10/10/2019
শহীদ(ইন শা আল্লাহ্) আবরার ফাহাদ রহিমাহুল্লাহ্ এর মৃত্যুর মেডিকেলীয় কারণ(Mode of Death):
1. Neurgenic Shock: এটার সম্ভাবনা ই বেশি। নিউরোজেনিক শক সাধারণত তীব্রতম পর্যায়ের ব্যথা থেকে হয়, এছাড়া ও ঘাড়ের মেরুরজ্জুতে আঘাত থেকেও হতে পারে। ৩ দফায় আবরার ফাহাদকে প্রচন্ড পেটানো হয়েছে, পেটাতে পেটাতে হকিস্টিক ভেঙেছে কয়েকখান। ব্যাথানাশক খাইয়ে ও পেটানো হয়েছে ছেলেটাকে।
সেই তীব্র ব্যাথা কল্পনারও অতীত লেভেলের তীব্রতার।।
2. Hemorrhagic Shock:
দফায় দফায় হকিস্টিক ভাঙা পিটুনিতে আবরারের শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো, ভেতরের অনেক রক্তনালী, আঘাতের চোটে ফেটে গিয়ে রক্তের ফোঁয়ারায় গোসল করিয়েছিলো তার মাংসপেশী আর হাঁড়গুলোকে। [Shock হচ্ছে সংক্ষেপে, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা হার্টের পাম্প ক্ষমতা কমে যাবার দরুণ ৪টা গুরুত্বপূর্ণ অর্গানে( ব্রেন, লিভার, কিডনী এবং হার্টের মাসল) রক্ত সরবরাহ এত কমে যাওয়া যে, এরা এদের স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না, বিশুদ্ধরক্তবাহী অক্সিজেন না পাওয়ার দরুণ]।
মাথায় বা পেটে আঘাত করে ধরা পড়ে যেতে পারে বিধায় এসব জায়গায় তারা কম আঘাত করেছে।। তবে হাত, পা, পিঠ ও কোমরে মূহুর্মূহু আঘাতে ভেতরের মাংসপেশীগুলোর রক্তনালী গুলো ছিড়ে ছিড়ে রক্তক্ষরণের তীব্রতায় তার hemorrhagic Shock এর সম্ভাবনা ও কম নয়।
3) Acute Renal Shutdown due Myoglobin deposition in Renal Tubules:
প্রচন্ড পিটুনীর ফলে আবরারের মাসলগুলো থেঁতলে গিয়ে, রক্তনালীগুলো ছিড়ে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে Myoglobin(মাসল প্রোটিন) এবং Hemoglobin(রক্তের অক্সিজেনবাহী প্রোটিন, যা লোহিত রক্তকণিকার বাইরে আসলেই বিষাক্ত এক বস্তুর মত আচরণ করে)।
এই Myoglobin আর মুক্ত Hemoglobin গিয়ে কিডনীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নালিকায় আটকা পড়ে এবং বেশি পরিমাণ জমে গিয়ে ব্লক করে দেয় নালিকাগুলো।। ফলে কিডনির ছাঁকন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, শরীরে অ্যামোনিয়াসহ অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থের মাত্রা বেড়ে গিয়ে সব অংগের কাজ ফেইল করে মৃত্যুবরণ করে।।
আবরারের মৃত্যৃর একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেলীয় ব্যাখ্যা এটিও।।
যাহোক, প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে মরেছে ভাইটা। আখিরাতের জগতে তার সাথে একবেলা জান্নাতি পানীয় খেয়ে আড্ডা দিতে খুবই মন চাইছে।। এক অমূল্য দ্বীনী সম্পদ ছিলো এই ভাইটা।।
আবরারের সব খুনিদের শরীয়াহ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হোক, এটাই প্রত্যেকটা ঈমানদারের প্রত্যাশা।।