করলেও পাওয়া যাবে মনে করে, তাহলে বিদআত হবে না।

তাসাউফের সকল আমল ও ‘শোগল’ সম্পর্কেও একই কথা। আত্মশুদ্ধি বা আত্মাকে উত্তম গুণে গুণান্বিত করা শরীয়তের নির্দেশ। উক্ত নির্দেশ পালনের জন্য কারো পক্ষ থেকে একটা পদ্ধতিকে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এটাকে শরীয়ত কর্তৃক একমাত্র সুনির্ধারিত এবং আদিষ্ট পন্থা মনে করা হয় না।

মোটকথা, দ্বিতীয় অবস্থার যেই দুই প্রকার উল্লেখ করা হয়েছে, এতে প্রথম প্রকারে কোন ধরনের ইজতিহাদ-কিয়াসের সুযোগ নেই। আর দ্বিতীয় প্রকারে (ইজতিহাদ-কিয়াসের মাধ্যমে হোক বা অন্য কোনভাবে হোক) একটা নির্ধারিত সময় কিংবা নির্ধারিত পদ্ধতিকে শরীআতের আবশ্যকীয় বিষয় মনে করা বা উক্ত পদ্ধতিতে করলেই সাওয়াবের কারণ মনে করা বিদআত।

সুতরাং প্রতি জুমার নামাজের পর দরুদ শরীফ পড়ার জন্য মিলাদ কিয়ামের প্রচলিত নির্দিষ্ট পদ্ধতি বিদআত।
তবে হ্যাঁ, কখনো কোথাও বিশেষ কোনো সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া এবং শরীআত কর্তৃক সুনির্ধারিত ও আদিষ্ট পন্থা মনে করা ব্যতীত এমন কেউ করে, তাহলে বিদআত হবে না।

তৃতীয় মূলনীতি:
----------------------
এরপরও কোন আমল বা বিষয়ে বিদআত হবে কি হবে না- এ নিয়ে সংশয় হতে পারে। তখন উসূল হচ্ছে, যে আমলটি সুন্নাত বা বিদআত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত নয়, তা বর্জনীয়।কেননা শরীআতের দাবি হল, সুন্নাত মুতাবেক আমল করার সাথে সাথে বিদআত থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা। তাই যেই আমল এর ব্যাপারে এই সন্দেহ হবে যে, এটা কি সুন্নাত, না বিদআত- সেই আমলকেও বর্জন করবে। একাধিক ইমাম সুস্পষ্টভাবে তা বলেছেন, যা হানাফী ফিকহের অনেক ফতোয়ার কিতাবে রয়েছে।

ইমাম সারাখসী রাহ. (মৃ. ৪৮৩ হি.) বলেন,
وما تردد بين البدعة والسنة يتركه؛ لأن ترك البدعة لازم وأداء السنة غير لازم.
যে আমলটি সুন্নাত কিংবা বিদআত হওয়াটা নিশ্চিত নয়, তা বর্জনীয়। কেননা বিদআত বর্জন করা অাবশ্যকীয়, কিন্তু সুন্নাতনুযায়ী আমল করা জরুরি নয়। আল-মাবসূত ২/৮০।

আল্লামা মাহমূদ ইবনে মাযা বুখারী রাহ. (মৃ. ৬১৬ হি.) বলেন,
وكل ما دار بين البدعة والسنّة كان تركه أولى من الإتيان به.
যে বিষয়টি সুন্নাত কিংবা বিদআত হওয়াটা নিশ্চিত নয়, তা আমল করার চেয়ে বর্জন করা উত্তম। আল-মুহীতুল বুরহানী ২/১০৮।

হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাক্কিক ইমাম ইবনুল হুমাম রহ. (মৃ. ৮৬১ হি.) ‘ফাতহুল কাদীর’ গ্রন্থে লিখেন,
وما تردّد بين البدعة والسنة تركه؛ لأن ترك البدعة لازم وأداء السنة غير لازم.
যে আমলটি সুন্নাত কিংবা বিদআত হওয়াটা নিশ্চিত নয়, তা বর্জনীয়। কেননা সুন্নাতনুযায়ী আমল করা জরুরি নয়, কিন্তু বিদআত বর্জন করা আবশ্যকীয়। একই বক্তব্য "বাদাউস সানায়ি', ‘আল-বাহরুর রায়েক’, ‘ফাতাওয়া শামী’ ও ‘ফাতাওয়া আলমগীরী’তেও রয়েছে।

চতুর্থ মূলনীতি:
--------------------
কোন বৈধ বিষয় বা কাজ তখনই বিদআত হিসেবে গণ্য হবে, যখন এতে এ শর্ত পাওয়া যাবে যে, নব আবিষ্কৃত ধর্মীয় বিষয় আখেরাতের উদ্দেশে করা। কাজেই নব আবিষ্কৃত দুনিয়াবী বিষয় যেমন মোবাইল ও মাইক ইত্যাদি বিদআত নয়। কেননা তা ধর্মীয় বিষয় নয়। এভাবে দুনিয়াবী উদ্দেশে কুরআন ও বুখারী খতম করাও বিদআত নয় এবং টাকার লেনদেনও অবৈধ নয়। কেননা বিষয়টি ধর্মীয় হলেও আখেরাতের উদ্দেশে করা হয় না। বরং দুনিয়াতে উপকার এবং রহমত ও বরকতের উদ্দেশে করা হয়।
(সবিস্তারে জানতে দেখুন, ঈমান-আকীদা ১/৩০২-৩১২)

Address

চট্টগ্রাম
Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when An-Nahar Online services posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share