26/04/2025
"এই মেয়ে ভেজা কাপড়ে দাঁড়িয়ে আছ কেন?"
দেড় ঘন্টা বৃষ্টিতে ভিজে হসপিটালে পৌছাল উষশী। ঠান্ডায় থর থর করে কাঁপছে সে। তার দৃষ্টি এদিক সেদিক লু ট পাট চালাচ্ছে। সে হাতের ইশারায় সামনের দিকে দেখাল। সামনে থাকা ব্যক্তিটি অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বলল,"ভেজা কাপড় নিয়ে সামনে যাওয়া যাবে না। চেঞ্জ করে আসবে।"
অভিরাজের কথাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে করিডর দিয়ে ছুটে চলল কিশোরী। এক মুহূর্তের জন্য বোকা বনে গেল ছেলেটা। পর পর হাক ছেড়ে ডাকতে লাগল।
"গার্ড,গার্ড কোথায় আপনারা? হসপিটালে কি হচ্ছে এসব!"
অভিরাজের কণ্ঠ পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এল দুজন গার্ড। ব্যস্ত হয়ে শুধাল,"কি হয়েছে স্যার?"
"আপনাদের চোখ কোথায় থাকে? ভেজা কাপড় নিয়ে একটা মেয়ে হসপিটালে ঢুকে গেল আর আপনারা বসে বসে ঝিমুচ্ছেন!"
"সরি স্যার। গেটের কাছটা অনেক ভীড় ছিল তাই দেখতে পাই নি আমরা।"
"নেক্সট যেন এমন কিছু না হয়। এটা একটা হসপিটাল, চিরিয়াখানা নয়। মেয়েটাকে খোঁজার ব্যবস্থা করুন।"
কথা শেষে লম্বা কদমে চলে এল অভিরাজ। এমনিতেই আজ মেজাজ গরম। তারপর আবার এইসব কান্ড!
উন্মাদের মতো ছুটে চলেছে উষশী। তার আচরণ খেই হারা মাঝি'র মতো। সব যেন শেষ হয়ে এসেছে। চুল থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে। পরনের হাঁটুসম ফ্রকটা শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। কাঁধ সমান বাদামি চুল আর ঘোলাটে চোখের মনি। শুভ্র রঙের উষশী যেন সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলের উপর এক বিন্দু শিশির কণা। পায়ে থাকা স্লিপার থেকে চপ চপ শব্দ হচ্ছে। আরেকটু ছুটতে যাবে ওমন সময় একজন লেডি গার্ড খপ করে হাতটা ধরে ফেলল। কিশোরী নিজের হাত ছাড়ানোর প্রয়াসে বলল,"ছাড়ো,ছাড়ো আমার হাত।"
লেডি গার্ড হাত ছাড়লেন না বরং টেনে নিয়ে যেতে লাগলেন। উষশী'র শ্বেত রঙা মুখ লাল হয়ে এসেছে। দীর্ঘ সময় বৃষ্টির জল মাথায় করে ছুটে এসেছে সে। শরীরটাও অনেকটা অবশ হয়ে এসেছে। হাত ছাড়াতে না পেরে রাগ হচ্ছে। রাগের কারণে তার ঠোঁট দুটোয় কম্পন ধরে গেল। মেয়েটি'র দু চোখ রক্তিম। ঠিক যেন কৃষ্ণচূড়া! লেডি গার্ডের শক্তির নিকট হেরে গিয়ে বুদ্ধি খাটাল সে। চকচকে তীক্ষ্ণ দাঁতের কামড়ে ছাড়তে বাধ্য হলেন তিনি। উষশী সময় ব্যায় না করে পুনরায় ছুটতে লাগল। ছোট্ট,উন্মাদ কিশোরী এবার ধাক্কা খেল এক শক্তপোক্ত দে*হের সাথে। ছিটকে পড়তে পড়তে সামলে নিল নিজেকে। রাগে দুঃখে দুটি চোখ ভরে উঠেছে নোনা জলে। কিছু বলবে ওমন সময় মিউ মিউ আওয়াজটা কানে এল। সব রাগ উবে গেল যেন। ছোট্ট দেহটাকে নাড়িয়ে পাশ ঘুরে তাকাল। পরমুহূর্তেই একরাশ