25/12/2022
প্রতিদিন মিসওয়াক-একটি হারানো সুন্নাহ
পশ্চিমাদের কাছে হয়তো এই জিনিসটা নতুন ও অবাক লাগবে যে একটা গাছের ডাল
দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা যায়।কিন্তু মুসলমানদের জন্য এটি একটি বহুল পরিচিত সুন্নাহ।একটি মাত্র গাছের ডাল,কিন্তু তা ব্রাশ ও কেমিক্যাল পেস্টের চেয়ে দাঁতের যত্নে অনেক বেশি কার্যকরী।
আরাক গাছের ডাল দিয়ে সাধারণত মিসওয়াক বানানো হয়।
এছাড়াও জলপাই ও ওয়ালনাট গাছের ডালও মিসওয়াক হিসেবে ব্যবহাত করা হয়। অবাক হলেও সত্য, আজকাল পশ্চিমারাও ভিন্নরূপে এর মর্মার্থ অনুধাবন করতে পেরেছে।
তাই তারা কাঠ এবং ব্যাম্বু দিয়ে উৎপাদিত দাঁত মাজার
ব্রাশের ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) প্রতিদিন মিসওয়াক করতেন।বিভিন্ন হাদিস থেকে আমরা দেখি সকালে,রাতে ঘুম থেকে উঠে, নামাজের আগে,অজুর সময়,এমনকি রোজা অবস্থায়ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মিসওয়াক করেছেন।আসুন জেনে নেই মিসওয়াক করার কি কি উপকারিতা রয়েছে।
১.মাড়িতে রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করেঃ
মিসওয়াকে রয়েছে ব্যাকটেরিয়ারোধি বৈশিষ্ট যা মাড়িতে রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধংস করে মাড়িকে রোগ হওয়া থেকে রক্ষা করে।
২. দাঁতের প্লাক তৈরি রোধ করেঃ
মিসওয়াকের ছালে রয়েছে এন্টিবায়োটিক যা দাঁতের প্লাক তৈরির হার কমানোর সাথে সাথে ব্যাকটেরিয়ার বংশ বৃদ্ধির হারও কমিয়ে দেয়।এটি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত যে
প্রতিদিন মিসওয়াক ব্যবহারের ফলে কারসিনোজেনিক ব্যাকটেরিয়া,জিনজাইভিটিসও প্লাক তৈরির হার অনেক কমে যায়।
৩. দাঁতের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করেঃ
প্রতিদিন্ মিসওয়াকের ব্যবহার দাঁতের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।এটি চা, কফি বা খাবারের কারণে সৃষ্ট দাঁতের হলদেটে ভাব দূর করে দাঁতকে আরও সাদা ও ঝকঝকে করে তোলে।
৪. মুখে সুবাস সৃষ্টি করেঃ
প্রতিদিন মিসওয়াকের ব্যবহারে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় ও একটি সুবাস সৃষ্টি হয় মুখে। পকেটে বা ব্যাগে মিসওয়াক রাখলে তা হতে পারে মুখে দুর্গন্ধের সহজ সমাধান। চট করে মিসওয়াক করে নিতে পারে যে কোন সময়ে; পেস্ট, ফেনা, কুলি এসবের ঝামেলা ছাড়াই।
৫. দাঁতের কলাইকে মজবুত করেঃ
মিসওয়াকের ডালে রয়েছে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাই কার্বনেট, ক্যালসিয়াম অক্সাইড।এই মিনারেলগুলো দাঁতের কলাইকে মজবুত করে।
৬. টুথ ব্রাশ ও ফ্লসের কাজ করেঃ
এর কচি ব্রাশ ও ফ্লস উভয়ের কাজ করে এবং দুই দাঁতের মধ্যবর্তী ময়লা পরিষ্কার করে।এটি টেস্ট বাডের সংরক্ষণ ও স্বাদ বৃদ্ধির কাজও করে।
৭. ১০০% প্রাকৃতিক টুথপেস্টঃ
এটি ১০০% প্রাকৃতিক হওয়ার কারণে কেমিক্যাল টুথপেস্টের চেয়ে এটি অনেক বেশি উত্তম।এতে কোন ক্ষতিকারক কেমিক্যেল নেই, না আছে কোন আর্টিফিশিয়াল রঙ ওস্বাদ। তাছাড়া পেস্টে ফ্লোরাইড থাকে যা খেয়ে ফেললে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
৮. পুষ্টিকর উপাদানঃ
মিসওয়াকে রয়েছে নিউট্রিয়েন্টস যেমন ফ্লোরিন, সিলিকন, ভিটামিন সি, স্যালভেডরিন ও ট্রাইমিথাইলএমিন। তাই
আমার সুস্বাস্থ্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে মিসওয়াকের
ব্যাবহার।
৯. দাঁতের ক্ষয় রোধ করেঃ
এটি দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।এই প্রাকৃতিক টুথব্রাশ দাঁতকে পরিষ্কার রাখে ও দাঁতের ময়লা ও জীবাণু দূর করে ফলে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।
১০.দাঁতের ব্যথা কমায়ঃ
যেহেতু মিসওয়াকের ব্যবহারের ফলে জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া ধংস হয় এবং দাঁতের ক্যাভিটি ও জিনজাইভিটি রোধ করে, ফলে দাঁতের ব্যথা কমায়।
আল্লাহ যখন প্রকৃতিতেই দাঁতের যত্নের জন্য এতো ভালো মিসওয়াক দিয়েছেন তাহলে আর কেন কৃত্রিম ব্রাশ ও টুথপেস্টের ব্যবহার করবো??
বাচ্চাদেরকেও ছোটবেলা থেকেই এই সুন্নাহ অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারি আমরা। আসুন আমরা আল্লাহ প্রদত্ত উপায়ে দাঁতের যত্ন নেই ও এই হারানো সুন্নাহকে নতুন করে উজ্জীবিত করি।