10/04/2026
বাগেরহাটে খান জাহান আলী মাজারের পুকুরপাড়ে বেজায় ভিড়। এলাকার সব মানুষ জড়ো হয়েছে তামাশা দেখার জন্য।
পুকুরের সিঁড়ি থেকে একটু দূরে অল্প পানিতে ছটফট করছে এক কুকুর। গায়ে ক্ষত, মাথায় আঘাত, হাত পা বাঁধা! তার এই অসুখ দেখেই মানুষের মনে হলো, তাকে কুমিরের পেটে যেতে হবে।
ডাঙার দিকে আসতেও পারে না, মানুষ পানিতে নামিয়ে দেয়। পিছন থেকে আসছে বিশাল এক কুমির, নাম তার ধলাপাহাড়। তার মধ্যে শিকার ধরার কোনো তাড়া নেই। এভাবেই সে প্রতিদিন খায়।
অসহায় কুকুরকে টেনে নিল ধলাপাহাড়। অতি উৎসাহী মানুষজনও বাড়ি ফিরে গেল। এই ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর ঘটনা কারো মনে একটুও দাগ কাটল না, যেন গডজিলা বা অ্যানাকোন্ডা সিনেমার কোনো দৃশ্য লাইভ প্রচার হলো।
মানুষ নিজেদের বিভিন্ন ইচ্ছা পূরণের জন্য খান জাহান আলীর মাজারে মানত করে। সেই আশায় জীবিত ছাগল, মুরগি বা অন্যান্য ছোট প্রাণী সরাসরি কুমিরের খাবার হিসেবে পানিতে ছেড়ে দেয়। পালানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই এসে গিলে ফেলে কুমির।
এভাবে জীবিত প্রাণীকে শিকারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া বাংলাদেশের প্রাণীকল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী আইনতঃ দন্ডনীয় অপরাধ। তবুও এই জায়গায় ধর্ম ও বিশ্বাসের নামে এমন কাজ প্রায় প্রতিদিনই হয়। নিজেদের ইচ্ছা পূরণ করতে অন্য একটা প্রাণীকে এভাবে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলাই নাকি নিয়ম!
এছাড়াও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদেরও এতে ভূমিকা আছে। কন্টেন্টের ভিউ বাড়াতে তারা উৎসাহ দেয় এগুলোর। ধলাপাহাড় কুমিরের নামে আলাদা একটা ফেসবুক পেজ আছে, যেখানে প্রতিদিন এসব ভিডিও পাবলিশ হয়।
জঙ্গলের আইন আলাদা, সেখানে শিকার ধরে খাওয়া প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য। কিন্তু 'সভ্য' মানুষের মাঝে মাংশাসী শিকারি প্রাণী আটকে রাখা, তাকে প্রতিদিন জ্যান্ত প্রাণী ছুড়ে দেওয়া, এবং সেই প্রাণীর ছটফটানি দেখে আনন্দ পাওয়া স্বাভাবিক কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। বিশ্বাস ও প্রথার নামে এ ধরনের নিষ্ঠুর প্র্যাকটিস চলতে দেওয়া যায় না। দোষীদের শাস্তির সাথে সাথে আমরা এই প্রথা সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানাই। বনের প্রাণীর স্থান হোক বনে, মুক্তি পাক সকল প্রাণী।