13/10/2023
"দেহের পর্দা সবাই বুঝলেও মনের পর্দা কেবল মুত্তাকীরাই বোঝে। আর তাই তারা দুটোই করে।
তারা গায়রে মাহরামের সাথে চোখে চোখ রেখে হাসে না, অহেতুক বাক্যালাপ করে না। প্রয়োজনীয় কথাও অতীব সংক্ষেপে শেষ করে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করে নিজেদের প্রয়োজনগুলো মেয়েদের দ্বারাই পূরণ করতে। 'মেয়েরা হিংসুটে' অজুহাতে ছেলেদের ভিড়ে হারিয়ে যায় না। কাজিন, ক্লাসমেট, স্বামীর ভাই, সেলেব্রিটি, দোকানী, বই প্রকাশক, যাই বলুন, পরপুরুষ মাত্রই তারা সমান ভাবে দেখে।
এমন পর্দা তারা ফেসবুকেও মেনে চলে। তাদের পোস্টের ভাষা হয় সংযত, যাতে পরপুরুষ না হয় বিমোহিত। তাই তারা সবাই সেলেব্রিটি না। গ্রুপে গ্রুপে তাদের সমাগম তেমন একটা দেখবেন না। তারা পোস্টে ভাইদের সাথে কমেন্টে মেতে উঠে না। লাভ রিয়েক্ট বা লাভ ইমো দিতেও দেখবেন না; ম্যাসেজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দ্বীনের নামে আড্ডাবাজীতে তারা জড়ায় না ।
তাদেরকে দেখবেন না আপলোড দিতে হিজাব-নিকাব পড়া ছবি; প্রোফাইল পিকচার কিংবা স্টোরি ইমেইজে। লিস্টে ছেলে থাকুক বা না থাকুক, তারা সদা পর্দানশীন থাকে। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাদেরকেই প্রকৃত পর্দানশীন মনে করি।
তারা বন্দী নয়, যন্ত্র নয়। বরং তারা ভয় করে। ভয় করে আল্লাহকে অন্তরের অন্তস্থঃতল থেকে। ফাতওয়ার সাথে খাপে খাপে মিলিয়ে নয়, বরং পর্দা করে তাকওয়ার তাগিদে। লোক দেখানো উদ্দেশ্য নেই। তাদের দৃষ্টি থাকে অবনত রাস্তায়, মন থাকে সদা সতর্ক ঘরেও, এমনকি ফেসবুকে...
আমি তোমাদের চিনি না। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের চিনেন। তোমাদের সাহায্যে আমি হয়ত পাশে দাঁড়াতে পারব না, কিন্তু আল্লাহ পাশে থাকবেন। যে ভালোবাসার বন্ধন তোমরা পর্দার সাথে গড়ে নিয়েছো, সেই ভালোবাসা যেন তোমাদেরকে খাদিজা, আয়িশাহ, ফাতিমা রাযি.-দের সাথে হাশরে একত্র করে—এই দুয়াই করি।
সালাম তোমাদের জন্য, যারা পর্দাকে প্রকৃত অর্থে বুঝেছো, এবং সন্তানকে সেই শিক্ষা দিচ্ছো।"
লেখা - মহিউদ্দিন রূপম