17/05/2026
গত কয়েক সপ্তাহ আগে চট্টগ্রামের ইউরোপিয়ান ক্লাব—যেখানে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন—এক্সপ্লোর করার সময়েই ছবি দুইটা দেখার সিদ্ধান্ত নিই।
এই ছবি নিয়েও কিছু লিখতাম বা বলতাম না। কিন্তু সূর্যসেনকে নিয়ে এওয়ার্ড উইনিং এই হিন্দি মুভি ‘চিটাগং’-এর পরিচালকের বায়ো পড়ে এখন আর কিছু না বলে থাকতে পারতেছি না।
পরিচালক বেদব্রত পেইন আইটি গ্র্যাজুয়েটের পাশাপাশি রীতিমতো সায়েন্টিস্ট ছিলেন বা আছেন—একেবারে নাসার। উনার সম্ভবত ‘Déjà vu’ ডকুমেন্টারিও সামনে আসতেছে।🎙️
প্রীতিলতা হিসেবে তিশা অভিনীত আওয়ামী সরকার কর্তৃক অনুদান দেওয়া ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’ নাটক বা মুভি দেখে আমার মত আপনাদের সময় নষ্ট করার কোন দরকার নাই। যদিও বা এটাতে ইউরোপিয়ান ক্লাবের দৃশ্যায়ন হিন্দি ‘চিটাগং’ মুভি থেকে মনে হয় একটু বেটার আছে।
তবে জঙ্কুর [বিজয় ভর্মা] পুলিশ থেকে পালানোর দৌড় দিয়ে শুরু হওয়া ‘চিটাগং’ দেখে আমি ভাবছিলাম, হয়তো মাস্টারদা সূর্যসেন দৌড়াচ্ছে। পরে দেখি, না; এটা মূলত সূর্যসেনের [মনোজ বাজপেয়ী ] কিশোর শিষ্য বিপ্লবী সুবোধ, যার স্মৃতিচারণ বা বই থেকে মূলত মুভিটা করা। ছবিতটাতে তার ২০০৬ সালে মৃত্যুর আগের ভয়েসও আছে--দারূণ! ছবিটা সূর্যসেনকে নিয়ে হলেও আসলে অনেকটা এই ঝঙ্কু বা বিপ্লবী সুবোধকে নিয়েই করা।
চিটাগংয়ের এই ছোট সুবোধ ৪৭-এর পরে কলকাতায় বড় বামনেতা ও সরকারের অংশ ছিলেন।
কিছু মুসলমান আমার মুভি-রিভিউ বা ভাবনা নিয়ে ভিন্ন মন্তব্য তৈরি করতে পারেন বা করবেন । কিন্তু আপনারা প্লিজ বিপ্লবীদের শুধুমাত্র ধর্ম দিয়ে বিচার করবেন না ; তারা ট্রেডিশনাল হিন্দুদের বাইরে সর্বধর্মীয় উচ্চমার্গীয় কিছু একটা!
এতদিন হামাস নিয়ে পড়তেছিলাম। কিন্তু আমাদের মাস্টারদা সূর্যসেনদের বিপ্লবী দল—ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি—ছবিতে দেখে তো আমি অবাক! বিপ্লবীদল বা হামাসের মতো সংগঠনগুলো কিভাবে কাজ করে, ছবিটা দেখার পর ইজিলি ধরতে পারবেন।
১৪ বছর বয়সী জঙ্কুকে যখন আন্দামানে পাঠাই দিচ্ছিল, আর তার বাবা-মা যখন বিদায় দিচ্ছিল—কিংবা বিপ্লবীদের দেশের জন্য বার বার হার না মানা স্যাক্রিফাইস দেখে—আমার মতো আপনারও চোখে পানি বের হবে যে তা নির্ঘাত।
আপনারা হয়তো জানেন, মাস্টারদা চিটাগং ব্রিটিশ আর্মারি অ্যাটাক করে, অস্ত্র লুট করে, রেলপথ ও যাবতীয় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ৩ দিনের অধিক সময় চিটাগংকে ব্রিটিশ ইন্ডিয়া থেকে স্বাধীন রাখে।🇧🇩 যদিও পরে বিপ্লবীরা অস্ত্র লুট করতে পারলেও বারুদের অভাবে জালালাবাদ পাহাড়ের বন্দুকযুদ্ধের পর ব্রিটিশরা তাদের সরিয়ে আবার ব্যাক করে।
এই ছবিতে কিংবা ইতিহাসে সূর্যসেনদের পরাজয় হলেও ছবিতে আপনি দেখবেন যে সূর্যসেনদের পরের নায়ক জঙ্কুকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে না, কারণ তেভাগা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলার কৃষকদের শক্তি তখন অনেকে বেড়ে যায়।🌾
ছবির কাহিনীর পরবর্তী ইতিহাস তো আমরা জানিই।এরপর,ব্রিটিশদের থেকে পাওয়া আমাদের কাঙ্খিত স্বাধীনতা।মানেন তো?
যাই হোক,ছবিটা দেখে দারুণ একটা শিক্ষা নিতে পারবেন সবাই, বিশেষ করে চিটাগংয়ের সবাই। দুইটাই গুগল করে এখনি দেখে নিতে পারবেন।
হ্যাপি ওয়াচিং।🍿