02/08/2024
'দেখেন যুদ্ধটা বাধায়েন না'
অনেক হইছে, এবার ছাত্র ও জনতার দাবীগুলো মেনে নেন।
ওরাতো খারাপ কিছু চাচ্ছে না।
ওরাতো অশ্লীল সিনেমা ফ্রি করতে বলছে না,
ওরাতো ড্রাগস নেবার স্বাধীনতা চাচ্ছে না,
ওরাতো পড়াশোনা ছাড়া সার্টিফিকেট চাচ্ছে না,
মেধার মূল্যায়ন চেয়েছিলো, নির্যাতিত হয়ে এখন চাচ্ছে মানবতার মূল্যায়ন।
এটা খারাপ জিনিস না।
একটু ভেবে দেখেন, মানবতার মূল্যায়ন আপনাদেরও কাজে আসবে। আপনাদেরও উপকারে আসবে।
নিরীহ স্টুডেন্ট, পানি বিতরণ করা জনগণ, সহিংসতায় ছিলো না এমন জনতা এদের শুধু শুধু আটকে রেখে আপনারও ফায়দা কি বলেন?
নাকি ভেবেছেন এদের মেরে ফেললে, পঙ্গু করে দিলে আর আন্দোলন হবে না?
এটা ভুল ভাবনা।
আসল কর্মকান্ড যারা করেছে, তাদের অনেককেই আপনারা ধরতে পারেননি। আটকে রেখেছেন নিরীহ পাবলিক, এটা আপনারা ভালো করেই জানেন।
তার মানে, এখন কিছু কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, আর ভালোদের আটকে রাখলে, নেক্সটে যা হবে তা শুধুই সহিংসতা!
তাছাড়া বদগুলোর বিচার করলে আপনারও কিন্তু লাভ।
ছাত্রলীগের ভিতর শিশুখুনি থাকলে ছাত্রলীগের কি বিপদ নাই?
আওয়ামী লীগের বিপদ নাই?
যে 'শিশু খুনি', 'পিছন থেকে গুলি করে খুন করে', 'কাপুরুষ খুনি' তারা কিন্তু যেকোন দলের জন্য বাঁশ।
হুট করে, কোন একটা মিটিং মিছিলের সময় সিনিয়রদের যদি ঠুসঠাস মেরে বসে?
কথা ভালো লাগলো না, ঠাস!
অর্ডার পছন্দ হয়নি, ঠাস!
মিছিল হবে, ঠাস!
মিছিল হবে না, ঠাস!
বিরিয়ানী আলু পায়নি, ঠাস, ঠাস, ঠাস-ঠা-ঠাস-ঠাঠাস-ঠাস ঠাস!
কত সহজে বাচ্চা মেরে পিস্তল কোমরে গুজে চলে গেলো দেখলেন না?
এটা আপনাদের সাথে করবে না শিওর আপনারা?
আচ্ছা ধরলাম, কাদের বা শেখ হাসিনা কড়া প্রটেকশন নিয়ে আছেন, নিজের দলের উগ্ররাও তাদের কিছু করতে পারবে না।
কিন্তু তাদের স্বজনরা?
স্বজনদের বাচ্চারা কি নিরাপদ?
তারা কতটা নিরাপদ? তারা কতটা ভালো প্রহরায় আছেন?
খুন করে যার হাত হয়েছে, সে নিজের দলে লোকজন গুণবে?
শেখ পরিবারের কেউ যদি মুখ ফসকে উনিশ বিশ অর্ডার করে বসে, আর এই চ্যাতা কর্মী যদি মেরে বসে?
নিজের ঘরে সাইকো ইদুর থাকলে ক্ষতি! হেভি হেভি প্রটোকল নিয়ে ঘুরলেও কি বাঁচার সুযোগ নেই।
জানতে হবে না, এই বিপদজনক অস্থির পুলিশ কারা?
এদেরতো আপনারও চেনার দরকার আছে।
আছে না?
কারা আপনাদের বিপদে ফেলছে?
কারা 'অল্প করে মারো', বললে খুন করে দেয়?
'একটু টাইট দিও', বললে মর্গে পাঠিয়ে দেয়?
কারা 'হালকা ঝাপসা করে দিও' বললে পুরো দেশ জাতিকে রাস্তা নামিয়ে নিয়ে আসে?
এদের লিস্ট, এদের বিচারতো নিজের স্বার্থেই করা দরকার। আওয়ামী লীগের স্বার্থেই করা দরকার।
দেখেন, গত ১৫ বছরে, বিশেষ করে শেষ ৫ বছরে, আপনাদের উচিত ছিলো তাড়াতাড়ি দেশ ছেড়ে কেটে পড়ে প্রবাসী হয়ে যাওয়া।
যা খাবার তাতো খেয়েই ফেলেছেন, এখন দেশটা ছেড়ে দিলে বেঁচে যেতেন। জনগণও এতো ক্ষিপ্ত হতে পারতো না। রাগ ভাগ হয়ে যেতো!
বেনজির কিংবা মতিউরের মতো ইজ্জত হারানোর জন্য অপেক্ষা করাটা আসলে কোন ভাবেই উচিত হয়নি।
এই নির্বাচনটা আপনাদের জন্য অনেক বেশি ঝুকিপূর্ণ হয়ে যাবে, এটা বোঝা উচিত ছিলো।
এই ২০২৪ সালটা পার করাটা অনেক ভয়ংকর হয়ে যাবে, এটা কিন্তু চোখে পড়ার মতোই সহজ ছিলো। এটা বোঝা উচিত ছিলো।
এখন যা হবার হয়ে গেছে,
এই মুহুর্তে যদি আরও ৫ বছর থাকতে চান, অথবা কিছুটা সম্মান ও বা জান নিয়ে বাঁচতে চান, তাড়াতাড়ি বুদ্ধি কাজে লাগান!
হাত-পা-রড-লগি-বৈঠা না। বুদ্ধি কাজে লাগান।
জানি আপনাদের বড় বড় মাথারা কেউ নেই।
সৈয়দ আশরাফ, জিল্লুর রহমান, সাজেদা চৌধুরি, সুরঞ্জিত সেন, আব্দুর রাজ্জাক এর মতো অনেক বড় বড় মাথার কূট নেতা ছাড়া লীগ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে!
কিন্তু এখনও সুযোগ আছে, শুধু চিন্তা ভাবনা করতে পারে এমন মানুষ লাগবে। মাথা খাটাতে হবে।
মাথা না খাটিয়েই, শুধু হাত আর রড খাটিয়ে এবার পার পাওয়া যাবে না।
এবার ভালো মেধা লাগবে। বড় মেধা লাগবে।
বড় মেধা নিয়ে আসুন!
দেশের বাইরে থেকে নিয়ে আসুন, কারণ দেশের বুদ্ধিজীবি, অধ্যাপকরা বেশিরভাগই কোটায় পাশ।
আপনারা জানেন, কারণ আপনারাই করিয়েছেন। তাই এদের দিয়ে আর কাজ হবে না।
সুতরাং বাইরে থেকে টাকা খরচ করে মেধা আনুন।
টাকার তো সমস্যা নাই, কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ির ব্যবসায়ীরাতো আছেই। বললেই চাঁদা দিবে বড় বড়! লাগলে তারা জিনিসপত্রের দাম আরো কয়েক দফা বাড়িয়ে দিলো! দিন শেষে সবইতো জনগনের কপালে!
অথবা যদি হাপিস করা কোটি কোটি টাকাও খরচ করতে মন সায় না দেয়, যদি স্বস্তায় কাজ সাড়তে চান, তারও একটা বুদ্ধি আছে।
বিএনপি বা জামাতের কিছু মেধাবী নেতা আছে। কোটামুক্ত ফ্রেশ প্রতিভা!
আপনাদের জেলেই শুয়ে বসে, ঘাস কেটে আর কুটির শিল্পের কাজ করে দিন পার করছে। কারা-কারুশিল্প!
ঐ ব্যাটাদের ডেকে আনুন।
ওদের মাথা পরিস্কার!
ওদের নিয়ে আলোচনায় বসুন, দাগী প্রতিভাদের নিয়ে কয়েকটা মিটিং করুন!
একটু বাতাস দিলেই ওরা গড় গড় বলে দিবে আপনাদের বাঁচার প্ল্যান।
আয়োজনটা করে দেখুন, জিতবেন।
ওরা একটা ভালো পরামর্শ চাইলেও চেপে রাখতে পারবে না।
বুদ্ধিজীবিদের এই সমস্যা, বুদ্ধি আর বায়ু, দুটোই খুব সুড়সুড়ে! চেপে রাখা মুশকিল।
ইনশাআল্লাহ, এখনও কিছুটা আশা আছে, এই ঝামেলা পার করতে পারবেন।
এই ৫ বছরও চাইলে পার করার সুযোগ আছে।
যেহেতু এখনও ছাত্ররা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে সরকার সাজিয়ে ফেলেনি,
তাই এখনও আশা আছে।
যেহেতু বিএনপি কিংবা শিবির এখনও আন্দোলনকে পুরোপুরি নিজেদের কাজে লাগানোর প্ল্যান কষে উঠতে পারেনি।
তাই এখনও আশা আছে।
বেশি দেরি করবেন না, প্লিজ।
দেশকে যুদ্ধের দিকে নিয়েন না।
যুদ্ধ হলে আমাদের সবার ক্ষতি।
পার্সোনালি আমার অনেক ক্ষতি, আমি আইফোনে ৫০টা ক্যামেরা দেখে মরতে চাচ্ছি। কিংবা মাস্কের মঙ্গলগ্রহে বসতি স্থাপন!
অনেক কিছু দেখার আছে, তাই শুধু শুধু আপনাদের বোকামীতে মরে যেতে ইচ্ছা করছে না। যদিও এই বাচ্চাদের মেরে আমাদের আত্মাই মেরে ফেলেছেন অনেকটা।
নিজের ছেলের দিকে তাকালে মরা লাশ দেখি, আহাদকে দেখি।
নিজের মেয়েটার দিকে তাকালেও মরা লাশ দেখি, রিয়াকে দেখি।
তারপরও আমি যুদ্ধের বিপক্ষে।
আমাদের নবীজি সা. ও আজীবন যুদ্ধের বিপক্ষে ছিলেন। ঘাড়ে উঠে না আসলে তিনি যুদ্ধ করতে চাইতেন না।
তাই আমিও যুদ্ধের বিপক্ষে।
ঘাড়ে প্রায় উঠেই যাচ্ছে যুদ্ধ, তারপরও চেষ্টা করছি আপনাদের মোটিভেশন দিয়ে লাইনে আনতে।
দেখেন যারা ভাবছে,
'হোক যুদ্ধ, দিবো একটা শিক্ষা আচ্ছা মতো আওয়ামী লীগকে। কচর কচর করে সব কয়টাকে মেরে ঝুলিয়ে রাখবো কাক তাড়ুয়ার মতো',
এতো মজা না।
যুদ্ধ শুরু হলে সবাই বিপদে পড়বে, অযথা স্বজন সম্পদ হারিয়ে কাঁদতে হবে।
আপনারা সরকার পক্ষও কিন্তু পড়বেন।
যদি ভাবেন এই পুচকে নব্য রাজাকার ছাত্ররা আর কি করবে?
আর্মি ডেকে একটা কারফিউ দিলেইতো সব ঠান্ডা। বাসায় যেয়ে বই খুলে চিল্লায়ে স্বরে অ, স্বরে আ পড়বে...
WRONG!
পই পই করে হিসাব করে দেখেন WRONG!
ছাত্রদের জন্যতো আর্মিরাই যথেষ্ট না।
যেমন ছাত্রদের জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট ছিলো না।
শুধু শুধু বাজে একটা অর্ডার দিয়ে ঝুকি নিয়ে বিপদে পড়েছে বেচারিরা।
তেমনি নয় মাস যুদ্ধ চলবে, এই ফাঁকে যা কিছু আছে সব বেঁচে দেশ ছাড়বেন এই আশা ছেড়ে দিন।
বাংলাদেশ আর্মি ৭ ঘন্টাও টিকবে না ছাত্রদের সাথে যুদ্ধ করলে।
কেন জানেন তো?
কারণ মাত্র ২টা।
কারণ ১.
ছাত্ররা গোল আলু। এই আলুরা চট করে বিশ্বের টপ ডেঞ্জারাস আর্মিতে রুপ নিয়ে নিতে পারে। আমাদের আর্মিতেতো কোটার ঘোটা দিয়ে লুটিয়ে রেখেছেন।
কিন্তু ছাত্ররা হবে সবচাইতে মেধাবী, সবচাইতে অনুগত, সবচাইতে ডেডিকেটেড, সবচাইতে বিপদজনক আর্মি। আমার কথা না, জাস্ট যেকোন দেশের কর্নেল- জেনারেলকে ডেকে বসিয়ে আন্দোলনের ভিডিও দেখিয়ে মতামত জানতে চান।
'ঐ আইলো তালিবান'
শুনলে কিন্তু আমেরিকান আর্মিরাও পালানোর পথ পায় না।
ডেডিকেশন ম্যাটার মামা, ডেডিকেশন ম্যাটার!
হেভি মিলিটার ইকুয়েপমেন্ট, আর এয়ার সাপোর্ট ছাড়া ফিল্ড যুদ্ধে এক সপ্তাহও টিকতে পারবে আমেরিকানরা সৈন্যরা তালিবানদের সাথে?
আর তালিবান মানে ছাত্র।
জি, তাদের দেশেরও বিপদে ছাত্ররা দ্বায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলো।
সুতরাং, একই উপমহাদেশের, প্রাক্তন প্রতিবেশি হিসেবে 'বাংলাদেশের ছাত্রদের' একেবারে হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েন না। অবজ্ঞা কইরেন না। করলে কিন্তু বিপদে পড়বেন। সিরিয়াসলি বিপদে পড়বেন!
আপনাদের নামের তালিকা, বাসার ঠিকানা ছাত্রদের ফোনে ফোনে অলরেডি কি নেই ভেবেছেন?
অস্ত্র হাতে বাসায় বাসায় যেয়ে উঠলে তখন?
তখন কিন্তু 'ছাত্র' শব্দটা শুনলে 'মুক্তি' কিংবা 'তালিবান' এর চাইতে ভয়ংকর শোনাবে।
কারণ ২.
দেশের আর্মিরা ছাত্রদের সাথে যুদ্ধই করবে না।
বুম, মাইক ড্রপ।
জি, এটাই সত্যি।
নিজের বাচ্চা, নিজের বন্ধু, নিজের চাচাতো ভাইবোন, নিজের মামা - খালা - ফুপুর ছেলেমেয়েকে আর্মিরা নিজেরা মারবে, এটা প্লিজ ভাববেন না।
নিজের আত্মীয়ের বুকে গুলি চালানোর আগে কমান্ডিং অফিসারকে খেয়ে দিবে, তাও ১০০ বার।
কমান্ডিং অফিসারকে মেরে খাওয়াতো সৈনিকদের কাছে ডালভাত।
বিশ্বাস না হলে, বিডিআরের ডালভাত কর্মসূচির কথাটা প্লিজ মনে করে দেখুন।
এই খবরটাও কিন্তু অন্তত আপনাদের খুব ভালো জানার কথা।
সুতরাং, যুদ্ধ সম্ভব না, হবে পাইকারী ম্যাসাকার, আওয়ামী ম্যাসাকার!
জাস্ট এটা একটু বোঝেন।
এবং লোকাল জরিপও কিন্তু তাই বলে, বিশেষজ্ঞরা সহ, বাংলার সবাই ১০০% নিশ্চিত, যুদ্ধের ডাক দিলে বাংলাদেশের আর্মি অফিসাররা অন্তত ৯৫ ভাগ ছাত্রদের পক্ষেই থাকবে।
তখন অফিসারে যে কয়জন আওয়ামীলীগের আত্মীয় আছে তারাও ছাত্রদের পক্ষে নাম লেখাবে।
আর বাসায় বাসায় যেয়ে গণ গ্রেফতার,
বাসার ভিতর ঢুকে গুলি করা,
আলো নিভিয়ে নেট বন্ধ করে গুলি-গ্রেফতার,
যা শেখানোর তাতো শিখিয়ে ফেলেছেন। করে দেখিয়েছেন।
এখন এই শিক্ষাটা ছাত্ররা কাজে লাগালে কই যাবেন?
আবারও সতর্ক করছি, আপনাদের নামের তালিকা, বাসার ঠিকানা দেশের ছাত্র জনতার কাছে অলরেডি আছে। নিজেরাই অনলাইনে দিয়ে রেখে ছিলেন বুক ফুলিয়ে।
এখন ছাত্ররা অস্ত্র হাতে বাসায় বাসায় যেয়ে উঠলে কি পরিস্থিতি হবে?
ভয়ংকর পরিস্থিতি হবে।
ঐ পরিস্থিতি, ঐ দুঃখ, ঐ কষ্ট, ঐ হাহাকার আমাদের কারো কাম্য না।
আমরা যুদ্ধ চাই না।
আমরা আপনাদের খুন চাই না।
আমরা আপনাদের শিশুদের লাশ দেখতে চাই না।
আমরা আরেকটা গুলি বিদ্ধ রাসেল, আহাদ, রিয়া, চাই না।
আমরা কেউ চাই না।
প্লিজ, হাত-পা-রড-লগি-বৈঠা না, মাথা ও মুখ কাজে লাগান।
পরিস্থিতি বুদ্ধি ও মেধা দিয়ে শান্ত করেন।
কোটার আমলা, কোটার নেতাদের ঝেটিয়ে সরান নিজের কাছ থেকে।
প্রতিভা দিয়ে কাজ করেন।