مصطفے کمال فیصل

مصطفے کمال فیصل "সুশিক্ষিত মা'ই বিকাশমান জাতির অনিবার্য দাবী"

লাউডস্পিকারের নৃশংস প্রয়োগজুলুম কেবল কারো সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া বা তাকে শারীরিক কষ্ট দেওয়ার জন্য তার উপর হাত তোলার নাম...
27/02/2023

লাউডস্পিকারের নৃশংস প্রয়োগ

জুলুম কেবল কারো সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া বা তাকে শারীরিক কষ্ট দেওয়ার জন্য তার উপর হাত তোলার নাম নয়, বরং আরবী ভাষায় "জুলুম" হলো, "কোনো বস্তুকে অপাত্রে রাখার নাম জুলুম"। কোনো বস্তু অপাত্রে রাখার দরুন অবশ্যই কারো না কারো ক্ষতির কারণ হয়। এই ধরণের প্রতিটি ব্যবহারই "জুলুম" সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। আর যদি এটা কোনো মানুষের ক্ষতি করে থাকে, তাহলে এটা শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকেও এটা একটি বড় গুনাহ।

কিন্তু এ ধরণের অনেক পাপ আমাদের সমাজে এতটাই প্রবল হয়ে উঠেছে যে, সেগুলোকে আর সাধারণভাবে পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়না। "হয়রানির" সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হলো, লাউডস্পিকারের নিষ্ঠুর ব্যবহার। মাত্র কয়েকদিন আগে একটি ইংরেজী পত্রিকায় এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন যে, কিছু কিছু বিবাহের হলে রাত তিনটা পর্যন্ত লাউডস্পিকার বাজানো হয়। আর আশপাশের বাসিন্দারা অস্থিরতা বোধ করে বিছানায় গড়াগড়ি করতে থাকে। এসব কিন্তু বিয়ের মঞ্চে শুধু সীমাবদ্ধ নয়।

সর্বত্র দেখা যায় যে, যখন একজন ব্যক্তি কোথাও একটি লাউডস্পিকার স্থাপন করে, তখন তিনি প্রয়োজনের পরিমাণে ভলিউম সীমিত করতে এবং আশেপাশের দুর্বল এবং অসুস্থ লোকদেরকে কষ্ট দিতে পরওয়া করে না। যারা এই আওয়াজ শুনতে চান না। গান বাজানোর ব্যাপারটা ভিন্ন। উঁচু আওয়াজে গান বাজানো তো দ্বিগুণ খারাপ কাজ। যদি কোনো খাঁটি দ্বীনী ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়, তাহলে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে মানুষকে তাতে অংশ নিতে বাধ্য করা শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে জায়েয নয়।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের সমাজে যারা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তারাও শরীয়তের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশকে গুরুত্ব দেয় না। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমাবেশের লাউডস্পিকারও দূর-দূরান্ত পর্যন্ত বাজানো হয় এবং তাদের এসবের কারণে একজন ব্যক্তি তার ঘরে আরামে ঘুমাতে পারে না বা একাগ্রচিত্তে কোনো কাজও করতে পারে না। লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আযানের ধ্বনি দূর-দূরান্তে পৌঁছে দেওয়া এটা ঠিক। কিন্তু মসজিদে ওয়াজ ও বক্তৃতা বা যিকর পাঠের আওয়াজ দূর-দূরান্তে পৌঁছে দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

প্রায়ই দেখা যায় মসজিদে ওয়াজ বা বক্তৃতা শোনার জন্য খুব কম লোকই বসে থাকে, যাদের শব্দ শোনানোর জন্য লাউডস্পিকারের প্রয়োজন হয় না। অথবা শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ হর্ন সহজেই কাজ করতে পারে। কিন্তু বাহিরের লাউডস্পিকার হাই ভলিউম অন থাকে। যার দরুন আওয়াজ আশেপাশের প্রতিটি বাড়িতে এমনভাবে পৌঁছে যায় যে, কেউ এর দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে বেঁচে থাকতে পারে না।

আমার মনে আছে আমি একবার লাহোরে গিয়েছিলাম। আমি যে বাড়িতে থাকতাম তার তিন দিকে অল্প দূরত্বে তিনটি মসজিদ ছিল। সেদিন শুক্রবার ছিল। ফজরের নামাযের পরপরই তিনটি মসজিদের লাউডস্পিকারের আওয়াজ জোরে চালু করা হয় এবং প্রথমে তিলাওয়াত শুরু হয়, তারপর শিশুরা আবৃত্তি শুরু করে। অতঃপর কবিতা ও না'ত পাঠ শুরু হয়। এমনকি ফজর থেকে জুমার সময় পর্যন্ত এসব ‘ধর্মীয় অনুষ্ঠান’ এমনভাবে চলতে থাকে যে, ঘরে কেউ কোনো শব্দ শুনতে না পায়।

আল্লাহর শুকরিয়া, সেই সময় ঐ বাড়িতে কেউ অসুস্থ ছিল না। কিন্তু আমি ভাবছিলাম, আল্লাহ না করুক কেউ অসুস্থ হলে এই পরিবেশে তাকে শান্তভাবে শুইয়ে আরাম করার উপায় নেই। কোনো কোনো মসজিদ সম্পর্কে শোনা যায়, খালি মসজিদে লাউডস্পিকারে টেপ বাজানো হয়। মসজিদে শোনার মতো কেউ নেই তবুও পুরো পাড়া এই টেপ শুনতে বাধ্য।

দ্বীন সম্পর্কে সঠিক ধারণা আছে এমন জ্ঞানীরা হোক না কেন তারা যে কোনো মাযহাবেরই, তারা কখন-ই এটা করতে পারে না। কিন্তু এটা ঘটে সেইসব মসজিদে যেখানে ম্যানেজমেন্ট দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ লোকদের হাতে। কখনও কখনও এই লোকেরা এই কাজটি ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে করে। তারা এটিকে দ্বীন প্রচারের মাধ্যম মনে করে এবং এটিকে দ্বীনের খেদমত বলে।

কিন্তু আমাদের সমাজে এই নীতিটাও খুব ভুলভাবে প্রচলিত যে, নিয়ত ভালো থাকলে একটি ভুলও বৈধ ও সঠিক হয়ে যায়। বাস্তবতা হলো, কোনো কাজকে সঠিক হওয়ার জন্য শুধুমাত্র ভালো উদ্দেশ্য-ই যথেষ্ট নয়, বরং তার পদ্ধতি সঠিক হওয়া আবশ্যক। লাউডস্পিকারের এই ধরণের নিষ্ঠুর ব্যবহার শুধু দাওয়াত ও তাবলীগের মূল নীতির পরিপন্থী নয়, এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

সূত্র: যিকর ও ফিকর উর্দূ পৃষ্ঠা: ২৪-২৬,

28/12/2022

মাহ‌ফি‌লে মাইক ব‌্যবহার বিষয়ে সচেতনতা ‌চাইঃ
লিখেছেন, মাওলানা লুতফুর ফরাজী- ঢাকা।

হক্কুল ইবাদ, বিষয়টা অ‌নেক জ‌টিল। সেই সা‌থে ভয়ানক স্পর্শকাতরও।

অন‌্যকে কষ্ট দেয়া মারাত্মক পর্যা‌য়ের বিপজ্জনক বিষয়। হাশ‌রের ময়দা‌নে অ‌নেক আমলওয়ালা মানুষও হক্কুল ইবাদ ন‌ষ্টের কার‌ণে পাকড়াও হ‌বে। পাহাড় প‌রিমাণ নেক আমলও অ‌ন্যের হক ন‌ষ্টের কারণে গোনা‌হে রূপান্ত‌রিত হ‌বে। এমন ব‌্যক্তিকে হাদী‌সের ভাষায় প্রকৃত দরিদ্র কিংবা ফকীর হিসেবে অবিহিত করা হয়েছে।

বর্তমা‌নে বে‌শি মাইক ব‌্যবহা‌রের চল শুরু হ‌য়ে‌ছে। গর্ব ক‌রেই প্রচার ক‌রা হয় যে, আমা‌দের মাহ‌ফি‌লে ত্রিশটা মাইক ছিল। ডি‌জিটাল সাউন্ড সি‌স্টে‌মে পু‌রো এলাকা ছিল সরগরম। রাত দুইটা পর্যন্ত চ‌লে‌ছে আ‌য়োজন। নীরবে সহ্য করে যাচ্ছে মানুষ।
এভা‌বে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ আওয়া‌জে মাইক ব‌্যবহার শরীয়ত অ‌নু‌মো‌দিত নয়, গ‌র্হিত কাজ।

এ‌তে ক‌রে অ‌নেক মানু‌ষের হক নষ্ট হয়। অসুস্থ‌্য রোগী, ছোট শিশু, তা‌দের ঘু‌মের ব‌্যাঘাত ঘ‌টে, যা মানু‌ষের রা‌তের ঘু‌মের হক নষ্ট করার শা‌মিল।

এ কার‌ণে মাহ‌ফি‌লে আগত শ্রোতা‌দের স্থান পর্যন্ত মাইক ব‌্যবহার ঠিক আ‌ছে। কিন্তু দূর দূরা‌ন্তে মাইক দেয়া কতটুকু উ‌চিত কাজ?

তাই মাহফিলের আওয়াজ পেন্ডেলের ভিতরে সীমাবদ্ধ রাখুন।

মাহফিল আয়োজক কমিটি বিষয়টি চিন্তা করা দরকার।
আবাসিক সোসাইটিতে রাত ১০ টার পর সাউন্ড সিস্টেমের মাহফিল কোন অবস্থায় উচিত নয়।

আল্লাহ তাআলা আমা‌দের দ্বী‌নের কাজ কর‌তে গি‌য়ে হক্কুল ইবাদ ন‌ষ্টের গোনাহ থে‌কে হেফাজত করুন। আমীন।

ওয়াজ করার অধিকার রাখে কে?হায় হতভাগা!কাকে পথ দেখাচ্ছো?- আল্লামা সুলতান যওক নদভীআমি যখন (গত খ্রিষ্টীয় শতেকর ষাটের দশকে) ...
08/12/2022

ওয়াজ করার অধিকার রাখে কে?
হায় হতভাগা!
কাকে পথ দেখাচ্ছো?
- আল্লামা সুলতান যওক নদভী

আমি যখন (গত খ্রিষ্টীয় শতেকর ষাটের দশকে) বশরত নগর মাদ্রাসায় (চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম) শিক্ষকতা শুরু করি, তখন এলাকার বিভিন্ন মাহফিলে ওয়াজ করার জন্য দাওয়াত আসতে লাগল। কোরআন-হাদীসের আলোকে আমি কিছু কিছু বয়ান করতে লাগলাম।
মানুষ আগ্রহ ভরে আমার বয়ান শুনত।

মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মফজাল সাহেবও (রহ.) বিভিন্ন প্রোগ্রামে আমাকে সাথে নিয়ে যেতেন। কিন্তু আমি কি জানতাম যে, এর মধ্যে আমার আত্মিক ব্যাধি লুকিয়ে আছে, যার যথার্থ চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল?

একবার বোয়ালিয়া হোসাইনিয়া নতুন মাদরাসায় (আনোয়ারা, চট্টগ্রাম) জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার প্রতিষ্ঠাতা হযরত মুফতী আযীযুল হক সাহেব হুজুর (রহ.) এর দাওয়াত ছিল। মাদরাসা হোসাইনিয়ার মুহতামিম ছিলেন আমার শ্বশুর মাওলানা আলী আহমদ সাহেব (রহ.)।
তখন মাদরাসার বার্ষিক সভা ছিল। আমিও সেখানে উপস্থিত হই।
আমার শাদী হয়েছে তখন বেশি দিন হয়নি। মাদ্রাসার প্রতিবেশী মরহুম হাজী আজিজুর রহমানের ঘরে প্রায়ই বড় বড় আলেমদের ওয়াজ মাহফিল হতো। সেখানে হযরত মুফতি সাহেব হুজুরের বয়ানের ঘোষণা দেয়া হলো। উল্লেখ্য, এই প্রোগ্রামটি ছিল মাদ্রাসার সভার দিন সকালে।

আমার শ্বশুরালয়ের মুরুব্বিদের দাবী ছিল, মুফতি সাহেবের বয়ানের পূর্বে আমিও যেন সংক্ষিপ্ত বয়ান করি। ভয়ে তখন আমার অবস্থা তো কাহিল, মুফতি সাহেব হুজুরের সামনে আমি মুখ খুলব কিভাবে?

এদিকে জলসার সব আয়োজন সম্পন্ন। মাইক্রোফোনও প্রস্তুত। এখন যা-ই বলব, হযরতের কানে পৌছে যাবে।
অবশেষে তারা তাদের অবেদনটি হুজুরের সামনে পেশ করলেন। হুজুর সম্মতি দিয়ে বললেন, ঠিক আছে।
কিন্তু এই সম্মতি খুব বেশি আগ্রহ ও সন্তুষ্টচিত্তে ছিল না।
কিন্তু তারা কি আর এত কিছু খেয়াল করে?

সামান্য সম্মতি পাওয়ার সাথে সাথেই তারা আমাকে টেনে হেঁচড়ে স্টেজে পৌঁছিয়ে দিলো।
আমার অবস্থা ছিল খুবই নাজুক। ভয়ে ভয়ে কয়েকটি কথা বলে নেমে এলাম।
দুপুরে মাদ্রাসার সভায়ও তাদের পীড়াপীড়িতে কিছু বলতে হলো।
সন্ধ্যার দিকে হুজুরের তাকরীর শুরু হয়।
বিষয় ছিল আত্মশুদ্ধি।
আলেম সমাজের আত্মশুদ্ধি প্রসঙ্গে সারগর্ভ আলোচনা করছিলেন। এক পর্যায়ে বললেন, আলেম সমাজের নিজেদের আত্মশুদ্ধির ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। নিছক বাগাড়ম্বরতা ও কথার ফুলঝুরি নয়। অন্যকে উপদেশ দেয়ার পরিবর্তে গভীর অধ্যয়নের মাধ্যমে জ্ঞানগত দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

তিনি আরো বলেন,
'ওয়াজ কে করবে?
"যে আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে বান্দাদের বিলিয়ে দিতে পারে"
সেই ওয়াজ করবে।

সুবহানাল্লাহ!
বাক্যটি শুনতেই আমার সারা শরীরের লোম খাড়া হয়ে গেল।
মনে আমি যেন জমিনে গেঁড়ে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন-
''আমি দেখতে পাচ্ছি, যেসব আলেম যৌবনকাল থেকে ওয়াজ করে আসছে বার্ধক্যে উপনীত হয়েও তারা নিজেরা হেদায়াত পায়নি, এখনও তাদের আত্মশুদ্ধি হয়নি।
"হায় হতভাগা!
কাকে পথ দেখাচ্ছো?
তুমি কি নিজে এখনও পথের দিশা পেয়েছো?''

আমি হুজুরের বয়ানের ইঙ্গিত বুঝে ফেললাম। আমাকেই টার্গেট করা হয়েছে- তা বুঝতে আমার দেরি হয়নি।

আমি কেন ওয়াজ করার দুঃসাহস করলাম, এজন্যই আমার মাথার উপর এ আঘাত এসে পড়ল।
বিশেষ করে, 'ওয়াজ তো সেই করবে-যে আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে বান্দাকে দিতে পারে'-হুজুরের এ বাক্যটিতে ছিল আমার সারা জীবন মনে রাখার মতো শিক্ষা।

দ্বিতীয় দিন মাদ্রাসার পাশে বাজারে একটি মাহফিল ছিল। যেহেতু অধিকাংশ ছিল আলেম-ওলামা ও মাদরাসার ছাত্র।
তাই এখানেও বিষয় ছিল একটাই (আত্মশুদ্ধি)।
আজকের বয়ানেও হুজুর পুরোপুরি আমাকে টার্গেট করলেন, আমার নামটা স্পষ্ট করে বলাই শুধু অবশিষ্ট ছিল।
বললেন, "গতকাল আমার এ ছেলে (পটিয়া মাদরাসার ফারেগ) ওয়াজ করছিল, আমার তো রাগ এসে গিয়েছিল। এখনও কি তার ওয়াজ করার বয়স হয়েছে?
এখন তো সে কিতাব পড়বে, অধ্যয়ন করবে, নিজের সংশোধনের চিন্তা-ভাবনা করবে"।

তো হযরতের এ উপদেশ আমার হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে।

এরপর থেকে ওয়াজ-নসীহত এবং লেকচার দেওয়া থেকে মন অনেকটা উঠে গেলো।

কর্মজীবনের সূচনায় এ ছিলো প্রথম পাঠ, যা মাদ্রাসায়ে ইশকে ইলাহীর শিক্ষক (মুফতী আযীযুল হক রহ.) আমাকে পড়িয়ে দিলেন। নতুবা বিশিষ্ট ওয়ায়েজে পরিণত হতাম আমি।
এই যে অল্প-বিস্তর ইলমী খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার সুযোগ হচ্ছে, তা আঞ্জাম দেয়া কঠিন হয়ে যেতো।

জীবনের ধারাই বদলে গেছে আমার।

বই পুস্তক অধ্যয়ন করেছি তো জানার জন্য। অন্যকে শোনানোর জন্য বা মাহফিল গরম করার নিয়তে নয়, নিজের ফায়দার জন্যেই করেছি, আলহামদুলিল্লাহ।
হ্যাঁ, যদি কোন মাহফিলে বিশেষ কোন বিষয়ের ওপর কথা বলার দায়িত্ব আসে, সেই বিষয়ের উপর অধ্যয়ন করা হতো।
সাধারণ লোকজন দাওয়াত দিতে এলে প্রায় সময় ফিরিয়ে দিতাম। বশরত নগরের হযরত মাওলানা মফজল (রহ.) জানতেন, ওয়াজ করার কারণে আমাকে বকুনী খেতে হলো।
তাই তিনি আর আমাকে ওয়াজ করার জন্য পীড়াপীড়ি করতেন না।
কখনও যদি খুব বেশি বাধ্যবাধকতা থাকতো অথবা একান্ত প্রয়োজন হতো; তখন আমাকে সুপারিশ করতেন।

আজ এ কলাম যখন লিখছি, তখন আমার বয়স ষাট-সত্তরে উপনীত।
হযরত মুফতি সাহেব (রহ.) এর সেই সংশোধনমূলক শিক্ষার প্রভাব এখনও অনুভব করছি।

লেখক: আল্লামা সুলতান যওক নদভী
জামেয়া দারুল মা'আরিফ আল-ইসলামিয়া চট্টগ্রাম এর প্রতিষ্ঠাতা।

(সূত্র: আমার জীবন কথা-১, পৃষ্ঠা: ১০৮-১১১)।

19/11/2022

ওয়াজ মাহফিলের মাইক/ সাউন্ড সিস্টেম প্যান্ডেলের ভেতরেই রাখুন। এতে দ্বীনেরই কল্যাণ নিহিত আছে। বিপরীতটা কতটা ক্ষতিকর তা যদি আয়োজকরা বুঝতো!!

মুয়াবিয়া রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর প্রতি বিদ্বেষ জন্মানো গেলে পুরো সুন্নীয়তের উপর কামান দাগানো যায়। শিয়াদের তাকিয়াবাজী আর...
19/10/2022

মুয়াবিয়া রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর প্রতি বিদ্বেষ জন্মানো গেলে পুরো সুন্নীয়তের উপর কামান দাগানো যায়। শিয়াদের তাকিয়াবাজী আর শয়তানীর মূল কুটকৌশল শুরুও সেখান থেকেই।

আলী রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু ও মুয়াবিয়া রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। সে যুদ্ধে মা আয়েশা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুসহ অনেক মর্যাদাবান সাহাবী মুয়াবিয়া রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর পক্ষে ছিলেন।

মুয়াবিয়াকে তো গালি দিচ্ছেন না, দিচ্ছেন তার রাজনৈতিক অবস্থানকে। সুতরাং একই কারনে অনেক হাদীসের এবারতকারী আম্মাজান আয়েশা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন এক দিন।

পরে বুখারী মুসলিম সহ সুন্নীদের মানিত সমস্ত হাদীসের কিতাবে আপনার অবিশ্বাস জন্মাবে। শিয়াদের মেথডলজি তাই। তারপর হয় আহলে কোরান হবেন, না হয় শিয়া। আপনার আর কোন অপশনই নাই।

সুন্নী দাবী করে তাদের মারকাজের ইমামরা যেভাবে শিয়াবাদ প্রচার করে তা একেবারে ওপেন। শিয়াবাদ পলিটিক্যাল ফায়দা লুটতে গিয়ে এদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাচ্ছে শিয়াদের ভ্রান্ত আকীদা।

রাসুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রক্তের প্রতি আমাদের যে ভালবাসা তাকে খন্ডিত আর মনগড়া আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসার দোহাই দিয়ে মহাব্বাতের খিলাফে সুন্নাহ পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়ে শিয়াবাদের ঈমান ও আমলগুলো আস্তে আস্তে তথাকথিত সুন্নীয়তে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

সেটা কিভাবে দেখুনঃ

ঢাকা, চট্টগ্রামে, নারায়ণগঞ্জের শিয়াদের উত্থান চোখে পড়ার মতো! ঢাকার হোসেনি দালান, বড় কাটারা, ছোটোকাটারা আর মোহাম্মাদপুরের শিয়া মসজিদ কেন্দ্রীক এককালের শিয়া তৎপরতা, যা কেবলই শিয়া মসজিদের ভিতরে সীমাবদ্ধ ছিলো!
শিয়াদের ঐ সকল ধর্মসালায় আমাদের সুন্নী মুসলিমদের প্রবেশাধীকার ছিলো না। বর্তমানে ১০ মহররমকে কেন্দ্র করে সারা ঢাকা শহরজুরে প্রভাব প্রতিপত্তি আর শিয়াদের বিভ্রান্তী এমন ভাবে নামধারী মুসলিমদের অংশগ্রহনে বিস্তার লাভ করেছে যে, তা হিন্দুদের দূর্গাপুজা আর রদযাত্রা ও দোলযাত্রার অনুকরনকেও নস্যি বানিয়ে শিয়াজম প্রতিষ্ঠা চলছে। আর চট্রগ্রামের মসজিদ বলতে লাভ লেইনে উঁচু দেয়াল পরিবেষ্টিত সেই মাসজিদই বুঝালেও সে মাসজিদে সুন্নীদের প্রবেশাধিকার নাই।

শিয়াদের ইবাদতসালা যা শিয়া মসজিদ নামে পরিচিত তা কাদিয়ানীদের ইবাদতসালা বা মসজিদের চেয়েও অনেকবেশি প্রটেকটিভ এবং প্রবেশাধীকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত আর শিয়ারা সর্বাবস্থায় অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করে তাদের বিভ্রান্থী ছড়াতে। আর এ বছর নারায়নগঞ্জে তো শিয়ারা যে প্রভাব আর হিন্দুদের মতো শোডাউন দেখিয়েছে, তা আশ্চর্যই বটে!

কিন্তু আফসোসের বিষয়!
মহররম আসলে দেশের জাতীয় মসজিদসহ ঢাকা চট্রগ্রামের সকল মসজিদে শোহাদায়ে কারবালা নামক মাহফিলে প্রকাশ্যে শিয়াবাদ প্রচার হয়। প্রকাশ্যে মুয়াবিয়া রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।

আজকে মুয়াবিয়া রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুকে গালি দিচ্ছে, কাল আয়েশা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহাকে দুরাত্মা শিয়াদের মত গালিগালাজ করতে তথাকথিত নামধারী সুন্নীদের বাঁধবে না।

অতএব, কেউ সুন্নী দাবী করলেই আবেগে ঢলে পরার কিছু নেই। নিজেকে একজন সুন্নী হিসেবে পরিচয় দিতে চাইলে শিয়াবাদ থেকে সতর্ক থাকা জরুরী।
শিয়ারা বিষধর সাপের চেয়েও ভয়ঙ্কর আর পথভ্রষ্ট এমনই এক জাতী, যারা কাদিয়ানী হোক আর অন্য যেকোনো অমুসলিম হোক সকল বাতিল দলের চেয়েও পথভ্রষ্ট। রাফেজী শিয়ারা মুসলিম নয়। তাই সকল দ্বীনি মুসলিমরা যারা নিজেদের প্রকৃতই আহলে সুন্নত আর আহলে হাদীস পরিচয় দেন, সকলে পথভ্রষ্ট শিয়াদের থেকে সদাসাবধান।

ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ যিনি ব্রিটিশ বাংলার ফোর্ট উইলিয়ামে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন প্যাক্সটন ন...
13/10/2022

ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ যিনি ব্রিটিশ বাংলার ফোর্ট উইলিয়ামে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন প্যাক্সটন নরম্যানকে হত্যার জন্য পরিচিত।
বিচারপতি নরম্যানকে ভারতের স্বাধীনতাকামী সৈনিকদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। এটাই ছিল এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। ১৮৭১ সালে, নরম্যান যখন কলকাতা টাউন হলের সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছিলো, তখন আবদুল্লাহ তাকে আক্রমণ করে এবং ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। পরবর্তীতে নরম্যান ১৮৭১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। নরম্যানকে হত্যার পর আবদুল্লাহকে খুঁজে পেতে কলকাতায় তার ছবিসহ পোস্টার লাগানো হয়। পরবর্তীতে, খুঁজে পেলে ব্রিটিশরা তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। কিং স্ফোর্ডকে হত্যা করতে গিয়ে ব্যর্থ ক্ষুদিরাম ইতিহাসে স্থান পেলেও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইতিহাসে স্থান পাননি।

শেখ নজরুল

24/09/2022
আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য এস-৪০০ দরকার।
04/09/2022

আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য এস-৪০০ দরকার।

Address

Bakalia Exes Road, 17 No West Bakalia, Chawkbazar
Chittagong

Telephone

+8801715423570

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when مصطفے کمال فیصل posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to مصطفے کمال فیصل:

Share