30/07/2026
গত শুক্রবার শ্বশুরবাড়ির দিকে এক ভাবীর মৃত্যুর ৪ দিনের
মিলাদে গেলাম। দীর্ঘদিন বাচ্চা কনসিভ হচ্ছিলো না। নিজের ও শ্বশুরবাড়ির খুব অল্প কয়েকজনকে জানানো হয়েছিলো যে উনারা ইন্ডিয়া যাচ্ছে কনসিভের জন্য। সারপ্রাইজ দিবেন সবাইকে। ইন্ডিয়াতে দীর্ঘদিনের বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে টুইন বাচ্চা কনসিভ করেছিলো। ১ ছেলে, ১ মেয়ে। সেখানেই পুরো প্রেগন্যান্সি পিরিয়ড কাটানোর ৮ মাস চলছিলো। আর ৩ সপ্তাহ পর সিজার করবেন।যখন মারা গেলো তখন তার কাছে শুধু কেয়ারগিভার ভারতীয় মহিলা ছিলেন। জরুরী কাজে স্বামী ও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় মা কয়েকদিন আগে দেশে ফিরে আসেন। রোগীই বলেছিলেন জরুরী কাজ শেষে যেনো যায়। এখন তার কোনও রিলেটিভের উনার কাছে যাওয়ার দরকার নাই। শিক্ষিত, এলার্ট রোগী। মারা যাওয়ার ৪ দিন আগে প্রেশার বেড়ে গেলো। তাদের সংশ্লিষ্ট ডাক্তারকে জানালো ফোনে। ডাক্তার নাকি বলেছেন ৩ দিন দেখতে না কমলে ওষুধ শুরু করতে বলেছে। কিন্তু কোনও মেডিক্যাল পারসন তাকে ভিজিট করেন নাই। ৩ দিন পরও উনার প্রেশার না কমায় আর অস্থির লাগার কারনে ওষুধ শুরু করেন। কিন্তু খারাপ লাগা বেড়েই চলছিলো। শেষে হাসপাতালে যান, যেতেই জানতে পারে পেটের বাচ্চারা অলরেডী মা-রা গেছেন। রোগীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। বাচ্চা দ্রুত বের করতে হবে। কিন্তু কোনও রিলেটিভ না থাকায়, ঐভাবে কিছুই করা হয় নাই। রোগীও ওটির টেবিলে উঠানোর কয়েক মিনিটের মধ্যে মা-রা যান। তাদের ইচ্ছা ছিলো পরিবারের সদস্যদের সারপ্রাইজ দিবে ২ বাচ্চা সহ। রোগীর স্বামী নেগলিজেন্সের জন্য ঐখানে নাকি লিগ্যাল একশান নিতে চেয়েছিলো। উনাকে বুঝিয়েছে, এমনিই ভীনদেশ, কি লাভ এসব করার উনার ওয়াইফ তো আর ফিরে আসবে না!!
অথচ আমাদের মেডিকেল স্টুডেন্টরাও জানে গর্ভবস্থায় প্রেশার বেড়ে গেলে , বিশেষ করে ৩০-৩২ সপ্তাহের পর কখনই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ এটি প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই severe preeclampsia, eclampsia, HELLP syndrome, placental abruption, এমনকি মা ও শিশুর মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এক্ষেত্রে দ্রুত ডাক্তার শরনাপন্ন হতে হবে, হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, ইভেন HDU/ ICU তে থেকে চিকিৎসা করাতে হবে।
কিছুই বলার নাই, শুধু ঘটনাটা জানিয়ে রাখলাম। কেউ তো এই ঘটনাগুলো শেয়ার করে না কখনো।
খুবই খারাপ লেগেছে আমার। নিজে এখন ট্রেনিং এ আছি। ভাবীর বাসা আমার হাসপাতাল থেকে ১০ মিনিটের রাস্তা!! কনিসিভ করে যদি চলেও আসতো, নিয়মিত আমার এখানে ফলো আপে থাকতে পারতেন!
আল্লাহ্ যেনো ভাবীকে বেহেশতে নসীব করেন। তার পাখিদের সাথে জান্নাতের বাগানে ঘুরে বেড়াক। আমীন।