14/07/2026
কখনো কি গভীর রাতে একা বসে ভেবেছেন—“যদি একদিন আল্লাহ আমাকে তাঁর ঘরের মেহমান হিসেবে কবুল করেন!” এই স্বপ্নটি হয়তো আপনার হৃদয়ে অনেক বছর ধরে লুকিয়ে আছে। কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনো কারণ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কখনো অর্থের অভাব, কখনো সংসারের দায়িত্ব, কখনো সন্তানের পড়াশোনা, কখনো ব্যবসার ব্যস্ততা, আবার কখনো নিজের অসুস্থতা। মনে হয়েছে, “এবার নয়, হয়তো আগামী বছর।” এভাবেই একটি বছর, দুটি বছর, তারপর আরও অনেক বছর কেটে গেছে।
কিন্তু সত্যিই কি আমরা জানি, আগামী বছর পর্যন্ত আমরা বেঁচে থাকব?
কত মানুষ ছিল, যারা বলেছিল—“আরও একটু গুছিয়ে নিই, তারপর হজ্জে যাব।” কিন্তু সেই “পরে” আর কখনো আসেনি। জীবন থেমে গেছে, অথচ আল্লাহর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” বলার সৌভাগ্য তাদের হয়নি।
হজ্জ শুধু একটি ভ্রমণ নয়। এটি এমন একটি সফর, যেখানে একজন মানুষ তার দুনিয়াবি পরিচয়, পদ-মর্যাদা, ধন-সম্পদ—সবকিছু পেছনে ফেলে শুধুমাত্র একজন বান্দা হয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়। ইহরামের দুটি সাদা কাপড় যেন ঘোষণা করে—আজ আমি শুধু আমার রবের, আর কিছুই আমার পরিচয় নয়।
ভাবুন তো, ২০২৭ সালের সেই মুহূর্তটি। আপনি প্রথমবারের মতো কাবা শরীফ দেখছেন। হাজারো মানুষের ভিড়ে আপনার চোখ শুধু কাবার দিকেই স্থির। বুক কাঁপছে। ঠোঁট কাঁপছে। চোখ ভিজে যাচ্ছে। সেই মুহূর্তে হয়তো আপনার মনে পড়বে জীবনের প্রতিটি কষ্ট, প্রতিটি দুঃখ, প্রতিটি অপূর্ণতা। মনে হবে, এই একটি দৃশ্য দেখার জন্যই তো এত বছর অপেক্ষা করেছি।
তারপর আরাফাতের সেই ময়দান। পৃথিবীর সবচেয়ে মহিমান্বিত দিনগুলোর একটি। আপনি দু'হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন। আপনার অতীতের সব ভুল, সব গুনাহ, সব অবহেলা নিয়ে কাঁদছেন। হয়তো এমনভাবে কাঁদছেন, যেভাবে জীবনে কখনো কাঁদেননি। কারণ আপনি জানেন, আজ যদি আল্লাহ ক্ষমা করে দেন, তাহলে আপনার জীবন নতুন করে শুরু হবে।
এই কষ্টের সফরেই রয়েছে সবচেয়ে বড় শান্তি। দীর্ঘ পথ, ক্লান্ত শরীর, প্রচণ্ড গরম, মানুষের ভিড়—সবকিছুই তখন তুচ্ছ মনে হবে। কারণ প্রতিটি কষ্টের পেছনে থাকবে একটি আশা—“আমার রব কি আজ আমাকে ক্ষমা করবেন?”
একবার কল্পনা করুন, হজ্জ শেষে যখন আপনি দেশে ফিরবেন, তখন আপনার হৃদয় আর আগের মতো থাকবে না। পৃথিবীর সব অর্জনের চেয়ে বড় মনে হবে একটি অনুভূতি— “আল্লাহ আমাকে তাঁর ঘরের মেহমান হওয়ার তাওফীক দিয়েছেন।” এই সৌভাগ্য অর্থ দিয়ে কেনা যায় না, পরিচয় দিয়ে পাওয়া যায় না; এটি শুধুই আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।
আজ আপনি হয়তো হিসাব করছেন—টাকা হবে তো? সময় হবে তো? ব্যবসা চলবে তো? সংসার সামলাবে কে? কিন্তু একবার নিজেকে এই প্রশ্নটিও করুন—“যদি ২০২৭-ই আমার জীবনের শেষ সুযোগ হয়?”
কারণ আমরা জানি না, আগামী বছর আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। কিন্তু আমরা জানি, আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার সুযোগ বারবার আসে না।
তাই যদি আপনার হৃদয়ে বহুদিনের একটি স্বপ্ন থাকে—“আমি আল্লাহর ঘর দেখতে চাই, আমি আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়ে কান্না করতে চাই, আমি চাই আমার গুনাহগুলো ক্ষমা হয়ে যাক”— তাহলে সেই স্বপ্নকে আর পিছিয়ে রাখবেন না।
হয়তো ২০২৭ সালই হবে আপনার জীবনের সেই বছর, যেদিন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পরিচয়টি আপনি অর্জন করবেন—‘আল্লাহর ঘরের মেহমান’।
আজ সিদ্ধান্ত নিন। কারণ হজ্জের যাত্রা শুরু হয় বিমানে ওঠার দিন থেকে নয়; শুরু হয় সেই দিন, যেদিন একজন বান্দা আন্তরিকভাবে বলে
“হে আল্লাহ! যদি আপনি আমাকে ডাকেন, আমি অবশ্যই আপনার ঘরে হাজির হবো।”
আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্য রয়েছে সাহাবা হজ্জ কাফেলা আপনার পাশে।
01772-507900