05/07/2022
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরিবর্তিত সময়
এই যুদ্ধ আর আগামী কয়েক বছরের মধ্যে থামার কোন সম্ভাবনা নেই। রাশিয়া আস্তে আস্তে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল দখলে করে নিচ্ছে যদিও ইউক্রেন আমেরিকা এবং ইউরোপের সাপোর্ট (অস্ত্র, এমনকি 'জিহাদী' সৈন্য) পাচ্ছে। এতকিছুর পর কেউ আর আগের অবস্থায় আগামী ৫-১০ বছরেও ফিরে যেতে পারবে না। পৃথিবী ইতিমধ্যে পরিবর্তিত হয়ে গেছে।
বিশ্বে অস্থিরতাও বাড়ছে। এর একটি ইন্ডিকেটর বা নিয়ামক হচ্ছে- ম্যাস শুটিং বাড়া। গতকাল ডেনমার্ক এবং আমেরিকায় শুটিং এর ঘটনা বিশ্ব মিডিয়াতে এসেছে। বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই, দিন দিন খারাপ হতে থাকবে। এটা শুধু দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য কঠিন সময় কয়েক দশকের মধ্যে।
আমরা যেভাবে লাইফ স্টাইল পালনে অভ্যস্ত তাতে ছেঁদ পড়বে। কৃচ্ছতা সাধনে সন্তানসহ পরিবারকে অভ্যস্ত করে তুলছে হবে। গত কয়েকদিনে লোড শেডিং কিছুটা ধারনা পাওয়ার কথা...
আমরা সবকিছু অনেক দেরিতে অনুধাবন করি। হাতে-নাতে বা নিজে প্রমাণ পাওয়া না পর্যন্ত মানসিকভাবে সবকিছু অস্বীকার করা আমাদের মজ্জাগত অভ্যাস।
প্রসংগত, করোনার সময় আম্মাকে ঢাকায় না আসতে অনেক রিকুয়েস্ট করেছিলাম। কিন্তু তিনি তা উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন- করোনা তাকে কিছু করবে না! সেই আম্মা ১৬ দিন হাসপাতালে (আইসিইউ) ছিলেন! অনেক রিকুয়েস্ট করেছিলাম বাসার একটি ওয়াশরুম ব্যবহার না করতে কেননা পা ভেঙ্গে যেতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেননি-- এটা তার ক্ষেত্রে হবে না। অবশেষে সেই ফোন কল আসল এবং আম্মা এখন ভাংগা পা নিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকেন।
আমরা নিজেদের কৃতকর্ম সংশোধন না করে শুধুমাত্র নামকওয়াস্তে আল্লাহর উপর তা গছিয়ে দিয়ে ভুল পথ অনুসরণ করতে থাকি!
কিছু বিষয় আছে যা তথ্য-ভিত্তিক এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থায় অনুধাবন করা যায়। এটা গনকীর মত বিষয় নয়। যখন সমস্যা আসে আমরা আতংকিত হয়ে যাই। কিন্তু সেই সমস্যার আগ থেকে আমাদের সতর্ক হতে ইচ্ছে করে না। কেন যে এমন স্বভাব আমাদের, তা রীতিমত বিস্ময়কর ঠেকে।
এই অবস্থায় কি করনীয়?
নিজের লাইফ স্টাইলকে পরিবর্তন করে কৃচ্ছতা বা মিতব্যায়ী হওয়া। চিল করার চিন্তা পরিহার করা। অন্যের প্রতি সহানুভূতি দেখানো আর সর্বোপরি আল্লাহমুখী হওয়া।
আর শিক্ষার্থীদের উচিত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হওয়া। গ্রাজুয়েটদের দক্ষতা অর্জনের জন্য বিদশে উচ্চশিক্ষার নিমিত্তে স্কলারশীপ অর্জনের জন্য নিজেকে যোগ্য করে তোলা। কোথায় শেখার সুযোগ পেলে তাতে ধৈর্য ধরে লেগে থাকা।