25/09/2021
একটি গ্যারেজ থেকে শুরু আমাজনের সফলতার গল্প। উদ্যোক্তারাই যে সফল তার প্রমান.......................
২৭ বছর পার করেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান আমাজন।
১৯৯৪ সালের ৫ জুলাই উদ্যোক্তা জেফ বেজোসের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
২৫ বছর পেরিয়ে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাজন ও বিশ্বের শীর্ষ ধনীর মুকুট এখন জেফ বেজোসের মাথায়।
মজার ব্যপার হচ্ছে আমাজনের নাম কিন্তু শুরু থেকে আমাজন ছিল না।
সিয়াটল টাইমস এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের ৫ ই জুলাই “ক্যাডাবরা” নামের একটি প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য কাগজপত্র তৈরী করেছিলেন জেফ বেজোস।
এই নামটির অনুপ্রেরণা ছিল জাদুকরদের মন্ত্র “অ্যাবড়াকাড্যাবড়া”। তবে এই নামটি বেশিদিন ব্যবহার হয় নি।
তার আইনজীবীরা বলেছিলেন, নামটি “ক্যাডাভার” নামের সাথে গুলিয়ে যায়। এরপর ‘রেলেন্টলেস’ নামটি কিছুদিন ব্যবহার করেন।
এরপর এই নামটি ও বাদ দেওয়া হয়, কারণ বেজোস এর বন্ধুর মতে, নামটি শুভ ছিল না। মজার ব্যাপার হচ্ছে এখনো রেলেন্টলেস ডট কম লিখলে আমাজন এর ওয়েবসাইটে নিয়ে যাবে!
পরে, জেফ বেজোস ডিকশনারি খুলে ‘A’ অক্ষর দিয়ে নাম খোঁজা শুরু করেন।
এর পেছনে তার যুক্তি ছিল যেন সবাই নামটি সহজে খুজে পায়।
এভাবে খুজতে থাকলে Amazon নামটি বেজোস এর খুব পছন্দ হয়। নাম নির্বাচনের পরপরই বেজোস তার সিয়াটলের গ্যারেজে যান এবং তার গ্যারেজের কর্মচারীদের বলেন, Amazon ই হবে তাদের কোম্পানির নাম।
আর এভাবেই একটি গ্যারেজ থেকেই শুরু হয় আমাজন এর সফলতার গল্প।
সিয়াটলের বেড়ে ওঠা আধুনিক ই-কমার্স ও প্রযুক্তিরির্ভর ওই কোম্পানি মানুষের জীবনে নানা প্রভাব ফেলছে।
গ্রাহকের আচরণ পরিবর্তন, বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র তৈরির মতো নতুন দিক তৈরি করছে।
২৫ বছর ধরে ই-কমার্স খাতের বিশাল এক প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়া আমাজনের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৯৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০১৯ সালে ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জেফ বেজোস তার সফলতার কিছু মূলমন্ত্র বর্ণনা করেন।
তার মতে সফলতার জন্য স্বল্প পরিসরে না ভেবে দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে হবে।
আজকের আপনি যা করবেন তার ফলাফল কয়েক বছর পরে গিয়ে পাওয়া যাবে।
তার জন্য আজকের কাজগুলো সঠিকভাবে করতে হবে। এভাবে আগালেই একমাত্র সফলতা পাওয়া সম্ভব।
এক সাক্ষাৎকারে বেজোস বলেন, ‘আপনি যখনই নতুন বা উদ্ভাবনী কিছু করতে যাবেন, আপনাকে ভুল বোঝা হতে পারে।
আপনাকে যদি ওই ভুল বোঝা বা সমালোচনার জন্য থেমে যেতে হয়, তবে নতুন কিছু করতে পারবেন না।’ বেজোস বলেন, তাঁর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল।
ওয়াল স্ট্রিটে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আমাজন শুরুর সময় বাধা পেয়েছিলেন। তিনি ওই সময় হেজ ফান্ড ডি ই শর জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
২০১০ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বেজোস বলেন, ৩০ বছর বয়সের আগেই তাঁর ভালো চাকরি ছিল।
তাঁর বসও তাঁকে পছন্দ করতেন। তাঁর বসকে তিনি অনলাইনে বই বিক্রি করতে চান বিষয়টি বলেছিলেন।
তখন তাঁর বস তাঁকে ঠান্ডা মাথায় বুঝিয়েছিলেন যে তাঁর ধারণাটি ভালো।
কিন্তু যাঁদের চাকরি নেই, তাঁদের জন্য এটা করা মানায়। কিন্তু বেজোস তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং ঝুঁকি নিয়ে চাকরি ছেড়ে দেন। বেজোস বলেন, ‘আমাকে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তা সংগত ছিল।
তাঁর কথাগুলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগপর্যন্ত আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছিল। বেজোস বলেন, ‘আমাজন’ বিশ্বের দীর্ঘতম ও বৃহত্তম নদীর নাম। এটা অন্য সব নদীকে বয়ে নিয়ে চলে।
ওই আলোকে দেখলে এটা খুব কঠিন একটি সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু আমাকে কোনো একটা সিদ্ধান্ত নিতে হতো।
চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলে অনুশোচনা করব, এমন ভাবনা মাথায় আসেনি। বরং আমি চেষ্টা করিনি, এমন একটি বিষয় আমাকে তাড়িয়ে বেড়াতে পারে, এমন আশঙ্কা করেছিলাম।
অনেক বিবেচনা করে আমি ঝুঁকিপূর্ণ পথটাই আমাদের আবেগের কারণে বেছে নিয়েছিলাম। আমার ওই সিদ্ধান্তের জন্য আজ আমি গর্ব করি।’
জেফ বেজোস বলেন, তিনি তাঁর আশপাশে অনুসন্ধানী ও উদ্ভাবনী মানুষকে প্রশ্রয় দেন।
তিনি বলেন, ‘আমাজনের শুরুর দিনগুলো থেকে আমরা গঠনমূলক সংস্কৃতির মানুষকে গুরুত্ব দিতে থাকি।
তাঁরা উদ্ভাবন করতে পছন্দ করেন। তাঁদের মানসিকতা আমাদের আরও বড় হতে ও কঠিন সমস্যা সমাধানের সুযোগ করে দেয়। তাঁরা জানেন সফলতার পথ মসৃণ নয়।’