31/05/2026
প্রত্যেকবারই কুরবানি আমার হাসবেন্ড আর বাসুর মিলে করে। তখন মাংস কাটাকাটি করার সময় মানুষ মাংস চাইলে আমার হাসবেন্ড বা ভাসুর মাংস দেন আর বেশিরভাগ মানুষকে মাংস অল্প করেই দেন।
কিন্তু এই ব্যপারটা ভালো লাগতো না আমার ইচ্ছে করতো আরো বেশি করে দিতে বেশি দেওয়ার জন্য কাউকে বলতামও না শুধু মন চাইত বেশি দিতে।
তো এই কুরবানির ঈদে আমার ভাসুররা এখানে কুরবানির দেন নি শুধু আমরাই ছাগল কুরবানি দিয়েছি আর এখন আমার হাসবেন্ডও নেই ভাসুরও নেই তাই মাংস আমিই সবাইকে দিবো এটা ভেবে খুব আনন্দ হচ্ছিল।
তবে আমরা মাংস ভাগ করে দিই না যে আসে যতটুকু ইচ্ছে হয় দেই আর প্রতিবেশি আত্মীয়কে যতটুকু ইচ্ছে দেই।
এবার ছাগল কুরবানির জন্য লোক নিয়েছে আর তারা দুপুরের দিকে এসেছে তাই কুরবানি করে কাটাকাটি করতে অনেকটাই দেরি হয়েছে ।
আর কাটাকাটির মাঝেই যারা মাংস নিতে এসেছে তাদেরকে মাংস দিয়েছি।
মাঝে আবার কলিজাটা রান্না করেছি যেন সবাই মিলে এবং যারা মাংস কাটাকাটি করেছে তাদের সহ দুপুরে খেতে পারি আর কুরবানি করার আগে মুরগির মাংস ডিম রান্না করে রাখছি যেন খাওয়া-দাওয়া দেরি না হয়।
তারপর মাংস কাটাকাটি শেষ করে প্রতিবেশিকে দিয়েছি কাছের আত্মীয়কে দিয়েছি আর আমি একটু বেশি করেই দিয়েছি কারন আমার কত দিনের ইচ্ছে যে সবাই কে বেশি করে মাংস দিবো।
তো বাকি আত্মীয়দের জন্য মাংস পেকেট করতে করতে দেখি ঘরে রাখা তো দূর ঈদের দিন রান্না করার মতোও মাংস নেই।
ভাবলাম থাক সমস্যা নাই সবাইকে দিয়ে দিই কলিজা তো রান্না করেছি মাংশ রান্না করতে হবে না।
পরে হাসবেন্ডের সাথে কথা বলার সময় হাসবেন্ডকে সবকিছু বললাম তিনি সবাইকে দেওয়াতে খুশি হয়েছে কিন্তু একটু মন খারাপও হয়েছে কারন তিনি চান কুরবানির মাংস তার পরিবার অন্তত ১ বেলা তৃপ্তি করে খাবে । তবে আমাকে কিছু বলেন নি।
তো তার কথা আমি পাত্তা দেই নাই বলছি খেতে হবে না মনমতো সবাইকে দিয়েছি এতেই শান্তি।
তারপর রাতের বেলা কাজ শেষে সবাইকে কল করে কথা বলার সময় সবাইই কুরবানির মাংস বেশি করে রান্না করে খাচ্ছে তখন কেন যানি মনে হলো একটু মাংস রান্না করা দরকার ছিল।
কথা শেষ করে মেয়েকে নিয়ে ভাত খাওয়ার সময় মেয়ে বলতেছিল খালি মাংস খাবে তো আমি সকালে রান্না করা একটু মুরগির মাংস দিয়েছি আরেক টুকরো চেয়েছে আরেকটুকরো দিয়েছি দেওয়ার পর আর মাংস ছিল না।
সে আরো চেয়েছিল কিন্তু আমি বলেছি এখন শেষ হয়ে গিয়েছে পরে আবার রান্না করে দিবো। সে বলছে আচ্ছা।
মেয়ে মাংস চাওয়াতে একটা জিনিস বুঝতে পারছি যে আমার হাসবেন্ড বা ভাসুর মানুষকে কেন অল্প করে মাংস দিতো।
কারন তারা চাইলেও বেশি মাংশ দিতে পারতো না। তাদের সামর্থ্য যতটুকু ততটুকু দিয়েই কুরবানি দিতো। আর সবাইকে অল্প করে দিতো কারন তাদের দিতে ইচ্ছে করতো তাই সবাইকে অল্প করে হলেও দিতো এবং পরিবারের জন্য রাখতো। তারা চাইত যে এই কুরবানীর উছিলায় তার পরিবারও একটু তৃপ্তি করে মাংস খাবে তাই তারা সবাইকে অল্প করে দিতো।
তাদের এমন সামর্থ্য নেই যে সারাবছর যখন ইচ্ছে চাইলেই এত দাম দিয়ে বৌ মেয়েকে মাংস কি খাওয়াবে। আর এমন সামর্থ্যও নেই যে অনেক টাকা দিয়ে কুরবানী দিয়ে পরিবারের জন্য রেখে সবাইকে বেশি বেশি মাংস দিবে।
এগুলো ভেবে আল্লাহর কাছে মন থেকে দোয়া করতেছিলাম যে আল্লাহ কখনো এমন তৌফিক দিও যেন কুরবানী করে মন ভরে সবাইকে দিতেও পারি আর তৃপ্তি ভরে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খেতেও পারি।