26/05/2026
করদাতা আহসান আলী।কাগজে-কলমে তার স্থায়ী ঠিকানা খিলগাঁও।কর অঞ্চল-৫ এর আওতায় ১৯৮৮ সালে কর শনাক্তকরণ নম্বরের (টিআইএন) নিবন্ধন নেন।ওই টিআইএনের বিপরীতে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সাত বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন তিনি।
এরপর বাড়ি বিক্রি করে খিলগাঁও ছেড়ে চলে যান। অজানা কারণে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি। ওই সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আয়কর কিংবা রিটার্নের হিসাব রাখত।
২০০০ সালের আগের আয়করের সব তথ্য গোপন করে কর অঞ্চল-২ এর আওতায় নতুন টিআইএন নিবন্ধন নেন আহসান আলী।এর বিপরীতে আয়কর রিটার্ন দাখিল শুরু করেন।২০১৩ সালে ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর (ই-টিআইএন)নেন এবং নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করেন।
হঠাৎ করদাতা আহসান আলীর জীবনে নেমে আসে ভয়ংকর বিপদ।আগের টিআইএনের বিপরীতে বছরের পর বছর ধরে তার কর ও জরিমানা হচ্ছে, তা হয়তো বুঝতে পারেননি তিনি।বিগত পাঁচ বছরে সাত লাখ ৬২ হাজার টাকার কর দাবি করে আহসান আলীকে কয়েক দফা নোটিশ দেয় কর অফিস। কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করে কর বিভাগ।একই সঙ্গে খিলগাঁও থানার মাধ্যমে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করা হয়।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর আহসান আলীকে পাওয়া গেল মোহাম্মদপুরে। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর গত নয় মাস ধরে তিনি জেলে।
এমন বিপদে যারা পড়তে চান না তাদের অবশ্যই এনবিআরের নির্ধারিত ৩০শে সেপ্টেম্বর মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার আহ্বান জানিয়েছে কর বিভাগ।বিশেষ করে অনিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।