21/09/2015
[আপনি যদি ওয়াল্টনের ফোন কেনার ইচ্ছা করে থাকেন আপনাকে অভিনন্দন। কষ্ট করে এই লেখাটা পড়ুন। যা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। আর ৩৯ বার প্র্যাক্টিক্যাল্যি ভাবার হয়ত প্রয়োজন পড়বে না।]
"ওয়াল্টনের কনফিগারেশন জোস! দাম কম! তার উপর দেশী পণ্য!" কথাগুলো একেবারে ফেলনা না। ওয়াল্টনের স্লোগান হচ্ছে "আমাদের পণ্য"। চমৎকার একটা স্লোগান। দেখব আজ আমাদের পণ্য আমাদের জন্য কি নিয়ে আসছে!!!
এই বছরের জুন মাসে অনেক চিন্তা-ভাবনার শেষে Waltonbd এর HM mini সেটটা কিনলাম। কনফিগারেশন ভাল। দামও তুলনামূলক কম। মানসিক প্রস্তুতি ছিল যে এক বছর ব্যবহার করব। এরপর নষ্ট না হলে ভাল নষ্ট হলেও অসুবিধা নাই। ১ বছরের ওয়ারেন্টি তো আছেই!
সারাদিন ল্যাপটপ ইউজ করাতে ফোনের কাজ ছিল মূলত কল ধরা আর টুকটাক মেসেজ পাঠানো। ঘুম থেকে উঠে মেইল চেক করা। আর এন্ড্রয়েড এপ ডেভেলপমেন্টের প্রোজেক্টগুলোর কোড রান করে টেস্ট করা। এছাড়া তেমন কোন ব্যবহার নাই বললেই চলে।
এখন ঢুকব ৩৯ এর ঘটনায়!
নানামুখী সমস্যার জন্য সেট কেনার দুই মাসের মাথায় কাস্টমার কেয়ারে দিয়ে আসলাম। বলল ৭ দিন লাগবে। মুখ হা হয়ে গেল, ৭ দিন কেমনে থাকব ফোন ছাড়া? যাই হোক দিয়ে আসলাম। আরেক জনের সেট নিয়ে ইউজ করতে থাকলাম। ১৪ দিন পরে ফোন দিলাম কাস্টমার কেয়ারে। এক ভদ্রলোক জানালেন সেটটা একজন এক্সপার্টের হাতে আছে। আমি খুব শীঘ্রই পেয়ে যাব। বিরাট আনন্দে অপেক্ষা করে কয়দিন পরে আবার ফোন দিলাম। এক সুকন্ঠী আপু ফোন ধরায় খুব বেশি ঝাড়ি মারতে পারি নাই।আগের জনের মতই জানালো খুব দ্রুত পেয়ে যাব। এরপর আবার ফোন দিলাম কয়দিন পরে। একই কথা জানাল।
গেলাম রূপনগর শাখার ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে। রুমে ঢুকতেই তিনি বললেন "যা বলার সংক্ষেপে বলেন" (সম্ভবত উনি মনে করেছিলেন আমি খোশ গল্প করতে গিয়েছি)। তিনি আরো জানালেন আমার সাথে দেখাই করতে চান নাই। চোখ উঠায় বাসায় চলে যাবেন। অনেকক্ষন অপেক্ষা করেছিলাম তাই দেখা করেছেন! (আহা... কত্ত বড় দয়ার সাগর তিনি!)। তিনি বললেন সেটের এই সমস্যার জন্য এক্সিকিউটিভের সাথে কথা বলতে। না হলে উনি কিছু করতে পারবেন না।
এক্সিকিউটিভের সাথে দেখা করলাম। বলল বৃহস্পতিবার আসেন। গেলাম বৃহস্পতিবার। বললেন কাজ হয় নাই। একটু বেশি প্রবলেম হইছে সেটে। পরের বৃহস্পতিবার আসেন। ম্যানেজারের সাথেও কথা বললাম। উনি ফোন দিয়ে সেটের খবর নিলেন। গেলাম পরের বৃহস্পতিবার। বলল কাজ প্রায় শেষ, আপনি রবিবার আসেন। এইখানে এসে আমি বড়ই চমৎকৃত হলাম। বললাম আমার চাকরি ছেড়ে দিয়ে ওয়াল্টনে চাকরি নেয়া উচিত ছিল। ডেইলি এসে হাজিরা দিয়ে যেতে পারতাম। বললাম লিখিত দেন যে রবিবার সেট পাওয়া যাবে। এক্সিকিউটিভ বললেন লিখিত দেয়ার সিসটেম নাই। ম্যানেজারের সাথে কথা বললাম। এইবার ফোনে ম্যানেজার খুব কড়া ভাষায় ফোনে ল্যাবের সাথে কথা বললেন। বললেন রবিবার সেট না দিতে পারলে নতুন সেট দেয়ার ব্যবস্থা করতে।
বড় আশা নিয়ে আজ (২০/০৯/২০১৫) রবিবার ১২টার দিকে গেলাম। বলল ফোন ল্যাব থেকে আসতেছে। বিকালে আসেন। বাহ... আনন্দ কেবল শুরু! আগামীকাল ঢাকার বাইরে যাব Megaminds Web & IT Solutions এর ৩টা স্কুলের ম্যানেজমেন্ট সিসটেমের ডেলিভারি দিতে। পাহাড় পরিমাণ কাজের মাঝে গেলাম একটু ফাঁক বের করে। এখন কিনা বলে বিকাল ৫টায় আসতে। আরেক জনের সাথে বিকালের মিটিং ক্যানসেল করে ৫টায় গেলাম। বলল ফোন মাঝ পথে আছে, বসে অপেক্ষা করেন! কেয়া বাত হ্যায়!!! বের হয়ে আসলাম। সোয়া ৬টায় ফোন দিয়ে জানাল অবশেষে ফোনটা এসেছে। দুরুদুরু বুকে গেলাম। আসলেই! ৩৯ দিন পরে সেটটা হাতে নিলাম। আমার কেনা প্রথম স্মার্টফোন!!!
সিমগুলো ঢুকালাম। স্টার্ট করে ওয়েট করেই যাচ্ছি... নেটওয়ার্ক পায় না ফোন!!! বহুতক্ষন গুতাগুতি করেও কিছু করতে পারল না। বলল কালকে সকালে আসেন।
আমি বললাম ভাই, ফোনটা রাইখা দ্যান! এই ফোন দরকার নাই আমার। আমার ফোন ঠিক করা লাগবে না!
শেষে বলল কাল ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আমাকে জানাবে। এটা ঠিক করার মত না হলে নতুন সেটের জন্য আবেদন করতে হবে। ৭ দিন লাগতে পারে এপ্রুভড হতে! জানি না কবে সেটটা পাব, বা আদৌ পাব কিনা।
"এই ছিল আমার ঘটনা রাষেল ভাই..."
এই পর্যন্ত কেউ পড়েছে বলে মনে হয় না। ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটেছে তাই না? ওয়াল্টনের অন্তত অর্ধেক কাস্টমারের এক্সপেরিয়েন্স এরকম। যাদের ফোন সমস্যা হয়েছে তাদের লাইফ এভাবে এরা ত্যানা ত্যানা করে। আমার ফ্রেন্ড Masum Billah এর ফোনের মাদারবোর্ড চেঞ্জ করার জন্য ২ মাস ৬ দিন আটকে রেখেছিল ফোন।
Arif R Hossain ভাইয়া (ট্যাগ করার জন্য খুবই দুঃখিত ভাইয়া। লিস্টে আছি তাই লোভ সামলাতে পারলাম না) দেশীয় ব্র্যান্ড নিয়ে একটা টিউন দিয়েছিলেন কয়েক দিন আগে। বলেছিলেন ব্র্যান্ডের সমালোচনা যেন এমন হয় যেটা বৃষ্টির মত গাছকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে। উপড়ে ফেলবে না। এমন অভিজ্ঞতা হবার পরেও কি দেশীয় ব্র্যান্ডের কাছে যাব? আমি জীবনেও যাব না। আমার ফ্যামিলি বা বন্ধুদেরকেও পরামর্শ দিব না যাওয়ার জন্য।
একদিন হয়ত আবার দেশীয় ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য কিনব। যখন সকালে একটা নষ্ট হলে সেটার চিন্তা বাদ দিয়ে বিকালে আরেকটা কিনতে পারব। এর আগে নয়। এই দেশে ভোক্তা অধিকার আইন নামক কি যেন একটা বস্তুর কথা মাঝেমধ্যে শুনি। এইটা কি জিনিস? খায় নাকি মাথায় দ্যায়?
এতদিন আক্ষেপ করে বললেও নিচের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট গত দেড় মাসে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিঃ
"বাঙ্গালীর দেশপ্রেম ঐ মুরগি পর্যন্তই!"
ঠিকই আছে... অনলি দেশী মুরগি ইজ রিয়েল নট মোবাইল ফোন!
[আমি বিশ্বাস করি ওয়াল্টনের খুব উপরের পর্যায়ের কারো চোখে টিউনটা পড়বে। এতে হয়ত এরকম ভাগ্য বরণ করা মানুষের পরিমাণ কমবে। তাই টিউন করা। আশা করি ওয়াল্টন একদিন ব্যবহারকারী বান্ধব একটা প্রতিষ্ঠান হবে। যাদের কাজ হবে গ্রাহক হয়রানী নয় বরং গ্রাহককে সেবা দেয়া! সেদিনের অপেক্ষায় রইলাম। সেদিন গর্বই করব ওয়াল্টনকে নিয়ে।]