10/04/2024
ঈদ মোবারাক!
প্রিয় সুহৃদ !
ঈদকে আপনার ঘরের চিরস্থায়ী মেহমান বানাতে এই অভ্যাসগুলো চালু করুন ।
আমাদের মাঝে রামাদান এবং মা বাবা দুইটি চমৎকার সুযোগ আল্লাহ দিয়েছেন নিজেদের জন্য জান্নাত নিশ্চিত করতে। রামাদানের ইবাদাত এবং আব্বু আম্মুর খেদমত – প্রত্যেক সন্তানকে জান্নাত অর্জনের দুটি চরম সুযোগ! আসুন আমরা এর সঠিক ব্যবহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং জান্নাতুল ফিরদাউস হাসিল করি। রামাদান তো এবার অতিত। আসুন
আব্বু আম্মুর সাথে কি করবো এখানে সেই বিষয়ে নজর দেই।
ক) সুন্দর করে ছালাম দিন।
ঘুম থেকে উঠে দেখা হতেই মা বা বাবা কিংবা দুজনকে একসাথে পেলে সুন্দর করে গভীর শ্রদ্ধার সাথে ছালাম দিন- মনে মনে তাঁদের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করুন।
খ) শারীরিক যত্নঃ
1. তাদের মাথায় হাত রাখুন, চুলে বিলি দিন বা আঙুল দিয়ে মেসেজ করে দিন। চুল টেনে মাথার ব্যথা নিবারন করুন বা আরাম দিন।
2. ব্যথায় এবং অবসরে মাথা ও কপাল টিপে দিন। চেয়ারে বসিয়ে তাঁর মাথাটা আপনার বুকের কাছে আনুন, বুকের সাথে একটু চেপে ধরুন; অনুভব কুরুন আপনার আজকের এ পর্যন্ত আসার পিছনে এই মানুষটার কত্ত বড়, কত অসীম অবদান! এই অবদানের প্রতিদান দিবার সামর্থ আপনার নাই- সেটার কোন প্রতিদান হয়না। কপালে দুটো হাতের আঙুল খিলা করে বুকের সাথে চেপে ধরুন। এই অবস্থায় কিছুক্ষণ নিরবে কাটান। আপনার মা বাবার মনের অব্স্থা খেয়াল করুন। - এই অবস্থানটি আপনার জন্য এক অসীম ঐশী প্রশান্তি লাভের মূহুর্ত!
3. নিয়মিত তাঁদেরকে গোসল করিয়ে দিতে সচেস্ট থাকুন। অন্তত মাথার চুলে শ্যাম্পু করে দিন, গায়ে, হাতে, পায়ে আলতো করে স্কিন ক্লিনার- লোশন, জেল মেখে পরিস্কার করে দিন। গোসল শেষে মমতার সাথে নরম কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিন- যেমন করে আপনার ছোট্ট সোনামণিকে দেন, তেমনি আলতো করে, সম্মানের প্রলেপ লাগিয়ে দিন।
4. গোসল শেষে হাতে, পায়ে, গায়ে লোশন মেখে দিন, ভাল ট্যালকম পাউডার মেখে দিন, পায়ে আরও একটু হাত বোলান, এই স্থানটিই আপনার জান্নাতের বাগান; কাজেই উত্তম যত্ন দিয়ে সেখানে বেশী করে বেহেস্তি ফুল ফুটান।
5. বাবার চুল দাড়ি ছেঁটে দিন, দুজনের হাত পায়ের নখ কেটে দিন, চুল আঁচড়ে বা বিলি করে দিন, হাত ও পা কে বিশেষ ভাবে মেনিকিউর, পেডি কিউর করে দিন। এই কাজ তাদের যতটা সন্তুষ্ট করবে বেহেস্তে আপনার মর্যাদার স্থান ততটাই উঁচু হবে।
6. সময় ও অবসর বুঝে সুযোগ পেলেই তাদের গায়ের স্পর্শ পাবার চেস্টা করুন। একটু লোশন দিয়ে মেসেজ করে দিন, মাথায় উপকারী তেল ঘসে দিন, ব্যথায় মলম লাগিয়ে দিন। মনে রাখবেন- শক্তিশালী দামী মলমের চেয়ে আপনার হাতের পরশ মা বাবার কাছে অনেক বেশী আরামের, অনেক বেশী ব্যথা নিবারনের কাজ করে।
7. সুযোগ পেলেই তাদের ঘুম পাড়িয়ে দিন। ঘুমিয়ে গেলে গায়ে চাদরটা টেনে দিন, এসি বা ফ্যানটা ঠিক স্পিডে দিন, ঘরের আলো নিভিয়ে দিন, কোন শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে না যায় খেয়াল রাখুন।
8. তাঁদের বসার, শোবার এবং খাবার ব্যবস্থাটা সবার চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে বেশী যত্ন নিয়ে করুন। আপনার বাসার ভাল চেয়ার, খাট, বালিশ, চাদর, মশারী, কম্বোল, গামছা, জামা, পাজামা, জুতা, সেন্ডেলে হোক মা বাবা - গুরুজনের অগ্রাধিকার।
9. তাদেরকে সুস্থ্য ও কর্মঠ রাখতে বয়োসানুপাতিক খাবার, শরীর চর্চা, গোসল, ঘুম, আত্মিক ও ইতিবাচক বিনোদন, বন্ধু ও জনসংযোগ জাতিয় দৈনন্দিন জীবন যাত্রার নিয়মতান্ত্রিকতার প্রতি খেয়াল রাখুন, যেমনটি রাখতে হয় আপনার সন্তানের জন্য।
10. তাদের অসুস্থ্যতায় সর্বোচ্চ চিকিৎসা, সেবা এবং পথ্যের ও মমতাময় সাহচর্যের ব্যবস্থা রাখুন।
11. কোথাও বেড়াতে গেলে সম্ভব হলে অবশ্যই তাঁদের সঙ্গে নিন, সব সুযোগ-সুবিধায় সামনে রাখুন, এক সাথে মজা করুন, তাঁদেরকে মজা পাইয়ে দিয়ে আপনি মনে মনে প্রশান্তি উপভোগ করুন।
গ) আত্মিক প্রশান্তি ।
১. আত্মিক প্রশান্তির জন্য ধর্মীয় অনুশীলনে, পবিত্র গ্রন্থ অধ্যয়নে, দান খয়রাতে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে সন্তানসহ তাঁদেরকে সাথে রাখুন এবং যতটা পারেন জনসেবার কাজগুলো তাঁদের হাত দিয়ে করান।
২. তাঁদের বন্ধুবান্ধব এবং প্রিয় মানুষগুলোকে আপন করে নিন, তাঁদের খোজ খবর নিন, আপনাদের আনন্দে তাঁদের শরীক করুন।
৩. প্রতি ওয়াক্ত ফরয নামাজ শেষে রব্বিরহামহুমা কামা রব্বায়্যানি স’গিরা বলে দোয়া করুন, দোয়ার অর্থ অন্তর দিয়ে অনুধাবন করুন।
৪. তাঁদের একাকীত্ব বা অবসর জীবনের একঘেঁয়েমী দূর করার জন্য-
তাঁদেরকে আপনার ও সম্ভাব্য অন্য বাচ্চাদের সৃষ্টিশীল খেলার সাথী, আদর্শ অভিভাবক এবং মেন্টর বানান। প্রয়োজনে তাঁদেরকে প্রশিক্ষিত করুন।
আপনারা সময় নিয়ে পাশে বসুন, মন খুলে কথা বলুন ও বলতে বলুন, তাঁদের দুঃখ কষ্টের কিছু থাকলে কৌশলে জেনে নিন ও তা দূর করতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিন।
নিজেরা তাঁদেরকে মধুর স্বরে কুরআনের বিশেষ সুরা ও আয়াত পড়ে শোনান, কুরআন অধ্যয়ন করে অনুধাবন ও আমল করার পরিকল্পনা নিন।
সালাতসহ সকল ইবাদাত এক সাথে করুন, একসাথে মাসজিদে যান, ধর্মীয় কর্মসূচীতে যোগ দিন, দ্বীনের প্রচারে অংশ নিন।
সংসার পরিচালনায় তাঁদের পরামর্শ নিন এবং সংসার পরিচালনা ও সন্তান লালনে নিয়মিত তাঁদেরকে নিয়ে সাপ্তাহিক পারিবারিক বৈঠক করুন, সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিন এবং তা সুষ্ঠ ভাবে পালন করুন।
আল্লাহ্ আমাদের ধৈর্য্য ধরে এই অবম্য করনীয় কর্তব্যগুলো পালন করে উভয় জগতে জান্নাত লাভের সৌভাগ্য দিন।