Rose.com

Rose.com Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Rose.com, Business service, Dhaka.

Permanently closed.
30/06/2020

#এভাবে_যদি_আগে_কখনও_ভাবতাম!

১২৫ টি শব্দের অর্থ জানলে কুরআনের ৫৫% শব্দের অর্থ জানা হয়ে যায় আর ৩২০ টি জানলে জানা হয় ৭৫%!!!

জ্বি, ঠিক তাই। কুরআনের শব্দ সংখ্যা ৭৭,৪০০ এর কিছু বেশি হলেও ধাতু ও মৌলিকত্বের বিচারে শব্দ মাত্র ১৮২০ টি। এই শব্দগুলোর অনেক শব্দেরই ঘটেছে পুনরাবৃত্তি। তাই, বেশি ব্যবহৃত শব্দগুলো আগে শিখলে কুরআনের আয়াতগুলোর অর্থ বুঝতে সহজ হয়।

যারা মাদ্রাসায় পড়েননি বা আরবী যাদের ভাষা নয়, তারা এসব পুনরাবৃত্তিমূলক শব্দগুলো হতে ৫-১০ টি দৈনিক মনে রাখলে বেশিদিন লাগবে না এসব জানতে ইনশা-আল্লাহ। দ্রুতই তখন কুরআন পড়ার সময় দেখবেন অর্থ পুরো না বুঝলেও অনেক আয়াতেরই অর্থের অনুবাদ ছাড়াই অনেকটা কাছাকাছি যেতে পারবেন।

আল্লাহ আমাদের জন্য কুরআন বুঝা ও মানা সহজ করুন, আমীন।

আজকে ইনশাআল্লাহ পবিত্র কোরআনে অনেক বেশি ব্যবহৃত ১০০ টি শব্দ দেওয়ার চেষ্টা করবো।এগুলো একদম বেসিক noun,pronoun, adjective, verb,preposition and question words.জোড়া তালি দেয়ার শব্দগুলো শিখতে পারলে ইনশাআল্লাহ যখন vocabulary আরো বেশি করে জানবেন তখন আরবী পড়ে নিজেই অর্থ বুঝে নিতে পারবেন। প্রতিদিন পাঁচটি করে শব্দ আমরা শিখব এটাই যথেষ্ট।

1st day:
_______
1.هَذَا[হাযা](this(male-এটা
2.هَـذِهِ -[হাযিহি]this(female এটা)
3.هَـؤُلآءِ -[হা-উলা-ই]these (এইসকল)
4.ذَلِكَ -[যালিকা]that(male যাহা, যে)
5.تِلْكَ -[তিলকা]that(female যাহা,যে)

2nd day :
________
6.أُولَئِكَ -[উলাইকা]those(যাহারা,সেগুলো)
7.اَلَّذِىْ -[আল্লাযি]who(male যে)
8.اَلَّتِىْ -[আল্লাতি]who (female)
9.اَلَّذِيْنَ -[আল্লাযিনা]those who(তোমরা যারা)
10.تَحْتَ -[তাহতা]under(তলদেশে,নিচে)

3rd day :
________
11.فَوْقَ -[ফাওক্বা]above(উপর)
12.قَبْلَ -[ক্ববলা](before -(সামনে,আগে
13.ﺑَﻌْدَ -[বা'দা]after(পরে,পরবর্তী কালে,)
14.بَيْنَ -[বাইনা]between(মধ্যবর্তী স্থানে)
15.دُونَ -[দুনা]besides(তুলনায়,পার্শ্বে)

4th day :
________
16.عِنْدَ -['ইন্দা]near (নিকটবর্তী, প্রায়)
17.يَمِيْنْ -[ইয়ামিন]right(ন্যায়,ঠিক,সত্য)
18.شِمَالْ -[শিমাল]left(বাদিকে)
19.ٱللَّه -Allah
20.رَب -রব

5th day :
________
21.أَرْض -[আরদ্বা](পৃথিবী (World
22.قَوْم -[ক্বওম]nation জাতি
23.ءَايَة -[আয়াহ]চিহ্ন /আায়াত
24.كُل -[কুল্লু]every (প্রত্যেক, সব)
25.رَسُول -[রসূল]messenger (দূত)

6th day :
________
26.يَوْم -[ইয়াওম] day (দিন)
27.عَذَاب - ['আযাব] punishment (আজাব)
28.سَمَآء -[সামা'] sky(আকাশ)
29.شَىْء -[শাইই্] thing(জিনিস,ঘটনা,ব্যাপার)
30.كِتَاب -[কিতাব

7th day :
________
31.حَق -[হাক্ব] truth (সত্য)
32.نَاس - [নাস] people (সম্প্রদায়)
33.مِن - [মিন] from (হতে, থেকে)
34.فِى -[ফী] in (অভ্যন্তরে, মধ্যে)
35.عَلَى -['আলা] upon (সন্নিকটে)

8th day :
________
36.اِلَى -[ইলা] to (কাছে, প্রতি)
37.عَن -['আন] about (সম্পর্কিত,সম্পর্ক)
38.حَتَّی -[হাঁত্তা] until (যতক্ষণ না)
39.مَعَ -[মা'আ]with(একত্রে, সঙ্গে)
40.بِ -[বি]with(সাথে)

9th day:
_______
41.كَ -[কা]like (মত,প্রায়)
42.لِ -[লি] for (জন্য)
43.مَن -[মান] who (যে)
44.مَا / مَاذَا -[মা যা] (what (কী, যাহা
45.أَيْنَ -[আইনা] where (যেথায়,কোথায়)

10 the day :
___________
46.مَتى -[মাতা] when(কখন,তখন)
47.لِمَ / لِمَاذَا -[লিমা/লিমা যা] why(কেন,কী জন্য)
48.كَيْفَ -[কাইফা] how (কেমন,কিভাবে)
49.هَلْ -[হাল] are (হয়)
50.أَيُّ -[আইয়্যু] which (যেটি, যেগুলো)

11 the day :
___________
51.كَمْ -[কামা] how much (কতোটুকু)
52.لَا -[লা] no(না)
53.مَا -[মা] not (মোটেই নয়)
54.لَمْ -[লাম] not (নয়)
55.لَنْ -[লান] never (কখনোও না)

12 th day :
__________
56 .كَلَّا -[কুল্লা] nay (বস্তুত)
57.لَيْسَ -[লাইসা] it is not (মতো নয়)
58.بَلَى -[বালা] of course (নিশ্চয়ই)
59.نَعَمْ [নাআ'ম]-yes
60.مُؤْمِن -[মু'মিন] believer(বিশ্বাসী)

13 th day :
__________
61.سَبِيل -[সাবিল] way (পথ,উপায়)
62.أَمْر -[আম্র]command (আজ্ঞা, নির্দেশ)
63.بَعْض -[বা'দ] some (কেহ,কিছু)
64.خَيْر -[খইর] better (উত্তম, শ্রেষ্ঠ)
65.إِلَٰه -ইলাহ

14 th day :
__________
66.آخِر -[আখির] last ( শেষ)
67.جَنَّة -[জান্নাহ] বাগান
68.نَار -[নার] fire ( আগুন)
69.غَيْر -[গইর] without (ব্যতিরেকে,ব্যতীত)
70.قَلْب -[ক্বলব] heart ( অন্তর)

15th day :
_________
71.عَبْد -[আব্দ]slave (গোলাম)
72.أَهْل -[আহল] family (দল,পরিবার)
73.يَد -[ইয়াদ] hand(আয়ত্তে,হাত)
74.قَالَ -[ক্বলা] he said (বলেছেন)
75.كَانَ [কানা] -he was

16th day : (verbal)
_________
76.ءَامَنَ- [আমানা-he believed (তিনি বিশ্বাস করেছিলেন)
77.عَلِمَ -[আলিমা]he knew (তিনি জানতেন)
78.جَعَلَ -[জা'আলা]he made (তৈরী করেছেন)
79.كَفَرَ -[কাফার] he disbelieved (অবিশ্বাস করেছিলো)
80.جَآءَ [জাআ]-he came

17th day :
_________
81.عَمِلَ -[আমিলা]he did (করেছিলেন)
82.آتَى -[আ—তা] he gave (তিনি দিয়েছেন/লেন)
83.رَءَا -[—রআ]he saw (তিনি দেখেছিলেন)
84.أَتَى -[আতা]he came (তিনি এসেছিলেন)
85.شَآءَ -[শা—আ] he wished (ইচ্ছে পোষণ করেছিলেন)

18th day :
_________
86.خَلَقَ -[খলাক্ব] he created (তিনি তৈরী করেছেন)
87.أَنزَلَ -[আংযালা]he sent down(তিনি প্রেরণ করলেন)
88.كَذَّبَ -[কাযযাবা] he denied (মিথ্যে বলা অর্থে ব্যবহৃতও হয়,অস্বীকার করা অর্থেও)
89.دَعَا -[দা'আা] he invoked (প্রার্থনা করা অর্থে)
90.ٱتَّقَى -[আত্তাক্বা] he feared (ভয়)

19th day :
_________
91.هَدَى -[হাদা] he guided (পরিচালিত করলেন)
92.هُوَ -[হুয়া] he (তিনি,সে)
93.هُمَا -[হুমা] they both (উভয়েই)
94.هُمْ -[হুম] they (male -তারা)
95.هِيَ -[হিয়া] she (এটা স্ত্রীবাচক)(সে)

20 th day :
__________
96.هُنَّ -[হুন্না] they (female তারা)
97.أَنْتَ -[আংতা] you (male,তুমি)
98.أَنْتُمَا -[আংতুমা] you both (তোমরা উভয়েই)
99.أَنَا -[আনা] I (আমি)
100.نَحْنُ -[নাহঁনু] we (আমরা)

বিঃদ্রঃ -উপরিউক্ত শব্দগুলোর সম্ভাব্য বাংলা অর্থ আমি দেয়ার চেষ্টা করেছি, তবে বিভিন্ন আয়াতে শব্দগুলোর অর্থ ভিন্ন হতে পারে সে ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ খেয়াল রাখবেন।
যেহেতু কোরআনোল কারিম আমাদের জীবনের সঠিক গাইড লাইন দেয়। সে জন্যে অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। অন্যতায় কুরআনের প্রতি উম্মাহর অনিহা সৃষ্টি সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।(collected)

নোটঃ পরবর্তীতে বাকি শব্দগুলো ও অর্থ সহ পোষ্ট করার চেষ্ট করবো ইনশাল্লাহ।

মহা মূল্যবান এই পোষ্ট টি প্রত্যেকে শেয়ার করে রাখুন। আর যারা এই পেইজে এখনো জয়েন করেন নি। তারা এখনি এই পেইজটিতে লাইক দিয়ে জয়েন করে নিন। ইনশাল্লাহ পর্যায়ক্রমে কুরআন শিক্ষা সহ ইসলামের নানাবিধ অজানা হেকমত পোষ্ট করা হবে।

🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

15/06/2020

#আত্না

গল্পটির সবগুলো পর্ব এই এই পেইজেই আছে। পেইজে জয়েন করে তারপর নিচের দিকে একটু খুঁজলেই সব পর্ব পেয়ে যাবেন।

15/06/2020

#পশুবর
নুসরাত

আমার নিজের সম্পর্কে কি বলবো বুজতেছিনা। কারন বলার মত কিছুই নেই।
আমি যখন ৮ম শ্রেনিতে পড়ি তখন আমি আমার নিজের ভাইয়ের দারা প্রতি দিন রেপ হতাম।

আমার যখন ৩ বছর বয়স তখন মায়ের সাথে বাবার ডিভোর্স হয়ে যায়। আমি আজও জানি না আমার বাবাকে।

তারপর ৩ বছরের মত নানার বাড়ি ছিলাম। নানার বাড়িতে মোটামুটি সুখেই ছিলাম। মায়ের আবার বিয়ে হয় এক লোকের সাথে তার আবার ২ টা ছেলে৷
বড় ছেলের বয়স তখন ছিলো ১৭ আর ছোটটার ১২..

তারা মায়ের সাথে আমাকে মেনে নেয়নি।

মায়ের বিয়ের পর ১ বছরের মত নানার বাড়ি ছিলাম। ১ বছর পর আমার নানি মারা যায়।

আর তখন আমি একা হয়ে যায়। আমার ১ মামা সে চাকরি সুএে ঢাকা থাকতো। তার পরিবার নিয়ে চিটাগাং এ আর কেউ থাকতো না৷
বলে রাখি আমার নানার বাড়ি খাগড়াছড়িতে।

তখন মা আমাকে নিয়ে যায়। তার সাথে।
আমার নতুন বাবাটা কিছু না বললেও কিন্তু তারছেলেরা আমায় কোনো রকমই মেনে নেয় নি।

তারা ছোটবেলা থেকেই আমাকে মারতো। আমাকে কিছু খেতে ও দিতো না।
তারা সবসময় আমাকে বকাঝকা করতো। এভাবেই আমার বেড়ে উঠা।
আমাকে মা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলো।
শত বাবা আমাকে দেখতে না পারলে ও কখনও বকা ঝকা করে নি৷
আমার মা ও আমায় খুব বকতো।
অনাদর অবহেলায় আমার বেড়ে উঠা।

যখন আমি ৭ম শ্রেণিতে পড়ি ছোট ভাই আমার গায়ে হাত দিতো সবসময়।
ব্যাপার টা আমার ভালো না লাগতো না৷ আর ভয়ে কাউকে বলতাম ও না।

একদিন আমার গায়ে হাত দেয় আর আমি খুব ব্যাথ্যা পায়। ছোট ভাই সবসময় বলতো তার পা টিপে দিতে গা টিপে দিতে।
আমি ব্যাপারটা আমার মাকে বলি। মা উল্টো আমায় বকা দেয়।

তার পর থেকে আমি ভয়ে আর কাউকে কিছু বলিনি।

৮ম শ্রেনিতে উঠার পর একদিন বাড়িতে কেউ ছিলো না। সবাই দাওয়াত খেতে গেছে। তো ছোট ভাই কোথা থেকে এসে আমার উপর পশুর মত ঝাঁপিয়ে পড়লও।

আমার চিৎকার দিয়েও চিৎকার দিতে পারলাম না।
আমি ব্যাথ্যা মরে যেতে লাগলাম।

তো সে তার চাহিদা মিটিয়ে যখন উঠলো সে আমায় বললও কাউকে বলবি না খবরদার।
আমি ও ভয় পেয়ে কাউকে বললাম না কারন আমার কথা কেউ বিশাস করবে না।

উল্টো আমাকেই মারবে।
এর পর থেকে ছোট ভাই প্রায় সময় আমার উপর ঝাপিয়ে পড়তো।
আর মাঝে মাঝে ছোট ভাই আমাকে টাকা দিতো।

এভাবে আমার বেড়ে উঠা। যখন আমি ক্লাস টেন এ উঠলাম। তখন বুজতে পারলাম আমি কনসিভ করি।

চলবে,,,,,,,,,,,,
(সম্পূর্ণ টা গল্প না পড়ে কেউ খারাপ মন্তব্য করবেন না)

নেক্সট পর্ব সহ সবগুলো পর্বের লিংকঃ
https://www.facebook.com/pg/Platfrom-of-Love-608781672970129/about/

09/06/2020

বড় চাচীর সাথে যা ঘটে ছিল -০২
শেষ পর্ব

তারপর সেইদিন এসে গেল যেদিন বড় চাচীর পেটে অসম্ভব ব‍্যথা।রাত থেকে একটানা পানি ভেঙেছে চাচীর। গ্রামের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ধাই ও বলছে, 'সন্তান আছে উল্টা হয়ে।বলা যায় না কী হয়।গাছ-ফল দুইটাই নষ্ট হয়তে পারে। ভাগ্য ভালো হইলে একটা টিকতে পারে।'
সব আত্মীয় স্বজনেরা অস্হির হয়ে উঠলো। কেউ কেউ কান্নাকাটি করছে। কিন্তু বড় চাচা মোটেও কাঁদলেন না। তিনি বললেন,'সব আল্লাহর ইচ্ছা।তার হুকুম ছাড়া একটা গাছের পাতাও নড়ে না। আমি তার উপর ভরসা রাখি। আল্লাহ যা চান তাই হবে।'
সেদিনও সবাই চাচাকে বললো,'বেকুব।'
বড় চাচা নিজেকে নিজে বললেন,'মতিন, তুমি বেকুব না। বেকুব তো তারা যারা বিপদে আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে পারে না।'
সবশেষে যখন সবাই নিরাশ হয়ে গেল একে একে তখন বড় চাচা সেজদায় পড়ে
গেলেন। সেজদায় পড়ে
বললেন,'আল্লাহ গো, তুমি যা করো তাই আমি মেনে নিবো। আমি তোমার এমন গোলাম যে কোনদিন কোনভাবেই কোন কারণে তোমার উপর নারাজ হবে না।'
চাচা সেজদায় লুটিয়ে পড়ে অজর ধারায় কাঁদছেন। চোখের জলে জায়নামাজ ভিজে চুপসে গেছে। চাচা শুধু বারবার একটি কথায় বলছেন,'আল্লাহ তুমি যা করো তাই মঙ্গল ময়। আমি তোমার উপর সর্বদায় রাজি।'
চাচা কাঁদছেন,আমরা কাঁদছি, যখন বাড়ির সবকজন মানুষ নিরুপায় তখন জমিনে এসে লুটিয়ে পড়লো পৃথিবীর নবীনতম একজন মানুষ,একটি কন‍্যা সন্তান।ওয়াও ওয়াও শব্দের কান্নায় নিস্তব্ধ বাড়িটি তখন কানায় কানায় ভরে উঠলো।বড় চাচা তখনও সেজদায়। চাচার কাছে দৌড়ে গিয়ে তার পিটে আলতো হাত বুলিয়ে আমি বললাম,'চাচা,কারোর কোন ক্ষতি হয়নি।চাচী সুস্থ আছেন।আর আপনি হয়েছেন কন‍্যা সন্তানের পিতা।'
চাচা সঙ্গে সঙ্গে সেজদা থেকে মাথা উঠিয়ে চিৎকার করে তিনবার বললেন,'
শুকর-
আলহামদুলিল্লাহ
আলহামদুলিল্লাহ
আলহামদুলিল্লাহ।'

06/06/2020

চাচীর সাথে যা ঘটে ছিল
১ম অংশ

বড় চাচীর বাচ্চা হবে দীর্ঘ নয় বছর পর। খুশিতে আত্মহারা হয়ে বড় চাচা এক ছাগল জবাই দিয়ে ফেলেছেন। সেই ছাগলের মাংস রান্না করে চালের আঠার রুটি করে ইউনিয়নের যত এতিম মিসকিন আছে সবাইকে দাওয়াত করে তিনি খাইয়েছেন। খাওয়ার শেষে ওদের প্রত‍্যেকের হাতে পঞ্চাশ টাকা করে দিয়ে বলেছেন,'আমার স্ত্রীর সন্তান হবে আমাদের বিয়ের নয় বছর পর। এরচেয়ে খুশির সংবাদ আমার কাছে আর কিছু নাই।তোমরা আমার স্ত্রীর জন্য দোয়া করবা। আমার সন্তান যদি সহি সালামতে পৃথিবীর আলো দেখে তবে তোমাদেরকে আমি গরু জবাই দিয়ে খাওয়াবো ইনশাআল্লা।'
এতিম আর মিসকিনেরা সেদিন খুশি মনে বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে পকেটে টাকা নিয়ে নিজেদের বাড়ি বাড়ি চলে গেল। যাওয়ার সময় শুকরিয়ায় চোখে জল এনে দোয়া করলো,'মাবূদ গো, তোমার এই বান্দা যে আমার মতো নাদান এক এতিমরে এতো বড় সম্মান দিয়ে তার বাড়িতে এনে দাওয়াত খাওয়ালো আবার খুশি হয়ে হাতে টাকাও দিলো তার মনের আশা তুমি পূরণ করো। দয়াল মাবূদ গো, তোমার ইব্রাহিম নবীর অভ‍্যাস ছিল ফকির মিসকিনরে সম্মান করে দাওয়াত করে খাওয়ানো, তোমার এই বান্দার অভ‍্যাসও তেমন।সে কোন ধনী মানুষ খুঁজে দাওয়াত করেনি। আমার মতন নাদানরে খুঁজে বের করে সম্মান দিয়েছে।ও মাবূদ, তোমার যে বান্দা এই এতিমরে সম্মান দিলো তারে তুমি নিজে সম্মান দিও।'
এভাবে প্রত‍্যেকজন এতিম আর মিসকিনেরা দোয়া করলো।কেউ শুনিয়ে,কেউ চুপিচুপি।
বড় চাচাকে সেদিন দেখে মনে হলো জগতে তার মতো এমন সুখি মানুষ আর একটিও নেই। সন্ধ্যা বেলায় বড় চাচী যখন জলভরা চোখে জায়নামাজে বসে আল্লাহর মহিমা প্রকাশ করছিলো তখন বড় চাচা তার কাছে এসে ত্রিশ হাজার টাকায় গড়ানো সোনার চেইনটা বড় চাচীর গলায় পড়িয়ে দিয়ে বললেন,' এ আমার উপহার। আল্লাহ তোমায় বিবি হাজেরার মতো কবুল করুন।'
বড় চাচী তখন দোয়া শেষ করে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন।বড় চাচা চাচীকে জড়িয়ে ধরে বললেন,'শান্ত হও।'
চাচী শান্ত হলেন না।প্রাণ ভরে অনেক্ষণ কাঁদার পর বড় চাচাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,'যে জগতে কোন মেয়ে মানুষের সন্তান না হলে তাকে নিত‍্যদিন তার স্বামীর গঞ্জনা সয়তে হয়,কত অবহেলা কত অত‍্যাচার নেমে আসে সেই মেয়েটির উপর,আর আপনি সেখানে আমায় শুধু সান্ত্বনা আর অনুপ্রেরণাই দিয়ে গেছেন বছরের পর বছর। কোন কারণে যেন আমার একটুও মন খারাপ না হয় সেই চেষ্টায় করে গেছেন সব সময়। আমার কোন কাজে অসন্তোষ আসে এমন কিছুই করেননি কোনদিন আপনি।ও স্বামী, আল্লাহ আপনাকে এর উত্তম প্রতিদান দান করুন।'
বড় চাচা মৃদু হেসে বড় চাচীকে বুকে টেনে নিয়ে বললেন,'রাবেয়া,আমরা যদি আজীবন সন্তানহীন থাকতাম তবুও তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা এক বিন্দুও কমতো না কোনদিন।'
বড় চাচী নিজের চোখের জল আঁচলে মুছে বললেন,'আল্লাহ আপনার এই ভালোবাসা আরো বৃদ্ধি করুন।'
বড় চাচা বললেন,'আমীন।'
তারপর দিন যত যেতে লাগলো বড় চাচীর প্রতি বড় চাচার যত্ন নেয়া তত বাড়তে লাগলো। এমনকি ঘরের রান্না- বান্না থেকে শুরু করে আর যত গৃহস্থালির কাজ আছে সবকিছুই চাচা নিজের হাতে করতেন। মানুষ এতে অট্টহাসি হাসতো।বলতো,'এমন বেকুব জীবনে দেখিনি।'
চাচা এইসব কথা শুনে মোটেও মন খারাপ করতেন না। তিনি ধৈর্য্য ধারণ করে নিজেকেই নিজে বলতেন,'শোনো মতিন, নিজের ঘরের কাজ কেউ করলে সে ছোট হয় না।আর নিজের স্ত্রীকে ভালোবাসলেও কেউ বেকুব হয় না। বেকুব তো তারাই যারা নিজের ঘর সংসারের কাজ আর স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসাকে ভাবে বেকুবের কাজ!'
বড় চাচী একদিন রাতে চাচাকে বললেন,'আচ্ছা, আমাদের সন্তান যদি মেয়ে হয় তবে তুমি কী খুশি হবে?'
বড় চাচা আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠে বললেন,'আমার কী সে কপাল আছে! রাবেয়া, সত্যি সত্যি আমি যদি কোন কন‍্যা সন্তানের বাবা হতে পারতাম তবে আমি নিজেকে ঘোষণা করে দিতাম আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সফল মানুষদের একজন!'
বড় চাচী অবাক হয়ে বললেন,'কী অদ্ভুত কথা। যেখানে মানুষ মেয়েদের ভাবে অপয়া সেখানে আপনি বলছেন আপনার মেয়ে সন্তান হলেই আপনি সফল?'
বড় চাচা মৃদু হেসে বললেন,'রাবেয়া, তুমি কী জানো না আমার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে গেছেন মেয়ে সন্তান তার পিতার জন্য জান্নাত?'
বড় চাচীর চোখ মুখ হঠাৎ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। তিনি বড় চাচার হাত টেনে নিয়ে তার দু ঠোঁটে চুমু খেতে খেতে বললেন,'আমার জান্নাত।'
চাচা বললেন,'আমার জান্নাত গমনের সহজ পথ।'
তারপর সেইদিন এসে গেল যেদিন বড় চাচীর পেটে অসম্ভব ব‍্যথা।রাত থেকে একটানা পানি ভেঙেছে চাচীর। গ্রামের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ধাই ও বলছে, 'সন্তান আছে উল্টা হয়ে।বলা যায় না কী হয়।গাছ-ফল দুইটাই নষ্ট হয়তে পারে। ভাগ্য ভালো হইলে একটা টিকতে পারে...........(চলবে)

নেক্সট পর্ব পেতে পেইজে লাইক দিয়ে জয়েন করে রাখুন।

31/05/2020

আপনি 6 মাস প্রেম করছেন হঠাৎ
আবদার
করেছেন আপনার প্রেমিকার
কাছে যে তার সাথে,, শারিরীক
সম্পর্ক
করবেন। 😊
মেয়েটা রাজি হল না কিন্ত
কিছুদিনের
জোরাজুরিতে মেয়েটা
রাজি হয়ে গেল এবং আপনার
আবদারটাও
পূর্ণ
হল। এখন সবাই ভাববে
মেয়েটার চরিত্রে
সমস্যা আছে কিন্তু এটা ভাববে না
যে,মেয়েটা আপনার কাছে কত বড়
বিশ্বাসের পরিক্ষা দিল। ✌ সবাই
ভাববে যে
মেয়েটার চরিত্র নষ্ট
কিন্তু এইটা ভাববেনা যে, আপনার
অন্যায় আবদারের কথা। 👌
আপনার কি অনেক ক্ষতি হত যদি
আবদারটা
এমন
হত যে "তোমার
হাতে আমার নামের উল্কি লিখো
"এতেও
মেয়েটা রাজি হয়ে যেত
কিন্তু এতে উপকারটা হত এই যে
চরিত্রে
দাগ
না পড়ে মেয়েটার হাতে
দাগ পড়তো। 😒
মেয়েরা সব পারে কেন জানেন?
মেয়েরা সব পারে কারণ মেয়েরা
পৃথিবীর সব থেকে বোকা প্রাণি।
কারণ
বোকা
না হলে একজন ধর্ষক এর
বউ থাকতো না, বোকা না হলে একজন
ইভটিজারের বোন থাকতো না,
বোকা না হলে নিজের শরিরকে
বিলিয়ে
আপনার ভোগ পন্য হত না,
বোকা না হলে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয়
নেয়া
মায়ের
সন্তান থাকতো না....
পরিশেষে শুধু এটুকুই বলবো, না জেনে;
না
শুনে
কোন নারী কে অপবাদ
দিচ্ছেন? সেই নারীকেই কিন্তু একদিন
আমার
আপনার মত কেউ মা
ডাকবে, কেউ বোন
ডাকবে, কেউ বউ ডাকবে...
এটা বলবো না যে সব মেয়ে দুধে
ধোয়া
তুলসি
পাতা; তবে এটাও সত্যি
যে সব মেয়ে খারাপ না।তাই কিছু
মেয়ের
জন্য মেয়ে জাতিকে
উদ্দেশ্য করে খারাপ বলা ঠিক না।
আমি ভালোবাসায় বিশ্বাসী,
প্রেমে নই।
প্রেম তো ধর্ষন এর উৎপন্ন রূপ,
যা ছলনার মাধ্যমে করা হয়।
যদিও কথাটা শুনতে খারাপ কিন্তু এটাই সত্যি🤔

31/05/2020

জল- ২১
শেষ পর্ব
সাদিয়া

রেমীর আচরণে বিন্দু জানপরাণ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
এ কী বলছে রেমী?

"বিন্দু কেউ জানবে না প্লিজ! একটু ভালোবাসা চাই।"

"ছিঃ আপু আপনি কী পাগল হয়ে গেছেন?"

"পাগল না আমি উন্মাদিনী হয়েছি। তোমার ভালোবাসায় আমি উন্মাদিনী হয়েছি। প্রথম যে রাতে তোমাকে ছাদে দেখেছিলাম সে রাতে তোমার হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিলো।
তোমাকে আমি এতটা ভালোবাসি তুমি কেনো বুঝতে পারো না?
পানিতে যখন তুমি ডুবে যাচ্ছিলে আমার মনে হচ্ছিলো আমি মরে যাচ্ছি।তোমার শরীরে আমি আলাদা গন্ধ পাই।
নক্ষত্র তোমাকে এতটা সুখ দিতে পারবে না যতটা আমি দিবো।"

রেমী তখন দুহাতে বিন্দুকে আটকে ফেলেছে। বিন্দু চেষ্টা করছে নিজেকে ছাড়ানোর কিন্তু রেমীর শক্তির সাথে পারছে না। যতটা সে পারছে তার থেকে বেশি অস্থির হয়ে উঠছে । ভরা পেটে আর সইছে না যে।

"আপু পায়ে ধরি ছাড়ো। আমার বাবুটার কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে৷"

রেমী ততক্ষণে পুরো উন্মাদ৷ সে বিন্দুকে কাছে চাইছে। বিন্দু সব শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিলো রেমীকে। রেমী কিছুটা সরে এসে আবার ঝাপিয়ে পড়ে বিন্দুর উপর৷

"এই বাবুর জন্য এত কিছু?একজন নারী অন্যকে বাচ্চা দিতে পারে না বলে এমন?বাচ্চাই কি সব?তুমি এই নারীত্বের মায়া ছেড়ে দাও৷ আমি তোমাকে পৃথিবীর সব সুখ এনে দিবো।"

বিন্দু অস্থির হয়ে উঠেছে। নিজেকে মানসিক ভাবে প্রথমে শান্ত করতে হবে৷ এর পর শারিরীক ভাবে পারবে সে। তাই মনে মনে নিজেকে শান্ত করলো।
নিজের দু হাতে রেমীর মুখ আজলায় ভরে নিতেই রেমী যেন এক শান্ত মানবী।
রেমীর দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে বিন্দু সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তার হাটু দিয়ে আঘাত করে রেমীর তলপেটে।
ব্যথায় ককলিয়ে উঠে রেমী।সেই সুযোগে দরজা খুলে বেরিয়ে যায় বিন্দু।

কিন্তু কপাল বেশি দূর সায় দেয় না।রেমী উঠে এসে বড় সাইজের এক মোমবাতি গড়িয়ে দেয় বিন্দুর দিকে। সেটার মধ্যে পা লেগে ধপাস করে পড়ে যায় বিন্দু। গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে বিন্দু প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে রইলো সিড়ির ধারে।

সাদা ফ্লোরে তখন একটা ধারা বইয়ে যাচ্ছিলো। পাতলা, সরু তবে গাঢ় রক্তের ধারা৷

বিন্দু ছেলে জন্মেছে। এক ফুটফুটে ছেলে। কণা তাকে কোলে নিয়ে অঝোরে কেঁদেই চলেছে।
বিন্দুর চিৎকার প্রথমে শুনতে পায় জ্যোতি।

ওরা ভেবেছিল সে পড়েছে পা পিছলে।
রক্তের ধারা তখন অনেকটা। ব্লাউজের হাতা ছেড়া দেখে ওরা কিছুটা আঁচ করতে পারলেও আমল নেওয়ার সময় পায়নি।
তবে রাস্তায় নক্ষত্রের কানে বিন্দু ধীরেধীরে এসব বলে নিস্তেজ হয়ে যায় বিন্দু।

"আপুর ছেলে কালো হয়নি। হয়নি কালো।আমার আপুর জীবনে আলো হয়ে আসছে আমার বর্ণ।মা, মা গো আপুর ছেলে কালো হয় নি।"

নক্ষত্রকে স্বান্তনা দিচ্ছে রেহানা বেগম অথচ এদিকে নিজেই প্রচল ভাবে কাঁপছে।

দীর্ঘ তিন ঘন্টা পর স্বস্তি ফিরে এলো সবার মাঝে। বিন্দু রেসপন্স করছে। এদিকে বাচ্চাটা সুস্থ। সময়ের আগে হলেও ছেলেটা সুস্থ আছে।

বিন্দুর অবস্থা মোটামুটি হলেই তার মুখ থেকে সবাই সব'টা শুনে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো।প্রথমে বিন্দুর কথা অবিশ্বাস্য হলেও যখন জ্যোতি, কণা বলল রেমীর আচরণ আসলেও স্বাভাবিক নয় তখন অর্হ্য, নক্ষত্র ছুটে বেরিয়ে এলো হাসপাতাল থেকে। কারণ অবশ্যই রেমী এতবড় অপরাধের পর থাকবে না। পালিয়ে যাবে।
বাসায় ফিরে এসে তাদের ধারণা ঠিক হলো।ইতিয়ারা বেগম মেয়েকে নিয়ে ঘন্টা দুয়ের মধ্যেই যেন হাওয়ায় মিশে অদৃশ্য হয়ে গেলো।
কোথাও তাদের খুঁজে পেলো না।

দেখতে দেখতে কেটেছে প্রায় পঁচিশ বছর। সেরাতের ঘটনা ভোলাতে বিন্দুকে অনেক পোহাতে হয়েছে নক্ষত্রের। এখন চুলে পাক ধরেছে সবার। জ্যোতির দুই ছেলেও বড় হয়েছে। কণার এক মেয়ে এক ছেলে।
নক্ষত্রের ভালোবাসায় সিক্ত বিন্দু ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে এক সংসারী নারী। রেহানা বেগমের মৃত্যুর পর নক্ষত্র এবং সংসার দুহাতে সামলে নিয়েছে বিন্দু।
আজ এসেছে বিন্দুর ছেলে বর্ণের জন্য মেয়ে দেখতে।

মেয়ে সব দিক থেকেই ভালো অথচ গায়ের রঙ দেখতে কালো।
বিন্দু মনে মনে ভাবলো সে বিয়ের জন্য না করে দিবে। কারণ তার ছেলে দেখতে কত সুর্দশন, শিক্ষিত। অথচ এই মেয়ে!না কোনো ভাবে যায় না।
বিন্দুরা যখন ফিরে আসার জন্য উঠে দাড়িয়েছে তখন সেই কৃষ্ণবর্ণী চোখ তুলে বিন্দুর দিকে তাকায়।
কী অদ্ভুত! বিন্দু নিজের আবছায়া যেন দেখতে পাচ্ছে এই মেয়ের মাঝে।
ঠিক যেন যুবতী বিন্দু বসে আছে তার সামনে। যে বার বার বরপক্ষের না মেনে নিয়ে ছলছলে চোখে মাথা নিচু করে বসে থাকতো।

সমাপ্ত

নতুন সিরিজ আসছে শিঘ্রই।

29/05/2020

জল- ২০
সাদিয়া

মৃত্যুতে আমাদের কোনো হাত নেই। আমরা পারি না মৃত্যুকে কাটাতে পারি না, না পারি এটা থেকে মুক্তি পেতে। শুধু মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে পারি।
বৃষ্টির সেরাতেই বিন্দু এবং রেহানা বেগমকে নিয়ে ফিরে এলেন নক্ষত্র৷
হাসপাতালের করিডোরে অর্হ্যের হাত শক্ত করে ধরে আছে জ্যোতি।
ছেড়ে দিলেই বুঝি হারিয়ে যাবে অর্হ্য।

মেয়েটা যে ভীষণ ভয় পেয়েছে, এটা বুঝতে বাকী নেই অর্হ্যের। তার চুলে হাত দিয়ে কোনো ভাবে হাত খোপা করে দিলো। গায়ের ওড়না টেনে আবৃত করে জ্যোতির শরীর।

"একটু পানি নিয়ে আসি?"
"নাহ্, কোত্থাও যাবে না তুমি।"
"আচ্ছা বেশ।"

জ্যোতি কাঁদছে।কান্নার দমকে তার গা বার বার দুলে উঠছে। একসময় ভোর হতে চলেছে। জ্যোতিও চোখ বুজেছে ঠিক তখন শোনা যায় রেহানা বেগমের আর্তনাদ। লাশ নিয়ে তাহলে এবার বাড়ি ফেরার পালা।

মৃত খবর শুনে বিন্দুর মা তাকে আসতে দিতে চায়নি। তবে যে দেহ শবে পরিণত হয়েছে একমাত্র সে দেখিয়েছেন এই কালো মেয়ের প্রতি ভালোবাসা।
হ্যাঁ দাদাসাহেব মৃত্যু বরণ করেছেন।
কার্ডিয়াক এট্যাকের কারণে মারা যান।
বাড়িতে কেউ ছিল না।অবস্থা খুব খারাপ হলে জ্যোতি বুঝতে পারে। একা নিয়ে আসার সাহস করেছিল, তবে এখানে নিয়ে আসার পর শেষ নিঃশ্বাস ফেললেন দাদা সাহেব।

অন্তঃসত্ত্বা নারীর লাশ দেখতে নেই।তবুও বিন্দু একদম চুপচাপ বসেছিল লাশের পাশে। খোলা চুল এবং এলোমেলো অবস্থায়৷
নক্ষত্র, অর্হ্য সকল ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত ছিল।

লাশ দাফন করে ফিরে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছে নক্ষত্র। বাবা মারা যাওয়ার পর বটবৃক্ষের মতোন ছায়া দিয়েছেন। আজ তারা সেই শীতল স্পর্শ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
রেহানা বেগমের অবস্থাও করুণ। তবুও সে যেন এক মহা মানবী। এক হাতে সামলে যাচ্ছেন বিন্দু, জ্যোতিকে।
বিন্দুর কোনো অযত্ন হতে দিচ্ছে না এদিকে জ্যোতি ফুপিয়ে কাঁদছে।

"দাদজানের ইচ্ছে ছিল আমাদের বিয়ে........ "

কথা শেষ করার পূর্বেই ঢুকরে কেঁদে উঠছে জ্যোতি। অর্হ্য
স্বান্তনা দিচ্ছে না।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

"দাদা জানের ঠিক করা দিনেই বিয়ে হবে।"

নক্ষত্র মায়ের কোলে মাথা রেখে চুপচাপ ছিল।পাশের বিন্দু। রেমী বিন্দুর পাশে বসে আছে।
বিন্দুর পায়ে তেল মালিশ করে দিচ্ছে।বিন্দু না করেছিল তবে সে শোনেনি।
নক্ষত্র ফিরে এসে দেখে বিন্দু ঘুমিয়ে আছে।

"রেমী তুমি যাও। আমি আছি ওর কাছে।"
"আমি থাকি না। তুমিও রেস্ট নাও। "
"প্রয়োজন নেই। তুমি যাও।"

রেমী চলে যাওয়ার পর বিন্দুকে শক্ত হাতে আবদ্ধ করে নক্ষত্র ঢুকরে কেঁদে উঠে।

সময় প্রবাহমান। ধীরে ধীরে কেটে গেলো প্রায় তিন মাস।
আজ জ্যোতির বিয়ে। দাদাজানের ঠিক করা দিনেই ঘরোয়া ভাবে বিয়ে হচ্ছে জ্যোতির। সবাই নিচে৷ বিন্দু ধীরে ধীরে উপরে এসেছে বাসর সাজাতে। সব গোছানোই তবুও দেখতে এসেছে।
নয় মাসের ভরা পেট নিয়ে হাটতে সমস্যা হলেও একাজ সে করবেই করবে৷

"কী করছো বিন্দু?"
"রেমী আপু! ও এসো, এসো।এইতো দেখছিলাম।"

ইদানীং রেমীর সাথে বিন্দুর বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
রেমী বিন্দুর যথেষ্ট খেয়াল রাখে বিন্দুর। বিন্দুর প্রতি রেমী এতটা পজেসিভ যতটা নক্ষত্র নয়।

"বাসর সাজাচ্ছো?"
"হ্যাঁ আপু।"
"তাহলে চলো আমরা একদফা ট্রায়াল দিয়ে নেই।"

রেমীর কথায় একদফা হাসে বিন্দু। তবে রেমী এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বিন্দুর দিকে। সে দৃষ্টিতে কিছু আছে।

"তুমি যে কী সব বলো না।চলো নিচে যাই।"

"আমি সত্যি বলছি বিন্দু। আমি আর পারছি না।আম্র তোমাকে চাই। চাই মানে এক্ষুণি চাই।"

"আপু এসব কি বলছো?তোমার মাথা ঠিক আছে?সরে যাও আমি নিচে যাবো।"

বিন্দু চলে আসতেই রেমী ওর শাড়ির আঁচল ধরে টান দিয়ে বলল,

"আমি তোমাকে ভালোবাসি বিন্দু।তোমার কোনো অধিকার নেই আমার ভালোবাসার প্রত্যাখান করার। আমার তোমাকে চাই।চাই মানে চাই। শারীরিক এবং মানসিক ভাবে।"

চলবে

নেক্সট পর্ব পেতে পেইজের সাথেই থাকুন।

27/05/2020

জল-১৯
সাদিয়া

সবার কপালে সুখ সয় না। ঠিক দুঃখের পর থাকে স্বস্তি। কৃষ্ণবর্ণীর জীবনে সুখের আভা ফুটে উঠেছে।
পাল্টে দিচ্ছে তার জীবনের সাত রঙ। বিন্দুর সুখের খবর খুব দ্রুত চারিদিকে ছড়িয়ে গেলো।তার ফুপু একদিন আক্ষেপ করলেন ছেলের বউ হিসেবে না পেয়ে।বিন্দু যেন কয়লা থেকে পুরো হীরেতে রুপ নিয়েছে।তার প্রশংসা এখন সবার মুখে।

গ্রামের মানুষ বলে,

"মাইয়্যা ভালা আছিল। সব্বাইরে ভালাবাসছে। রাস্তার ফকিরগো খাওয়াইছে। পথিকগো পানি দিছে। লাউয়ের পাতা বিলাইছে। তাই কপাল কইরা জামাই পাইছে৷ ও মানুষরে দুহাতে দিছে আল্লাহ এহন ওর দুইহাত ভরে দিতাছে।"

আজ প্রায় সাড়ে আট মাস পর বিন্দু এসেছে তার বাবার বাড়ি। সেই চেনা পরিচিত গ্রাম,রাস্তা, গাছ, পাখির ডাক, বাতাস, রোদ, নদীর কলকলানি শব্দ। সব বিন্দুকে বিমোহিত করছে বার বার।

বড়ভাবী চুলে তেল দিয়ে দিচ্ছেন। সাথে খোঁজ খবর নিচ্ছেন ওবাড়ির সবার। কণা তার পায়ের নখ কাটছে।
মেঝ ভাই ছোট্ট খুটির মিষ্টি দই এনে দিয়েছেন। বিন্দু তাই খাচ্ছে আর ভাবীর সাথে গল্প করছে।
আজ গতকাল বিকেলে বিন্দু এসেছে। ছোট ভাই নিয়ে এসেছে৷ গ্রামের নিয়ম প্রথম বাচ্চা মায়ের বাড়িতে হয়। পাঁচ মাসের পেট নিয়ে খুব দ্রুর চলাফেরা করতে পারে না সে। হ্যাঁ বিন্দু মা হতে চলেছে। ছোট্ট নক্ষত্রের বিন্দু বিন্দু আলো পরিণত হতে চলেছে এক আলোকবিন্দুতে।

"তোর শাশুড়ি এখন কেমন করে রে?"

"মা খুব ভালো ভাবী।"

"তাহলে বিয়ের দিন ওমন করলো ক্যান?"

"তার তো রাজ পুত্তুর আর আমি ঘুটে কুড়োনি। মিলে না কী?"

"মাইর খাবি। নিশ্চয়ই জামাই ভালো মানুষ।দেখিস তোর পেটের জন আল্লাহর রহমতে তার মতোই হবেরে।"

"হ্যাঁ, বাবার বুদ্ধি,গুণ বৈশিষ্ট্য যেন পায়।"

"আর তোমার ধৈর্য্য।"

কথাটা শুনে বিন্দু এবং বিন্দুর ভাবী মুখ তুলে তাকিয়ে দেখেন নক্ষত্র দাড়িয়ে আছে। সাথে রেহানা বেগম। কথাটা রেহানা বেগম বলেছেন। উনাকে এখানে দেখে উঠে দাড়াতে চেষ্টা করে বিন্দু।রেহানা বেগম হাত ধরে দাড় করিয়ে বললেন,

"আমার ঘর খাঁ খাঁ করছে। যেন ঘর আছে অথচ প্রাণ নেই।"

বিন্দুর ভাবী ততক্ষণে তার শাশুড়িকে ডেকে এনেছেন।হাসি মুখে বিন্দুর মা তাদের ঘরে নিয়ে বসতে দিয়ে বললেন,

"মেয়ে আমার গতকাল বিকেলেই তো এলো।"

"আমার যে তাকে ছাড়া চলে না।বেয়াইন আমি তাকে নিয়ে এসেছি।"

"সে দেখা যাবে ক্ষণ। আপনারা বিশ্রাম করেন।"

রাতে মৃদুস্বরে নাক ডাকছে বিন্দু। হা করে ঘুমিয়ে আছে৷ নক্ষত্র তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর ভালোবাসার স্পর্শ একে দিলো বিন্দুর চোখে, ঠোঁটে, গালে।
বিন্দু তাকিয়ে নক্ষত্রের দিকে মুচকি হেসে হাত বাড়াতেই নক্ষত্র মুখ লুকায় বিন্দুর বাহুতে।

আস্তেধীরে বিন্দু হাত বুলিয়ে দিচ্ছে নক্ষত্রের চুলে।

"কাল আমরা ফিরে যাবো।"

বিন্দু হেসে বলল,

"দুদিন থাকি?"

"না। আমার ভালো লাগছে না।মনে হচ্ছে কাছের কেউ হারিয়ে যাচ্ছে।"

"সামনে জ্যোতির বিয়ে তাই হয়তো এমন লাগছে। "

"হয়তো।তবুও কাল চলে যাবো।"

"আচ্ছা বেশ। এবার ঘুমিয়ে পড়ুন।"

"বালিশ ভালো না এবাড়ির। এবাড়ির বালিশ আমি সিথান দিবো না।"

"কেনো? "

"এবাড়ির বালিশে বিন্দু বিন্দু গন্ধ নেই।"

"আপনার বাসায় আছে?"

"হু।আমাদের পুরো বাড়িতে বিন্দু বিন্দু গন্ধ আছে।"

"অহ আচ্ছা। তাহলে ঘুমাবেন কোথায় মাথা রেখে?"

"প্রিয়তমার উষ্ণ পাঁজরে।"

পৃথিবীর সব কিছুতে বাধ দেওয়া যায় শুধু বাধনে বাধা যায় না স্বপ্নকে। আমরা স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি। রাতে ঘুমানোর আগে আগামীকালের কাজ নিয়ে হাজারো চিন্তা করি। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছি?এই রাতে চোখ বন্ধ করলাম আর যদি না খুলতে পারি।
ঘুম এবং মৃত্যুর মাঝে দুটো পার্থক্য। ঘুমন্ত ব্যক্তি শ্বাস নেয়, মৃত ব্যক্তি নেয় না।ঘুম ভেঙে যায় মৃত্যু কাটে না।

রাত ভোর হতে পারেনি। যমদূত সেরাতেই মৃত্যুর খবর নিয়ে হাজির হয়েছিলেন সে বাড়িতে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই বিন্দু বিন্দু করে সাজানো বিন্দুর সকল সাহস, অনুভূতি এবং ধৈর্য্য যেন উবে গেলো। কারণ সত্যি জন্ম এবং মৃত্যুতে আমাদের কারো হাত নেই।

চলবে

নেক্সট পর্ব পেতে পেইজে লাইক দিয়ে জয়েন করে রাখুন। নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন।

24/05/2020

জল-১৮
সাদিয়া

"মৃত্যু এবং বিশ্বাসঘাতকতা দুটোই অনিবার্য স্নিগ্ধ সত্য।
অথচ আমরা এদুটো শব্দকে ভয় পাই।"

বিন্দু পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছিলো তখন রেমী তাকে উঠিয়ে নিয়ে এলো।গায়ের সব কাপড় ভিজে লেপ্টে গেছে। অর্হ্য সেদিকে না তাকিয়ে সরাসরি সেখান থেকে চলে গেলো।

জ্যোতি ছুটলো কিছু একটা আনতে। রেমী বিন্দুর পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। নক্ষত্র এগিয়ে যেতে চাইলে রেমী বাধা দেয়।

"হেই আমি আছি তো! আমি দেখছি। তুমি যাও। দেখছো না ও ভিজে আছে?"

একটা শুকনো তোয়ালে দিয়ে বিন্দুকে আবৃত করে কণা বলল,

"তুমি অযথা ব্যস্ত হচ্ছো রেমী আপু। আপু গ্রামের মেয়ে৷ আমরা আর কিছু পারি না পারি ছোট বেলা থেকে সাতার কাটতে জানি। আর আপু তো সাতার কাটতে পটু।"

রেমীর উদ্বিগ্নতা কিছুটা মলিন হলেও আবার বলল,

"তোমার কাটেনি তো!"

"না। আমি ঠিক আছি। আমার জন্য আপনি অযথা ভিজে গেলেন।"

"ব্যাপার নয়। তুমি এসো চেঞ্জ করে নিবে।"

রেমীর ব্যবহার এমন যেন নক্ষত্র বিন্দুর জন্য অচেনা কেউ একজন।
বিন্দুকে এভাবে আবৃত করেছে নক্ষত্র দেখলে পাপ লাগবে।

"রেমী তুমি যাও। বিন্দুকে আমি নিয়ে আসছি। কণা তুমিও যাও। "

নক্ষত্রের কন্ঠে কিছু একটা ছিল যা সচরাচর থাকে না। কেমন একটা কাঠ কাঠ স্বর, অস্পষ্ট লক্ষ্য এবং আদেশ মিশ্রিত।

ওরা চলে যেতেই নক্ষত্র বিন্দুকে কাছে টেনে নিলো। নিজের সাথে লেপ্টে থাকা বিন্দুর শ্বাস-প্রশ্বাস তাকে যেন জীবন দান করছে।

"আমি ভিজে আছি। কী পরবো?"
"চলো ওদিকটায় চেঞ্জ করে নিবে।"

বিন্দু যখন চেঞ্জ করে ওয়াশরুম থেকে ফিরে এলো নক্ষত্র তখন কটেজের বিছানায় বসে আছে। বিন্দুকে হাত ধরে টেনে এনে সামনে দাড় করিয়ে জিজ্ঞেস করল,

"পড়ে গেলে কীভাবে?"

"হঠাৎ মাথাটা ঘুরে উঠেছিল। চোখ ঝাপসা হয়ে এলো।"

"আমি কিন্তু ভয় পাইনি।"

বিন্দু মুচকি হেসে নক্ষত্রের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,

"আমি জানি।কারণ পুরুষ মানুষের ভয় পেতে নেই।যেকোনো পরিস্থিতিতে তাকে থাকতে হয় বীরের ন্যায়।"

"শুধু শ্বাস বন্ধ হয়ে এসেছিল।"

"আমি এতটাও সুন্দরী নই।"

"তুমি আমার সহধর্মিণী। এটাই কী বড় নয়?"

"এত ভালোবাসা কপালে সইবে তো!"

"না সইয়ে যাবে কোথায়?"

জ্যোতি বসেছিল কটেজের বা দিকের শেষ সীমানায়৷ অর্হ্য তার সামনে ফোনে কথা বলায় ব্যস্ত।
জ্যোতির দিকে তাকানোর সময় অবধি নেই। তাই জ্যোতি অর্হ্যের সব'চে অপছন্দের কাজ টি করতে লাগলো।
কাউকে দিয়ে পান আনিয়ে গাল ভরে খাচ্ছে। আর গান গাইছে

"যদি সুন্দর একটা মুখ পাইতাম, যদি সুন্দর একটা মুখ পাইতাম।
সদর পান খিলি তারে বানাই খাওয়াইতাম।"

পানের পিক ফেলে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে সে ফোনে ব্যস্ত হয়ে গেলো। অর্হ্য আশেপাশে নেই এমন একটা হাবভাব তার৷

এইকাজটা অর্হ্যের সব'চে বিরক্ত লাগে। পান -পানের পিক। গা ঘিনঘিনে ব্যপার।
জ্যোতির মুখে পান দেখে ফোন রেখে তার দিকে ভ্রু-কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

"মুখে কী?"
"হুম?"
"মুখে কী?"
"পান।"

জ্যোতি ভেবেছিল ঝাড়ি খেতে হবে তবে তাকে অবাক করে দিয়ে অর্হ্য তার পাশে বসে বলল,

"দে আমিও খাবো।"

"হুম?"
"হুম দে।"
"আর তো নেই।"
"কে বলেছে নেই? যা আছে তাই দে।"
"আমার মুখে ব্যতীত আর কোথাও নেই। "
"তো আমি কী বলেছি না কী অন্য কোথাও আছে?"

জ্যোতি একটা ফাকা ঢোক গিলে বলল,

"দূরে থাকো।ছিঃ ঘেন্নাপিত্তি কিছু নেই?"

তারপরের মিনিটে জ্যোতির মুখে থেকে পান হঠাৎ উধাও হয়ে গেলো।
অর্হ্য পান চিবুতে চিবুতে বলল,

"মাঝেমধ্যে ঘেন্নাপিত্তির জিনিসে টইটম্বুর ভালোবাসা থাকেরে কপিলা।"

বিকেলবেলা যখন ফিরে আসছিল বিন্দুর শরীর আরো খারাপ হলো। এতটা খারাপ যে বার বার বমি করছে।
তাই বাধ্য হয়েই রেহানা বেগম এবং নক্ষত্র তাকে নিয়ে ডক্টরের কাছে যেতে চাইলো।

রেমী বলল সে যাবে, তাই সবাই মিলেই গেলো।বিন্দু বার কয়েক বমি করে সে নেতিয়ে পড়েছে।

গাইনী বিশেষজ্ঞ মিহু খানের চেম্বারে বসে সেদিন রেহানা বেগম এবং নক্ষত্র কিছু জানতে পারে। যা পুরোপুরি ভাবে বদলে দিতে চলেছিল নক্ষত্র বিন্দুর সম্পর্ক। কারণ জন্ম এবং মৃত্যুতে আমাদের কারো হাত নেই।

--চলবে

বাকি অংশ পেতে পেইজে জয়েন করে রাখুন।

21/05/2020

আমি নারী- ০১

পুরুষাঙ্গের প্রথম স্পর্শ পেয়েছিলাম যখন আমার বয়স ৮ বছর৷ তাও আপন খালাতো ভাই এর। বেড়াতে এসেছিলো আমাদের বাড়িতে। সবাই ওকে খুব ভালোবাসতো, আদর করতো তাই কখনো কাউকে ওর বিপক্ষে বলার সাহস পাইনি। লুকোচুরি খেলার ছলে আমাকে আলাদা ঘরে নিয়ে যেতো। লুকিয়ে থাকার নামে আমার শরীরের এমন জায়গা নাই যেখানে সে স্পর্শ করেনি।
আমি জন্মের পর নাকি আমাকে নিয়ে সারা পরিবারে কান্নার মেলা বসে গিয়েছিলো, আমার মা ও নাকি আমাকে দুধ দিতেন না মেয়ে হয়েছি বলে। সবাই ভেবেছিলো আমি ছেলে হয়ে সবার মনের আশা পুরন করবো। আমার বাবা দেয়ালে মাথা ঠুকরে কেদেছিলেন অনেক। অথচ তারা কেউই ভাবে না তাদের সবারই জন্য কোনো না কোনো নারীর গর্ভ থেকে।
আমি রিতু, মা বলতো আমার গ্রোথ খুব অল্প অবয়সেই অনেক বেড়ে গিয়েছিলো৷ আমি সুন্দর কি না জানি না কিন্তু আমি ভেড়ে উঠার সাথে সাথে আমার বাবা মায়ের আর আমাকে নিয়ে কোনো আফসোস ছিলো না। গ্রামের সবাই আমাকে দেখলেই আড়চোখে শরীর দেখতো, জিহবা দিয়ে ঠোট ভেজাতো। নানা মানুষের নানা কথায় প্রাইমারি পার হতে না হতেই আমার পড়াশোনার ইতি ঘটে৷
আমার যখন বয়স ১৩। আমার বাবা মারা জান, এতিমকে সবাই শান্তনা দিতে এসেছিলো, সেই সাথে এসেছিলো এতিমের কাছে আরো কিছু চেতে৷ দূর দূর সম্পর্কের নানার বয়সী মানুষ এসে আদরের ছলে কতো যে বুকে হাত দিতে চেয়েছে তার আর হিসেব কে রাখে,
মা যেদিন আমাকে কাকার কাছে রেখে চলে গেলো অন্য কারো ঘরে সেদিন আমি বুঝেছিলাম আমার জীবনে আপন বলে আর কেউ রইলো না।
তখন আমার বয়স ১৪ বছর। এক রাতে কাকার ছোট ছেলে যে কি না আমারও ১ বছরেএ ছোট সে আমার ঘরে আসলো...
চলবে...

নেক্সট পর্বসহ সকল পর্বের লিংকঃ
https://www.facebook.com/pg/Platfrom-of-Love-608781672970129/about/

17/05/2020

জল-১৭
সাদিয়া

"ওই কালীরে মেনে নিলি শেষ অবধি?"

রেহানা বেগমের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন ইতিয়ারা বেগম। হতাশায় নিমজ্জিত রেহানা বেগম তাকালেন তার দিকে।

"ও মেয়ে হিসেবে খারাপ নয়।"

"নাতীনাতকুর কালো হবে। ভেবেছিস?"

"আল্লাহ্ যা দান করে।"

"তেঁতুল যতই মিঠা হোক, তেঁতুল তেঁতুল হয়।"

"তুই আর আমি জানি তেঁতুল আমাদের জন্য কত উপকারী। প্রেশার হাই হলেই আমরা ছুটি তেঁতুলের পিছনে। তাই আল্লাহ্ যদি তেঁতুল দান করে খুশি হয় তো তেঁতুলই না হয় খুশি মনে গ্রহণ করবো!"

ইতিয়ারা বেগম অন্য কোনো কথা বললেন না। হনহনিয়ে হেটে চলে এলেন সেখান থেকে।

রেহানা বেগম বাসায় ফিরলেন আরো কিছুক্ষণ পর। রাস্তায় হঠাৎ করেই আজ সকাল সকাল ফল বিক্রেতা কে পেয়েছেন৷
ভাঙি ফল দেখে খুশি মনে কিনে নিয়ে বাসায় ফিরলেন৷

সকালের নাস্তার টেবিলে ভাঙি ফল দেখে অর্হ্য বলে উঠল,

"ভাংগি খাইতে বালুর মত, তরমুজ খাইতে পানি
মাইয়্যা এত নিষ্ঠুর আগে কি তা জানি?"

জ্যোতির দিকে তাকিয়ে মিচকে হাসি দিয়ে তার পাশে বসলো অর্হ্য।
খাবার টেবিলে তখন বিন্দু, জ্যোতি, অর্হ্য,নক্ষত্র। তাদের কথা বলার বিষয় এখন রেমী।
কেনো যেন এই মেয়ের কথা উঠলেই আশেপাশে পোড়া পোড়া গন্ধে ভরে যায়।

"ভাই যাই বলিস রেমী কে কাল জাস্ট ওয়াও লাগছে।"

অর্হ্যের কথায় সায় দিয়ে নক্ষত্র বলল,

"ওকে নীলে সব সময় মানায়।"

নক্ষত্র বিন্দুর হাত ধরতে চেষ্টা করে অথচ বিন্দু হাত সরিয়ে নেয়।

"প্রশংসা করবে একজনের আর হাত ধরবে অন্য জনের? এ ভীষণ অন্যায়।"

বিন্দুর সরে যাওয়ায় কপাল কুঁচকে নক্ষত্র তার দিকে তাকায়। বিন্দুর নাকের ডগায় বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। এটা তীব্র লক্ষণ বিন্দুর রেগে যাওয়ার।
দাম্ভিকতার সাথে হেসে নক্ষত্র আবার বলল,

"জানিস রেমীর হাত দুটো একদম নরম।"

"ভাই ও নিজেই পুরোটা আটার বস্তার মতোন নরম।"

এই সময় পিকনিকের প্ল্যান নিয়ে রেমী এসে হাজির। নক্ষত্রের পাশের চেয়ারে নয়৷ বিন্দুর পাশের চেয়ারে বসলো সে৷
হাসিমুখে বিন্দুর সাথে কথা বলছে।বিন্দুও মেনে নিয়েছে।

তবে কাজের বাহানা দিয়ে উঠে গেলো বিন্দু সাথে জ্যোতিও।যাওয়ার সময় অর্হ্যের পেটে বেশ জোরে চিমটি কেটে গেলো জ্যোতি। এর মানে?

"এসো বাপু আবার আমার ঘরে! তোমায় আমি আটা ময়দা সুজির ভ্রমণ করাচ্ছি।"

দুই দিনের মাঝেই বিন্দু কাজ শেষ করে ফেললো। এক কালারের সুতি শাড়ির মাঝে হাতে আঁকা নানান ধরনের চিত্র ফুটে উঠেছে ।
রেহানা বেগম তাকিয়ে আছেন শাড়িগুলোর দিকে। এই মেয়ে এত সুন্দর হাতের কাজ পারে তার জানা ছিলো না। সে অভিভূত হয়ে দেখছিলেন।

পরদিন সকাল সকাল সবাই বেরিয়ে পড়লো পিকনিকের উদ্দেশ্যে। জ্যোতি, কণা এবং রেমী হচ্ছে তাদের শাড়ি পরিহিতা বাঙালি নারী। বিন্দুকে অর্হ্য বলেছিল তবে বিন্দু রাজি হয়নি। নক্ষত্র জোড় করেনি।
কাজের মানুষ, ইতিয়ারা, রেহানা বেগম রান্নায় ব্যস্ত৷ বিন্দু তাদের সাথে ছিল তবে নক্ষত্র সবাইকে ফাকি দিয়ে তাকে দিঘির দিকে নিয়ে এসেছে।
ঘাসের মাঝে ফুটেছে ছোট ছোট ঘাসফুল।বিন্দু দু হাতে সেগুলো স্পর্শ করে দেখছিল। হঠাৎ তার মাথায় দারুণ একটা প্লট এসে যায়৷ একেই হয়তো বলে শিল্পীর গুণ। বিন্দু মনে মনে পরবর্তী শাড়ীর জন্য থিম সাজিয়ে ফেলেছে।
জানি না কীভাবে কী হবে, তবে নক্ষত্র বলেছে অনলাইন বিজনেস করবে বিন্দু৷ এতে তার আলাদা পরিচয় হবে, সবাই বিন্দুকে চিনবে৷

"কেনো বিন্দু?আমার দিকে তাকাতে এত লজ্জা?"

নক্ষত্রের প্রশ্নে চকিতে তাকায় বিন্দু। নক্ষত্রের চোখের দিকে তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে নিলো সে।
নক্ষত্রের চোখের দিকে তাকাতে তার ভীষণ লজ্জা৷ সে পারে না তাকাতে। অথচ নক্ষত্রের ইদানীং বায়না এটাই থাকে।

"না মানে!"

"এত দ্বিধা?"

বিন্দুর বিনা বাক্যে বসে থাকায় নক্ষত্র তার কোলে মাথা রেখে চোখ বুজে আছে৷ এ যেন এক অদ্ভুত মোহ। কৃষ্ণবর্ণী এক মেয়ের কোলে মাথা রেখে ঘাসে গা এলিয়েছে ঠিক এক রাজ পুত্তুর।

বিন্দু চুপচাপ হাত বুলিয়ে দিচ্ছে নক্ষত্রের চুলে।বিয়ের পর প্রথম বার বেড়াতে এসেছে। এই অনুভূতি আশা কী বিন্দু তখন করেছিল যখন বেনারসি গায়ে বউ সেজে দাড়িয়ে ছিল বিয়ের রাতে? ভাগ্যিস আত্নহত্যা করেনি। না হলে এসব অনুভূতি উবে যেত৷

অর্হ্যের ডাকে তাদের উঠে যেতে হলো।দিঘির ধারে চলছে ফটোসেশান।
বিন্দু পাশেই দাড়িয়ে ছিল। হঠাৎ কি থেকে কি হলো বিন্দু গড়গড়িয়ে পড়ে গেল দিঘির পানিতে।
নক্ষত্র বা কণা কেউ বিন্দুকে ধরার সময় পেলো না। বিন্দু হাবুডুবু খাচ্ছে দিঘির পানিতে৷ ঠিক সেসময় সবাইকে অবাক করে দিয়ে পানিতে ঝাপ দিলো ইতিয়ারা বেগমের একমাত্র কন্যা রেমী।

চলবে

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rose.com posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share