26/11/2025
লক্ষ্য টাকা কুটি টাকা যদি বাচাতে চান তবে কস্ট করে পড়ে নিন।
*এলকালাইন পানি পান করে ডায়বেটিস ও গ্যাসট্রিক মুক্ত হোন*
হ্যাঁ বিশুদ্ধ পানি পানের মাধ্যমেই শরীরের জটিল ও কঠিন রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব তবে সে পানি হতে হবে বিশুদ্ধ এবং (alkaline) এলকালাইন পানি।
পৃথিবীতে খুব কম মানুষ এলকালাইন (alkaline) পানির প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা সম্পর্কে জানে। আমাদের শরীরের এসিড এবং ক্ষারের বালেন্স ঠিক রাখার জন্যে এলকালাইন (alkaline) পানি পান করা দরকার। এসিডিক শরীর রোগ বালাইয়ের বাসা। নিয়ম মেনে এলকালাইন খাবার এবং এলকালাইন পানি পান করুন, দীর্ঘ দিন সুস্থ ভাবে বাচুন এবং রোগাক্রান্ত অবস্থায় (Alkaline) পানি পান করে রোগমুক্তি লাভ করুন।
পানির অপর নাম জীবন। অগণিত বার শুনেছি কিংবা পড়েছি।তবে সেই পানি হতে হবে বিশুদ্ধ কিন্তু
বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয় তাতে পানির মধ্যে অবস্থিত খনিজ পদার্থ তথা পানির উপাদান সমূহ নষ্ট হয়ে যায় ফলে পানি পান করে শরীরের ঘাটতি পূরন হওয়ার কথা তা হয় না বরং পানির মাধ্যমে আমরা রোগাক্রান্ত হচ্ছি।
*পানি সম্পর্কিত জানা-অজানা তথ্যসমূহ*
বাংলাদেশের ডায়বেটিস সহ শতকরা ২৪ ভাগ রোগ পানিবাহিত। একজন মানুষের সুস্থ ভাবে জীবন যাপনের জন্য দৈনিক কমপক্ষে ২-৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা প্রয়োজন। মানব দেহ গঠনের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে পানির পরিমাণ ৭০ ভাগ। গোটা পৃথিবীতে পান যোগ্য পানির পরিমাণ শতকরা ২ ভাগ। বিশ্বস্বাস্হ্য সংস্হা জরিপে দেখা গিয়েছে জীবননাশী ক্যান্সার শতকরা ৭৫-৮০ ভাগই পানি এবং পরিবেশ থেকে সৃষ্ট হয়ে থাকে। সর্বশেষ সমীক্ষায় পানিতে সনাক্তকৃত জৈব পদার্থের সংখ্যা প্রায় ৭০০টি যার কিছু অংশ ক্যান্সার সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে এবং মহিলাদের বিভিন্ন ধরনের জরায়ু সংক্রামন এবং মূত্রনালীর বিভিন্ন ধরনের সংক্রামণের জন্য দায়ী। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা যে পানি পান করি কিংবা আমাদের প্রচলিত বিশুদ্ধ করণ প্রক্রিয়াটি কি সঠিক? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ধরনের প্রচলিত পদ্ধতি হচ্ছে-
১. পানি ফুটানো বা সিদ্ধ করণপ্রণালীঃ
ফুটন্ত পানি শতভাগ বিশুদ্ধকরণ প্রণালীর বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা নেই।
২. ডিষ্টিলেশন পদ্ধতিঃ
এই প্রক্রিয়ায় দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমান 2 PPM (Parts Per Million) থাকে যা পানের অনুপযোগী।
৩. ওজোনেশন পদ্ধতিঃ
দ্রবীভূত অনাকাঙ্খিত রাসায়নিক পদার্থের পরিমাণ অপরিবর্তীত থাকে যা আমাদের স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর।
৪. UV (Ultra Violet) পদ্ধতি:
এই প্রক্রিয়াটি অত্যান্ত ব্যয় বহুল এবং কার্যকারিতার দিক দিয়েও পিছিয়ে। যেমন: UV Ray- এর মাধ্যমে প্রবাহমান পানি সম্পূর্ণ রূপে বিশুদ্ধ হয় না। ক্ষতিকারক ভাইরাস এর তেমন পরিবর্তন হয় না এবং অজৈব পদার্থের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। এটি Nephelometric Turbidity Units (NTU) কর্তৃক প্রমাণিত।
বাংলাদেশে পরীক্ষিত প্রায় ১৪ লক্ষ টিউবওয়েল এর মধ্যে আর্সেনিক বিদ্যমান, যা ত্বকের ক্যান্সার ও শারীরিক অসুস’তার জন্য দায়ী। Supply Water-এ ক্লোরিন সহ অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থের আধিক্যতা রয়েছে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
সুস্বাস্থ্যের জন্য এবং রোগকে দূরে রাখার জন্য আমাদের জানতে হবে কিভাবে, কি নিয়মে এলকালাইন পানি পান করতে হবে। প্রতিনিয়ত আমরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। নিয়ম মেনে চলতে পারলে অনেক রোগের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে পারি।
সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে যেভাবে এলকালাইন পানি পান করতে হবে
ভোরে পানি পানের উপকারীতার তালিকায় ত্বকেরর ঔজ্জ্ব্লতা, কোষের কর্মক্ষমতা, লসিকা গ্রন্থির ভারসাম্য,মলাশয় পরিশোধণ সহ রয়েছে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি হ্রাস। শরীরের সুস্থভাব ধরে রাখতে জানতে হবে কোন অবস্থায় কি পরিমাণ এলকালাইন পানি পান করতে হবে। যেমন- দেড় লিটার (৫-৬ গ্লাস) পানি ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে পান করতে হবে।
পানি পানের ১ঘন্টা আগে-পরে অন্য কিছু খাওয়া যাবে না।
প্রথম প্রথম একসাথে ৫-৬ গ্লাস পানি পান করা কষ্ট সাধ্য মনে হবে। তাই এর জন্য প্রয়োজন প্রতিদিন চেষ্টা করা এবং অল্প অল্প করে পরিমাণ বাড়ানো। যখন অভ্যাস হয়ে যাবে সে নিয়ম ধরে রাখতে হবে। যা আপনার সুস্বাস্থ্যকে ধরে রাখবে।
*যে সব বিষয় খেয়াল করতে হবে*
ঘু্ম থেকে উঠে, দাঁত ব্রাশ করার আগে করে ৪ গ্লাস এলকালাই পানি পান, তারপর ব্রাশ করে নিতে হবে। কিন্তু কিছু খাওয়া যাবে না।
৪৫মিনিট পর সকালের নাস্তা করতে হবে। নাস্তার শেষ করে ২ঘন্টা অন্য কিছু পান বা খাওয়া যাবে না।
বৃদ্ধ বা অসুস্থ হলে একসাথে ৫-৬ গ্লাস করে পানি পান না করে, প্রথমে ২গ্লাস, বিরতি দিয়ে পরে ২ গ্লাস এভাবে চালিয়ে যেতে হবে।
এভাবে ধৈর্য্য ধরে প্রতিদিন এক নিয়ম পালন করে যেতে পারলে ১৮০ দিনে ক্যান্সার, ৯০ দিনে যক্ষা রোগ, ৩০ দিনে ডায়াবেটিস, ১০ দিনে গ্যাসট্রিক ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করার বিশেষ সক্ষমতা আপনার শরীরে তৈরী হবে।
পর্যাপ্ত পানি পান না করলে স্তন ক্যান্সার, কিডনিতে পাথর,অ্যাজমা, উচ্চরক্ত চাপ, আথ্রাইটিস, সাইনোসাইটিস ইত্যাদি রোগ আক্রমণ করবে খুব সহজেই। আর পর্যাপ্ত এলকালাই পানি নিয়ম করে পান করলে মুক্তি মিলবে অনেক কিছু থেকে। কেননা আমাদের দেহের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় পানি প্রয়োজন হয় ৭০% ,মস্তিষ্কের কোষ-৮০%,পেশী-৭৫%,হাড়-২৫% রক্ত ৮২% পানি দিয়ে গঠিত।
জাপানের মেডিকেল সোসাইটির গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে নিয়ম মেনে পানি পান থেরাপির মত কাজ করে থাকে। যা নানা রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। ঔষধ ছাড়াই বেশ কিছু রোগ “এই ওয়াটার থেরাপির” মাধ্যমে দূরে করা যায়। তবে সেটি নির্ভর করছে আপনি দৈনিক কিভাবে পানি পান করছেন তার উপর।
১২টি স্বাস্থ্যগত কারণে প্রতিদিন এলকালাইন পানি পান করা প্রয়োজনঃ
পানির (water) অপর নাম জীবন, এই কথাতে কারোই কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের জীবনে আমরা অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করাকে অবহেলা করি, জেনে বা না জেনে। কিন্তু এটা আমাদের জানা উচিত যে পর্যাপ্ত পানি পানের অগনিত উপকারিতা রয়েছে। এই পোস্টে ১২ টি স্বাস্থ্যগত কারনের কথা উল্লেখ করা হল, যেগুলো আপনাকে জানতেই হবে দেহকে রোগমুক্ত রাখার জন্য। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক।
১. ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে এবং খাদ্য বিপাকে পানিঃ প্রচুর পরিমাণে পানি আমাদের দেহের খাদ্য বিপাকে (metabolism) সাহায্য করে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে।
২. পানিশূন্যতা রোধেঃ আমাদের শরীরে ক্লান্তি এবং মাথাব্যথার মূলত হয় পানিশূন্যতার কারণে, কাজেই পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৩. পরিপাকতন্ত্রে সাহায্যকারীঃ পানি আমাদের দেহের পরিপাকক্রিয়া ভালো ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা যদি পানি কম পান করি, আমাদের পরিপাকতন্ত্রে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যা দেখা খুবই স্বাভাবিক। পরিপাক তন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতার জন্য পানি পানের বিকল্প নেই।
৪. ত্বকের যত্নে পানিঃ পানি শরীরের ত্বক উজ্জ্বল এবং পরিস্কার রাখে। কাজেই ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় (water for skincare) প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৫. মস্তিস্ক এবং দেহের সুরক্ষায় পানিঃ আমাদের মস্তিস্কের এবং শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির প্রধান উৎস যোগায় পানি ।
৬. দেহের ক্ষতিকর উপাদান রোধেঃ পানি আমাদের শরীরের ক্ষতিকর উপাদান গুলো কে ছেঁকে নিয়ে দেহ কে পরিস্কার করে এবং রক্ত চলাচল সহজ করে দেয়। তাই যতটুকু পারুন, পান করুন পানি।
৭. মৃত কোষ দূর করেঃ পানি দেহের মৃত কোষগুলো কে দূর করে দেহ কে সতেজ করে তোলে। তাছাড়া আমাদের দেহের ৮০% পানি। নতুন কোষগুলোর পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি দরকার। যদি কম পানি পান করি, কোষগুলোর পানির চাহিদা মেটানো যাবে না, আর তখন শরীর সতেজ থাকবেনা।
৮. দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেঃ পানি আমাদের দেহের তাপমাত্রা সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করে দেহকে সুস্থ রাখে।
৯. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ পানি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দেহ কে শক্তিশালী রাখে। তাছাড়া অনেক ধরনের শারীরিক অসুস্থতা থেকে আমরা বেঁচে থাকতে পারি ।
১০. সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর তরলঃ এই পৃথিবীতে সবচেয়ে উপকারী এবং সবচাইতে স্বাস্থ্যকর তরল হল পানি। পানি তে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, নেই কোন ক্যালোরি।
১১. শরীরের ওজন হ্রাসেঃ ওজন নিয়ে আমাদের অনেকেরই চিন্তার কোন শেষ নেই। তাদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হলো পানি। আপনি যদি পর্যাপ্ত পানি পান করেন, তাহলে কিছুদিন পরেই দেখতে পাবেন যে ওজন উল্লেখযোগ্য ভাবে কমছে।
১২. দাঁত এবং হাড়ের সুরক্ষায়ঃ বিস্ময়কর হলেও এটা সত্যি যে পানি আমাদের দেহের হাড় মজবুত করে এবং দাতেঁর রোগ থেকে মুক্তি দেয়।
এই ১২ টি উপকারিতা ছাড়াও পানির অসংখ্য উপকারিতা আছে, যেগুলো আপনারা পান করলে বুঝতে পারবেন।
যে পরিমাণ এলকালাইন পানি পান করবেন (amount of water you should drink)
এলকালাইন পানি তো পান করব, কিন্তু কতটুকু? কেউ বলেন ৮-১০ গ্লাস, আবার কেউ বলেন দেড় লিটার। আসলে আপনার দেহের জন্য কোনটি ভালো, সেটা আপনাকে বের করে নিতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর পরামর্শ নিলেই আপনি বুঝতে পারবেন কোনটি আপনার জন্য ভালো হবে। আপনার কি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস আছে? তাহলে আমাদের সাথে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না যেন । ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, বিশুদ্ধ এলকালাই পানি হোক আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী।
ভাল লাগলে শেয়ার করুন। আমাদের সাথে থাকুন।৷৷ ৷৷৷ সংগ্রহ
WhatsApp Number 01782606505
Md Moniruzzaman