27/02/2022
গল্পঃ
বাসার সামনের রাস্তার কোনে বেড়ে উঠা বিশাল বটগাছটা কেটে ফেলার পর বাসার সবারই মন খারাপ। রাস্তা করার নামে একালার প্রায় সব গাছই কেটে ফেলা হয়েছে। সাথে সাথেই বাসার ভিতরটা ওভেনের মত গরম হয়ে গেছে। একটা বটগাছ ঠিক কতটা ছায়া দিয়ে একটা পুরো বিল্ডিংকে ঠান্ডা রাখতে পারে সেটা ভেবে সবাই অবাক হচ্ছে আবার আফসোসও করছে। মা-মেয়ে সকাল বিকেল বারান্দায় যেত, চুলে তেল দিত, পাখিদের গান শুনতো, গাছে পানি দিত। এখন আর প্রয়োজন ছাড়া বারান্দায় যায় না। কারণ রাস্তা থেকে পুরো বারান্দা দেখা যায়। নিজস্বতা বলে কিছু থাকে না। আরেফিন সাহেব রাগের চোটে ঠিক করলেন পুরো নার্সারী কিনে বারান্দা ভরে ফেলবেন। বাইরে থেকে যারা চেয়ে থাকে তারা বারান্দার গাছ দেখবে, মানুষ দেখবে না। নার্সারীতে গিয়ে সাফা চিল্লিয়ে উঠলো, আব্বা, বাবা, দেখ দেখ, ছোট বট গাছ। আরেফিন সাহেব দেখলেন, আরে তাই তো! দেখতে তো ছোট বট গাছেরই মত। আবার এক গাছে সাদা ফুলও আছে। নাম পরিচয় শুনে জানলেন, এর নাম জেড প্ল্যান্ট। যত্নও কম লাগে। ছোট ছোট সবুজ পাতা ছড়ানো এ গাছটিকে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টার জন্য মাঝারি আলোতে রাখলেই চলে। এরপর ঘরের যে কোনো জায়গায় রেখে দিলেই হলো। তবে টবের মাটির দিকে খেয়াল রাখতে হবে, খুব বেশি শুকিয়ে এলে পানি দিতে হবে। শীতে পানি দেয়া কমিয়ে দিতে হবে।
সেদিন থেকে সাফার পড়ার টেবিলে জায়গা হলো গাছটির। কিন্তু বেশীদিনের জন্য না। আরেফিন সাহেব পরদিনই দেখলেন গাছ নেই। কি ব্যাপার? সাফার বান্ধবী এসে এ গাছের এত প্রশংসা করেছে যে সাফা গাছটাই দিয়ে দিয়েছে। আরেফিন সাহেব এবার তিনটি জেড প্ল্যান্ট কিনলেন। ১ টা সাফাকে দিয়ে বাকি দুটো অফিসের ডেস্কে রাখলেন। কে জানে, বাসায় বেশী রাখলে মেয়ের বান্ধবীরা আবার কবে নিয়ে যায়! আর অফিস ডেস্ক সুন্দর, পরিষ্কার, পরিপাটি রাখা আরেফিন সাহেবের পছন্দ। দুটো গাছ ব্যাপারটা আরো সুন্দর করে দিয়েছে। মনে মনে বেশ খুশী হলেন তিনি।
দুপুরে কম্পিউটারে কাজ করছেন আরেফিন সাহেব তখনই বসের সারপ্রাইজ ভিজিট। কাজ কামের খবর নেয়া শেষে জেড প্ল্যান্ট দুটোয় চোখ পড়লো তাঁর। আর যায় কোথা, দুটোয় বগলদাবা করে একটা উনার ডেস্কের খুব দরকার একটা বাসায় উনার স্ত্রীর আরো বেশী দরকার বলে আরেফিন সাহেবের চোখের সামনেই গাছ দুটো ছিনতাই হয়ে গেল। আরেফিন সাহেবের মন খারাপ হওয়ার কথা কিন্তু উনি হেসে উঠলেন। বসকে খুশী করা গেছে। একি চারটি খানি কথা?