03/05/2026
#মসজিদের_আদব_জানা_এবং_মানা
আলহামদুলিল্লাহ, ইতোমধ্যে অনেক হাজীগন মক্কা-মদীনায় পৌছে গেছেন, বাকিরাও কিছুদিনের মধ্যেই চলে যাবেন ইন-শা-আল্লাহ। হজ্জ বা উমরায় যাবেন যারা তাদের মসজিদের আদব সম্পর্কে ভালমত জেনে নেয়া প্রয়োজন।বিশেষ করে মহিলাদের। কারন, দেশে মহিলাদের মসজিদে যাতায়াত খুবই কম বলে মহিলাদের এসব জিনিস আগে থেকে জানা থাকেনা। ফলে মসজিদে গিয়ে এমন এমন কাজ করেন যাতে আল্লাহ তায়ালার ঘরের প্রতি অসম্মান হয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাঁর ঘরের আদব রক্ষা করার তাওফীক দান করুন।
প্রথম কথা মাথায় রাখবেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। কাবা হোক, মসজিদে নববী হোক, আপনার বাসার পাশের মসজিদ হোক। মসজিদ আল্লাহর ঘর। এটা আপনার ঘর না। কাজেই আল্লাহকে ভয় করুন, মসজিদের আদবের খেলাফ হয় এমন কাজ করবেন না
☘️১)জোরে কথা বলবেন না, অন্যদের নামাজে, জিকিরে, তিলাওয়াতে সমস্যা হয়। কথা বলার দরকার পড়লে আস্তে বলবেন।
☘️২)দুনিয়াবী কথা এবং কাজ প্রয়োজন ছাড়া করবেন না।
কারন, এইসব কথার জায়গা মসজিদ না। মসজিদে করবেন জিকির, তিলাওয়াত, নামাজ, কাবা দেখা, তাওয়াফ।
☘️৩)মসজিদ ময়লা করবেন না। খেজুরের বিচি, বাদামের খোসা, পানির ব্যবহার করা প্লাস্টিকের কাপ, চকলেটের খোসা, বিস্কিটের খোসা - কিছুই মসজিদের ফ্লোরে ফেলবেন না। মক্কা-মদীনায় প্রচুর ডাস্টবিন আছে, ওখানে ফেলবেন, নাহলে ব্যাগে ছোট একটা পলিথিনে ভরে রাখবেন, পরে ফেলবেন। দেশের মসজিদে ডাস্টবিন কম থাকে, কিন্তু দেশের মসজিদেও ময়লা ফেলবেন না। সব সময় নিজেকে মনে করায়ে দিবেন, এটা আল্লাহর ঘর
☘️৪)মসজিদে ঢোকার আগেই মোবাইল সাইলেন্ট করেন, অথবা ভাইব্রেশনে দেন। নামাজের মধ্যে ট্যা ট্যা করে মোবাইলের মিউজিক বাজতে থাকলে অন্যদের মনোযোগে সমস্যা হয়।
আর মিউজিকই তো হারাম, তাহলে মসজিদে সেটা কোনভাবেই বাজতে দেয়া যাবে না
তবে, মোবাইল সাইলেন্ট করতে ভুলে গেলে, আর নামাজের মধ্যে মোবাইল বেজে উঠলে, নামাজের মধ্যেই এক হাত দিয়ে ফোনটা কেটে দেন, এতে নামাজ ভাঙবে না। এক হাতে কাটা সম্ভব না হলে, নামাজ ছেড়ে দিয়ে ফোন বন্ধ করে আবার আল্লাহু আকবার বলে হাত উঠিয়ে হাত বেধে আল্লাহু আকবার বলে ইমাম যেখানে আছে সেখানে চলে যান, ইমামের সালাম ফিরানো শুরু হলে উঠে পুর্বের ছেড়ে দেয়া অংশ আদায় করে নিন (মাসআালার রেফারেন্স- মোবাইল ও সাক্ষাৎ, আদব ও মাসায়েল, মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালিক, আবনাউল মারকাজ ফাউন্ডেশন, পেজ ৪৮-৫২)
☘️৫) কাবাঘরে, বা মসজিদে নববীতে সালাম দেয়ার সময়, রিয়াজুল জান্নাহে যাওয়ার সময় চেষ্টা করবেন ছবি না তোলার।
সামনা সামনি কাবার পুরা সৌন্দর্য পৃথিবীর কোন ক্যামেরায় ধরা যাবে না। ধরতে হবে আল্লাহর দেয়া unlimited mega-pixel এর "চোখে", ধরে রাখতে হবে "হৃদয়ে", ধরে রাখতে হবে নিজের "কাজ-কর্মে"।
(ইবাদাত, তাওয়াফ বা জিয়ারতের পরে হয়তো কিছু ছবি তুলতে পারেন পরবর্তীতে নিজে দেখা বা স্মৃতি মনে রাখতে। কাউকে দেখানোর উদ্দেশ্য বা রিয়া যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে)
আর কাবা শরীফে আপনি কেন গিয়েছেন সেটাও মাথায় রাখবেন। যে কোন ইবাদাত, করতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য। ছবি তুলব কেন, ফেসবুকে দিব কেন? কাবায় আসার কারণ তো আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরি করার, কাবায় তো আসা আল্লাহর শানে ইহরাম পরে কবরের ড্রেসে থাকার জন্য। এখানে অন্য মানুষকে দেখানোর কি আছে?
আমি তাওয়াফ করতে করতে একটা ছবি তুললাম, বা দুয়া করতেছি, আরেকজনকে দিয়ে ছবি তুলালাম, কাউকে দেখালাম, তাহলে কি দেখানোটাই মুখ্য? ইবাদাত করে তো লুকিয়ে রাখতে হয়, সেটা তো বলে বেড়ানোর কথা না, দেখিয়ে বেড়ানোর কথা না।
আপনার তাওয়াফরত ছবি দেখে কেউ কি তাওয়াফে উৎসাহী হবে? না, বরং নিজে কখনও তাওয়াফ করলে ওর থেকে সুন্দর একটা সেলফি তোলার জন্য উৎসাহী হবে।
দেখেন কি সহজে শয়তান আমাদেরকে মূল উদ্দেশ্য ভুলিয়ে দেয়। আল্লাহকে ভুলে আমরা ছবির জন্য পোজ দিতে ব্যস্ত হয়ে যাই। নিশ্চয়ই শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে আমাদের ভাল কখনোই চায় না। তার দেখানো প্রলোভনকে আল্লাহ আমাদের চেনার তাওফিক দান করুন।
☘️৬)মসজিদে কারোর সাথে ঝগড়া, কথা-কাটাকাটিতে জড়াবেন না। এই ধাক্কা দিলেন কেন, আমার জায়গায় আসলেন কেন ইত্যাদি চিৎকার দেয়ার প্রশ্নই আসে না । কিছু বলতে হলে আস্তে বুঝিয়ে বলতে পারেন। অপরপক্ষ চিৎকার করলে ওখান থেকে সরে আসুন।
চিৎকার সবচেয়ে বেশি দেখেছি রিয়াজুল জান্নাতে। ইস কি লজ্জা। দেয়ালের ওপাশে শুয়ে আছেন রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আর এপাশে "দুনিয়ায় জান্নাতের" কার্পেটের উপর দাড়িয়ে মহিলারা গলার জোরে ক্যার ক্যার করে একজন আরেকজনের সাথে "ঝগড়া, হই হল্লা করছে"। অথচ কাপড়ের পর্দার ওই পাশে ছেলেদের অংশে "মারামারি, লাথালাথি চলছে, কিন্তু কোন আওয়াজ নাই"। মানে ছেলেরা গলার আওয়াজ ছাড়াই মারামারি (প্রত্যক্ষদর্শীর কাছে শোনা) করছে (আওয়াজ না তোলা একটা ভাল কাজ, তবে মারামারি না)।
আমরা ভুলে যাই নবী-রাসূলদেরকে আল্লাহ রব্বুল আলামীন কবরে জীবিত রাখেন, কবরের কাছে এসে এসব করা, বলা হলে তিনি সেগুলো শুনছেন। আর আল্লাহ তো সব ঝগড়াই সর্বাবস্থায় শুনছেন। আমরা ভুলে যাই আল্লাহ কুরআন শরীফে বলেছেন,
রসূলের সামনে কারোর গলার আওয়াজ যেন রসূলের চেয়ে উচু না হয়। রসূলের সামনে উচা গলায় কথা বললে সমস্ত ভাল আমল বরবাদ হয়ে যাবে।
আর আমরা তো তার ধারই ধারছি না। আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করুন, হেদায়াত দান করুন।
☘️৭) মসজিদে ঢোকার সময় দুয়া পড়া
بِسْمِ اللَّهِ আল্লাহ্র নামে (প্রবেশ করছি))
وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ
সালাত ও সালাম আল্লাহ্র রাসূলের উপর।
اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।
☘️৮) ডান পা দিয়ে ঢোকা
☘️৯) মসজিদে ঢুকে নফল ইতিকাফের নিয়ত করা (এতে করে যতক্ষণ মসজিদে থাকবে ততক্ষণ ইতিকাফের সওয়াব হবে)
মসজিদে ঢোকার পর দুই রাকাত "তাহিয়্যতুল মসজিদ" পড়া সুন্নাত। ফজরের সালাতের পর এবং আসরের সালাতের পর এই দুই সময় ছাড়া মসজিদে ঢুকলে ২ রাকাত সালাত পড়বেন। এর কোন আলাদা নিয়ম নেই।
তবে মক্কায় মসজিদে হারামের ক্ষেত্রে ব্যক্তি যদি উমরা বা হজ্জের ইহরামে থাকেন, তাহলে মসজিদে ঢুকে শুরুতে তাওয়াফ করবেন (যদি সম্ভব হয়। ভীড় বা অন্য কারণে সম্ভব না হলে তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজ পড়তে পারবেন।) আর ব্যক্তি যদি মুহরিম না হয়, মানে ইহরাম অবস্থায় না থাকে, তাহলে ঢুকে আগে ২ রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়বেন)
☘️১০) মসজিদে ঢুকে প্রথম কাতারে বসা উত্তম। কিন্তু জায়গা ভরে গেলে যেখানে জায়গা পাবে সেখানে বসবে। কারোর ঘাড়ের উপর লাফিয়ে সামনে যাওয়া জায়েজ নেই।
☘️১১) মসজিদে বসে জিকির বা তিলাওয়াতে মগ্ন ব্যক্তিকে আগ বাড়িয়ে সালাম দেয়া উচিত না। কেউ নিজ থেকে আপনার দিকে মনোযোগী হলে বা জিকির বা তিলাওয়াতে লিপ্ত না থাকলে সালাম দেয়া যাবে
☘️১২) সুন্নাত বা নফল নামাজে দাঁড়াতে চাইলে এমন জায়গায় দাঁড়াবে যেটা মানুষের হাঁটার জায়গা না। যেমন সামনে অনেক জায়গা ফাকা রেখে পিছনের কাতারে দাঁড়ালে মানুষের চলাচলে সমস্যা হয়।
☘️১৩) জামাতের জন্য আগে সামনের কাতার পুরা করবে। সামনে ফাকা রেখে পিছনে অবস্থান নিবেনা
☘️১৪) মসজিদে যতক্ষণ অবস্থান করবে, জিকিরে লিপ্ত থাকা
☘️১৫) জুম্মার খুতবার জন্য ইমাম মিম্বারে আসার সময় থেকে জুম্মার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত - কথা বলা, নামাজ পড়া, সালাম দেয়া, সালামের উত্তর দেয়া, বা যে কথা বলতেছে তাকে চুপ করতে বলা কোনটাই জায়েজ না।
☘️১৬) কেউ মসজিদে ভুল বা অন্যায় করলে তাকে নম্র ভাবে বুঝাবে, কিন্তু সবার সামনে অপমান করা, ধমক দেয়া বা বাকবিতন্ডা থেকে পুরাপুরি বিরত থাকবেন
☘️১৭) বাম পা দিয়ে বের হওয়া
☘️১৮) বের হওয়ার দুয়া পড়া
بِسْمِ اللَّهِ وَالصّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِك، اللَّهُمَّ اعْصِمْنِي مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ،
আল্লাহ্র নামে (বের হচ্ছি)। আল্লাহ্র রাসুলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাসমূহ মাফ করে দিন এবং আমার জন্য আপনার দয়ার দরজাগুলো খুলে দিন। হে আল্লাহ, আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে হেফাযত করুন।
(কৃতজ্ঞতাঃ হজ্জের টুকিটাকি)
#হজ্জ_প্রস্তুতি
JNH Hajj & Umrah Agency
☎️ 01675-938313