28/12/2022
একটি জনপদ শহর হবে না গ্রাম তার মূল পার্থক্যটাই হলো জনসংখ্যার আকার ও জনঘনত্ব। ছোট, মাঝারি, ও বড় শহর থেকে শুরু করে মেট্রো সিটি ও মেগা সিটির ক্ষেত্রেও পার্থক্য গড়ে দেয় জনসংখ্যার আকার ও জনঘনত্ব। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শহরের আকার বড় হয়, পেশার বৈচিত্র্য আসে, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ে, পুঁজির সন্নিবেশ হতে থাকে, চক্রাকারে যা আবার শহরকে আরও বড় হতে সাহায্য করে।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এ বলা আছে কোন এলাকাকে পৌরসভা ঘোষণার ক্ষেত্রে ন্যূনতম মোট জনসংখ্যা ৫০,০০০ জন এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গড়ে ১,৫০০ জন মর্মে নিশ্চিত হতে হবে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুসারে সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান পৌর এলাকার জনসংখ্যা এবং জনসংখ্যার ঘনত্বকে যথাযথ বিবেচনায় রাখতে হবে। ফলে, দেশের প্রচলিত আইন অনুসারেও নগর প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে নগর-পরিকল্পনা, উন্নয়ন, ও ব্যবস্থাপনার এক্কেবারে মূলে রয়েছে জনঘনত্বর বিষয়টি।
ঢাকা মহানগর এলাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০২২-৩৫) বা ড্যাপেও জনঘনত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আর এই জনঘনত্ব ব্যবস্থাপনা এবং ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর)’ নিয়েই বেশি আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, যা একটু বিশদভাবেই বোঝা প্রয়োজন।
খুব সহজে বোঝার জন্য একটা উদাহরণ দিই। ধরা যাক, ১০০০ বর্গফুটের একটি বাসায় পরিবারের লোক থাকেন ৫ জন এবং গৃহকর্মী থাকেন ১ জন, কিছুদিন পরে আত্মীয়-স্বজন আসল ২ জন, গ্রাম থেকে দূরের পরিচিত লোক আসল আরও ২ জন, মোট ১০ জন। এখন এই ১০০০ বর্গফুটের বাসায় নিয়মিতভাবে ১০ জনের স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব কিনা? কারণ, শুধু ঘুমানোর জায়গা ছাড়াও রান্না-বাড়া, খাওয়া-দাওয়া, গোসল, প্রাকৃতিক কর্ম ইত্যাদির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা প্রয়োজন। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ১০০০ বর্গফুটের একটা বাসার ধারণ ক্ষমতা এরও একটা সীমা আছে এবং উপযুক্ত জীবনমান অনুযায়ী ভালোভাবে থাকতে চাইলে সেই ধারণ ক্ষমতার সীমার নিচে লোকসংখ্যা থাকতে হবে।
এখন দেখি, পাড়া বা মহল্লার ক্ষেত্রে কি ঘটে। পরিকল্পিত কোন পাড়া বা মহল্লার নকশায় ২০,২৫, ৩০ বা ৪০ ফুটের রাস্তাসহ অন্যান্য সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে, যা বেশ কিছু সমীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক হিসাব কষে নির্ধারণ করা হয়। পরিকল্পিত ওই এলাকার জন্য প্রথমে একটি নির্দিষ্ট 'অনুমিত জনসংখ্যা ' ও 'জনঘনত্ব' নির্ধারণ করার পর সেই অনুযায়ী সেখানে প্লট বা ফ্ল্যাটের পরিমাণ এবং পরিমাপ নির্ধারণ করে রাস্তাসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধাদি প্রদান করা হয়। ধরা যাক, একরপ্রতি জনসংখ্যা নির্ধারণ করা হলো ৩৫০ জন, তাহলে ১০ একরের একটা এলাকার জন্য অনুমিত জনসংখ্যা হবে ৩৫০০ জন। এখন যদি সেখানে অন্যান্য নাগরিক সুবিধা প্রদান করার পর ৩ কাঠার সর্বোচ্চ ১২০টা প্লটের সুযোগ রাখা হয় এবং প্রতিটা প্লটে যদি একতলা বাড়ি সাপেক্ষে ১০ জন করে থাকতে পারে তবে মোট জনসংখ্যা হবে ১২০০ জন। যদি সবগুলো প্লট দোতলা হয় তবে মোট জনসংখ্যা হবে ২৪০০, তিনতলা হলে ৩৬০০, চারতলা হলে ৪৮০০, পাঁচতলা হলে ৬০০০, এবং ছয়তলা হলে ৭২০০ জন। অর্থাৎ তিনতলাতেই ওই এলাকার অনুমিত জনসংখ্যা পাড় হয়ে যাচ্ছে এবং ছয় তালাতেই তা দ্বিগুণ এর বেশি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাস্তাসহ অন্যান্য সুবিধা দ্বিগুণ হচ্ছে না। ফলে, বিদ্যমান চলাচলের জায়গা, এবং পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, নর্দমা, পয়োনিষ্কাশন ইত্যাদি পরিষেবা সহ পার্ক, খেলার মাঠ, ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধাদি সংকুচিত হয়ে পড়বে। গণহারে ছয়তলা বানাতে দিলে বিদ্যমান অবকাঠামো ও পরিষেবাগুলোর ওপর দ্বিগুণ চাপ পড়বে, এর চেয়ে বেশি বানাতে দিলে কি হবে তা বলাই বাহুল্য। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন ড্যাপে জনঘনত্ব বিন্যাসের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে এবং এলাকাভিত্তিক এফএআরের মানের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় যাতে ওই এলাকার ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী মানুষ বসবাস করে ও তারা যাতে পর্যাপ্ত নাগরিক পরিষেবা পায়, সেই চেষ্টা করা হয়েছে।
অবকাঠামোতে জনসংখ্যার চাপ
জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ এর ক্ষেত্রে এফএআর একটা উপকরণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এফএআরের সূচক কম-বেশি করার মাধ্যমে কোন এলাকার ভবনের উচ্চতা ও আকার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুইভাবেই জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যেমন,এফএআরের সূচক যদি ১ হয়, তবে ভবনের উচ্চতা বাড়ালেও ভবনের মোট ব্যবহার উপযোগী মেঝের আকার একই থাকবে, ফলে উচ্চতা বাড়লেও লোকসংখ্যা বাড়বে না। সূচক যদি ১ এর বেশি হয়, তবে ভবনের উচ্চতা বাড়ালে ভবনে মোট ব্যবহার উপযোগী মেঝের আকার বাড়বে, ফলে একই প্লটে বসবাসযোগ্য লোকের সংখ্যা আগের থেকে বাড়বে। এই অতিরিক্ত লোককে জায়গা দেওয়াটা আপাতদৃষ্টিতে মানবিক মনে হতে পারে, তবে ইতিমধ্যেই সেই এলাকায় বসবাসকারী লোকদের জন্য বিষয়টা অত্যন্ত অমানবিক, সঙ্গে যে অতিরিক্ত লোক যোগ হচ্ছে তাদের জন্যও। কারণ, এই অতিরিক্ত লোকজন শুধু ভবনের সেই বাড়তি জায়গাতেই থাকে না, তারা ভবনটি যেই পাড়া বা মহল্লায় অবস্থিত, সেখানেও ভাগ বসায়। কিন্তু ওই পাড়া বা মহল্লার রাস্তা-ঘাট, নালা-নর্দমাসহ অন্যান্য অবকাঠামো ও গণপরিসর—পার্ক, খেলার মাঠগুলোকে কিন্তু আর বহুতল করা যায় না। এ ছাড়া এই অতিরিক্ত লোক বিদ্যমান অবস্থার তুলনায় অতিরিক্ত ‘ট্রিপ জেনারেটর’ করবে, অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করবে, অতিরিক্ত ময়লা-পানি ও আবর্জনা উৎপন্ন করবে, এমনকি অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও তাপ উৎপন্ন করবে। ফলে, যেকোনো বিবেচনায় জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করাটা অত্যন্ত জরুরি। এফএআরের মাধ্যমে ঠিক সেই কাজটাই করা হয়ে থাকে। এফএআরের সূচক কখনো প্লটের আকার অনুযায়ী নির্ধারণ করা হতে পারে, কখনো সংলগ্ন রাস্তা অনুসারে, কখনো এলাকা ভেদে নির্ধারিত হতে পারে, অথবা একাধিক প্রক্রিয়ায় বা অন্য কোন উপায়ে। বিদ্যমান ভৌত অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধাদি বাড়তি জনসংখ্যার কতটুকু চাপ নিতে পারবে এবং ভবিষ্যতে এ সকল অবকাঠামো ও সুবিধার কতটুকু সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে তা বিবেচনায় নিয়ে এফএআরের সূচক নির্ধারণ করা হয়।
উপরোক্ত উদাহরণের প্রেক্ষিতে বলা যায়, যদি সবগুলা প্লটে একইসঙ্গে একাধিকতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মিত নাও হয়, তারপরেও কোন প্লটে কেউ ইতিমধ্যে ৬ তলা বাড়ি বানিয়ে ফেলে তাহলে সে অন্য আরেকজনের কোটা পূর্ণ করে ফেলেছে আর ৯ তলা করলে আরও দুজনের কোটা পূর্ণ করে ফেলেছে। এখন প্রশ্ন হতে পারে, এর ফলে পরবর্তীতে যে বাড়ি বানাবে বা বানাতে চাচ্ছে তাকে বঞ্চিত করা হবে কিনা অথবা সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা? এ প্রশ্নের উত্তরের মূলে থাকবে সরকারের 'আবাসন নীতি’। অর্থাৎ, পরিকল্পিত এলাকায় সরকার যখন কাউকে প্লট দেয়, তখন তাকে আসলে ইজারা দেয় সেখানে বসবাস করার জন্য। সেই প্লটে বাড়ি বানিয়ে বা প্লট কেনা-বেচা করে ব্যবসা বা আয়-রোজগার বাড়ানোর জন্য না। তথাপি, সরকার চাইলে কিছু সম্পূরক নীতির দ্বারা বেসরকারি খাতের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদা পূরণের জন্য সহায়তা দিতে পারে। যেমন, সহজ শর্তে হাউস বিল্ডিং লোন দিয়ে ভবন বানানোর সুযোগ সৃষ্টি করা। ঢাকার ক্ষেত্রে প্লট মালিকদের অনেকেই এই সুযোগ নিয়ে একাধিক ও বহুতল ভবন বানিয়ে শহরের আবাসন চাহিদা পূরণ করেছে ঠিকই, কিন্তু সঠিক নিয়ন্ত্রণের অভাবে এই নীতির কারণে আমাদের নিম্ন-মধ্য বিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চ-বিত্ত সবাই এটাকে ব্যবসা ও পেনশন স্কিম বানিয়ে ফেলেছে। নতুন ড্যাপে নাগরিক সুবিধা বিবেচনায় বহুতল ভবন বানানোর সুযোগ কমিয়ে দিলেও, প্লটের মালিক যারা এখনো ভবন বানান নাই, তাদের ক্ষতিগ্রস্ত বা নাখোশ হওয়ার সংগত কোন কারণ নেই, যেহেতু তার কাছ থেকে প্লট কেড়ে নেওয়ার বা একতলা বাড়ি বানানোর কোন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।
রাস্তাসহ অন্যান্য নাগরিক পরিষেবাগুলো পাড়া বা মহল্লা পর্যায়ে প্রদান করা হলেও এগুলো মূলত, প্রাথমিক, দ্বিতীয়, এবং তৃতীয়-এই তিন স্তরে অনুক্রমিকভাবে সংযুক্ত থেকে পুরো শহর জুড়ে একটা অন্তর্জাল তৈরি করে। এ ছাড়া, বেশ কিছু নাগরিক অবকাঠামো থাকে শহর পর্যায়ে, যেমন হাসপাতাল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বড় উদ্যান, স্টেডিয়াম, জাদুঘর, সম্মেলন কেন্দ্র ইত্যাদি। একেবারে পাড়া বা মহল্লায় নাগরিক পরিষেবাগুলো হয় তৃতীয় স্তরের, এগুলো সংযুক্ত থাকে দ্বিতীয় স্তরের সঙ্গে, এবং দ্বিতীয় স্তর সংযুক্ত থাকে প্রাথমিক স্তরের সঙ্গে, যা শহরের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে বিস্তৃত থাকে। ফলে, তৃতীয় স্তরের বাড়তি চাপের ঢেউ কিন্তু প্রাথমিক স্তরেও এসে পড়ে। সহজ ভাষায় এই জটিল জিনিস বোঝার চেষ্টা করি রাস্তার উদাহরণ দিয়ে। যদি তৃতীয় স্তরের রাস্তাগুলার ধারণ ক্ষমতা ১ হয় এবং ৪টা তৃতীয় স্তরের রাস্তা একটি দ্বিতীয় স্তরের রাস্তার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে সেই দ্বিতীয় স্তরের রাস্তার ধারণ ক্ষমতা হতে হবে ন্যূনতম ৪। আবার এইরকম ২০টা দ্বিতীয় স্তরের রাস্তা যদি একটা প্রাথমিক স্তরের রাস্তার সঙ্গে যুক্ত থাকে তবে সেই প্রাথমিক স্তরের রাস্তার ধারণ ক্ষমতা হতে হবে ন্যূনতম ৮০। এখন ধরি, পাড়া বা মহল্লা পর্যায়ে জনসংখ্যা বাড়ার ফলে তৃতীয় স্তরের রাস্তায় ট্রাফিক হলো ৩, তাহলে দ্বিতীয় স্তরের রাস্তায় ট্রাফিক হবে ১২, আর প্রাথমিক স্তরের রাস্তায় হবে ২৪০। গাণিতিকভাবে সব রাস্তায় ট্রাফিক তিন গুন বাড়লেও সংখ্যাগতভাবে ৩ আর ১ এর পার্থক্য ২, আবার ১২ আর ৪ এর পার্থক্য ৮, এবং ২৪০ আর ৮০ এর পার্থক্য ১৬০। সহজভাবে বললেও ব্যাপারটা অত্যন্ত জটিল। ঢাকায় প্রতিদিন আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা যে দুঃসহ ট্রাফিক জ্যাম ভোগ করে থাকি, তার মূলে রয়েছে এই সরল অঙ্কের জটিল হিসাব।
অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রেও ঠিক একই অবস্থা। ড্রেনের লাইন, পানির লাইন এর ধারণ বা বহন ক্ষমতা বাড়াতে হলে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে আরও যানজট লাগাতে হয়। অন্যদিকে, ঢাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমছে নিয়মিত ব্যবহার ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্বরূপ শহর ধীরে ধীরে দেবে যাচ্ছে। আবার অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর পরিমাণ বাড়ছে, ফলস্বরূপ শহরের তাপমাত্রা বাড়ছে। সর্বোপরি, শহর পর্যায়ের নাগরিক সেবা গুলিকে বিস্তৃত করার বা নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। যে কোন বিচারেই ঢাকা এর বাস যোগ্যতা হারিয়েছে। তাই, নাগরিক সেবা, যোগাযোগ, সামাজিক, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ইত্যাদি বিবেচনায় ঢাকাকে বাঁচাতে হলে এর জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নাই।
ড্যাপে জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধু সংলগ্ন রাস্তার প্রস্থ অনুযায়ী প্লটভিত্তিক এফএআর না রেখে এলাকাভিত্তিক এফএআরের বিধান রাখা হয়েছে। শহরের উচ্চবিত্তের এলাকাগুলোতে এফএআরের সূচক বেশি রাখা হয়েছে সেই এলাকার বর্তমান জনঘনত্ব, প্লটের আকার, পার্শ্ববর্তী ও সংলগ্ন রাস্তাসমূহ, এবং বিদ্যমান অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো, পরিষেবা ও নাগরিক সুবিধার ওপর ভিত্তি করে। অন্যদিকে, একই বিষয়সমূহ বিবেচনায় শহরের মধ্যবিত্তের এলাকাগুলো এফএআরের সূচক কম পেয়েছে। তদুপরি, এ বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধার প্রদানের মাধ্যমে ব্লক ভিত্তিক ভবন নির্মাণ বা উন্নয়নকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য প্রণোদনা হিসাবে বাড়তি এফএআরের প্রবিধান রয়েছে।
বলা হচ্ছে, এ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকায় আবাসন সংকট শুরু হবে। কিন্তু, বাস্তবে ঢাকায় যতগুলো ভবন আছে, তার বেশির ভাগ ফ্ল্যাটেই লোকজন ভাড়ায় থাকে। তাই, এফএআরের সূচক বাড়ানো বা কমানোর সঙ্গে আবাসন সংকট শুরু হওয়ার কার্যত কোন সংযোগ নেই, বরং এফএআরের সূচক কমানোর ফলে নাগরিক সুবিধার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলা করার এবং উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এর মাধ্যমে নাগরিক সেবা বিকেন্দ্রীকরণের পর্যাপ্ত সুযোগ ও সময় পাওয়া যাবে। এ ছাড়া, সরকার যদি সত্যিই ঢাকায় বসবাসকারী সকল নাগরিকদের জন্য নিজস্ব বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে চায়, তাহলে উপযুক্ত নীতিমালা তৈরি করে বর্তমানে শহরে যেসব ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো প্লট বা ফ্ল্যাটহীন লোকজনের কাছে বিক্রির মাধ্যমে এ চাহিদা পূরণ করার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।
ঢাকা মহানগর এলাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০২২-৩৫) বা ড্যাপেও জনঘনত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আর এই জনঘনত্ব ব্যব.....