10/11/2021
🔎 লেদার, রেকসিন বা পিইউ এবং সিন্থেটিক চেনার উপায় !!
📌 বাজারে জুতা, বেল্ট, ওয়ালেট ইত্যাদি কিনতে গেলে সবচেয়ে বড় যে সমস্যার সমাধান হতে হয়, তা হলো "পণ্যটি কি আসলে লেদার নাকি রেকসিন / পিইউ ?"
লেদারের পণ্য কেনা যে সবদিক বিবেচনায়ই উত্তম তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু বাজার থেকে কেনা পণ্যটি সিন্থেটিক, রেক্সিন না লেদারের তৈরি, তা বুঝবেন কীভাবে?
আসলে সকলেই চায় লেদারের পণ্য ব্যাবহার করতে, কিন্তু আর্টিফিশিয়াল চামড়া বা পিইউ দিয়ে অনেকেই আসল লেদার বলে চালিয়ে দেয়। যার ফলে ক্রেতাকে হতে হয় প্রতারণার শিকার। বেশি দামে ভালো জিনিসের বদলে খারাপ জিনিস কিনে আনে কেবলমাত্র এই লেদার ও রেকসিন আলাদা করে না চেনার কারনে।
তাহলে জেনে নেওয়া কিভাবে চিনবেন আপনার ক্রয় করা পণ্যটি কি আসলে ১০০% লেদারের নাকি নকল।
১. রেক্সিনে কোনো না কোনো ফেব্রিক ব্যবহার করে তার ওপর পলিমার দিয়ে কোটিং করা হয়। এ জন্য রেক্সিনের তৈরি পণ্যটি ওল্টালেই কাপড় বা নেটের আস্তরণ পাওয়া যায়। কিন্তু চামড়ার তৈরি পণ্য, যেমন: জুতা বা ব্যাগে দেখবেন এমন কোনো কিছু নেই।
২. প্রাকৃতিকভাবেই চামড়ায় ফাইবার থাকে। যে কারণে চামড়ার তৈরি পণ্যে আঁচড় দিলেই সেই ফাইবার দেখা যায়। কিন্তু রেক্সিনের তৈরি পণ্যে তেমনটি হবে না।
৩. চামড়ার পুরুত্ব অনেক বেশি। যে কারণে চামড়ার তৈরি পণ্য বেশ পুরু বা মোটা হয়। কিন্তু রেক্সিনের পুরুত্ব অনেক কম।
৪. পণ্যটি চামড়ায় তৈরি কি না, তা বোঝার আরেকটি উপায় হলো চামড়ার তৈরি পণ্যে চকচকে ভাবটা একেবারেই কম। প্রাকৃতিকভাবেই চামড়া কখনো মসৃণ হয় না। যে কারণে চামড়ার তৈরি পণ্যের উপরিভাগে ছোটখাটো ত্রুটি দেখা যায়। অন্যদিকে কৃত্রিম হওয়ার কারণে রেক্সিনের পণ্য নিখুঁত হয়।
৫. প্রাকৃতিকভাবেই চামড়ায় অনেক সূক্ষ্ম ছিদ্র থাকে। যে কারণে চামড়ার শোষণ ক্ষমতা অনেক বেশি। তাই চামড়ার তৈরি জুতা পায়ে দিলে পা খুব কম ঘামে। অন্যদিকে, রেক্সিন কৃত্রিম হওয়ায় এর কোনো পানি শোষণ ক্ষমতাও নেই। যে কারণে রেক্সিনের তৈরি জুতা পায়ে দিলে তা দ্রুত ঘেমে গিয়ে পায়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
৬. জুতোটি লেদার বা চামড়ার তৈরি কি না, তা বোঝার আরেকটি উপায় হলো চামড়ার তৈরি জুতোতে চকচকে ভাবটা একেবারেই কম। কিন্তু আর্টিফিশিয়াল এ নানান রকমের কৃত্রিম কেমিক্যাল এর সাহায্যে একে চকচকে করে তোলা হয়।
৭. অরিজিনাল লেদার আগুনের তাপে সহজে পুড়ে না। কিন্তু কৃত্রিম লেদার এর বিপরীত।
৮. সিন্থেটিকের চেয়ে চামড়ার জুতা বেশি টেকসই এবং লুণ্ঠিত হয়, এটি কমপক্ষে 4 বছর ধরে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়।
৯. চামড়ার পণ্যের দাম লেদার এর তুলনায় বেশী, কেননা চামড়া কে আরিজিনাল রেখে আপনার পছন্দের পণ্য তৈরি করতে খরচ বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক। তাই যখনি দেখবেন যে, কমদামে লাগে দার এর পণ্য, তখন সতর্ক হয়ে যাবেন।
এবার তো জেনে গেলেন যে, কিভাবে চিনবেন আসল লেদারের পণ্য এবং কৃত্রিম লেদার বা রেকসিন এর পণ্য। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে এবার শপিং করতে যাবেন, ইনশাআল্লাহ আশা করা যায় আপনি আর প্রতারিত হবেন না চামড়ার পণ্য কিনতে।
যদি আপনি কম দামে লেদার এর পণ্য কিনতে চান, তবে আপনি রেকসিন ই কিনেন।
আমাদের পেজ "Elaene" কোনো লোকাল প্রোডাক্ট বিক্রি করা হয়না। আমরা শুরু করেছি ভাল ব্র্যান্ড ও ভাল মানের ট্যানারি থেকে প্রস্তুতকৃত আসল চামড়ার সব প্রোডাক্ট নিয়ে। যেন কাস্টমার আবার আমাদের থেকে কিনেন এই প্রত্যাশায়। আর জিনিস যেটা ভালো, দাম তার কিছুটা বেশিই।
তথ্য ও ছবিঃ সংগৃহীত ও সংকলিত।