03/06/2026
১ম ছেলে ড: আনিসুর রহমান একজন প্রভাবশালী আমলা, মংলা বন্দরে কর্মরত একজন যুগ্মসচিব। উনি বুয়েট গ্র্যাজুয়েট (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) এবং দক্ষিণ কোরিয়া হতে পিএইচডি ডিগ্রি প্রাপ্ত৷
২য় ছেলে ড: আশিকুর রহমান বুয়েটে কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক। আশিক বুয়েট হতেই গ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স আর কানাডার আলবার্টা হতে পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত।
৩য় ছেলেও উচ্চশিক্ষিত, কানাডা প্রবাসী।
আর একমাত্র মেয়ে ফাতেমা নাসরিন সুলতানা মিরপুর ইম্পেরিয়াল স্কুলের শিক্ষিকা।
এরা সবাই উচ্চশিক্ষিত আর সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত।
এই ৪ ছেলে-মেয়ে মানুষ করতে ওদের মায়ের কি কোন অবদান ছিল না? সরি, মানুষ তো ওরা হয়নি, অন্তত বড় আর উচ্চশিক্ষিত করতে কি মায়ের কোন অবদান ছিল না? সব বাদ দিলেও, এই ৪ জনকে কি উনি গর্ভে ধারণ করেননি?
মা নূর জাহান বেগম (৭৩) নিজের ফ্ল্যাটে এক সপ্তাহ ধরে মরে, গলে, পচে পড়ে ছিলেন। কেউ খোঁজ নেয়নি। ৪ ছেলে-মেয়ের কেউই না৷
উনার ফ্ল্যাটের ভিডিও দেখেছেন? এই ফ্ল্যাটে কোন জন্তুজানোয়ারও থাকবে না। কত মাস ধরে এই ফ্ল্যাটের কোন পরিচর্যা বা ধোয়া-মোছা কিছুই করা হয়নি৷ বুঝাই যাচ্ছে ভদ্রমহিলা এই বাসার রক্ষণাবেক্ষণে শারীরিক ভাবে অক্ষম ছিলেন। তাহলে ৪ ছেলে-মেয়ে মায়ের দেখাশুনা আর চিকিৎসার ব্যবস্থা করল না কেন?
কুরবানি ঈদ গেল, কেউই মা'কে সালাম করতে আসেনি? কেউই অন্তত মোবাইলে একটু খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেনি? একটু মাংস রান্না করে মায়ের জন্য নিয়ে যায়নি? এই পিএইচডি ডিগ্রিগুলো কি কাজে লাগবে?
ফ্ল্যাটটা নাকি শিক্ষিকা মেয়ের ছিল। কেমন শিক্ষিকা এই ফাতেমা? কি শিক্ষা দিবে এই নরপিশাচ?
উচ্চশিক্ষা কি মানুষ তৈরি করে নাকি অমানুষ? বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিতরাই চুরি-ডাকাতি করে বেশী। সুন্দর করে ব্যাংক সাজিয়ে এরা হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে।
আমাদের শিক্ষার মান আর সমাজ ব্যবস্থায় বিরাট সমস্যা আছে। এরা কিছু প্রশ্নোত্তর গিলিয়ে দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু মানুষ তৈরি করতে এই সিস্টেম সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
শৈশবে খুব মেধাবী ছিলাম বলে পরিবারের অনেকের শখ ছিল পিএইচডি ডিগ্রি নিব, কারো কারো শখ ছিল বুয়েটে পড়ব আবার কারো কারো শখ ছিল মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী আমলা হব।
এগুলোর কিছুই করা হয়নি শেষ পর্যন্ত। কিছুদিন বুয়েটের কোচিং করলেও ভর্তি পরীক্ষার বেশ আগে মেরিনে যোগ দেই৷ প্রবাসে সেটেল হওয়ার অনেক সুযোগ ছিল। পিএইচডিও চাইলে করতে পারতাম। বিসিএস পরীক্ষাও চাইলে দিতে পারতাম।
কিন্তু আমার সবসময় প্রায়োরিটি ছিল আম্মা। আম্মার পুরো জগতটাই ছিল চট্টগ্রামে। আমার বোন কানাডায় আর ছোট ভাই ঢাকায়। ছোট ভাইয়ের কিছু শারীরিক সীমাবদ্ধতা আছে। আর আম্মার সাথে আমার ওয়াইফের বন্ডিং ছিল মা-মেয়ের মত।
তাই সব মিলিয়ে আমি আম্মার সাথে চট্টগ্রামকেই বসবাসের জন্য বেছে নেই। আমার যে স্যাক্রিফাইস, সেটা একজন মায়ের স্যাক্রিফাইসের তুলনায় কিছুই না।
২৭ বছর আমাদের সাথে এক ছাদের নিচে বসবাস করে গতবছর আম্মা চিরবিদায় নেন।
আমার ডক্টরেট ডিগ্রি নেই, আমলার মত প্রভাব নেই, বুয়েট অধ্যাপকের সমান জ্ঞানও নেই। কানাডায়ও সেটেল করার সৌভাগ্য হয়নি।
কিন্তু আমি অন্তত ওদের মত অমানুষ হইনি। আম্মার সাথে মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত একসাথে ছিলাম, এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।
মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত। আম্মা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের জন্য দোয়া করে গেছেন। হয়তো এই দোয়াই আমাদের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দিবে৷ কপি পোস্ট 🥺