27/09/2022
☪️মাহে রবিউল আউয়াল শরীফ☪️
ইয়া নবী সালামু আলাইকা,ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা, ইয়া হাবীব সালামু আলাইকা, সালাওয়াতুল্লাহ আলাইকা।
দরূদ ও সালামের মাস, ঈদ-এ মিলাদুন্নবীর মাহিনা মাহে রবিউল আউয়াল বর্ষ ঘুরে আবার সমাগত। ঋতুরাজ বসন্তের এ মাস
বিশ্বমুসলিমের হৃদয়কে গভীর অনুভূতিতে নাড়া দিতে আবার উপস্থিত। ঘরে ঘরে পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহল্লায়,গ্রামে-গঞ্জে, শহরে বন্দরে সর্বত্র সাড়া পড়ে গেছে আজ। সকলে এ মাসে ঈদ- এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপলক্ষে খােদার দরবারে শুকরিয়া আদায় করে ধন্য হতে ব্যস্ত। আয়ােজিত হচ্ছে
বড় বড় মাহফিল। এ সঙ্গে ব্যক্তিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রিয় জীবনে শান্তিময় সে আদর্শের প্রতিফলন ঘটানাের চেষ্টায় মানসিক ও ব্যবহারিক দিক থেকেও এ মাসে পাচ্ছে এক নতুন উৎসাহ, উদ্দীপনা ও গতিময়তা।
এ মাস হচ্ছে গুনাহগার বান্দাদের সংশােধনের মাস এবং পাপাচার, অন্যায় হতে তাওবা করার প্রকৃত সময়। রাহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উসিলা দিয়ে এ মাসে যে সব মুসলমান দোয়া করবেন খােদার অনুগ্রহে তাদের দোয়া কবুল হবার সৌভাগ্য নসিব হবার পূর্ণ আশা। স্মরণযােগ্য
যে, আবু লাহাব কাফির হওয়া সত্ত্বেও হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে আগমনের সংবাদ শুনে একজন বাঁদীকে আজাদ করার কারণে যদি খােদা তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ অর্জন করার অধিকারী হতে পারে তবে নবীয়ে আক্বদাস সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শের দিকে লক্ষ্য করে তাঁরই অসন্তুষ্টির হেতুসমূহ বর্জন করে তাঁর সন্তুষ্টিকারীগণ যে, আল্লাহর
নৈকট্য হাসিল করবেন তাতে সন্দেহের কি অবকাশ থাকতে
পারে? অধিকন্তু এ মাসে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ রহমত ও বরকত সারা জাহানে বর্ষিত হয় বিধায় দ্বীন ও দুনিয়া উভয় জাহানের কামিয়াবী হাসিলের মাস হিসেবে এ মাসকে যথাযােগ্য
সমাদর ও গুরুত্ব দেয়া অপরিহার্য।
💚মাহে রবিউল আউয়াল শরীফের ইবাদত সমূহ💚
🔰রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর মাগরীব ও আওয়াবীনের নামায আদায়ের পরে দুই রাকাত নফল নামায পড়বেন। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর তিনবার সূরা ইখলাস পড়বেন। সালাম ফিরানাের পর ১০০বার নিম্নের দরূদ শরীফটি
পাঠ করবেন-আল্লাহুম্মা সাল্লি আ'লা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিও ওয়া আ'লা আলি সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন ওয়া বারিক ওয়া সাল্লিম, বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।
অতঃপর মুনাজাত করবেন ইন শা আল্লাহ হাজত পূর্ণ হবে।
🔰তৃতীয় ও চতুর্থ সন্ধ্যায় চার রাকাত করে নামায আদায় করতে পারেন। প্রতি রাকাতে আয়াতুল কুরসী ৯বার, তােয়াহা ১বার; ইয়াসীন ১বার এবং ৩বার সূরা ইখলাস পাঠ করবেন।
অতঃপর দরূদ পাঠান্তে মুনাজাত করবেন।
💟ষোল রাকাআত নামাজ💟
'কিতাবুল আওরাদ' নামক কিতাবে আছে, যখনই রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দৃষ্টিগোচর হয়,তখন থেকে ওই রাতে দুই রাকাআতের নিয়্যত করে মোট ১৬রাকাআত নফল নাময পড়বে। ১বার সূরা ফাতিহা আর ৩বার সূরা ইখলাস দিয়ে। নামায শেষে নিম্নোক্ত দরূদ শরীফ (দরুদে উম্মী) মোট ১০০০বার পড়বে।
الهم صل على محمد نالنبى الامى وبارك وسلم..
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছল্লি আলা মুহাম্মাদিন্নবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া বারিক ওয়া সাল্লিম।
এ নামাযের খুবই ফযিলত রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা চাইলে ওই নামায আদায় কারী ও দরুদ শরীফ পাঠককে রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম'র সাক্ষাৎ দ্বারা সৌভাগ্য মণ্ডিত করবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ওযূ সহকারে শয়ন করে।
🔰বিশ রাকাআত নামায🔰
'জাওয়াহিরে গায়বী' নামক গ্রন্থে আছে, এ মাসের ১২ দিন পর্যন্ত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহে আক্বদাসে এ নামাযের হাদীয়া প্রেরণ করতে থাকবেন।কেননা, হযরাতে সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম, তাবিঈন,তবঈ তাবিঈন এ হাদিয়া পেশ করতেন। এ নামাযের নিয়ম হলো- প্রত্যেক রাকাআতে ১বার সূরা ফাতিহা ২১বার সূরা ইখলাস পাঠ করবেন। বার দিনের মধ্যে কোনদিন সম্ভব না হলে অন্য দিন আদায় করবেন। এর হাদিয়া অবশ্যই রূহে আকদাসের প্রতি পাঠাতে যেন ভুল না হয়। এ নামায আদায়কারীকে হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নযোগে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে থাকেন।
🔰দরূদ শরীফের ওযীফা🔰
মাহে রবিউল আউয়াল শরীফের সবচেয়ে বড় ওযীফা হচ্ছে দৈনিক নিয়মিত দরুদ শরীফ পাঠ করা। সুতরাং এ মাসে যত বেশি দরুদ শরীফ পাঠের চেষ্টা করা।
🔰'কিতাবুল মাশাইখ' নামক গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, যখনই রবিউল আউয়াল শরীফের নব দৃষ্টিগোচর হবে, সে রাত থেকে গোটা মাস নিম্নোক্ত দরুদ শরীফ এশা নামাযের পর একহাজার পঁচিশ বার পাঠ করবেন। এতে করে ওই ব্যক্তি হুযুর সরওয়ারে কাইনাত সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম'র সাক্ষাৎ স্বপ্ন যোগে নসীব হবে। দরুদ শরীফটি হলো-
اللهم صل علي محمد وعلي ال محمد كما صليت علي ابراهيم وعلي ال ابراهيم انكا حميدم مخيد
উচ্চারণঃ আল্লাহম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লায়তা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আ-লি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামী-দুম মাজীদ।
🔰 বুযুর্গব্যক্তি বলেছেন যে ব্যক্তি একনিষ্ঠতার সঙ্গে রবিউল আউয়াল মাসে এক লক্ষ পঁচিশ হাজার বার নিম্মের দরুদ শরীফ পাঠ করলে ওই ব্যক্তি হুযূর কারীম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম'র সুপারিশ লাভে ধন্য হবেন।
দরুদ শরীফটি হলো-
উচ্চারণঃ আসসালাতু ওয়াসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলুল্লাহ ওয়াআলা আলিকা ওয়া আসহাবিকা ইয়া হাবীবাল্লাহ।
☪️ আমাদের উচিত, এ মাহে রবিউন নূর শরীফে পরিপূর্ণ মহব্বতের সাথে প্রতিটা সময়ে বেশি বেশি দরুদ শরীফ ও সালাত-সালাম,কুরআন তিলাওয়াত এবং ফাতিহা নেয়াজের মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপনার্থে ইবাদত-বন্দেগী করা।
আল্লাহ তাওফীক্ব নাসীব করুন। আ-মিন।🤲
📚 তথ্যসূত্রঃ
১. গাউসিয়া তারবিয়াতী নেসাব। (পৃষ্ঠা-৩৬২-৩৬৩)
২. তরজুমান।
সালামান্তে,
💙গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ মহিলা বিভাগ💙