ভেজাল ও দূষণমুক্ত খাদ্যের লক্ষ্যে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞের ”নিজেরা নিরাপদ ভোক্তা” উদ্যোগ।
জীবন বাঁচাতে ও শরীর ও মনকে কর্ম্ক্ষম রাখতে খাদ্য অপরিহার্য এবং তা অবশ্যই হতে হবে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ।
সরকারী বেসরকারী প্রচেস্টার পরেও অসংখ্য ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য ব্যবসার ভিঁড়ে নিরাপদ খাদ্যের কোন সাপ্লাইচেইন আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি বাংলাদেশে। দু একটি অতি ক্ষুদ্র প্রচেস্টা খুবই যতসামান্য খাদ্য নিরাপদ হিসাবে বিক্রয় করলেও তার স্বচ্ছতা বা সনাক্তকরণ (Transparency & Traceability) ব্যবস্থা নাই এবং অনেক ক্ষেত্রে অতি মুনাফানির্ভর, সন্দেহযুক্ত পণ্য বিক্রয় হয়ে থাকে। ফলে ক্রেতাবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে এসব পণ্যের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। এতে দিন দিন নিরাপদ খাদ্যের বিশ্বস্থ সরবরাহ কমে যাচ্ছে, আর ভোক্তাবৃন্দ অনিশ্চিত ও ক্ষতিকর খাদ্য পণ্য গ্রহণে বাধ্য হয়ে নানান জটিল রোগ-বালাই এমনকি মৃত্যু যন্ত্রনায় ভূগছেন।
আমরা যারা নিজ নিজ উদ্যোগে কিছু কিছু পণ্য যোগার করছি তা এ্যাতই অপর্যাপ্ত যে তাতে দৈনিক প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর খুব সামান্যই পূরণ করছি। আর এই সংগ্রহের কাজ বেশ সময়সাপেক্ষ, অনিশ্চিত এবং অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয়বহুলও। তাই আমরা নিজেদের খাবার একসঙ্গে সংগ্রহের এবং বেশী সংখ্যক ভোক্তার সমন্বয়ে সহজতর, নিয়মিত, পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ নিয়েছি। এতে আমাদের আসে পাশের বন্ধুরা সহ বেশী সংখ্যক ভোক্তা উপকৃত হবেন। এই প্রচেস্টাটি অনন্য তার নিম্নের বৈশিষ্টের জন্যঃ
ক) এই উদ্যোগ প্রধানতঃ নিজেদের নিরাপদ খাদ্যের প্রয়োজন পূরণের জন্য, তাই এর সকল প্রক্রিয়া যথাসাধ্য উৎকৃষ্ট উপায়ে সম্পাদিত হবে নিজেদের তৃপ্তির স্বার্থেই। এজন্যে Good Agricultural/ Handling and Processing Practices(GAP/GHP/GPP) ব্যবহৃত হবে যা দেশ বিদেশের সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য।
খ) বিশিষ্ট বিজ্ঞানীর নিজস্ব তত্বাবধানে প্রচলিত। এটি বিশিষ্ট নিরাপদ খাদ্য বিজ্ঞানী বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য প্রচলনে যিনি দুই দশক ধরে এই প্রচেস্টায় যুক্ত তাঁর সরাসরি তত্বাবধানে উৎপাদিত, প্রক্রিয়াজাত ও সরবরাহ করা হবে।
গ) পূর্ণ খাদ্যচক্র থাকবে স্বচ্ছ ও সনাক্তকরণযোগ্য Transparent and traceable। এগুলোর উৎপাদনের শুরু থেকে ভোক্তার কাছে পৌছানো পর্য্ন্ত পুরা সিস্টেম ডিজিটাল মাধ্যমে ও ক্রেতার চাহিদা মাফিক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে যা যেকোন ব্যক্তি বা ভোক্তা সরাসরি ও রেকোর্ড্কৃত মিডিয়ায় পরখ করতে পারবেন। এছাড়াও আগ্রহী ভোক্তা বা প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধিকে মাঠ পর্যায়ে পর্য্বেক্ষণের সুযোগ দেয়া হবে। এটির ব্যবস্থাপনা দেখলেই ভোক্তা বুঝতে পারবেন যে সুনির্দিস্ট প্রক্রিয়ায় এখাদ্য প্রস্তুত ও সরাবরাহ করা হয়।
ঘ) এটি সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাবে। একসাথে আনার এবং মাঝে কোন মধ্যসত্বভোগী না থাকায় বাজার দরের চেয়ে এটি কিছুটা সাশ্রয়ী হবে। আমরাই উৎপাদক ও ভোক্তা বলে নীতিগত ভাবে এর পণ্য সামগ্রী ন্যায্য মূল্যে বাসায় পৌছানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঙ) সম্ভাব্য সকল দরকারী খাদ্য পণ্য থাকবে। “কিছু নিরাপদ বাকীতে আপদ” না করে আমরা প্রয়োজনীয় সকল মৌলিক খাদ্য পণ্য রাখার চেস্টা করবো এবং মাঝে মাঝে সারপ্রাইজ ফুড্স হিসাবে ভোক্তাবৃন্দের চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন আকর্ষ্নীয় খাদ্য পণ্য সংগ্রহ করা হবে যা ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ দুঃসাধ্য।
চ) বিশেষ ও আকর্ষনীয় খাদ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকবে। যেমন দেশে প্রাপ্ত যে কোন ফল, উৎকৃষ্ট মানের খেজুরগুড়, আখের গুড়, দেশী পদ্ধতির লাল চিনি, পাটালি, বিশেষ জাতের আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, কলা, পেঁপে, লটকন,পেয়ারা, বেল, মাল্টা, জাম্বুরা, তরমুজ, পাহারী ফসল, বরিশালের ইলিশ, হাওরের দেশী মাছ, সামুদ্রিক সুস্বাদু মাছ, দেশীয় পদ্ধতির শুটকি মাছ, দেশী মুরগী ও ডিম, এন্টি বায়োটিক ফ্রি মুরগী ও ডিম, দুধ। এগুলো চাহিদা ও পরিমানের উপর নির্ভর করে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হবে।
ছ) আগাম চাহিদার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণে উৎপাদিত ও সরবরাহ দেয়া হবে যেখানে পণ্য পাবার জন্য আগাম তালিকাবদ্ধ হয়ে চাহিদা জানানো পরিবারের জন্যই উৎপাদিত হবে। তাই বিশেষ তত্বাবধানে উদ্দিষ্ট ক্রেতার জন্য নিরাপদ করেই সরবরাহ করা হবে যা একই সাথে উদ্যোক্তারাও খাবেন।
জ) লাইভ স্টাইল সাপোর্ট। নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ চেইন প্রতিষ্ঠার সাথে এই উদ্যোগ ভোক্তা পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও খাবার নিয়মের এবং জীবন পরিচালনার সঠিক পদ্ধতি নিয়ে নিয়মিত পোস্ট ও জীবন জিজ্ঞাসার জবাব দেবে। এটি তাই সার্বিক সুখি ও র্স্বাথ্ক জীবন গড়ায় অবদান রাখতে অঙ্গিকারাবদ্ধ।
"উদ্যোক্তা পরিচিতি"
https://drive.google.com/file/d/1i-3EikRmrj-0kq0gTa5gISdIU9lJk292/view?usp=sharing