29/07/2016
========================A TO Z WordPress====================
ওয়ার্ডপ্রেস কি ?
ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে বর্তমানে সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্লগ পাবলিশিং অ্যাপলিকেশনস এবং শক্তিশালী কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS), যা পিএইচপি এবং মাইসিকুয়েল দ্বারা তৈরিকৃত ওপেন সোর্স ব্লগিং সফটওয়্যার। ওয়ার্ডপ্রেস প্রথম পর্যায়ে একটি ফ্রি ব্লগিং প্লাটফর্ম ছিল যা পরবর্তীতে একটি ইঞ্জিন তৈরি করে এবং বিনামূল্যে তা ডাউনলোড করে যেকোনো ব্লগারকে ব্যবহারের সুবিধা দিতে শুরু করে। ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা কোনো প্রকার পিএইচপি, মাইসিকুয়েল বা এইচটিএমএল জ্ঞান ছাড়াই একটি প্রফেশনাল মানের ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব। ম্যাট মুলেনওয়েগ ২০০৩ সালের ২৭শে মে এটি প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করেন। জানুয়ারি ২০১২ পর্যন্ত ওয়ার্ডপ্রেস ৩.৪ সংস্করণ ৩ কোটিরও বেশিবার ডাউনলোড হয়েছিল(!!)।
ওয়ার্ডপ্রেস কেন ?
কারণ একটাই, আপনার জ্ঞানের স্বল্পতা অর্থাৎ জানার সীমাবদ্ধতা, যেমন এইচটিএমএল, সিএসএস, পিএইচপি, মাইসিকুয়েল না জানলেও আপনি খুব সহজে কম সময়ে, ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে পারবেন। তবে হ্যাঁ, যদি আপনি সময়ের সাথে সাথে না শিখে নেন তবে ছোট ছোট থেকে শুরু করে এক সময় বড় ধরনের সমস্যায় পরতে পারেন । সেক্ষেত্রে পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ধীরে ধীরে ওয়ার্ডপ্রেস টা শিখে নিতে পারেন।
কোথায় শিখবেন ওয়ার্ডপ্রেস?
হুম, কোথায় শিখবেন? কার কাছে শিখবেন? এটা একটা (কোটি টাকার !!) প্রশ্ । প্রথম পরামর্শ হল, আপনি বাংলা প্রযুক্তি ব্লগ গুলো তে একটু ঢু মারেন। তারপর ইউটিউব দেখেন। এরপর গুগল মামার কাছে সাহায্য চান। অনেক তথ্য পাবেন গুগল এ । তবে খোঁজার পদ্ধতি গুলো কোন এক্সপার্ট এর কাছ থেকে আগেই একটু শিখে নেয়ার চেষ্টা করতে পারেন। কষ্টটা অনেক কমে যাবে। এর পর ১০+ ইবুক পড়েন মন দিয়া, সময় নিয়া। এই কাজ গুলো করার পর আপনি বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হবেন, এ কথা ১০০% সত্য। এর পর কোন এক্সপার্ট এর হেল্প নেন। (ফ্রি পরামর্শ , কোন এক্সপার্ট আপনার হেল্প করার জন্য বসে নেই, সুতরাং আপনার ব্যবহার দিয়ে তাকে মুগ্ধ করে, আপনার কাজ আদায় করে নিন ।) . এখন সিদ্ধান্ত নেন, এর পরও কি আপনার কোন প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার দরকার আছে কি??
ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের সুবিধা কি কি?
সফটওয়্যারটি ওপেনসোর্স এবং বিনামূল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায় ।
এছাড়াও বিনামূল্যে থিম, প্লাগইন্স পাওয়া যায়।
কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএমএস) হবার ফলে যেকোন তথ্য সহজেই পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন বা বিয়োজন করা যায়। অর্থাৎ আপনি স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবেন ।
ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার বান্ধব এবং ব্যবহার প্রণালী খুবই সহজ, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশেন পদ্ধতি ব্যবহার ইত্যাদি।
কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস শেখা শুরু করবেন?
ইচ্ছে করলে আপনি ফ্রি ডোমেইন, হোস্টিং দিয়েই ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগিং বা ভিন্ন কিছু করতে পারেন। কিন্তু আমার পরামর্শ হচ্ছে, যেহেতু ওয়ার্ডপ্রেস কাজের জিনিস এবং অবশ্যই আপনার কাজে লাগবে সুতরাং একটি ডোমেইন এবং অল্প স্পেস এর হোস্টিং নিয়ে আপনি শুরু করতে পারেন। এতে তেমন বেশি খরচ ও পরবে না। আনুমানিক কম বেশি ১৫০০ টাকার মত লাগতে পারে এক বছরের জন্য। খুব ব্যয়বহুল বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না। যাইহোক, এখন সিদ্ধান্ত আপনার হাতে।
ওয়ারর্ডপ্রেস এর জন্য কি কি শিখতে হবে?
আমি আগেই বলেছি, “আপনার জ্ঞানের মানে জানার সীমাবদ্ধতা যেমন এইচটিএমএল, সিএসএস, পিএইচপি, মাইসিকুয়েল না জানলেও আপনি খুব সহজে কম সময়ে, ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে পারবেন ”. কিন্তু কথা হচ্ছে না জেনে আর কত দিন চালাবেন? তাই নিজের প্রয়োজনে শেখা শুরু করতে পারেন। এইচটিএমএল, সিএসএস টা যদি আপনি ভাল ভাবে আয়ত্ত করতে পারেন তাহলে ছোট খাটো দুই একটা সমস্যা ছাড়া বেশির ভাগ সমস্যা আপনি নিজেই সমাধান করতে পারবেন। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে কথা, “ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে বর্তমানে সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্লগ পাবলিশিং অ্যাপলিকেশনস এবং শক্তিশালী কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS), যা পিএইচপি এবং মাইসিকুয়েল দ্বারা তৈরিকৃত ওপেন সোর্স ব্লগিং সফটওয়্যার।” মানে ওয়ার্ডপ্রেস মূলত পিএইচপি এবং মাইসিকুয়েল দ্বারা তৈরি। সুতরাং পিএইচপি এবং মাইসিকুয়েল এর সমস্যা সমাধান করতে অবশ্যই আপনাকে পিএইচপি এবং মাইসিকুয়েল শিখতে হবে। ভয় পাবেন। শুরুতেই এটা শিখতে হবে, এমন কিন্তু না তবে শিখে নিলে ভাল। কথাটা মনে রাখতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব শিখে নিতে হবে।
ওয়ার্ডপ্রেস এর ভবিষ্যৎ কি?
ওয়ার্ডপ্রেস এর ভবিষ্যৎ আমার মতে উজ্জ্বল। কারণ গুলোও সুস্পষ্ট, প্রথমত, ধীরে ধীরে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগার থেকে একজন ডিজাইনার হবেন কারণ আপনি এইচটিএমএল, সিএসএস শিখবেন। এরপর যখন আপনি পিএইচপি এবং মাইসিকুয়েল শিখবেন নিজেকে ওয়েব ডিজাইনার থেকে ওয়েব ডেভেলপার এর দিকে নিয়ে যাবেন। তার মানে কি দাঁড়াল? আপনি শুরু করলেন ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে, হয়ে গেলেন ওয়েব ডেভেলপার। আর একজন ভাল ওয়েব ডেভেলপার চাহিদা বা মূল্য যাই বলি না কেন, অনেক বেশি। দ্বিতীয়ত, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস সাইট ব্যবহার করে ব্লগিং করে অর্থ ও উপার্জন করতে পারেন। বর্তমান সময়ে সব থেকে আলোচিত বিষয় ফ্রীলান্সিং। ফ্রীলান্সিং মার্কেট গুলোতে একজন ভাল মানের ওয়েব ডেভেলপারের কদর বেশ। আপনি খুব সহজেই ভাল মানের ফ্রীলান্সার হিসেবে নিজেকে একটি জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন। তৃতীয়ত, আপনি যদি কোন আইটি ফার্ম খুলতে চান, তাহলে আপনাকে মেন্টালি সাহায্য করবে, এক জন ডেভেলপার হিসেবে। এর বাহিরেও আর ও অনেক বিষয় আছে যা আমি এখানে আলোচনা করতে চাইছি না। এক কোথায় বলা যায়, ওয়ার্ডপ্রেস এর ভবিষ্যৎ সব থেকে পরিষ্কার এবং সম্ভাবনাময়।
তৈরি করতে পারেন ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন
ওয়ার্ডপ্রেস সাইট পরিচালনা করতে সহযোগী হিসেবে ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ধরেন আপনি চাচ্ছেন আপনার সাইট খুব বেশি সংখ্যক লোক ভিজিট করুক। কিন্তু শুধু বললেই তো হবে না। সেই ভাবে কাজ ও তো করতে হবে, তাই না? সে ক্ষেত্রে আমার কি করতে পারি? all in one SEO pack WordPress Plugins ব্যবহার করি। এটার মাধ্যমে খুব সহজে এসইও করা যায়। আপনার প্রশ্ন, এসইও কি? এত কিছু জানেন না, দেখেই তো এই ব্যবস্থা। আবার সাইট এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বুলেট প্রুফ ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন ব্যবহার করি, জাতে সাইট কে কেউ আক্রমণ করে ন্যস্ত করতে না পারে। এই গুলো কে তৈরি করছে? আপনার আমার মত যে কেউ, যে নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যায় পড়েছে, সেই তৈরি করছে এই প্লাগইন। ঠিক এই ভাবে আপনিও, আপনার প্রয়োজনে প্লাগইন তৈরি করতে পারেন। যদিও সকল প্লাগইন ফ্রি ।
আচ্ছা যদি ফ্রি হয়, তাহলে আপনার লাভ কি প্লাগইন বানিয়ে? শুধু লাভের কথা চিন্তা করলে হবে? তাছাড়া আগেই জেনে গেছেন ওয়ার্ডপ্রেস ওপেনসোর্স এবং ফ্রি।
তবে, যদি আপনি ভাল মানের কোন ওয়ার্ডপ্রেস তৈরি করতে পারেন তাহলে টা বিক্রি ও করতে পারবেন। তার জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে। কোথায়, কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন বিক্রি করা যায়,
তৈরি করতে পারেন থিম
একজন ডেভেলপার এর আসল জায়গা হল থিম ডিজাইন ও ডেভেলপ করা। এখানে রয়েছে কাজের দারুন সুযোগ। আপনার মেধা আর সৃজনশীলতার সব টুকু প্রকাশ আপনি করতে পারেন এখানে। যদি ওয়ার্ডপ্রেস থিম এর কথা ধরি, তাহলে বলতে হয় – ওয়ার্ডপ্রেস এর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আপনি নিজেই পারেন আপনার থিম তৈরি করতে। ইচ্ছে মত সংযোজন আর বিয়োজন করে আপনি আপনার সাইট কে করতে পারেন সব থেকে আকর্ষণীয় ও সব চেয়ে দ্রুত। মনে রাখবেন, আপনার সাইট যত আকর্ষণীয় ও দ্রুত , ততই আপনার সাইট এ ভিজিটর বারতে থাকবে। আর হ্যাঁ সাথে সাথে আপনার ইচ্ছা, স্বপ্ন গুলো বাস্তব হতে শুরু করবে।
যদি আপনি সময়ের স্রোতে ভাল ভাবে এইচটিএমএল, সিএসএস, পিএইচপি এবং মাইসিকুয়েলটা শিখে নিতে পারেন, তাহলে আপনি ভাল ভাল থিম ডিজাইন এবং ডেভেলপ করতে পারবেন। আপনি ইচ্ছে করলে থিম বিক্রিও করতে পারবেন । এমন কি শুধু থিম নয়, আপনার চলমান সাইট যেখানে কন্টেন্ট আছে, তাও বিক্রি করতে পারবেন। ভাষা অবশ্যই ইংলিশ হলে ।** একটা কথা মনে রাখবেন, এইচটিএমএল, সিএসএস আর হালকা পিএইচপি জেনে থিম ডিজাইন করে বা এডিট করেই নিজেকে ডেভেলপার হিসেবে দাবি করবেন না। কারণ থিম ডিজাইনার আর ওয়েব ডেভেলপার এর মধ্যে অনেক পার্থক্য।
যদি জানতে চান মন্তব্যে জানাবেন, তাহলে পরে একসময় বিস্তারিত লিখব।