12/04/2023
Seekers Of Knowledge🌿✨:
শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে রামাদানের শেষ দশক। সেই সাথে শুরু হতে যাচ্ছে মহিমান্বিত সেই রজনী, অর্থাৎ লাইলাতুল ক্বদরকে খুঁজে পাওয়ার মিশন।
সালাত, যিকর, সাদাকাহ, দুআ, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি যেটাই করা হবে না কেন এই রাতে, সাওয়াব বেড়ে যাবে হাজার গুণ! এত সুবর্ণ সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়?
এই দশদিন ইবাদাত করবেন আপনার নিজের সামর্থ অনুযায়ী। তা সফলভাবে যেন করতে পারেন সেজন্য থাকছে কিছু টিপস-
🌙 দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্নতা :
কোয়ালিটিফুল ইবাদাতের জন্য প্রথমেই দুনিয়াবি চিন্তা ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া উচিত।
• বেস্ট হল মসজিদে ইতিকাফ করা। তবে ইচ্ছা থাকলেও সেই সুযোগ হয়তো হবে না অনেকেরই। সেক্ষেত্রে সম্ভব হলে বাসার ভেতরে আলাদা রুমে, একাকী ইবাদত করতে পারেন। এটা ইতিকাফ না, তবে মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
• তাও না সম্ভব হলে দুনিয়াবি আলাপ থেকে এই কটা রাত যথাসম্ভব দূরে থাকুন, অন্তত মেসেজিং থেকে।
• মহিলাদের পক্ষে বিচ্ছিন্ন হওয়াটা কষ্টকর, সংসারের কাজ থাকেই। সেসব কাজ যথাসম্ভব দিনের বেলা গুছিয়ে নিবেন।
• ছোট বাচ্চার মায়েরা ওদের একটা ইতিকাফ টেন্ট বানিয়ে দিয়ে ওদের সেখানে বিজি রাখতে পারেন, যাতে হৈ হুল্লোড় কম করে। আর রাতের বেলা জলদি সন্তানদের ঘুম পাড়ানোর পর একটু নিরিবিলি ইবাদাত করতে পারেন।
🌙 সালাত :
ফরজ ও সুন্নাহ সালাতের পাশাপাশি নফল সালাতের প্রতিও গুরুত্ব দিবেন।
• শেষ রাতে কিয়ামুল লাইল পড়বেন, অন্তত দুই রাকাত হলেও। পরিপূর্ন বিশ্বাস ও সাওয়াবের আশা নিয়ে সালাত পড়লে তা পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফের উসিলা হতে পারে। (সুনান নাসাঈ)
• সালাত জামাতে পড়ার মাধ্যমে সাওয়াব ২৭ গুণ করে ফেলতে পারেন।
• রাতে ওযুর পর দু রাকাত নফল সালাত পড়তে পারেন, এই সালাতের ফজিলত অনেক।
• রুকু ও সিজদাহ দীর্ঘ করার চেষ্টা করবেন রাসূল (সাঃ) এর মত। নতুন কিছু তাসবীহ মুখস্ত করে নিন আগে।
• চেষ্টা করবেন সালাতে সর্বোচ্চ ফোকাস (খুশু) ধরে রাখতে।
🌙 কুরআন :
কুরআন নাযিলের মাসে কুরআনের সাথে অধিক সময় কাটাবেন অবশ্যই।
• কুরআন তিলাওয়াত করুন বেশি বেশি। প্রতিটি হরফের জন্য ১০ নেকি! তিলাওয়াত করতে না পারলে অন্তত অডিও শুনুন।
• তিলাওয়াতের পাশাপাশি অর্থও পড়ুন। সালাতে পড়ার সূরাগুলোর প্রতিটি শব্দের অর্থ জানুন, বিশেষ করে সূরা ক্বদরের। সম্ভব হলে সেগুলোর তাফসীরও পড়বেন এবং গভীরভাবে চিন্তা করবেন।
• নতুন কোন সূরা বা কুরআনের ছোট্ট কোন দুআ মুখস্ত করতে পারেন।
🌙 যিকর :
যখনই সময় পাবেন যিকর করবেন। চলতে-ফিরতে, শুয়ে-বসে কিংবা রান্না করতে করতেও যিকর করা যায়। কিছু মাসনূন যিকরের উদাহরণ দেয়া হল-
• ওযুর পর শাহাদাহ বাক্য- পড়লে জান্নাতের সব দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে
• দুরূদ- একবার পড়লে দশবার রহমত নাজিল হয়
• লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াহদাহু লা শারিলাহু, লাহুল মূলক ওয়া লাহুল হামদ, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বদীর- একশবার পড়লে দশজন ক্রীতদাস মুক্তির সাওয়াব
• সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম- একশো বার পড়লে সমুদ্রের ফেনার মত গুনাহও মাফ হবে
• সালাত শেষে সুবহানাল্লাহ (৩৩), আলহামদুলিল্লাহ (৩৩), আল্লাহু আকবর (৩৩)- গুনাহ মাফ হয়
• লা হাওলা, ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ- জান্নাতের একটি অলংকার এটি।
• আস্তাগফিরুল্লাহ- রাসূল (সাঃ) দৈনিক অন্তত ৭০-১০০ বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন
• সকাল সন্ধ্যার যিকিরসমূহ (দেখুন হিসনুল মুসলিম)- এগুলো প্রতিদিন পড়লে সমূহ বিপদ ও শয়তানের হাত থেকে আল্লাহ রক্ষা করবেন।
🌙 সাদাকা :
প্রতি রাতেই অল্প অল্প করে সাদাকাহ করার চেষ্টা করবেন।
• কত টাকা সাদাকা করবেন আগেই নির্দিষ্ট করে ফেলুন। যেহেতু বেজোড় রাতে এবং শেষের দিকে লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তাই দশদিনের জন্য এভাবে টাকা ভাগ করতে পারেন- ১৫০, ১০০, ১৫০, ১০০, ২৫০, ১০০, ২৫০, ১০০, ২৫০, ১০০। এটা একটা উদাহরণ মাত্র। আপনার সুবিধা অনুযায়ী ভাগ করুন।
• বিকাশে বা নগদে পাঠালে ফোন নাম্বার আগেই লিখে কোথাও লিখে রাখুন। যেন ওই সময়ে ফোন হাতে সময় অপচয় না হয়।
• বিকাশ, নগদ কিছুই না থাকলে একটি খামে বা ব্যাগে প্রতি রাতে টাকা আলাদা করে রাখবেন, পরে দিয়ে দিবেন।
🌙 দুআ :
দুআ হল লাইলাতুল ক্বদরের মূল আকর্ষণ। এটিও কিন্তু এক প্রকার ইবাদাত, তাই এতে পর্যাপ্ত সময় দিন।
• দুআ লিস্ট তৈরি না করে জলদি করুন। নিজের ও আপনজনদের কি চাওয়া সব লিখে ফেলুন। মুসলিম উম্মাহকে ভুলবেন না।
• একটি দুআর শর্টলিস্ট রাখবেন। দুআ কবুলের সময় গুলোতে পড়ার জন্য। (যেমন- ইফতারের আগে, বৃষ্টির সময়, ভালো কাজের পর, আজানের পর ইত্যাদি)
• কুরআনের ও হাদিসের দুআ গুলো সব পড়বেন, প্রয়োজনে দেখে দেখে। এগুলোর মধ্যেই মোটামুটি আমাদের যা প্রয়োজন তা মোটাদাগে আছে।
©