12/11/2024
প্রিয় গ্রাম গাংগেরকুট ❤️
আমি আমার নিজের শৈশব সম্পর্কে এটুকু গর্ব করে বলতে পারি বেশ মজার ছিল আমার শৈশব।কারণ আমি আমার শৈশব কাটিয়েছি গ্রামের পথে-প্রান্তরে,মাঠে-ঘাটে,গাছে-বাশে। বাগান বাড়ীর এমন কোন গাছ ছিল না যেটাতে আমি উঠিনি।আর আমাদের গ্রামের একটা মজার ব্যাপার ছিল সব কিছুতেই ভিন্ন ভিন্ন খেলা।সব কিছু মিলে বেশ হৈ-হুল্লুড় করে শৈশব কাটিয়েছি।সেখানে কোন অপ্রাপ্তি কিংবা অপূর্ণতা ছিল না।কানায় কানায় পরিপূর্ণতা আর অসীম প্রাপ্তির সমন্বয়ে আমার শৈশব।তখন যদিও এসবের তেমন মূল্যবোধ বুঝতাম না।কিন্তু জীবনের এই সময়টাতে এসে পেছনে ফেলে আসা স্মৃতি মনে করতেই অকপটে ভেসে উঠে শৈশবের সময়টা। শৈশবের স্মৃতির কাছে জীবনের বাকি সব স্মৃতি যেন ম্লান হয়ে যায়। বাবা-চাচাদের মুখে শোনা যায়, আমাদের কালিগঞ্জ বাজার ছিল অত্র এলাকার সবচেয়ে বড় বাজার। এই বাজারটি ছিল আশেপাশের গ্রামের মানুষের জন্য কেনাকাটার প্রধান কেন্দ্র এবং বুধবার ছিল সাপ্তাহিক হাটবার।
মানুষ অনেক দূর-দূরান্ত থেকে কালিগন্জ বাজারে আসতো, কেনা বেচা করার জন্য। বড় গরুর হাটও ছিলো বটে। আমাদের গ্রামে রয়েছে ঐতিহ্যবাহি (জমিদার বাড়ি) সেখানে এখনও অনেক বড় বড় দৃষ্টিনন্দন পুরাতন ভবন রয়েছে। আমাদের গ্রামটি বুড়িগঙ্গা
(নদী ) ঘেরা।গ্রামটিতে বর্তমানে রয়েছে বিশাল বড় খেলার মাঠ ( দক্ষিণ) পাশে অবস্থিত। রয়েছে হাফিজিয়া মাদ্রাসা, বাজার (মসজিদ), আরো কয়েকটি মাদ্রাসা ও মসজিদ দক্ষিণ -পূর্ব পাশে। আমাদের গ্রামে আছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় । রয়েছে বিশাল এক ঈদগাহ্। বর্ষায় আমাদের গ্রামটি হয়ে উঠে একটি পর্যটক কেন্দ্র, চারিদিকে ঝকঝকে পরিষ্কার পানির সাথে কিচির মিচির ঢেউ এবং পাখির শব্দ। যা পর্যটকদের মন ছুয়ে যায়। বিশেষ করে পর্যটকরা ছোট বাইছ নৌকায় বেরিয়ে পড়ে গ্রামের পানির দৃশ্য মায়াময় ছন্দহারা পানির খোঁজে।
দূর প্রবাস থেকে প্রিয় গ্রামকে নিজের চেয়ে বেশি ভালোবাসি। গ্রামের কাঁদা যেন এখানো লেগে আছে আমার গায়'। 🤎
আশরাফুল ইসলাম (মারুফ)।