PS3 Solution

PS3 Solution Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from PS3 Solution, Business consultant, Police Club Centre, Chittagong.

Income Tax Return (Personal & Firms , Companies)
Tax Planning & Tax Management
VAT Management , VAT Return, VAT Documentation
RJSC – Company Registration, Share Transfer, Annual Return Submission
LICENSING

STUDY IN CANADA
MIGRATION TO CANADA

07/03/2026

Hiring advertisement . CA students at R K Chowdhury & Co, Chartered Accountants . For Chittagong and Dhaka office.

https://www.facebook.com/share/p/1JkdFhtuA8/
03/08/2025

https://www.facebook.com/share/p/1JkdFhtuA8/

২০২৫-২৬ করবর্ষে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলকরদাতাদের জন্য জরুরি ঘোষণাজাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ২০২৫-২৬ করবর্ষ থেকে স.....

https://youtu.be/UqytTGrQ50U
29/06/2025

https://youtu.be/UqytTGrQ50U

বাংলাদেশের আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১৬২ অনুযায়ী, করদাতা যদি অগ্রিম কর যথাযথভাবে পরিশোধ না করেন, তবে পরিশোধযোগ্য ট্....

https://www.facebook.com/share/p/1C9Dga433p/
15/06/2025

https://www.facebook.com/share/p/1C9Dga433p/

আয়কর আইন, ২০২৩( ২০২৩ সনের ১২ নং আইন )ধারা - ২(২৩) “করদিবস” অর্থ-(ক) কোম্পানি ব্যতীত কোনো করদাতার ক্ষেত্রে, আয়বর্ষ সমাপ্....

শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি গত মাসে রেকর্ড দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় দুই বছ...
01/04/2024

শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে

শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি গত মাসে রেকর্ড দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় দুই বছর আগের ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটের পর শূন্যের কোঠায় নেমে এল দেশটির মূল্যস্ফীতির হার। গত ফেব্রুয়ারিতে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। শ্রীলংকার পরিসংখ্যান বিভাগ সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।
মার্চের শুরুতে আবাসিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে ২২ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি মূল্যস্ফীতি কমার ক্ষেত্রে বড় প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশটিতে আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিভাগে মূল্যস্ফীতি ঋণাত্মক ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
শ্রীলংকার জনশুমারি ও পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে, খাদ্যের দাম ফেব্রুয়ারির ৩ দশমিক ৫ থেকে বেড়ে মার্চে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। খাদ্য বাদে অন্যান্য পণ্যের দাম ফেব্রুয়ারির ৭ থেকে মার্চে দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
ফার্স্ট ক্যাপিটালের গবেষণাপ্রধান দিমান্থা ম্যাথিউ বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি কমার হার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। আমাদের ধারণা ছিল, এটি কমে প্রায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। তবে ধারণা করছি, চলতি মাসে মূল্যস্ফীতি আবারো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হবে। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতেও সাহায্য করবে।’
২০২২ সালের এপ্রিল নাগাদ ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বৈদেশিক ঋণখেলাপি হয় শ্রীলংকা। ওই সময় দেশটিতে দেখা দেয় বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট। ফলে নাগরিকদের জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য দ্রব্য আমদানি করতে ব্যর্থ হচ্ছিল সরকার। সে সময়ের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কয়েক মাসব্যাপী প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে।
অর্থনৈতিক সংস্কারের শর্তে গত বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে চার বছর মেয়াদি ২৯০ কোটি ডলারের বেইলআউট প্যাকেজ পায় শ্রীলংকা। এরপর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থনীতি।
সংকটের পর বার্ষিক হিসাবে শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি এখন সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি উঠেছিল সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশে। পরের বছরের জুলাইয়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসে। আগস্টে তা আরো কমে ৪ শতাংশ দাঁড়ায়। এরপর আবারো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও গত মাসে কমে দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়।
শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এক-দেড় বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশ থাকবে বলেও আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ঋণ হার এখন ১০ থেকে কমে সাড়ে ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা চলমান অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষণ।

শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি গত মাসে রেকর্ড দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় দুই বছর আগের ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটের পর শূ...

পিআরআইয়ের গবেষণা ব্যক্তিগত আয়কর ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়াতে পারলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে ০.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাংলাদেশের সমপরি...
28/03/2024

পিআরআইয়ের গবেষণা
ব্যক্তিগত আয়কর ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়াতে পারলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে ০.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট

বাংলাদেশের সমপরিমাণ মাথাপিছু আয়ের অনেক দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের চেয়ে দুই গুণ, আড়াই গুণ। অথচ বছরের পর বছর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ৭-এর মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের আয়কর আয়ের ওপর জোর দিতে বলছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)। সংস্থাটির একটি গবেষণা বলছে, ২ শতাংশীয় পয়েন্ট ব্যক্তিগত আয়কর আয় দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াবে।
গতকাল রাজধানীর বনানীতে পিআরআইয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ গবেষণা তথ্য তুলে ধরা হয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, কর-জিডিপি অনুপাত ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়াতে ৬৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় করতে হবে। এর ফলে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হবে। আবার ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তি রাজস্ব আয় বার্ষিক নমিনাল জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার। তিনি বলেন, ‘প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধির পাশাপাশি কর প্রশাসনের উন্নতি ও ফাঁকফোকর কমাতে কর ব্যবস্থা সংস্কার করা উচিত। এটি মূল্যস্ফীতি বাড়ানো ছাড়াই মূল্য সংযোজন কর থেকে রাজস্ব আয় বাড়াবে।’
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও টেকসই উন্নয়ন হুমকির মুখে দাবি করে এ গবেষক বলেন, ‘বাংলাদেশের ট্যাক্স জিডিপির অনুপাত বৈশ্বিক গড় অনুপাতের নিচে। নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা ও ভারতের চেয়ে কম। রাজস্ব আয় কম হওয়ার কারণে সরকারের ব্যয়ও কম। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে ব্যক্তিগত আয়কর আয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া, মূল্য সংযোজন কর বাড়ানোর পরিবর্তে সংস্কার করা ও করপোরেট কর আয়ে বাড়তি নজর দেয়া জরুরি।’
পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘৭, ৮, ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি দিয়ে পৃথিবীর কোনো দেশ উন্নত হতে পারেনি। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কর ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকবে, তবে তা কমিয়ে আনতে হবে। শুধু করছাড় কমিয়ে আগামী অর্থবছরে বাড়তি ৩০ হাজার কোটি টাকা আয়ের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। করছাড় না কমিয়ে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব নয়। ব্রিটিশ আমলের ব্যবস্থাপনা দিয়ে তা হবে না। এজন্য রাজস্ব খাতের মৌলিক সংস্কার দরকার। যেকোনো সরকার তার আমলের প্রথম দুই-তিন বছরেই সংস্কার কার্যক্রমে হাত দিতে পারে। নতুন সরকার এসেছে। এখনই রাজস্ব খাত সংস্কারের সময়। বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার সময় এখনই।’
ড. আহসান এইচ মনসুরের কথায় সমর্থন দিয়ে পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই রাজস্ব ঘাটতি আছে। কিন্তু ঘাটতির পুরোটা ধার করে কোনো দেশ লাভবান হয় না। এক্ষেত্রে সরকারের নিজস্ব ব্যয় অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ থাকা উচিত। আমাদের দেশে বৈষম্য বাড়ছে। বৈষম্য কমাতে প্রত্যক্ষ করের দিকে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশের ১০ শতাংশ লোকের হাতে ৩০ শতাংশের বেশি জাতীয় আয় আছে। তাদের থেকে যদি কর আয় করা যায়, তাহলে রাজস্ব আয় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে।’
পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার বলেন, ‘বাংলাদেশে উচ্চ শুল্ক আরোপের সংস্কৃতি আছে। উচ্চ শুল্ক হার বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমদানি সংকোচন করার ফলে দেশের অর্থনীতি আরো শ্লথ হয়ে যেতে পারে। মূল্যস্ফীতি কমাতে না পারলে বৈষম্য আরো বাড়বে। তৈরি পোশাক শিল্প প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের পণ্যের গুণগত মান আন্তর্জাতিক মানের। এ পণ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো সম্ভব। অনেক সময় রফতানির চেয়ে স্থানীয় বাজারেও পণ্যের দাম বেশি পাওয়া যায়।’

বাংলাদেশের সমপরিমাণ মাথাপিছু আয়ের অনেক দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের চেয়ে দুই গুণ, আড়াই গুণ। অথচ বছরের পর বছ...

২০ মাস ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে বাংলাদেশ গত অর্থবছরের পুরো সময়ে ৯ শতাংশের ওপরে ছিল বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি। চলতি অর...
27/03/2024

২০ মাস ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে বাংলাদেশ

গত অর্থবছরের পুরো সময়ে ৯ শতাংশের ওপরে ছিল বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেও এ ঊর্ধ্বমুখিতা বজায় থাকতে দেখা গেছে। সব মিলিয়ে টানা ২০ মাস ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তের জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশের অর্থনীতিতে তিন দশকে আর কখনই এত দীর্ঘসময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি স্থায়ী হতে দেখা যায়নি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্বের কারণেই এটি জেঁকে বসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নব্বইয়ের দশকে বেসরকারি খাতের উত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতির বিকাশ শুরু হয়। ওই দশকে কখনো কখনো মূল্যস্ফীতি বাড়লেও তা খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। এক বছর বাড়লেও পরের বছরই তা কমে গেছে। ওই দশকে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর সর্বনিম্ন ছিল ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর পরের দশকের শুরুতে ২০০০-০১ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ওই দশকে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
এরপর গত দশকে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে ২০১১-১২ অর্থবছরে, যার হার ছিল ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ ছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। চলতি দশকের প্রথম দুই অর্থবছর ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৫৬ ও ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির ওই ধারা অব্যাহত আছে এখনো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এমএ মান্নান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের এখানে মূল্যস্ফীতির যে প্রবণতা দেখেছি সেটি হচ্ছে এটি বেশ ধীরে ওঠা-নামা করে। মূল্যস্ফীতি হঠাৎ করে বেড়ে গেলে ভোক্তাদের কষ্ট বেশি হয়। আর ধীরে বাড়লে তাদের ওপর চাপ কম পড়ে। অন্যদিকে এ হার হঠাৎ কমে গেলে সরবরাহকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর ধীরে কমলে তাদের জন্য তুলনামূলক কম ক্ষতি হয়। সরকার টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি কার্ডধারীকে স্বল্পমূল্যে পণ্য সরবরাহ করছে। তাছাড়া ট্রাকের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে কম দামে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মসূচি না থাকলে মূল্যস্ফীতি আরো বেশি হতো। সরকারের কৃতিত্ব হলো মূল্যস্ফীতি বল্গাহীন নয়। এর বল্গাটাকে ধরে রাখা গেছে। বর্তমানে আমাদের মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি। আশা করছি এটি ধীরে ধীরে কমে আসবে।’
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম আট মাসের পুরো সময়ে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে ছিল। সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার জুলাইয়ে ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ, আগস্টে ৯ দশমিক ৯২, সেপ্টেম্বরে ৯ দশমিক ৬৩, অক্টোবরে ৯ দশমিক ৯৩, নভেম্বরে ৯ দশমিক ৪৯, ডিসেম্বরে ৯ দশমিক ৪১, জানুয়ারিতে ৯ দশমিক ৮৬ এবং সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছিল। ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যপণ্যে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ছিল। গত বছরের অক্টোবরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশে উঠে গিয়েছিল।
সাবেক অর্থ সচিব এবং মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাজার শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়ে গেছে। এ কারণে অনেক সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না, যার ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। তাছাড়া সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি থাকা সত্ত্বেও ভর্তুকির বিপরীতে বিশেষ বন্ড ইস্যু করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে এসএলআর হিসেবে এ বন্ড ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে ব্যাংক খাতে তারল্যের জোগান বাড়বে। এটি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির বিপরীতে যাচ্ছে। এতে মুদ্রানীতি সঠিকভাবে কাজ করবে না। আরেকটি দিক হচ্ছে আগে বাজারে ডলার সরবরাহ করে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা উঠিয়ে নিত। কিন্তু বর্তমানে এটা কিছুটা শর্তযুক্ত। ব্যাংককে টাকা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার নিচ্ছে। এতেও তারল্য সরবরাহ বাড়ছে।’
বাংলাদেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতির পেছনে স্থানীয় কারণের চেয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে বেশি দায়ী করছে সরকার। বলা হচ্ছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা ও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে। ওই সময় প্রায় একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশেও মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে। এরপর ২০২২ সালেই বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কমতে শুরু করে। যদিও বাংলাদেশের বাজারে এর তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। এক পর্যায়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসা শুরু হলেও ভিন্ন চিত্র বাংলাদেশে।
২০২২ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশে উঠে গিয়েছিল। তারপর থেকেই সেটি ক্রমে নিম্নমুখী। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে তা নেমে এসেছিল ৩ দশমিক ১৫ শতাংশে। যুক্তরাজ্যে ২০২২ সালের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি উঠে গিয়েছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশে। সেখান থেকে সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে। ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানিতে ২০২২ সালের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশে উঠেছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে তা আড়াই শতাংশে নেমে এসেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলংকাও এ সময় দেউলিয়াত্ব কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও বড় সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীলংকায় মূল্যস্ফীতির হার ৬৭ দশমিক ৪ শতাংশে উঠে গিয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের যেসব দেশেই মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে তারা সেটি নিয়ন্ত্রণে ত্বরিত পদক্ষেপ নিয়েছে। আগ্রাসীভাবে সুদহার সমন্বয়ের মাধ্যমে রাশ টানা হয়েছে তারল্যের সরবরাহে। এর ধারাবাহিকতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে দেশগুলো। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকলেও সুদহার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় নেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন কৃত্রিমভাবে ধরে রাখা হয়েছিল মুদ্রার বিনিময় হারও। এক পর্যায়ে সুদহার ও বিনিময় হার সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হলে দেখা যায় এসব উদ্যোগ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। বিলম্বিত পদক্ষেপ উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পেরেছে সামান্যই। এর মধ্যে রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে আরো উসকে দিতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে।
বেসরকারি খাতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা থেকে দীর্ঘদিন সুদহার সমন্বয় করা হয়নি। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ব্যাংক ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে বেঁধে রাখা হয়েছিল। যদিও পুরো ২০২২-২৩ অর্থবছরজুড়েই দেশে মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। গত বছরের জুনের পর সুদহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর গত আট মাসে ব্যাংক ঋণের সুদহার বেড়েছে ৪ দশমিক ১১ শতাংশীয় পয়েন্ট। সর্বশেষ চলতি মাসের জন্য ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
দেশে ডলারের বিনিময় হার নিয়ে অস্থিরতা চলছে দুই বছর ধরে। এ সময়ে মার্কিন মুদ্রাটির বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। এরপরও দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ বিনিময় হার ১১০ টাকা। যদিও এ দরে ব্যাংক কিংবা কার্ব মার্কেট (খুচরা বাজার) কোথাও ডলার মিলছে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির শর্তে বাংলাদেশে বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করে দেয়ার কথা বলা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জুনের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল করতে ‘ক্রলিং পেগ’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে, ‘ক্রলিং পেগ’ নীতি অনুসরণ করা হলে ডলার সংকট কেটে যাবে। বিনিময় হারজনিত অস্থিরতাও হ্রাস পাবে। যদিও বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকটের মুহূর্তে এ নীতি অনুসরণ করে কোনো দেশই এখন পর্যন্ত সাফল্য পায়নি। বরং তা প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেক দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ার নজির রয়েছে। বিশেষ করে রিজার্ভের দুর্বলতা, বিনিময় হারের অস্থিরতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি একই সঙ্গে বিদ্যমান থাকলে এ নীতি কাজ করে না। বরং তা বিনিময় হারের অস্থিরতাকে আরো উসকে দেয়ার পাশাপাশি হুন্ডির বাজারকে আরো বেশি শক্তিশালী করে তোলায় ভূমিকা রাখে।
শুধু কঠোর ও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর সঙ্গে সঙ্গে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে হবে বলেও মনে করছেন তারা। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০১১-১২ অর্থবছরের দিকে মূল্যস্ফীতি যখন বেড়ে গিয়েছিল, তখন সেটিকে নিয়ন্ত্রণের যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। সুদহার ১৩ থেকে বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ এবং ডলারের বিনিময় হার ৬৯ টাকা থেকে ৮৩ টাকা করা হয়েছিল। ত্বরিত এ পদক্ষেপের কারণে সে সময় মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো আমরা অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি জেঁকে বসার মূল কারণ হচ্ছে এটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে নিস্পৃহতা। আমাদের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার কারণে তা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। আমরা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যেসব উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন ছিল যেমন সুদের হার বৃদ্ধি ও বিনিময় হারকে বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার মতো বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে গড়িমসি করেছি, যার ফলে এখনো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।’
https://bonikbarta.net/home/news_description/378370/%E0%A7%A8%E0%A7%A6-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%89%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9A-%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AB%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6







আজ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হাজার বছরের সংগ্রামী বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বা...
26/03/2024

আজ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হাজার বছরের সংগ্রামী বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন করে।

ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস
25/03/2024

ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস

আগের চেয়ে কম লভ্যাংশ দিচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি বড় অংকের লভ্যাংশ দেয়ার ক্ষেত্রে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বেশ সুনাম রয়েছে। তা...
25/03/2024

আগের চেয়ে কম লভ্যাংশ দিচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি

বড় অংকের লভ্যাংশ দেয়ার ক্ষেত্রে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বেশ সুনাম রয়েছে। তাই বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাজারে এসব কোম্পানির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ থাকে। বাংলাদেশেও স্থানীয় কোম্পানির তুলনায় অধিকাংশ বহুজাতিক কোম্পানিই লভ্যাংশ দেয়ার দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সে হার ক্রমান্বয়ে কমছে। ব্যবসার ব্যয় বাড়ার প্রভাবে মুনাফা কমে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থ প্রত্যাবাসনে সমস্যায় পড়ার কারণে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের পরিমাণ কমছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

দেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে গত বছর ডলার সংকটের কারণে বেশকিছু কোম্পানিকে লভ্যাংশ, রয়্যালটি ফিসহ তাদের সম্পর্কিত পক্ষের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশে ব্যবসারত আরো অনেক বহুজাতিক কোম্পানিকেই। গত বছর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডলার সংকটের কারণে বিদেশে অর্থ পাঠাতে সমস্যায় পড়েছিল বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড (বিএটিবিসি), রেকিট বেনকিজার (বিডি) লিমিটেড ও ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেড।

তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর গত তিন হিসাব বছরের লভ্যাংশ দেয়ার পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময়ে ছয়টি কোম্পানির ডিভিডেন্ড পেআউট রেশিও ধারাবাহিকভাবে কমেছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে বিএটিবিসি, বার্জার পেইন্টস, গ্রামীণফোন, ম্যারিকো, ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেড ও রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ লিমিটেড।

তামাক খাতের বহুজাতিক কোম্পানি বিএটিবিসি ২০২১ হিসাব বছরে ২৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল, যা ছিল কোম্পানিটির মুনাফার ৯৯ দশমিক ২১ শতাংশ। পরের হিসাব বছরে কোম্পানিটির লভ্যাংশ কমে দাঁড়ায় নগদ ২০০ শতাংশে, যা মুনাফার ৬০ দশমিক ৪২ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৩ হিসাব বছরে ঘোষিত নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ আরো কমে ১০০ শতাংশে দাঁড়ায়। এ সময় কোম্পানিটি মুনাফার মাত্র ৩০ দশমিক ২০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করে। যদিও এ সময়ে আগের বছরের তুলনায় কোম্পানিটির আয় ও মুনাফা বেড়েছে।
বহুজাতিক রঙ উৎপাদক বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ ২০২১ হিসাব বছরে ৩৭৫ শতাংশ, পরের হিসাব বছরে ৪০০ ও গত হিসাব বছরে ৪০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময়ে কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড পেআউট রেশিও ছিল যথাক্রমে ৬৪ দশমিক ৬২, ৬৩ দশমিক ৮২ ও ৬১ দশমিক ৬২ শতাংশ।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) প্রেসিডেন্ট রূপালী চৌধুরী। বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ কমার কারণ জানতে চাইলে রূপালী চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একদিকে মূল্যস্ফীতির কারণে আমাদের পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। অন্যদিকে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে কাঁচামালের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। যদিও বাড়তি এ ব্যয় আমরা ভোক্তার ওপর দিতে পারছি না। কারণ তাতে পণ্যের চাহিদা আরো কমে যেতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুতের দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। এসব কারণে ব্যবসার খরচ বেশ বেড়েছে। তার ওপর কর্মীদের বেতন-ভাতাও বাড়াতে হয়েছে। এসব কারণে আমাদের মুনাফা কমে গেছে। সেই সঙ্গে লভ্যাংশ প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রেও পড়তে হয়েছে সমস্যায়। সব মিলিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতিতে বেশি লভ্যাংশ না দিয়ে সে অর্থ এখানে পুনর্বিনিয়োগ করাটাই ভালো।’ তবে বর্তমানে আগের তুলনায় পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে এবং ডলার সংকটও অনেকাংশে কেটেছে বলে জানান তিনি।

টেলিযোগাযোগ খাতের বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন ২০২১ হিসাব বছরে ২৫০ শতাংশ, ২০২২ হিসাব বছরে ২২০ ও ২০২৩ হিসাব বছরে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে ১২৫ শতাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরগুলোয় কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড পেআউট রেশিও ছিল যথাক্রমে ৯৮ দশমিক ৮৯, ৯৮ দশমিক ৭০ ও ৫১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে আগের বছরের তুলনায় গ্রামীণফোনের আয় ও মুনাফা প্রবৃদ্ধি হলেও লভ্যাংশ কমেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

ম্যারিকো বাংলাদেশ ২০২১ সালে বিনিয়োগকারীদের ৯০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। পরের হিসাব বছরে এটি ৮৫০ শতাংশ ও সর্বশেষ ২০২৩ হিসাব বছরে তা আরো কমে ৭৫০ শতাংশে দাঁড়ায়। এ তিন বছরে কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড পেআউট রেশিও ছিল যথাক্রমে ৯১ দশমিক ১৯, ৭৫ দশমিক ৩৪ ও ৬১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। সর্বশেষ হিসাব বছরে আগের বছরের তুলনায় কোম্পানিটির আয় ও মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ছিল। অবশ্য ডলার সংকটের কারণে লভ্যাংশের অর্থ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রত্যাবাসন করতে না পেরে তা চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহারের জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছে কোম্পানিটি।

রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের ২০২১ হিসাব বছরে ১ হাজার ৬৫০ শতাংশ ও এর পরের হিসাব বছরে ৯৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময়ে কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড পেআউট রেশিও ছিল যথাক্রমে ৯৬ দশমিক ৪৭ ও ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০২৩ হিসাব বছরের লভ্যাংশ এখনো ঘোষণা করেনি কোম্পানিটি। তবে ২০২২ হিসাব বছরে আগের বছরের তুলনায় আয় কিছুটা বাড়লেও কমেছিল মুনাফা।
দেশে ডলার সংকট শুরু ২০২১ সালের জুনে। পরের বছর তা আরো তীব্র হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালজুড়েও অব্যাহত ছিল এ সংকট। তখন আমদানি ব্যয়ে রাশ টানার উদ্যোগ নেয় সরকার। আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলায় শর্ত কঠোর করার পাশাপাশি এলসি খোলা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয় দেশের অনেক ব্যাংক। এতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোও লভ্যাংশের অর্থ বাইরে পাঠাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে। বর্তমানে রেমিট্যান্সের কল্যাণে ডলার সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সংকট এখনো কাটেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১১৭ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের বিনিয়োগ প্রত্যাহার (ডিজইনভেস্টমেন্ট) হয়েছে। এর মধ্যে মূলধন প্রত্যাবাসন, বিপরীতমুখী বিনিয়োগ এবং মূল কোম্পানি ও আন্তঃকোম্পানিকে দেয়া ঋণও রয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১১৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ প্রত্যাহার হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তালিকাভুক্ত এক বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দুই বছর ধরে কম-বেশি সবাইকে লভ্যাংশ প্রত্যাবাসনে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এ অবস্থায় প্রধান কার্যালয় থেকে লভ্যাংশ না দেয়ারও পরামর্শ এসেছে। যদিও স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং এতে পুঁজিবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এ শঙ্কায় শেষ পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করেছি।’
ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার ২০২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৪৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। পরের হিসাব বছরে কোম্পানিটি ২৪০ শতাংশ ও ২০২৩ হিসাব বছরে নগদ লভ্যাংশ দেয় ৩০০ শতাংশ। আলোচ্য তিন হিসাব বছরে কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড পেআউট রেশিও ছিল যথাক্রমে ১০০ দশমিক ৪৬, ৩৯ দশমিক ৫৮ ও ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০২২ হিসাব বছরে আগের বছরের তুলনায় কোম্পানিটির আয় কমলেও মুনাফা বেড়েছিল। সর্বশেষ হিসাব বছরেও কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে।
ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসুদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেকের মতো আমাদেরও ব্যবসা কমেছে। তা সত্ত্বেও বিভিন্নভাবে ব্যয় কমিয়ে আমরা মোটামুটি মুনাফা করেছি। সামনের দিনগুলোয় অর্থনীতি কেমন যাবে তা নিয়ে সবার মধ্যেই অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ কারণে লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা রক্ষণাত্মক নীতি অনুসরণ করছি।’
দেশের পুঁজিবাজারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বরাবরই আকর্ষণ একটু বেশি। উত্তরাধিকার সূত্রে বহুজাতিক কোম্পানি শেয়ারের মালিকানা পেয়ে বড় অংকের মূলধনি মুনাফার ঘটনাও রয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। ফলে স্থানীয় ও বিদেশী দুই শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের কাছে এসব শেয়ারের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। তাছাড়া পুঁজিবাজারের ওঠনামায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এসব শেয়ারের। গত বছর ফ্লোর প্রাইসের কারণে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরও দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে স্থির ছিল।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমে গেলে লভ্যাংশ কমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে মুনাফা বাড়া সত্ত্বেও যদি লভ্যাংশ কমে যায় তাহলে অন্য কারণ থাকতে পারে। যেমন ডলার সংকটের ফলে কোম্পানিগুলো লভ্যাংশের অর্থ বিদেশে প্রত্যাবাসনে সমস্যায় পড়ায় হয়তো বা কম লভ্যাংশ দিচ্ছে। তাছাড়া ব্যবসা সম্প্রসারণ করলে সেক্ষেত্রে অনেক সময় কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ কম দিয়ে সে অর্থ ব্যবসায় বিনিয়োগ করে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিগুলোর এ ধরনের ঘোষণা নজরে আসেনি।’
https://bonikbarta.net/home/news_description/377988/%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%AE-%E0%A6%B2%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B6-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF

Address

Police Club Centre
Chittagong
4000

Telephone

+8801711315544

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when PS3 Solution posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to PS3 Solution:

Share