08/12/2025
তাওয়াফরত অবস্থায় বিয়ের প্রস্তাব।
ʿউরওয়া ইবনুয যুবাইর (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত: আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম, যখন আমরা তাওয়াফ করছিলাম। তিনি কোনো উত্তর দিলেন না, একটি শব্দও বললেন না।
পরে আমি মদিনায় পৌঁছালে তাঁকে সালাম দিলাম।
তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: ‘কবে এসেছ?’ আমি বললাম: ‘এখনই।’
তিনি বললেন: তুমি কি আমাকে তাওয়াফ করার সময় সওদা বিনতে আবদুল্লাহর কথা বলেছিলে? তাওয়াফে আমরা কেবল আল্লাহকেই সামনে রাখি। তুমি অন্যত্র আমাকে পেতে পারতে।
আমি বললাম: এটি তো আল্লাহর তাকদীর ছিল।
তিনি বললেন: এখন তোমার মত কী?
আমি বললাম: আমি তখন যেমন আগ্রহী ছিলাম, এখনও তেমনই আছি।
অতঃপর তিনি তাঁর দুই পুত্র সালিম ও আবদুল্লাহকে ডাকলেন এবং আমার সঙ্গে তাঁর কন্যার বিয়ে সম্পন্ন করলেন। (এই ঘটনাটি ইমাম আয-যাহাবি তার সিয়ার আলাম আল নুবালা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন)
তাওয়াফ করার সময় সাহাবি আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উত্তর কেন দেন নি?
ইমাম আশ-শাফি’ই, ইবন উমরের (রা.) কথা উদ্ধৃত করে বলেছেন:
“তাওয়াফে কথা কম বলো; কেননা তাওয়াফে তোমরা সলাতের মতো অবস্থায় আছ।”
এ থেকেই বোঝা যায়—ইবন উমর (রা.) তাওয়াফের সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ আল্লাহর দিকে রাখতেন, তাই অপ্রয়োজনীয় জবাব দেননি।
আর আমাদের অনেকেই আছেন — তাওয়াফের সময় ভিডিও কল, সেলফি তোলা বা খোশ গল্পে মেতে থাকা; যেটা তাওয়াফের মতো বিশাল ইবাদতের মর্যাদাহানির সমতুল্য।
আল্লাহর নৈকট্যে অর্জনের এত বড় সুযোগ হেলায় না হারিয়ে তাওয়াফের মাহাত্মের দিকে খেয়াল রাখি —
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, সাত চক্র তওয়াফ করার সওয়াব একটি ক্রীতদাস স্বাধীন করার সমান।(ইবনে মাজাহ)