13/01/2021
বৈদেশিক মূদ্রার ব্যয়সীমা ও ই-কমার্স
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
বিগত কয়েকবছর ধরে একটা বিষয় আলোচনা চলে আসছে যে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য বৈদেশিক মূদ্রার ব্যয়সীমা নির্ধারণ করে তা খরচ করতে দেয়ার সুযোগ প্রয়োজন আছে কিনা থাকলে সেটা কত? মূলত কোন প্রতিষ্ঠান বছরে কত টাকা ফরেন কারেন্সি খরচ করে সে ব্যাপারে তথ্য জানাতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিব্রত বোধ করছিল। তাছাড়া আর্থিক বিবরণী সংক্রান্ত তথ্য ট্রেড এসোসিয়েশনকে প্রদান করতে প্রতিষ্ঠানসমূহ বাধ্য নয়। একটি মত বিনিময় সভার মাধ্যমে বিষয়টা আলোচনা করা হয়। সর্বশেষ একটি অনলাইন জরিপে ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে ৭০টি প্রতিষ্ঠান। এখানে ৫০% প্রতিষ্ঠান নিজেদের মাঝারী, ৪৩% শতাংশ প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্র, ২% শতাংশ অতিক্ষুদ্র এবং ১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করে। যদিও বড় ছোট মাঝারীর কোনো মাপকাঠি উল্লেখ করা হয়নি বিধায় এই জরিপ বা এই উত্তর যথাযথ মনে করা যায়না। এছাড়া ১৬% প্রতিষ্ঠান বিটুবি, ৩০% প্রতিষ্ঠান বিটুসি, ৪৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নিজেদের উভয় ফরম্যাটের ব্যবসায়িক অপারেশন রয়েছে বলে দাবী করে। ক্যাটাগরিতে দেখা যায় ৩৮% মার্কেটপ্লেস, ৫০% অনলাইনশপ, ১৬% সুপারশপ, ৮ শতাংশ লজিস্টিক, ৫% খাদ্য সরবরাহ প্রতিষ্ঠান, ১২% সার্ভিস প্লাটফরম, ১৩% ক্রস বর্ডার ই-কমার্স, ৮% স্বাস্থ্য ও ঔষধসেবা, ৩% ক্লাসিফাইন এড, ১% বাইক রাইডিং সেবা, ৮% ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি, ৬% শতাংশ কনসালটেন্সি ফার্ম, ২% শতাংশ ই লার্নিং বাকী অন্যান্য। মাত্র ৭০টি প্রতিষ্ঠান এতে তথ্য দেয়ায় এই তথ্যও যথার্থ বলে বিবেচনা করা যায়না। বর্তমানে তারা কোন মাধ্যমে বৈদেশিক ব্যয় পরিশোধ করেন এই প্রশ্নের উত্তরে ১৮% বলেছেন তাদের বৈদেশিক মূদ্রা হিসাব রয়েছে, ১৫% তারা লোকাল অন্য এজেন্সির মাধ্যমে এই ব্যয় মেটান। ৩৩% বলেছেন তারা উভয় মাধ্যমে ব্যবহার করেন। ২৮% বলেছেন তারা অন্যকোনো মাধ্যম ব্যবহার করেন এবং ৬% শতাংশ বলেছেন তারা এই প্রশ্নের জবাব দিতে চান না।
ই-কমার্স প্রতিষ।ঠানগুলো অনলাইনে কি ক্রয় করে? এবং কেন ক্রয় করে সেটা জানা যাবে এখানে।
পণ্যের নাম: অনলাইন বিজ্ঞাপন: (ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বাবদ খরচ
আমদানীর প্রয়োজনীয়তা
অন্যান্য ব্যবসায়িরা বিলবোর্ড, পেপার এড, টিভি এড, পোস্টার লিফলেট ইত্যাদি ভিত্তিক প্রচুর বিজ্ঞাপন দিলেও অনলাইন উদ্যোক্তাদের মূলত সিংহভাগ বিজ্ঞাপন অনলাইনে দিতে হয়। কারণ তাদের গ্রাহকেরা মূলত নেটিজেন। এর ফলে তাদের ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে হয়। এজন্য তাদের এসব বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে অর্থ প্রদান করতে হয়। যা অন্য কাউকে এতটা করতে হয়না। তাই ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য বৈদেশিক ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা থাকলে অনেকে সঠিকভাবে বিজনেস প্রমোশন করতে পারে না। ফলে পন্যের বাজারটা অনেকক্ষেত্রে বিদেশী কোম্পানীর দিকে যায়। আবার যারা প্রমোশন চালায় তাদের বেলায় ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্নপথ অবলম্বন আশংকা তৈরী হয়।
পন্যের নাম: সফট প্রোডাক্টস: (ওয়েব থিম, প্লাগেইন, কনসেপ্ট, টেম্পলেট)
প্রয়োজনীয়তা: ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের পেশাদারীত্বের সাথে ব্যবসা পরিচালনার প্রথম শর্ত একটি ই-কমার্স ওয়েব সাইট ও এ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন থিম, প্লাগইন ও কনসেপ্ট। যা অনলাইনে কিনতে হয়। এছাড়া বিজনেস ডেভলপমেন্ট এর জন্য বিভিন্ন সল্যুশন ছাড়াও ছবি, ইমেজ, ভিডিও, ডিজাইন টেম্পলেটসহ নানা সফট প্রোডাক্টস অনলাইনে কিনতে হয়। কোনো কোনো কনসেপ্ট বার বার কেনার প্রয়োজন হয়। তাই এক্ষেত্রে অন্য যেকোনো ব্যবসায়ের তুলনায় ই-কমার্স উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল মার্কেটারদের অনেক বেশী বৈদেশিক লেনদেন করতে হয়।
নাম:
মেশিনারী বা গেজেট (প্রোডাক্টস ফটোগ্রাফি ক্যামেরা, লাইটিং ইত্যাদি)
প্রয়োজন: যেসব সফটওয়ার অনলাইনে কিনতে হয় সেগুলোর সাথে সম্পর্কিত এমন অনেক মেশিনারিজও অনলাইনে কিনতে হয়। তাছাড়া ক্যামেরা লাইটিংসহ এমন অনেক জিনিস আছে যেগুলো ই-কমার্স শপ এর জন্য দরকার হয় যা তারা অনলাইনে কেনাকাটা করেন। বৈদেশিক ব্যায়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাম: ইলেন্টচুয়াল প্রডাক্টস
যেহেতু এটি একটি উদীয়মান খাত তাই কখনো কখনো মার্কেট রিসার্চ কিংবা ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত ও গবেষণাপত্র কিনতে হয়। কেউ কেউ বিদেশী ওপেনসোর্স ও তথা আউটসোর্সিং প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন সেবা নিয়ে থাকেন। অনেকে অনলাইনে বিভিন্ন ট্রেনিং সেশন ও কোর্সে অংশ নেন যেগুলোর জন্য অনলাইনে পে করতে হয়। তাই এই খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য বৈদেশিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে সীমা অন্য যেকারো চেয়ে বেশী হওয়া উচিত।