ভুমি সংক্রান্ত সকল তথ্য

ভুমি সংক্রান্ত সকল তথ্য ভূমি সংক্রান্ত সকল পরামর্শ দেওয়া হয়।

Shout out to my newest followers! Excited to have you onboard! Joydeep Banerjee, Rk Redoan, Kbd Shek Kamal, Saiful Alam,...
12/02/2025

Shout out to my newest followers! Excited to have you onboard! Joydeep Banerjee, Rk Redoan, Kbd Shek Kamal, Saiful Alam, Krizz Chakz, Subroto Pan, Md Ibrahim, Om Prokash, Abdur Razzak, Rakesh Saha, Md Raj Khan Raj, N Rashid Rony, Azizur Rahaman, Rafiqul Islam, MD Sumon Ahmed, MD Abdul Kuddus Miah, Md Omar Faruk, Shahin Mahmood, Sagor Chowdhury, Badhon Hossain, Taricul Islam Khan, Chhanda Mukherjee, Iqbal Mahmud, Nurul Alam, Md Sahed, Md Tohidul Islam, Md Sharif Alam, আঃ আজিজ জব, Anup Maiti, Engrineer Ahsan, Sameen Yeasar Ariyaan, Joty Brambha, মোহাম্মদ নজরুলহক, Ahia Bhuyan, Mijan Khan, পো মোঃ উজির পোং, Mohon Mia, Sukur Mahmud, Md Harun Islam, MD Shaijuddin Dhali, Iqbal Mahmud, MD Ferdous Noor M, Gopal Day, Md Arif, চাঁদের আলো, Md Habibullah, Md Khaled Hasan Mehedi, Mozammel Haque, MD Arfat, Khokon Patwary

সম্পত্তির ক্রয় বিক্রয় এর জন্য ২ পক্ষকেই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, কারন দলিল ভূল হলে ভোগান্তি  দলিল লিখকের নয়, ভোগান্তিত...
09/02/2025

সম্পত্তির ক্রয় বিক্রয় এর জন্য ২ পক্ষকেই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, কারন দলিল ভূল হলে ভোগান্তি দলিল লিখকের নয়, ভোগান্তিতে পড়বেন আপনি, দলিল লিখক বা মূহুরী শুধুমাত্র রেজিষ্ট্রি করতে পারলেই বাচেন বা ইনকাম হবে, বাকি জামেলা আপনাকেই পোহাইতে হবে।

সম্পত্তির দলিল লেখার জন্য ‘দলিল লেখক' এর কাছে দায়িত্ব দিয়েই ক্রেতার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কেননা পরবর্তীতে দলিলে ভুল পরিলক্ষিত হলে দলিল লেখক নয় এর মাশুল গুনতে হবে ক্রেতাকেই। তাই এতে ক্রেতার সচেতনতা আবশ্যক। সম্পত্তির দলিল লেখার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়ে ক্রেতার লক্ষ্য রাখা প্রয়োজনঃ-

১। দলিল সম্পাদনকারী তথা জমি দাতা (বিক্রেতা)
আইনের দৃষ্টিতে সাবালক ও সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন কি না, আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত কি না তা যাচাই করে নিতে হবে৷

২। দলিলের ধরন যেমন- (ক) সাফ কবলা (খ) বায়না পত্র (গ) দানপত্র (ঘ) হেবার ঘোষনাপত্র ইত্যাদি খেয়াল করতে হবে৷

৩। ক্রেতা যে জমিটি কিনতে যাচ্ছেন সেই প্রস্তাবিত জমির পরিমাণ, বিক্রয় মূল্য (বায়না দলিল হলে বায়নায় পরিশোধিত টাকা এবং বাকী টাকা) ইত্যাদি দেখে নিতে হবে।

৪। পক্ষ পরিচয় তথ্য যেমন- দলিল গ্রহীতা/প্রথম পক্ষ, দলিল দাতা/দ্বিতীয় পক্ষ, উভয় পক্ষের পূর্ণ নাম, ঠিকানা, পেশা, ধর্ম ইত্যাদি। দলিল গ্রহীতার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং দাতার ক্ষেত্রে আগত খতিয়ান (সর্বশেষ জরিপ/নামজারি খতিয়ান) এর সাথে মিল রেখে নাম ঠিকানা লেখা হয়েছে কি না দেখতে হবে।

৫। স্বত্ত্বের বর্ণনা যেমন- জমি দাতার মালিকানার ভিত্তি, দলিল মূলে হলে পূর্বের দলিলের নম্বর ও তারিখ, পর্চা/খতিয়ান নম্বর ইত্যাদি৷

৬। জমির বিক্রেতা যদি জমিটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে তাহলে মূল মালিকের সাথে বিক্রেতা যোগসূত্র/সম্পর্ক সঠিক আছে কিনা তা জেনে নিতে হবে৷

৭। দলিলে প্রস্তাবিত জমির তফশিল যেমন- জেলার নাম, উপজেলার নাম, রেজিস্ট্রি অফিসের নাম, মৌজার নাম, জেএল নম্বর, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর এবং জমির শ্রেণি আগত খতিয়ানের সাথে মিল আছে কি না দেখে নিতে হবে। জমির তফশিল লেখার সময় প্রত্যেক দাগে মোট জমির পরিমাণ কত এবং অত্র বিক্রয় দলিলে উক্ত দাগের মধ্যে কত একর বা শতাংশ জমি বিক্রয় করা হচ্ছে তা প্রতি ক্ষেত্রে লিখে নিতে হবে৷ তবে উল্লেখ্য যে, কোন অবস্থাতেই কয়েকটি দাগের জমি একত্রে যোগ করে একর/শতাংশ লেখা উচিত হবে না৷

৮। ক্রেতা যে জমিটি ক্রয় করতে চাচ্ছে সেই জমিটির চৌহদ্দি ঠিক আছে কি না অর্থাত্‍ উত্তর, দক্ষিণ পূর্ব, পশ্চিম পাশের জমির বর্ণনা সহ মালিকের নাম উল্লেখ করতে হবে৷

৯। জমি বিক্রেতা বা দলিল দাতা দলিলের ১ম পৃষ্ঠার উপরের ডান পাশ্বের নীচ থেকে উপরের দিকে তার নিজ নাম স্বাক্ষর করবেন অথবা নিরক্ষর হলে নিজ নামের উপরে টিপ সহি প্রদান করেছেন কি না তা দেখতে হবে৷ এছাড়াও জমি বিক্রেতা বা দাতা দলিলের শেষ পৃষ্ঠার নীচে স্বাক্ষর বা টিপ সহি করবেন৷ তবে দলিলের প্রতি পৃষ্ঠায় দাতার স্বাক্ষর বা টিপ সহি দিলে ভালো হয়৷

১০। জমির বিক্রেতা দলিলের শেষ পৃষ্ঠার নীচে যে জায়গায় তার নিজ নাম স্বাক্ষর বা টিপ সহি করেছেন ঠিক তার নীচে উক্ত দলিলটির লেখক তার নাম স্বাক্ষর করবেন। এরপর কমপক্ষে ২ জন সাক্ষী এবং অপর একজন জমির বিক্রেতাকে সনাক্ত করে সনাক্তকারী হিসাবে স্বাক্ষর করবেন।

১১। দলিলে যতদূর সম্ভব কাটাকাটি, ঘষামাঝা, অষ্পষ্টতা এড়াতে হবে তবুও যদি কোনরূপ ভুল ক্রটি ঘষামাঝা কাটাকাটি হয়েও যায় তাহলে সেক্ষেত্রে উক্ত কাটাকাটি বা ঘষামাঝা যুক্ত লাইন ও শব্দের ক্রম উল্লেখ করে দলিলের শেষাংশে কৈফিয়ত লিখে দলিল লেখককে তার নীচে স্বাক্ষর করতে হবে৷
এছাড়াও জমির ক্রেতাকে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে- বিভিন্ন জরিপের দাগ নম্বর ও খতিয়ান নম্বর যাতে দলিল লেখকের মাধ্যমে সঠিকভাবে লিখানো হয়৷ এজন্য জমির ক্রেতাকে জমি ক্রয় করার পূর্বেই তহসিল অফিস হতে জমির সঠিক দাগ নম্বর ও খতিয়ান নম্বর জেনে নিতে হবে৷ প্রয়োজনে খতিয়ানের সইমোহর নকল সংগ্রহ করতে হবে।

সেভ করে রাখুন কাজে লাগবে।কোথায় কীভাবে পাবেন জমির এই উল্লেখযোগ্য ডকুমেন্ট?➥১. পর্চা বা খতিয়ান। ➥২. দলিল। ➥৩. ম্যাপ বা নক...
02/02/2025

সেভ করে রাখুন কাজে লাগবে।
কোথায় কীভাবে পাবেন জমির এই উল্লেখযোগ্য ডকুমেন্ট?
➥১. পর্চা বা খতিয়ান।
➥২. দলিল।
➥৩. ম্যাপ বা নকশা।
এই ডকুমেন্টগুলো ছাড়া আপনি জমি বিক্রয়, হস্তান্তর অথবা ব্যাংক লোন হতে নানান সমস্যা হয়।
সেকারণে, জমির খতিয়ান, দলিলসহ সকল কাগজপত্র সংগ্রহে রাখার জন্য সরকারি নানান দপ্তর রয়েছে, যারা ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখে। এখন আপনার কাজ হল, ঐ সকল দপ্তরগুলো কে নিশ্চিত করে তাদের শরণাপন্ন হওয়া ও কাগজপত্র গুলো সংগ্রহ করা।
নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, কোথায়, কীভাবে এবং কত সময়ের ভেতরে আপনি জমির খতিয়ান, দলিল ও নকশা সংগ্রহ করবেন।
➥প্রথমত,আপনার জমির খতিয়ান বা পর্চা কোথায় পাবেন.?
জমির পর্চা বা খতিয়ান মূলত চারটি অফিসে পাবেন। তা হলো,
১/ইউনিয়ন ভূমি অফিস।
২/উপজেলা ভূমি অফিস।
৩/জেলা ডিসি অফিস।
৪/সেটেলমেন্ট অফিস।

➤ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা তহশিল অফিস। ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যদিও খতিয়ান বা পর্চার বালাম বহি থাকে কিন্তু আপনি এই অফিসে হতে খতিয়ানের কপি নিতে পারবেন না। ইউনিয়ন ভূমি অফিস হতে শুধু খসরা খতিয়ান নিতে পারবেন যেটা আইনত কোন মূল্য নেই তারপরেও এই অফিসটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনার জমির খতিয়ান নাম্বার জানা না থাকলে এই অফিস থেকে জেনে নিতে পারবেন এছাড়া জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর এই অফিসে দিতে হয়।

➤উপজেলা ভূমি অফিস
যদিও উপজেলা ভূমি অফিসের মূল কাজ নামজারী বা খারিজ বা মিউটেশন করা তবে খসরা খতিয়ান তুলতে পারবেন। এই অফিস হতেও খতিয়ানের সার্টিফাইড পর্চা বা কোর্ট পর্চা তুলতে পারবেন না।

➤জেলা ডিসি অফিস
এই অফিস হতে পর্চা বা খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই অফিসের খতিয়ান এর গুরুত্ব সর্বাধিক। সব জায়গায় এই অফিসের খতিয়ান এর গুরুত্ব রয়েছে।

➤সেটেলমেন্ট অফিস
শুধুমাত্র নতুন রেকর্ড বা জরিপের পর্চা / খতিয়ান এই অফিস হতে সংগ্রহ করা যাবে।
পাশাপাশি নতুন রেকর্ড এর ম্যাপ ও সংগ্রহ করা যায়।
❖প্রশ্নঃ খতিয়ান তুলতে কত টাকা লাগবে.?
উত্তরঃ সি এস, এস এ, আর এস, এর জন্য কত টাকা দিতে হবে তা নির্ভর করে ঐ স্থানের সিন্ডিকেটের উপর। তবে সিটি জরিপের জন্য 100 টাকা খরচ হবে।
➥দ্বিতীয়ত, আপনার জমির দলিল বা বায়া দলিল কোথায় পাবেন?
দলিল বা দলিল এর সার্টিফাইড কপি বা নকল মূলত দুটি অফিস হতে সংগ্রহ করা যায়, তা হলো।
১/উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস।
২/জেলা রেজিস্ট্রি বা সদর রেকর্ড রুম অফিস।

➤উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস
যেখানে নতুন দলিল রেজিস্ট্রেশন করা হয় এই অফিস হতে নতুন দলিলের নকল ও মূল দলিল পাওয়া যায়। কিন্তু পুরাতন দলিল বা বায়া দলিল এই অফিসে পাওয়া যায় না।

➤জেলা রেজিস্ট্রি অফিস বা সদর রেকর্ড রুম।
এই অফিসে নতুন বা পুরাতন দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল পাওয়া যায়।
❖ প্রশ্নঃ দলিল তুলতে কত টাকা খরচ হয়.?
উত্তরঃ সরকারি খরচ যদিও সামান্য কিন্তু নকলের খরচ নির্ভর করে ঐ স্থানের সিন্ডিকেটের উপর।
➥ আপনার জমির মৌজা ম্যাপ বা নকশা কোথায় পাবেন?
সাধারণত ম্যাপ বা নকশা দুইটি অফিসে পাবেন, তা হলো
১/জেলা ডিসি অফিস
২/ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ( DLR) অফিস, ঢাকা।

➤জেলা ডিসি অফিস:
এই অফিস হতে সিএস, এসএ, আরএস, বিএস যেকোনো মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ করা যাবে।
সংগ্রহ করতে যা লাগবে আবেদন ফরম + 20 টাকার কোর্ট ফি এবং 500 টাকা নগদ জমা বাবদ বা ডি.সি.আর বাবদ। অর্থাৎ 530 টাকায় মৌজা ম্যাপ তুলতে পারবেন।

➤ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, (তেজগাঁও সাতরাস্তার মোড়), ঢাকা।
সারা বাংলাদেশের যে কোনো মৌজা ম্যাপ সিএস, এসএ, আরএস, বিএস, জেলা ম্যাপ, বাংলাদেশ ম্যাপ উক্ত অফিস হতে তুলতে পারবেন।
এই অফিসের ম্যাপের গ্রহণযোগ্যতা ও অনেক বেশি। সারা বাংলাদেশের যে কোন ম্যাপ এই অফিসে পাওয়া যায়। ম্যাপ তুলতে খরচ আবেদন ফরম + কোর্ট ফি + ডি.সি.আর মোট= ৫৫০/= টাকা মাত্র।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান জীব স্বত্ব সম্পত্তি পাবে
02/02/2025

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান জীব স্বত্ব সম্পত্তি পাবে

24/01/2025

পৈত্রিক সম্পত্তি ক্রয়ের আগে ওয়ারিশ সনদ, ভাগবন্টন দলিল এবং নামজারি খতিয়ান যাচাই করাটা আবশ্যক। অনেকেই এসব উপেক্ষা করেন, পরে আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। তাই সঠিক ডকুমেন্ট চেক করা এবং একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

19/10/2024

ওয়ারিশ সম্পত্তি নামজারী করতে গিয়ে সাধারণ জনগন যে কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।!!!

কারণ, এসি ল্যান্ড অফিস বন্টননামা দলিল ছাড়া ওয়ারিশ সম্পত্তি নামজারী দিচ্ছেন না।
কি কি সমস্যা দেখে নিন এক পলকেঃ

#সমস্যা নং-১ঃ ওয়ারিশদের মধ্যে রেজিষ্ট্রি বন্টননামা দলিল নাই। নামজারী হবে না।

#সমস্যা নং-২ঃ এক বা একাধিক ওয়ারিশ দেশের বাহিরে থাকেন সেকারণে বন্টননামা দলিল করা যাচ্ছে না। অতএব, অন্যদেরও নামজারী হবে না।

#সমস্যা নং-৩
একাধিক ওয়ারিশদের মধ্যে একজন দাগে দাগে হিস্যানুসারে নামজারী চাইলে নামজারী হচ্ছে না। কারণ নির্দিষ্ট কোন দাগে দখল সেটা এসি ল্যান্ড অফিস নির্ধারণ করতে পারছেন না।

#সমস্যা নং-৪
কোন একজন ওয়ারিশ কয়েকটি খতিয়ানের প্রাপ্য জমি কিন্তু সে একটি নির্দিষ্ট খতিয়ান থেকে তার প্রাপ্য অংশ বিক্রি করে ফেলেছেন। এখন তার বন্টননামা দলিল করার সুযোগ নাই। অতএব অন্য ওয়ারিশরা নামজারী করতে পারছেন না।

#সমস্যা নং-৫
দখল সূত্রে কোন ওয়ারিশ দামী জমিতে দখলে আছেন। অতএব সে এখন বন্টননামা করবেন না। একারণে অন্য ওয়ারিশরাও নামজারী করতে পারছেন না।

এসব সমস্যার কারণে আদালতে বন্টন মামলা বেড়েই চলছে। অতএব মামলা মোকদ্দমা এড়িয়ে চলুল। নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করুন।

15/02/2024

খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ উত্তরাধিকার আইন
মুসলিম ও হিন্দু উত্তরাধিকারের পাশাপাশি খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ উত্তরাধিকার সম্পর্কিত জ্ঞান অতীব জরুরি। প্রচলিত আইনে বৌদ্ধ উত্তরাধিকার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকলেও খ্রিস্টান উত্তরাধিকার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। কার্যত খ্রিস্টান উত্তরাধিকার নিয়ন্ত্রিত হয় উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ অনুসারে। অর্থাৎ বাংলাদেশে বসবাসরত খ্রিস্টধর্মের অনুসারীদের উত্তরাধিকার সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ নিয়ন্ত্রিত হবে The Succussion Act, ১৯২৫ এর অধীনে। ১৯২৫ সালের ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন যা দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ৪৮/৭২নং আদেশ দ্বারা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হতে বাংলাদেশে বলবৎ হয়েছে। অত্র আইনের ২৪-২৮ এবং ৩২-৪৯ ধারাসমূহে খ্রিস্টান উত্তরাধিকারিত্বের বিধান ও বণ্টনের নিয়ম আলোচিত হয়েছে। বস্তুত খ্রিস্টানরা ২ শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা- ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্ট। Succussion Act-এর উপরোক্ত ধারাগুলো উভয় মতের খ্রিস্টানদের জন্য প্রযোজ্য। কোনো খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীর মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি কীভাবে বণ্টন হবে, তা The Succussion Act, ১৯২৫-এর ২৭ ধারাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। ধারাতে উল্লেখ আছেÑ (ক) উত্তরাধিকারী হিসেবে নারী ও পুরুষ সমান মর্যাদার অধিকারী। কোনো মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার ক্ষেত্রে ছেলে এবং মেয়ে একই মর্যাদার অধিকারী হবে। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তারা সমান অংশ লাভ করবে। (খ) অর্ধরক্ত ও পূর্ণরক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। অর্থাৎ কোনো মৃত ব্যক্তির যদি একজন আপন ভাই এবং একজন সৎভাই থাকে, তবে সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে দুই ভাই সমান অংশের অধিকারী হবে। (গ) নিকটবর্তী আত্মীয় দূরবর্তী আত্মীয়কে বঞ্চিত করবে। অর্থাৎ রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে যে ব্যক্তি সম্পর্কের দিক থেকে মৃত ব্যক্তির কাছাকাছি অবস্থান করে, সে অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী আত্মীয়কে বঞ্চিত করবে। যেমন- মৃত ব্যক্তির আপন ভাই উত্তরাধিকারের প্রশ্নে তার চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাইকে বঞ্চিত করে। (ঘ) মাতৃগর্ভস্থ সন্তানকে উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। যেমন- কোনো খ্রিস্টান ব্যক্তির মৃত্যুর সময় যদি তার স্ত্রীর গর্ভে কোনো সন্তান থাকে এবং পরবর্তীকালে সে সন্তান জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়, তাহলে সে তার পিতার সম্পত্তিতে একজন উত্তরাধিকারী বলে বিবেচিত হবে।

কোনো খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে কতিপয় ব্যক্তি মৃতের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে। এদিক দিয়ে প্রথমত সরাসরি বংশধর, দ্বিতীয়ত জ্ঞাতি শ্রেণিরা উত্তরাধিকারী হয়। সাধারণত সরাসরি বংশধর উপস্থিত থাকলে জ্ঞাতি শ্রেণি উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হয় না। অর্থাৎ সরাসরি বংশধরদের অনুপস্থিতিতে জ্ঞাতি শ্রেণি উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হবে। সরাসরি বংশধর বলতে সাধারণত মৃতের ছেলে বা মেয়েকে অন্তর্ভুক্ত করে। অনুরূপভাবে জ্ঞাতি সদস্যদের মধ্যে রয়েছে চাচা, চাচি, চাচার ছেলে ও মেয়ে, খালা, খালাতো ভাই, মামাতো ভাই, ফুফু এবং এই ধারাবাহিকতায় অন্যরা। উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ৩৫ ধারানুসারে, স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামী এবং স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী পরস্পরের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হবেন। অন্যদিকে অত্র আইনের ৩৩ ধারানুযায়ী একজন স্ত্রী নিম্নলিখিতভাবে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে। যেমন-

(১) কোনো সন্তানসন্তুতির উপস্থিতিতে স্ত্রী থাকলে তিনি (স্ত্রী) মোট সম্পত্তির ১/৩ অংশ পাবেন এবং বাকি ২/৩ অংশ মৃতের সন্তানরা সমানভাবে পাবেন। (২) সরাসরি বংশধরের অবর্তমানে যদি জ্ঞাতি সম্পর্কীয় আত্মীয়রা উপস্থিত থাকেন, তাহলে স্ত্রী মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবেন। অন্যদিকে অবশিষ্ট ১/২ অংশ সম্পত্তি জ্ঞাতি আত্মীয়রা সমানভাবে পাবেন। যেমন ওয়ার্নার তার স্ত্রী ও চাচাতো বোন রেখে মারা গেলেন। ওয়ার্নারের ৬ বিঘা জমি ছিল। এ ক্ষেত্রে ওয়ার্নারের সম্পত্তির ১/২ অংশ তথা ৩ বিঘা সম্পত্তি স্ত্রী এবং ১/২ অংশ তথা বাকি ৩ বিঘা সম্পত্তি চাচাতো বোন পাবেন। উল্লেখ্য যে, মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান, পিতা-মাতা, ভাইবোন জীবিত থাকলে জ্ঞাতি শ্রেণি উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন না তথা উত্তরাধিকারী থেকে বঞ্চিত হবেন। (৩) সরাসরি বংশধর ও জ্ঞাতি সম্পর্কীয় আত্মীয়দের অবর্তমানে স্ত্রী থাকলে স্ত্রী সমুদয় সম্পত্তি পাবেন।

সন্তানরা মৃত পিতা বা মাতার সম্পত্তিতে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হয়। (১) পিতা মারা যাওয়ার পর মাতা জীবিত থাকলে অথবা মাতা মারা যাওয়ার পর পিতা জীবিত থাকলে সন্তানরা মৃত পিতা বা মাতার সম্পত্তির ২/৩ অংশ পাবে। বাকি ১/৩ অংশ ক্ষেত্রবিশেষ পিতা-মাতা (স্বামী/স্ত্রী) পাবেন। যেমন মার্টিনা মারা যাওয়ার সময় রেখে গেলেন দুই সন্তান ডেভিড ও মেরী এবং স্বামী পিটারকে। মার্টিনার মোট সম্পত্তি ছিল ১২ বিঘা। এ ক্ষেত্রে মার্টিনার দুই ছেলেমেয়ে মোট সম্পত্তির ২/৩ ভাগ অর্থাৎ ১২ বিঘার মধ্যে ৮ বিঘা পাবে। আর স্বামী পিটার পাবেন মোট সম্পত্তির ১/৩ ভাগ অর্থাৎ ৪ বিঘা। এখানে স্ত্রী মারা না গিয়ে যদি স্বামী পিটার মারা যেতেন, তাহলে স্ত্রী মার্টিনা মোট সম্পত্তির ১/৩ অংশ পেতেন। কেননা এ আইনানুযায়ী সন্তানের পিতা বা মাতা (স্বামী/স্ত্রী) একে অন্যের প্রতিচ্ছবি। (২) মৃত ব্যক্তির সন্তান (পুত্র বা কন্যা) সবসময় তার নানা, নানি, দাদা, দাদি, চাচা, ফুফুদের বঞ্চিত করে। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে মৃতের পিতা-মাতা (দাদা/দাদি) বা অন্যান্য রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়রা কোনো সম্পত্তি পাবেন না। যেমন

আলবার্ট ও সায়ন্তিকার দুই ছেলে এবং এক মেয়ে আছে। আলবার্টের পিতা আব্রাহাম এখনো জীবিত। এখন যদি আলবার্ট মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে তার সম্পত্তি থেকে তার পিতা আব্রাহাম কোনো অংশ পাবেন না। এখানে আলবার্টের স্ত্রী সায়ন্তিকা পাবেন ১/৩ অংশ এবং সন্তানরা ২/৩ অংশ সম্পত্তি পাবে। একইভাবে যদি আলবার্টের মাতা, ভাই বা বোন থাকত, তাহলেও তারা কোনো সম্পত্তি পেতেন না। (৩) মৃত ব্যক্তির ছেলে এবং মেয়ে সবাই সমান হারে সম্পত্তি পাবেন। কোনো প্রকার বৈষম্য বা ত্রুটির স্থান এ আইনে নেই। যেমন এডিসন ৪ ছেলে এবং ১ মেয়ে রেখে মারা গেলেন। এখানে এডিসনের সম্পত্তি থেকে তারা সমান অংশ পাবেন। অর্থাৎ সবাই ১/৫ অংশ করে সম্পত্তি পাবেন। (৪) কোনো মৃত ব্যক্তির পুত্র ও কন্যার সঙ্গে যদি অন্য মৃত সন্তানের কোনো পুত্র বা কন্যা থাকে, তাহলে তারা তাদের মৃত পিতা বা মাতার স্থলাভিষিক্ত হবেন। অর্থাৎ মৃত সন্তানের পুত্র-কন্যারা সম্পত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা তাদের পূর্বে মৃত পিতা বা মাতার অংশ পাবেন। এ পদ্ধতিকে Doctrine of Representation বা প্রতিনিধিত্ব নীতি বলা হয়।

পিতা কতিপয় ক্ষেত্রে মৃতের রেখে যাওয়া সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে থাকেন। যেমন (১) মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান না থাকলে তখনই কেবল পিতা সন্তানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। (২) মৃতের স্ত্রীর সঙ্গে পিতা উপস্থিত থাকলে পিতা-পুত্রের সম্পত্তির ১/৩ অংশের উত্তরাধিকারী হন। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর অবশিষ্ট সম্পত্তির ২/৩ অংশ পাবেন। যেমন- স্মিথ তার স্ত্রী ও পিতা রেখে মারা গেলেন। স্মিথের জমির পরিমাণ ১২ বিঘা। এ ক্ষেত্রে স্মিথের স্ত্রী মোট সম্পত্তির ২/৩ অংশ তথা ৮ বিঘা পাবেন। অন্যদিকে পিতা ১/৩ অংশ তথা ৪ বিঘা পাবেন। মাতা কয়েকটি ক্ষেত্রে মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। যেমন- (১) মৃতের পিতা ও সন্তানের অবর্তমানে মাতা সম্পত্তি পাবেন। অর্থাৎ মৃতের পিতা বা সন্তান সন্তুতি বেঁচে থাকলে মাতা বঞ্চিত হবেন। (২) মৃত ব্যক্তির মাতার সঙ্গে মৃতের ভাই ও বোন থাকলে তারা সমান সম্পত্তি লাভ করবেন। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি তার মা, ভাই ও বোন রেখে মারা যান, তাহলে মাতা, ভাই ও বোন ওই ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে সমান অংশ মাথাপিছু হারে লাভ করবেন। (৩) কোনো মৃত ব্যক্তির যদি স্ত্রী, সন্তান বা কোনো ভাইবোন না থাকে, তাহলে মাতা সম্পূর্ণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন। ভাইবোন এবং ভাইবোনের সন্তানরা কতিপয় ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হয়। যেমন-

১. ভাইবোন বা ভাইবোনের পুত্র-কন্যাদের উত্তরাধিকার কেবল তখনই সৃষ্টি হবে, যখন মৃত ব্যক্তির কোনো পুত্র, পুত্রের পুত্র, পুত্রের পুত্রের পুত্র এবং পিতা জীবিত না থাকে। ২. বৈমাত্রেয় ভাই আপন ভাইদের মতোই উত্তরাধিকারী হবে, তথা তারা সম্পত্তিতে সমান অংশ লাভ করবে। ৩. মৃত ব্যক্তির ভাইবোন বা তাদের পুত্র-কন্যাদের সঙ্গে স্বামী বা স্ত্রী থাকলে স্বামী বা স্ত্রী সম্পত্তির ২/৩ অংশ পাবে এবং অন্যরা বাকি ১/৩ অংশ সম্পত্তি সমান হারে পাবে। যেমন জলি তার স্বামী ও ভাই রেখে মারা গেলেন। জলির জমি ছিল ৬ বিঘা। এ ক্ষেত্রে জলির স্বামী পাবে ২/৩ অংশ তথা ৪ বিঘা এবং জলির ভাই পাবে ১/৩ তথা ২ বিঘা। ৪. মৃত ব্যক্তির কোনো ভাইবোন যদি জীবিত না থাকে এবং কেবল ভাইবোনের পুত্র-কন্যারা যদি জীবিত থাকে, তবে সেই সম্পত্তির বণ্টনের ক্ষেত্রে মৃতের ভাইবোনের পুত্র-কন্যারা তাদের নিজ নিজ পিতা-মাতার স্থলবর্তী হয়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন। অর্থাৎ তারা তাদের পিতা বা মাতার অংশ পাবেন। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে যেসব আত্মীয়, সম্পর্কের ধাপ অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির কাছাকাছি অবস্থান করবে, সে অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী আত্মীয়কে বঞ্চিত করবে। তবে একই ধাপের একাধিক আত্মীয় থাকলে তারা সবাই মাথাপিছু হারে সমান অংশ পাবে। কার্যত খ্রিস্টান আইনে দত্তকের কোনো বিধান নেই। তাই দত্তক সন্তান দত্তক পিতা-মাতার সম্পত্তিতে কোনোরূপ অধিকার দাবি করতে পারে না।

The Succession Act, ১৯২৫-এর ৩৪ ধারানুসারে যদি কোনো মৃতের বিধবা স্ত্রী বা ক্ষেত্রমতে স্বামী বা সরাসরি বংশধর বা জ্ঞাতি শ্রেণির কেউ না থাকে, তাহলে মৃতের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে অর্পিত হবে। উল্লেখ্য যে, অত্র আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি তখন বণ্টন হবে, যখন উক্ত সম্পত্তি উইলমুক্ত হবে। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তি কর্তৃক যদি সম্পত্তি উইল করে যাওয়া হয়, তাহলে উক্ত রেখে যাওয়া সম্পত্তি উইলকারী বরাবর অর্পিত হবে, উত্তরাধিকারী বরাবর নয়। অন্যদিকে এ আইনে বিধবা স্ত্রী বা ক্ষেত্রমতে স্বামীকে উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে বসবাসকারী বৌদ্ধরা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে হিন্দু দায়ভাগ আইন দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। যদিও ১৯৫৬ সালে ভারতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে বৌদ্ধদের উত্তরাধিকারের বিষয়টি ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন এবং হিন্দু দায়ভাগ আইনের সমন্বয়ে স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে অদ্যবধি তদ্রুপ কোনো সংশোধনী গৃহীত হয়নি। ফলে উত্তরাধিকারের বিষয়ে এ দেশের বৌদ্ধরা পুরোপুরিভাবে হিন্দু দায়ভাগ আইন দ্বারা শাসিত হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশে বসবাসরত বৌদ্ধরা সরাসরি হিন্দু দায়ভাগ আইন দ্বারা এবং ভারতীয় বৌদ্ধরা কিছুটা সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে হিন্দু দায়ভাগ আইন দ্বারা শাসিত হয়। তবে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ব্রহ্মদেশের (মিয়ানমার) বৌদ্ধরা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ব্রহ্মদেশীয় বৌদ্ধ আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। অর্থাৎ তারা তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মারুয়া বৌদ্ধরা মারুয়া বৌদ্ধ আইন দ্বারা উত্তরাধিকার প্রশ্ন সুরাহা করে থাকে। অর্থাৎ সংক্ষেপে বলা যায়, বাংলাদেশের মারুয়া বৌদ্ধরা ছাড়া বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উত্তরাধিকার দায়ভাগ হিন্দু আইনে আওতাভুক্ত এবং ব্রহ্মদেশীয় বৌদ্ধরা ও বাংলার মারুয়া বৌদ্ধরা যথাক্রমে ব্রহ্মদেশীয় বৌদ্ধ আইন ও মারুয়া বৌদ্ধ আইন দ্বারা পরিচালিত।

বস্তুত বৌদ্ধধর্মে উত্তরাধিকার সম্পত্তি বা সংসার জীবনের সহায় সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ নেই, যেমনটা কোরআনে রয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, গৌতম বুদ্ধ বৌদ্ধ ধর্মের স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি শাক্য রাজবংশের এক ক্ষত্রিয়-ব্রাহ্মণ পরিবারে রাজপুত্র হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। অর্থাৎ তিনি একটি সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে স্বতন্ত্র ধর্ম সৃষ্টি করেন; যা বৌদ্ধ ধর্ম নামে পরিচিত। যেহেতু বৌদ্ধ ধর্মের সূত্রপাত ঘটেছে হিন্দুধর্ম থেকে; সেহেতু বৌদ্ধ ধর্মে উত্তরাধিকার সংশ্লিষ্ট বিধান না থাকায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী হিন্দু আইন অনুযায়ী তাদের উত্তরাধিকার নির্ধারণ করে। তবে বর্তমানে কতিপয় বৌদ্ধভিক্ষু উত্তরাধিকার সংশ্লিষ্ট কিছু নীতিমালা তৈরি করেছেন, যেটা এখনো বৌদ্ধ সম্প্রদায় বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বৌদ্ধ উত্তরাধিকার সংশ্লিষ্ট নীতিমালা গৃহীত হলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী তারা তাদের উত্তরাধিকার সংশ্লিষ্ট স্বকীয়তা ফিরে পাবে। তবে অচিরেই উত্তরাধিকার সংশ্লিষ্ট এরূপ একটি বিধান আইনে রূপ নেবে বলেই আইনজ্ঞরা মনে করছেন।

লেখক : শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

জমি ক্রয় করার পূর্বে যে ৭ টি জিনিসগুলো যাচাই করা জরুরী।
14/02/2024

জমি ক্রয় করার পূর্বে যে ৭ টি জিনিসগুলো যাচাই করা জরুরী।

অনলাইনে জমির খতিয়ান যাচাই করার পদ্ধতি।
10/02/2024

অনলাইনে জমির খতিয়ান যাচাই করার পদ্ধতি।

দলিল রেজিস্ট্রেশন করার পরেই জমি মিউটেশন করে ফেলুন।
16/01/2024

দলিল রেজিস্ট্রেশন করার পরেই জমি মিউটেশন করে ফেলুন।

খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জমির মালিকদের অবশ্যই পালনিয়...
12/01/2024

খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জমির মালিকদের অবশ্যই পালনিয়...

12/01/2024

আইন কানুন:
ভূমি বিষয়ক নিম্নের তথ্যাবলী প্রত্যেকেরই জানা উচিত! “পর্চা”, “দাগ”, “খতিয়ান”, “মৌজা”, “জমা খারিজ”, “নামজারি”, “তফসিল” ইত্যাদি বিষয়ের ডেফিনেশন এবং জেনে নিন ভূমি বিষয়ক জরুরী সব তথ্য।

১!“নামজারী” বা মিউটেশন কাকে বলে?
ক্রয়সূত্রে/উত্তরাধিকার সূত্রে অথবা যেকোন সূত্রে জমির নতুন মালিক হলে নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারী বলা হয়।

২!“জমা খারিজ”কাকে বলে?
যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে। অন্য কথায় মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমির অংশ নিয়ে নতুন জোত বা খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে।

৩!“খতিয়ান” কাকে বলে?
ভূমি জরিপকালে ভূমি মালিকের মালিকানা নিয়ে যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে “খতিয়ান” বলে।
খতিয়ান প্রস্তত করা হয় মৌজা ভিত্তিক। আমাদের দেশে CS, RS, SA এবং সিটি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। এসব জরিপকালে ভূমি মালিকের তথ্য প্রস্তত করা হয়েছে তাকে “খতিয়ান” বলে। যেমন CS খতিয়ান, RS খতিয়ান…
ভূমি জরিপ: CS, RS, PS, BS কি?

৪!ভূমি বা Land কাকে বলে?
“ভূমি কাকে বলে?”- এর আইনী সংজ্ঞা রয়েছে। The State Acquisition and Tenancy Act, 1950- এর ২(১৬)- ধারা মতে, “ভূমি (land) বলতে আবাদি, অনাবাদি অথবা বছরের যেকোন সময় পানিতে ভরা থাকে এবং ভূমি হতে প্রাপ্ত সুফল, ঘরবাড়ি বা দালান কোঠা বা মাটির সঙ্গে সংযুক্ত অন্যান্য দ্রব্য অথবা স্হায়ীভাবে সংযুক্ত দ্রব্য এর অন্তর্ভুক্ত বুঝাবে।”

৫! ভূমি জরিপ/রেকর্ড কাকে বলে? ভূমি জরিপ হচ্ছে ভূমির মালিকানা সম্বলিত ইতিহাসের সরেজমিন ইতিবৃত্ত।
আইনী সংজ্ঞা হচ্ছে, The Survey Act, 1875 এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী সরকারের জরিপ বিভাগ সরেজমিন জরিপ করে ভূমির মালিকানার যে বিবরণ
এবং নকশা তৈরী করে তাই রেকর্ড বা জরিপ। অর্থাৎ রেকর্ড বা জরিপ হচ্ছে মালিকানার বিরবণ এবং নকশার সমন্বয়। একটি ভূমির মালিক কে এবং তার সীমানা কতটুকু এটা ভূমি জরিপের মাধ্যমে নকশা/ম্যাপ নির্ণয় করা হয়। এই নকশা এবং ম্যাপ অনুসারে মালিকানা সম্পর্কিত তখ্য যেমন ভূমিটি কোন মৌজায় অবস্থিত, এর খতিয়ান নাম্বার, ভূমির দাগ নাম্বার, মালিক ও দখলদারের বিবরণ ইত্যাদি প্রকাশিত হয় যাকে খতিয়ান বলে। রেকর্ড বা জরিপ
প্রচলিতভাবে খতিয়ান বা স্বত্ত্বলিপি বা Record of Rights (RoR) নামেও পরিচিত। রেকর্ড বা জরিপের ভিত্তিতে ভূমি মালিকানা সম্বলিত বিবরণ খতিয়ান হিসেবে পরিচিত। যেমন CS খতিয়ান, RS খতিয়ান, ইত্যাদি। আমাদের দেশে পরিচালিত ভূমি জরিপ বা রেকর্ড গুলো হচ্ছে;
1. CS -Cadastral Survey
2. SA- State Acquisition Survey (1956)
3. RS -Revitionel Survey
4. PS – Pakistan Survey
5. BS- Bangladesh Survey (1990)

ক) সি.এস. জরিপ/রেকর্ড (Cadastral Survey)
“সিএস” হলো Cadastral Survey (CS) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। একে ভারত উপমহাদেশের প্রথম জরিপ বলা হয় যা ১৮৮৯ সাল হতে ১৯৪০ সালের মধ্যে পরিচালিত হয়। এই জরিপে বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের দশম অধ্যায়ের বিধান মতে দেশের সমস্ত জমির বিস্তারিত নকশা প্রস্তুত করার এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপুর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করার বিধান করা হয়। প্রথম জরিপ হলেও এই জরিপ প্রায় নির্ভূল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। মামলার বা ভূমির জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রে এই জরিপকে বেস হিসেবে অনেক সময় গণ্য করা হয়।
খ) এস.এ. জরিপ (State Acquisition Survey)
১৯৫০ সালে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সরকার ১৯৫৬ সালে সমগ্র পূর্ববঙ্গ প্রদেশে জমিদারী অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয় এরং রায়েতের সাথে সরকারের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে জমিদারদের প্রদেয় ক্ষতিপুরণ নির্ধারন এবং রায়তের খাজনা নির্ধারনের জন্য এই জরিপ ছিল।
জরুরী তাগিদে জমিদারগন হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই জরিপ বা খাতিয়ান প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।
গ) আর.এস. জরিপ ( Revisional Survey)
সি. এস. জরিপ সম্পন্ন হওয়ার সুদীর্ঘ ৫০ বছর পর এই জরিপ পরিচালিত হয়। জমি, মলিক এবং দখলদার ইত্যাদি হালনাগাদ করার নিমিত্তে এ জরিপ সম্পন্ন করা হয়। পূর্বেও ভুল ত্রুটি সংশোধনক্রমে আ. এস জরিপ এতই শুদ্ধ হয় যে এখনো জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আর, এস জরিপের উপর নির্ভর করা হয়। এর খতিয়ান ও ম্যাপের উপর মানুষ এখনো অবিচল আস্থা পোষন করে।
ঘ) সিটি জরিপ (City Survey)
সিটি জরিপ এর আর এক নাম ঢাকা মহানগর জরিপ। আর.এস. জরিপ এর পর বাংলাদেশ সরকার কর্তিক অনুমতি ক্রমে এ জরিপ ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। এ যবত কালে সর্বশেষ ও আধুনিক জরিপ এটি। এ জরিপের পরচা কম্পিউটার প্রিন্ট এ পকাশিত হয়।

৬!“পর্চা” কাকে বলে?
ভূমি জরিপকালে চূড়ান্ত খতিয়ান প্রস্তত করার পূর্বে ভূমি মালিকদের নিকট খসড়া খতিয়ানের যে অনুলিপি ভুমি মালিকদের প্রদান করা করা হ তাকে “মাঠ পর্চা” বলে। এই মাঠ পর্চা রেভিনিউ/রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তসদিব বা সত্যায়ন হওয়ার পর যদি কারো কোন আপত্তি থাকে তাহলে তা শোনানির পর খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়। আর চুড়ান্ত খতিয়ানের অনুলিপিকে “পর্চা” বলে।

৭!“মৌজা” কাকে বলে?
যখন CS জরিপ করা হয় তখন থানা ভিত্তিক এক বা একাধিক গ্রাম, ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লা অালাদা করে বিভিন্ন এককে ভাগ করে ক্রমিক নাম্বার দিয়ে চিহ্তি করা হয়েছে। আর বিভক্তকৃত এই প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে।
৮!“তফসিল” কাকে বলে?
জমির পরিচয় বহন করে এমন বিস্তারিত বিবরণকে “তফসিল” বলে। তফসিলে, মৌজার নাম, নাম্বার, খতিয়ার নাম্বার, দাগ নাম্বার, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমাণ সহ ইত্যাদি তথ্য সন্নিবেশ থাকে।

৯!“দাগ” নাম্বার কাকে বলে? যখন জরিপ ম্যাপ প্রস্তুত করা হয় তখন মৌজা নক্সায় ভূমির সীমানা চিহ্নিত বা সনাক্ত করার লক্ষ্যে প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদা আলাদ নাম্বার দেয়া হয়। আর এই নাম্বারকে দাগ নাম্বার বলে। একেক দাগ নাম্বারে বিভিন্ন পরিমাণ ভূমি থাকতে পারে। মূলত, দাগ নাম্বার অনুসারে একটি মৌজার অধীনে ভূমি মালিকের সীমানা খূটিঁ বা আইল দিয়ে সরেজমিন প্রর্দশন করা হয়।

১০!“ছুটা দাগ” কাকে বলে?
ভূমি জরিপকালে প্রাথমিক অবস্থায় নকশা প্রস্তুত অথবা সংশোধনের সময় নকশার প্রতিটি ভূমি এককে যে নাম্বার দেওয়া হয় সে সময় যদি কোন নাম্বার ভুলে বাদ পড়ে তাকে ছুটা দাগ বলে। আবার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি দুটি দাগ একত্রিত করে নকশা পুন: সংশোধন করা হয় তখন যে দাগ নাম্বার বাদ যায় তাকেও ছুটা দাগ বলে।

১১!“খানাপুরি” কাকে বলে? জরিপের সময় মৌজা নক্সা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফর্মের প্রত্যেকটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরন করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।

১২!“আমিন” কাকে বলে?
ভূমি জরিপের মাধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তত ও ভূমি জরিপ কাজে নিযুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলে।

১৩!“কিস্তোয়ার” কাকে বলে?
ভূমি জরিপ কালে চতুর্ভুজ ও মোরব্বা প্রস্তত করার পর সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খন্ড খন্ড ভুমির বাস্তব ভৌগলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে।

১৪!“খাজনা” ককে বলে?
সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে প্রজার নিকট থেকে ভূমি ব্যবহারের জন্য যে কর আদায় করে তাকে খাজনা বলে।

১৫!“দাখিলা” কাকে বলে?
ভূমি কর/খাজনা আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফর্মে ( ফর্ম নং১০৭৭) ভূমি কর/খাজনা আদায়ের প্রমান পত্র বা রশিদ দেওয়া হয় তাকে দাখিলা বলা হয়।

১৬!"DCR কাকে বলে?
ভূমি কর ব্যতিত আন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফর্মে (ফর্ম নং ২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে DCR বলে।

১৭!“কবুলিয়ত” কাকে বলে?
সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহণ করে খাজনা প্রদানের যে অঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।

১৮!“নাল জমি” কাকে বলে?
২/৩ ফসলি সমতল ভূমিকে নাল জমি বলা হয়।

১৯!“খাস জমি” কাকে বলে?
সরকারের ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর বা ডিসি তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে।

২০!“চান্দিনা ভিটি” কাকে বলে?
হাট বাজারের স্থায়ী বা অস্থায়ী অকৃষি জমির যে অংশ প্রজার প্রতি বরাদ্ধদ দেওয়া হয় তাকে চান্দিনা ভিটি বলে।

২১!“ওয়াকফ” কাকে বলে?
ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোন ভূমি তার মালিক কর্তৃক ধর্মীয় ও সমাজ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন দান করাকে ওয়াকফ বলে।

২২!“মোতওয়াল্লী” কাকে বলে?
যিনি ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান করেন তাকে মোতওয়াল্লী বলে। ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিত মোতওয়াল্লী ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না।

২৩!“দেবোত্তর” সম্পত্তি কাকে বলে?
হিন্দুধর্ম মতে, ধর্মীয় কাজের জন্য উৎসর্গকৃত ভূমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি বলে।

২৪!“ফরায়েজ” কাকে বলে?
ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফরায়েজ বলে।

২৫!“ওয়ারিশ” কাকে বলে?
ওয়ারিশ অর্থ উত্তরাধিকারী । ধর্মীয় বিধানের অনুয়ায়ী কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যু বরন করলে তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণকে ওয়ারিশ বলে।
২৬! “সিকস্তি” কাকে বলে?
নদী ভাঙ্গনের ফলে যে জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায় তাকে সিকস্তি বলে। সিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়ন্তি হয় তাহলে সিকস্তি হওয়ার প্রাক্কালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রাপ্য হবেন।

২৭!“পয়ন্তি” কাকে বলে?
নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়ন্তি বলে।

২৮!“দলিল” কাকে বলে?
যে কোন লিখিত বিবরণ আইনগত সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন সাধারন ভাবে তাকে দলিল বলে।

ভূমির পরিমাপঃ

ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতকঃ
***************************
১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট
১ শতাংশ =১০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ শতাংশ = ৪৮.৪০ বর্গগজ
৫ শতাংশ = ৩ কাঠা = ২১৭৮ বর্গফুট
১০ শতাংশ = ৬ কাঠা = ৪৩৫৬ বর্গফুট
১০০ শতাংশ = ১ একর =৪৩৫৬০বর্গফুট

কাঠা পরিমাপঃ
****************
১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট/৭২১.৪৬ বর্গফুট
১ কাঠা = ৮০ বর্গগজ/৮০.১৬ বর্গগজ
১ কাঠা = ১.৬৫ শতাংশ
২০ কাঠা = ১ বিঘা
৬০.৫ কাঠা =১ একর

একরের পরিমাপঃ
******************
১ একর = ১০০ শতক
১ একর = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
১ একর = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ একর = ৪,৮৪০ বর্গগজ
১ একর = ৬০.৫ কাঠা
১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক
১ একর = ১০ বর্গ চেইন = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ একর = ৪,০৪৭ বর্গমিটার
১ শতক = ০.৫ গন্ডা বা ৪৩৫.৬০ বর্গফুট

বিঘা পরিমাপঃ
*************
১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট /১৪৫২০বর্গফুট
১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিঙ্ক
১ বিঘা = ৩৩ শতাংশ
১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ/১৬১৩ বর্গগজ
১ বিঘা = ২০ কাঠা
৩ বিঘা ৮ ছটাক = ১.০০ একর

লিঙ্ক পরিমাপঃ
****************
১লিঙ্ক = ৭.৯ ইঞ্চি /৭.৯২ ইঞ্চি
১লিঙ্ক =০.৬৬ ফুট
১০০ লিঙ্ক = ৬৬ ফুট
১০০ লিঙ্ক = ১ গান্টার শিকল
১০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ শতক
১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ একর

কানি একর শতকে ভূমির পরিমাপঃ
*******************************
১ কানি = ২০ গন্ডা
১ গন্ডা = ২ শতক
১ শতক =২ কড়া
১ কড়া = ৩ কন্ট ১ কন্ট = ২০ তিল

ফুট এর হিসাবঃ
*****************
১ কানি = ১৭২৮০ বগফুট
১ গন্ডা = ৮৬৪ বফু
১ শতক= ৪৩৫.৬০ বফু
১ কড়া = ২১৭.৮ বফু
১ কন্ট = ৭২ বফু
১ তিল= ৩.৬ বফু

বর্গগজ/বর্গফুট অনুযায়ী শতাংশ ও একরের পরিমাণঃ
*********************************
৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর
৪৩৫৬০ বর্গফুট= ১ একর
১৬১৩ বর্গগজ= ১ বিঘা
১৪৫২০বর্গফুট = ১ বিঘা
৪৮.৪০ বর্গগজ = ০১ শতাংশ
৪৩৫.৬০ বর্গফুট= ০১ শতাংশ
৮০.১৬ বর্গগজ= ১ কাঠা
৭২১.৪৬ বর্গফুট = ১ কাঠা
৫.০১ বর্গগজ = ১ ছটাক
২০ বর্গহাত = ১ ছটাকা
১৮ ইঞ্চি ফুট= ১ হাত (প্রামাণ সাই)
শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিন।

Address

সাতগাঁও, চান্দিনা, কুমিল্লা
Cumilla
3519

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ভুমি সংক্রান্ত সকল তথ্য posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to ভুমি সংক্রান্ত সকল তথ্য:

Share